আমার দেশরে আওয়ামিরা কোন পথে পরিচালনা করতে চায়?
ঠিক এই মুহুর্তে কোন পত্রিকার ডিক্ল্যারেশন বাতিল হইলে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী মানুষ খুশী হইতেন? আমার ভালো লাগতো দৈনিক সংগ্রাম বন্ধ হইলে। এই বিষয়ে একটা জরীপ চালানের তালিকা তৈরী করলে আমি নিজ দায়িত্বেই কইতে পারি দৈনিক সংগ্রাম আর নয়া দিগন্ত প্রথম দিকে থাকবো। মৌলবাদী দৃষ্টিভঙ্গীতে দেশের স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরে বাঁচানের উদ্দেশ্যে এই পত্রিকা দুইটার মূল যাত্রা শুরু, হয়তো ঐটাই তাগো একমাত্র প্রকাশনার মাপকাঠি। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আওয়ামি বাঙালি জাতীয়তাবাদের চোখে কারা দেশের শত্রু হয়? আমার-আপনের কিম্বা আরো অনেকেরই মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রীক রোমান্টিসিজমে আওয়ামিরা সেইসব ঘোড়সওয়ার যারা তরবারী ঘুরাইতে ঘুরাইতে আইসা মুক্ত করে সব শৃংখলিত মানুষরে। কিন্তু আওয়ামিরা যদি ক্ষমতাকেন্দ্রীক বাধকতায় বাধ্য না হইতো তাইলে মুক্তিযুদ্ধের সময়েও কিসের বিরোধীতা করতো সেইটা নিয়া আমার মনে প্রশ্ন তৈরী হয় তাগো স্বাধীনতা পরবর্তী সকল কর্মকান্ডে। যেই কারনে ২০১০ সালে যখন তারা যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের প্রতিশ্রুতি মায়াকান্না কান্দে, যখন তারা ৭২-এর সংবিধান ফিরাইয়া আননের বুলিতে বুলিতে মুখে ফ্যানা তুইলা ফেলে, তখনো তাগো কাছে নয়া দিগন্ত কিম্বা দৈনিক সংগ্রামের চাইতে বড় শত্রু হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা। আওয়ামিগো ক্ষমতার অভিলাষে মাওলানা সাঈদী কিম্বা নিজামী'র চাইতে প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান শত্রু হিসাবে অনেক বেশি দরকারী হয়।
মাহমুদুর রহমান সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে আওয়ামিগো বিরুদ্ধে আমলাগো নিয়া ষড়যন্ত্র করছিলো। সম্ভবতঃ দেশের রাজনীতিতে সাধারণ মানুষের আয়করের টাকায় বেতন পাওয়া এইসব সেবকেরা অনৈতিকভাবে অনেক ভূমিকা রাখে। ক্ষমতার পালাবদলের লগে লগে তাই সচিব পাল্টায়, সচিবের মন্ত্রণালয় পাল্টায়। চেতনার মাপকাঠি এই জায়গায় কতোটা ভূমিকা রাখে সেই প্রশ্ন আজকে না হয় আর না করলাম। কিন্তু সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের রাষ্ট্রীয় কমিটিতে এক প্রাক্তণ ইসলামী ছাত্র সংঘ করা বর্তমান আমলার অন্তর্ভূক্তি নিয়া আওয়ামিগো এক প্রভাবশালি উপদেষ্টা ঠিকই প্রশ্ন তুলছেন। স্বাধীনতা বিরোধীগো লগে সম্পর্কীত আমলা যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের কমিটিতে থাকনের সম্ভাবনা রাখে। রাগ দেখাইয়া সে কমিটি থেইকা পদত্যাগ করনের মতোন ধৃষ্টতা দেখায়...তবুও তার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিয়া নাড়াচাড়া করনের কোন অধিকার নাই উগ্র জাতীয়তাবাদী আওয়ামিগো। কিন্তু মাহমুদুর রহমানের দোষ নিয়া তারে ঘাটানের উদ্যোগে তারা খাড়াইয়া আছে এক্কেরে নিশান তুইলা।
দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় আমার এক পরিচিত ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী রিপোর্টার হিসাবে কাজ করতো। আমার দেশ পত্রিকা সরকার বিরোধী বক্তব্য ছাপতো বেশী। মোসাদ্দেক আলী ফালু সাহেবের থেইকা মাহমুদুর রহমান দায়িত্ব নেওনের আগে তারা কোনা কানচিতে হইলেও ফালু সাহেবের খবর ছাপতো...আর দায়িত্ব নেওনের পর ছাপে মাহমুদুর রহমানের খবর। পুঁজিতান্ত্রিক এই বাস্তবতায় আমরা এইটারে কি অস্বীকার করতে পারি!? প্রগতির মালিকানার অধিকার রাখে এইরম পত্রিকা প্রথম আলোতেও তো লতিফুর রহমানের কাভারেজ কিম্বা মতিউর রহমানের সমাজ উদ্যোগ অনেক বড় হয়...
