ইউজার লগইন

ফেইসবুক ব্লক কইরা সরকার কীসের নিদর্শন দেখায়?

বাংলাদেশে ফেইসবুক ব্লক করার সিদ্ধান্তরে প্রতিবাদ জানাইয়া সাম্প্রতিক সময়ে যতো প্রতিবাদ হইছে তার প্রতিক্রিয়ায় কেউ না কেউ আইসা একটা বিশেষ মন্তব্য কইরা গেছে। সেই মন্তব্যের ভাষ্য হইলো এ আর নতুন কি! সরকারের কাছে কি এর চাইতে ভিন্ন কিছু প্রত্যাশা করা হইছিলো কি না? এই মন্তব্যের জবাবটাও নির্ধারিত। সরকারী এই আচরণরে কোনভাবেই আসলে নতুন কিছু মনে হয় না। সরকারে থাকা ক্ষমতার মানুষেরা সবসময়েই মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় এমনে হস্তক্ষেপ করে কালে কালে। মানুষের ক্ষোভ তৈরী হইতেই পারে, মানুষের অবিশ্বাস তৈরী হইতে পারে, কিন্তু তা নিয়া কোন ধরনের প্রকাশ করা যাইবো না। কেবল প্রয়োজন গঠনমূলক সমালোচনা। নেতিবাচক, মানে সমাধান ব্যতীত ক্ষোভের প্রকাশ সবসময় পরিত্যাজ্য। সমাধান ছাড়া ক্ষোভের প্রকাশ সবসময় একটা বিশেষ শ্রেণীর নিজস্ব সম্পত্তি। তারা ইচ্ছা হইলে যে কারো গলা চিপা ধরবো। তারাই নির্ধারণ কইরা দিতে পারবো মানুষের ব্যক্তিগত প্রয়োজন। এই চরিত্র কেবল রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা লালন করে ব্যাপারটা এইরম হইলে তাও মাইনা নেয়া যাইতো। এই চরিত্র রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল সংগঠনের বেসিক বৈশিষ্ঠ্য। মাঝে মাঝে দেখি এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার সমর্থক অন্য সব সংগঠনের নীতি নির্ধারেকেরাও এই চরিত্রের মধ্যেই আবর্তীত হয়। বিংশ শতকের প্রারম্ভকালে এই চরিত্রের প্রকাশ হইছিলো পশ্চিমে। শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করা দুইটা জাতি তাগো মধ্যযূগীয় সামন্তীয় বৈশিষ্ট্যরে স্মরণে মানুষের কন্ঠরোধ কইরা নিজেগো ঠিক প্রমাণের ফ্যানাটিকাল ডিজায়ারের বাস্তবায়ন করতে খড়গহস্ত হইছিলো। আজো সকল ক্ষমতার ধারক-বাহকেরা এই একই পথে হাটে যখন দেখে তাগো তখ্ত তাউশ হুমকীর সম্মুখীন হয়।

সময়ের দীর্ঘ পরিক্রমায়, ইতিহাসের প্রামাণ্যসূচকে মানুষ আসলে জাইনা গেছে এইরম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের প্রতিক্রিয়ায় কি করতে হয়। তারা জানে প্রতিবাদের ঝড়ে ক্ষমতাধর এই শক্ত নির্বোধ মানুষেরাও উইড়া যায়। একান্তই যদি না উড়ে, তাইলে তারা আচরণ পাল্টাইতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসেও তার প্রমাণ মেলে ভুড়িভুড়ি। সম্মিলিত মানুষের প্রতিবাদের দাপট সবসময়েই ক্ষমতার দাপট অপেক্ষা অধিকতর সাহসী, অধিকতর শক্তিশালি।

তবে একটা বিষয় স্মর্তব্য। বাংলাদেশ সরকারের এইবারের ফেইসবুক ব্লক করনের ঘটনা অন্য যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি মনোযোগের দাবীদার। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামি সরকার কার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মতোন বেশ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওনের বাসনা দেখাইছে। যদিও অঙ্গীকারের পর্যায় মোতাবেক তারা শুরু করছে শেষ থেইকা। শেখ মুজিবর রহমান হত্যার বিচার শেষ করার বেলায় তারা ছিলো নিঃশঙ্ক। কোনরম দোনোমোনো হওনের উপায় তখন তাগো ছিলো না। কিন্তু তারপর যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার কিম্বা ৭২-এর সংবিধান পূণবাস্তবায়নের প্রসঙ্গ সামনে আসলো তখন থেইকাই শুরু হইলো তাগো নানারকম ধিনতা ধিনতা সম আর ফাকের খেলা।