বাজেট ঘোষণার প্রাক্কালে একটা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যক্তিগত পুঁজিতে চলা একটা দৈনিকের ডিক্ল্যারেশন বাতিল আর তার মালিক বিরোধীদলীয় নেতারে দৌড়ের উপর রাখনের এই কৌশল দিয়া আওয়ামি সরকার কি প্রমাণ করতে চায়? তাগো ফ্যাসিজমের বলক-এ এখন জনগণের নাভিশ্বাস উঠছে, বাজেট পরবর্তীকালে সেই নাভিশ্বাস কোথায় গিয়া পৌছাইবো কে জানে...মানুষের দীর্ঘশ্বাস ফেলনের শক্তিটাও থাকবো কী না সেই সন্দেহ নিয়া দিন কাটাই...আর ভয়ে থাকি কবে আওয়ামি জাতীয়তাবাদের শত্রুতে পরিণত হইতে হয়। যেই জাতীয়তাবাদে পাক-হানাদার কিম্বা জামায়াতি রাজাকারগো চাইতে অন্যরা বড় শত্রু হয়...





আমার দেশের ডিক্লারেশন বাতিলের ব্যাপারটা কোনোভাবেই মানতে পারছি না। কেনো জানি, বাকশালী আমলের একটা গন্ধ পাচ্ছি। আমার দেশ নিয়ে এ পর্যন্ত ৩ টা মিডিয়া হাউজ বন্ধ করে দেয়া হলো। এর আগে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যমুনা টিভি আর চ্যানেল ওয়ান । এটি কোনো শুভ লক্ষণ নয়।
তবে সংগ্রাম বা নয়া দিগন্ত বন্ধ করে দেয়া উচিত বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি। মাহমুদুর রহমান অনেক বাড় বেড়েছিলো। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, তার একটা কঠিন শাস্তি পাওনা হয়েছে অনেকদিন আগেই...। সে পথে না গিয়ে সরকার কেনো যে পত্রিকা বন্ধ করলো। সরকার নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারলে কার কী করার আছে? ধিক্কার জানাই এ ধরণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে...
বাকশাল জিন্দাবাদ।
কীরে ভাই, আপনের কি আঙ্গুলে ব্যথা ? খালী দেখি ইমো দিচ্ছেন...
কত্ত বড় ছাগল সরকার, ভাবটা যেন কাউয়ার মত সবাই চোখ বন্ধই রাখবো-----
পত্রিকা বন্ধ করার যুগ যে সেই রাশান জারের আমলেই পুরান ছাগলামী ছিলো, সেডাই জানেনা....
গনতণ্ত্র!!!!...সারাজীবনের জন্য নিজের কুয়া খুঁড়তাছে..
পোষ্টের প্রতিটা বাক্যের সাথে সহমত।
একের পর এক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত - সরকার কে এর মাশুল দিতে হবে ।
অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে যুদ্ধাপরাধী নয় , সরকারের টার্গেট রাজনৈতিক বিরোধীতাকারী।
এইভাবেই আওয়ামীলীগ প্রতিবার খাল কেটে কুমীর আনে। শালার গণতন্ত্রই একটা ভ্রান্ত ধারণা এই পোড়ার দেশে
ভোটের আগে যাদের বলেছিলাম আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে, তাদের দিকে এখন আর চোখ তুলে তাকাতে পারছি না।
ব্লগ আসলেই বিনোদনের উৎস । বিনোদনে যদিও ছাগুরা অতুলনীয় তবে সম্প্রতি বেশি বিনোদন দিচ্ছে আওয়ামী সমর্থক ব্লগাররা । ফেসবুক বন্ধের পর এদের একাংশ প্রকাশ্যেই সরকারি সিদ্ধান্েতর সমর্থনে নামে । প্রো আওয়ামী আরেকগ্রুপ ( প্রগতিশীল সুশীল ) আবার এর নিন্দা জানাই কিন্তু একই সাথে আওয়ামী সরকারের ফেসবুক বন্ধ প্রক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করে -তাদের প্রাণের দল এমন করতে পারে সেটা তারা কস্মিঙ্কালেও কল্পনা করেননি ! এদের মুঢতা দেখে হাসি চাপানো মুসকিল হয়ে পড়ে । অনুরুপ প্রতিক্রিয়া আমরা দেখেছিলাম আওয়ামী লীগ যখন খেলাফত মজলিশের সাথে চুক্তি করে । অথচ আওয়ামী লীগের ইতিহাস আর শ্রেনিচরিত্র অনুযায়ী এসব ঘটনায় বিস্মিত হবার কিছু নেই ।
পত্রিকায় আমারদেশ বন্ধের কারণ হিসেবে নানা তথ্য এসেছে আর সেই তথ্যের লিঙ্ক দিয়ে আওয়ামী ব্লগাররা বলছেন, এটা স্রেফ প্রকাশক-সম্পাদকের মামলা কিংবা বিধি লংঘনে আইন প্রয়োগ করা হয়েছে , এখানে সরকারের দায় নেই ! কিন্তু প্রকাশক হাসুকে ধরে নিয়ে যাওয়া এবং পরে তার মামলা করা আর সেই মামলায় আমারদেশ বন্ধ ও মাহমুদুর রহমানের গ্রেফতারে কি বুঝার বাকি থাকি এটি সাজানো নাটক ?
শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না ।
সরকারের এই সব ফ্যাসিষ্ট ও স্বৈরতান্ত্রিক কর্মকান্ডের নিন্দা জানাই ।
দোস্তের মতামতের সাথে একমত।
যদিও বাংলাদেশের রাজনীতির পরিবর্তন নিয়ে কখনোই আশাবাদী ছিলাম না। এভাবেই গনতান্ত্রিক সরকাররা প্রতিবার সামরিক সরকার আসার রাস্তা তৈরী করে দেয়।
যারা আওয়ামি সমর্থক তাগো দোষ দিয়া তো আসলে লাভ নাই, তারা শ্রেণী চরিত্র বিষয়টারে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা হিসাবেই শ্বাশ্বত ভাবে। কিন্তু অনেক প্রগতির প্ররিব্রাজকরেও দেখি স্বাধীনতা বিরোধীগো ভয়ে আওয়ামি ঘনিষ্ঠতায় নিবেদিত হইতে। কিন্তু কালক্রমে তাগো অযাচর-অনিয়মরে সমর্থন যোগাইতে।
বুঝলাম । একটা প্রশ্ন-
প্রগতির পরিব্রাজকদের অনেককেই তো জামাতের সাথে পিড়িত করতে দেখি, সেটাও কি স্বাধীনতা বিরোধীদের ভয়ে ?