সারা পৃথিবীতে যখন পশ্চিমারা তাগো নতুন শত্রু চিহ্নিত কইরা খেলায় নামছে। বাংলাদেশেও তার বিস্তার ঘটা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। তাই নিয়মমাফিক জঙ্গীবাদ নিয়া চলতাছে টম এ্যান্ড জেরীর চিরাচরিত দৌড়াদৌড়ি। প্রতিবারেই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নিমিত্তে তৈরী বাহিনী জঙ্গীবাদের শেকড় উপড়ায়। আবার নতুন শিকড় গজানের অপেক্ষা চলে তারপর। জামায়াতি নেতাগো বিদেশে যাওনের নিষেধাজ্ঞা জারী হয়, কিন্তু সরকারী প্রশাসনের চোখের সামনে দিয়া বীরদর্পে পলায়ন করে প্রমাণিত আল বদর বাহিনীর নেতা। দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি যখন ভয়াবহ আকার ধারণ করে তখন আবারো ঘোষিত হয় যে যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের টাইটেল পরিবর্তন করা হইতেছে। আইন শৃঙ্খলার যখন চরম অবনতি হয় সরকারী দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের মাস্তানগো দৌরাত্মে তখনি আবার ধরপাকর শুরু হয় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীগো। উপরোক্ত বিশ্লেষণে মনে হইতে পারে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সরকারী প্রচারণার বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওনের চেষ্টা হইতেছে এই লেখায়। আমার উদ্দেশ্য তার ধারেকাছেও নাই। আমি কইতে চাই সরকার তার ক্ষমতামাফিক জনগণের প্রয়োজনে কোন সিদ্ধান্ত নিতেছে না, বরং সে নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই ক্ষমতার প্রকাশ দেখাইতেছে যাতে জনগণ বিভ্রান্ত হয়।

৭২-এর সংবিধান পূণবাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিতে চায় সরকার। যাতে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা যায়। কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের পদক্ষেপ যে এই মুহুর্তে মুখের কথায় সম্ভব না সেইটা কি সরকারের নীতি নির্ধারকেরা ভাইবা দেখে নাই!? নিশ্চয়্ই আমরা কিছু গাধা-গরু আর ছাগলরে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করি নাই...তারা ঠিকই ভাবছে এই সেনসিটিভ ইস্যূর প্রতিক্রিয়া বিষয়ে। তারমানে প্রস্তুতিহীন একটা সরকার কেমনে একদিনে সবকিছু পাল্টাইয়া দেওনের সিদ্ধান্ত নেয়!? যদি নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার জলোচ্ছ্বাসে মাতে এই দেশের সাধারণ সরল মানুষেরা! যদি ধর্মভিত্তিক পীরবাদি রাজনৈতিক দলগুলি এককাট্টা হইয়া প্রতিরোধ গইড়া তুলে!? তাইলে কি পশ্চিমাগো চোখে আমরা স্পর্শকাতর জাতি হিসাবে প্রমাণিত হমু না!? যার সুযোগের সদ্ব্যবহারেই কি এই দেশে প্রবেশ ঘটবো পাশ্চাত্যের শান্তিরক্ষী বাহিনী'র? পশ্চিমা মনিটরিঙে আমরা কোন পর্যায়ে থাকুম তখন!?

এখনি হয়তো কিছু কওনের সময় হয় নাই...কিন্তু এই দেশের ক্ষমতাসীন স্বার্থান্বেষীগো নিয়া সতর্ক থাকনটারে জরুরী মনে হয় আমার কাছে।

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মামুন ম. আজিজ's picture


সব ঠিক আছে
তবে পরিবেশ টা বেশি গুমট . ফেসবুকের বিরহ গহীনে কান্নার নিরব নিসরণ ঘটাচ্ছে......আমার শুধু না , লাখ লাখ বাংগালীর ..আমি জানি ।
তাই একটু মজা.........
ঐ যা কইলেন সবই সুন্দর উপলব্দি......যারা বোঝে তাদের কিছূ করেনর নাই
যাদের করেনের আছে তারা কি বুঝেও বোঝে?

তবে আমার আপত্তি এ তুলনা......টম এন্ড জেরীর সাথে জেএমবি আর সরকার
না এ হতে পারে না
টম এন্ড জরিরর মাঝে নির্দোষ মারমাির ঝাপাঝাঁপি
কেউ কোন ব্যাথাই পায় না
কোন কিছু ধ্বংস হলেও কিচ্ছু ক্ষতি হয় না
না এ অবিমৃষ্য তুলনা মানি না মানতে হবে। বন্ধ করে দেয়া উচিৎ এই ধরনের তুলনা .......

( )

মামুন হক's picture


সমাধান ছাড়া ক্ষোভের প্রকাশ সবসময় একটা বিশেষ শ্রেণীর নিজস্ব সম্পত্তি। তারা ইচ্ছা হইলে যে কারো গলা চিপা ধরবো। তারাই নির্ধারণ কইরা দিতে পারবো মানুষের ব্যক্তিগত প্রয়োজন। এই চরিত্র কেবল রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা লালন করে ব্যাপারটা এইরম হইলে তাও মাইনা নেয়া যাইতো। এই চরিত্র রাষ্ট্রের অন্তর্গত সকল সংগঠনের বেসিক বৈশিষ্ঠ্য। মাঝে মাঝে দেখি এই রাষ্ট্র ব্যবস্থার সমর্থক অন্য সব সংগঠনের নীতি নির্ধারেকেরাও এই চরিত্রের মধ্যেই আবর্তীত হয়। বিংশ শতকের প্রারম্ভকালে এই চরিত্রের প্রকাশ হইছিলো পশ্চিমে। শ্রেষ্ঠত্ব দাবী করা দুইটা জাতি তাগো মধ্যযূগীয় সামন্তীয় বৈশিষ্ট্যরে স্মরণে মানুষের কন্ঠরোধ কইরা নিজেগো ঠিক প্রমাণের ফ্যানাটিকাল ডিজায়ারের বাস্তবায়ন করতে খড়গহস্ত হইছিলো। আজো সকল ক্ষমতার ধারক-বাহকেরা এই একই পথে হাটে যখন দেখে তাগো তখ্ত তাউশ হুমকীর সম্মুখীন হয়।

এখনি হয়তো কিছু কওনের সময় হয় নাই...কিন্তু এই দেশের ক্ষমতাসীন স্বার্থান্বেষীগো নিয়া সতর্ক থাকনটারে জরুরী মনে হয় আমার কাছে।
---হ

সালাহ উদ্দিন শুভ্র's picture


সরকার আসলে ফেসবুক বুঝে না। এইডা নিশ্চিত। ফেসবুক মনে হয় বিএনপির-হা হা - এছাড়াতো কোন কারণ দেহি না।

ভাস্কর's picture


উগ্র জাতীয়তাবাদ অচেনা সব কিছুতেই শত্রুর ঘ্রাণ খুঁইজা পায়...আত্মম্ভরীতার জ্বালায় চিনবার আগ্রহটাই তাগো থাকে না...

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


ব্লক করা ফেসবুক ব্যবহার করে আমরা সরকারকে কীসের নিদর্শন দেখাই?

~

মুক্ত বয়ান's picture


হুমমম।

তানবীরা's picture


কিন্তু এই দেশের ক্ষমতাসীন স্বার্থান্বেষীগো নিয়া সতর্ক থাকনটারে জরুরী মনে হয় আমার কাছে।

শওকত মাসুম's picture


এ আর কি? আরও খারাপ খবর আসছে।

নজরুল ইসলাম's picture


নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল থেকে আমাদের সরকারগুলো যে কবে বের হতে পারবে!

১০

মীর's picture


সরকারের হাতে এই অস্ত্রটা কি আসলে আমরাই তুলে দিই নি? নাহলে ফেসবুক বন্ধ করে দেয়ার চেয়েও কষ্টকর ঘটনাও কি ঘটছে না এদেশে? সেগুলোর খবর নেয় কারা?

সত্যিকারের সমাধান কি? যা আমাদেরকে নিশ্চিন্তমনে অন্ততঃ পঁচিশটা বছর উন্নতির পথে হাঁটতে দেবে? মাসুম ভাই বললেন, আরো খারাপ খবর আছে। আমার মনে হয়, এর জন্য এখন থেকেই প্রস্তুত থাকা উচিত। তাহলে অন্ততঃ সরকার যে ওভাররেটিং-এর সুবিধাটা নিচ্ছে সেটা বন্ধ হবে।

পোস্ট পছন্দ হইসে।

১১

হাসান রায়হান's picture


আমি প্রায় নিশ্চিত হাসিনা ক্ষমতোন্মাদ হয়ে গেছে। এর পরিণতি ভালো হয় না। পতন খুব জঘন্য ভাবে হয়।

১২

সাহাদাত উদরাজী's picture


হাসান ভাই, আমি নিশ্চিন্ত যে সরকার ফেইসবুক বন্ধ করেছিলো ভিন্ন কারনে। কারন হলো - সমালোচনা। সরকার সমালোচনা সইতে নারাজ! ব্লগ গুলোর কপালে ও শনি/রবি আছে!

১৩

হাসান রায়হান's picture


গতকাল রাতে আমার দেশ বন্ধ করছে।

১৪

সাহাদাত উদরাজী's picture


হাসান ভাই, গত রাতে ব্লগ গুলোতে দেখেছি। গতকাল অনেক রাত জেগেছিলাম। আল্লাহ, আপনি ওদের হেদায়েত করুন।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...