কাগো কথা কইলেন বুঝলাম না...তয় যারা প্রগতির পরিব্রাজনে জামাতের লগে পীরিত করে তাগো পীড়া মনে হয় অন্য জায়গায়...ক্ষমতার মরিচীকা দেখে তারা...
কি আর কমু!
কত্ত বড় বোদাই আমরা, দিন বদলের আশা করছি।
ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না, বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা
নিজের থেকে আর কিছু বলবো না, আমার জানের মায়া আছে। বিশিষ্ট তথ্যপ্রযুক্তিবিদ কাম গোয়েন্দারা নেটে নজরদারি করতাছে। প্রমাণ হইলো একুশের অমি আজাদের গতকালের একটা স্ট্যাটাসঃ
সরকারের ঘরে ঘরে বেকারদের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির এই নমুনা। তিন তিনটা বড় বড় হাউস বন্ধ করে কতজন নতুন বেকার জন্ম নিলো সে খবর কি আছে?
তবে আশার কথা এই যে, গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরলেই তা বন্ধ হয় না। তা স্বয়ংক্রিয় এক কাঁটা হয়ে যায়, নিজে নিজে এক সময় পায়ে এসে বিঁধে।
আরো আশার কথা এই যে, আন্দোলনে টুঁটি চেপে ধরলে তা তো বন্ধ হয়ই না। বরং স্বয়ংক্রিয় শেল হয়ে তা এক সময় বুকে এসে বিঁধে।
পোস্ট পছন্দ হইসে।
সহমত...
এত এত মানুষরে চাকরিছাড়া করে দিচ্ছে হুট-হাট করে। কোথায় যাচ্ছে সরকারের ইমেজ? এটা কি সরকারের নীতিনির্ধারণী মানুষগুলো চিন্তা করে না? অদ্ভুত একটা অবস্থা।
ফখরু-মঈনুরে আজকাল খুব মিস করি
ধরা যাবে না ছোঁয়া যাবে না বলা যাবে না কথা
রক্ত দিয়ে পেলাম শালার আজব স্বাধীনতা!
আগুনে হাত না পুড়লে বোঝা কঠিন এর কষ্টটা। এখন আওয়ামী অন্ধভক্তরা যদি এর থেকে কিছু শিক্ষা নেয়।
আওয়ামী খোলসের ভিতরে বাকশালী ভুতটা দেখি আজও দিব্যি বেঁচে আছে। আমাদের দূর্ভাগ্য দেশের ভাল চায় এমন নেতৃত্ব আমাদের দেশে নেই।
ফকির যেমন বিরানীর মূল্য বোঝে না, আওয়ামীলীগও মানুষের ভোটের মূল্য বুঝলো না।
জনগনের এখন দেশের জন্য মর্সিয়া করা ছাড়া আর কিইবা করার আছে!
হ ।
দেশবাসী তাদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়েছে। এখন তার প্রতিদান পেতে শুরু করেছে। জনগণ শ্লার সব সময়ই ছাগল!
সরকার তো একে একে সবকিছুই বন্ধ করে দিচ্ছে দেখি
বকলম ভাই জান আপনি বকলম তাতে এই কথা বললেন । ভাগ্যিস পেটে একটু আধটু বিদ্যা বুদ্ধি আছে এমন নাম ব্যাবহার করেন নাই। হাসাইলেন ভাই জান। নিক পাল্টান। মজা করলাম একটু, মাইন্ড খাইয়েন না ভাই। কথা সত্য লিখছেন।
আসলেই আমাদের কিছুই করার নাই। সব দিক দিয়েই আমাদের হাত পা বাধা। আর এই দূর্ভাগা দেশের ভাল চাইবে এমন দূর্ভাগা হয়তো এখনো জন্মায়নি। আসলে আমাগো পোড়া কপাইল্যা দেশ টার ব্যাড লাক টাই খারাপ।
সবার কমেন্টের সাথে সহমত। আর ভাস্কর ভাইর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
মন্তব্য করুন