ফুটবল ফুটবল দুরন্ত ফুটবল (১)
১৯৭৮'এর কথা আমার ঠিক মনে পড়ে না। তয় ১৯৮২তে বিটিভিতে যখন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী খেলা দেখাইবো বইলা ঘোষণা দেওয়া হইলো ক্রিকেটপ্রেমী আমার বালকসুলভ প্রাণেও উৎসাহ তৈরী হইছিলো চরম। ম্যারাডোনা তখন কেবল বিস্ময় বালক হিসাবে পাওয়া খ্যাতি পার কইরা বড়দের আসরে খেলতে আসতেছে। প্রচারমাধ্যমগুলি তারে ঐ সময়ের পেলে বইলা অভিষিক্ত করতেছিলো মনে আছে। উদ্বোধনী দিনেই আগের আসরের চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আর বেলজিয়ামের খেলা। আমার বাপ আর্জেন্টিনা সাপোর্টার আর সেই কারনে স্বাভাবিকভাবেই আমি বেলজিয়ামের সমর্থক। ঐ বিশ্বকাপের শুরুটাই হইছিলো অঘটনের মধ্য দিয়া। বেলজিয়াম এক শূন্য গোলে হারাইয়া দ্যায় চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনারে। যথাবিহিত আমার জীবনের শুরুটাই হয় আর্জেন্টিনা বিরোধী হিসাবে। বাসায় তখন দুই গ্রুপ। আমার বাপ একদিকে আর আমরা তিন ভাই-বোন আর মা অন্যদিকে। বাপ মোহামেডান বইলা আমরা আবাহনী অন্ত্যপ্রাণ।
৮২'র বিশ্বকাপের সময় আমার ফুটবল খেলা সম্পর্কে তেমন ধারণাই ছিলো না কওন যায়। স্কুলে ক্রীড়া শিক্ষক আযম স্যার ছিলেন জাতীয় দলের পেসার...তার প্রেরণাতে আমরা কেবল ক্রিকেট খেলা শিখি। কিন্তু ঐ বছর আমি উদ্বোধনী খেলার পরেই ঘ্যান ঘ্যান শুরু করি ফুটবল কিনা দেওয়ার জন্য। দোকানে গিয়া আমি পছন্দ করলাম একটা লাল রবারের ফুটবল। যেইটার আবার ব্লাডার ছিলো...মানে হাওয়া ফুরাইয়া গেলে রিকসার মেকানিকগো কাছ থেইকা পাম্প কইরা নিয়া আসা যাইতো। শুরু হইলো আমার দেয়ালের সাথে ফুটবল খেলা। খাওনের টাইম, পড়ার টাইমেও আমার পায়ের নীচে লাল ফুটবল। বাপ যেহেতু আর্জেন্টিনা তাই আমি সেকেন্ড রাউন্ডে ব্রাজিল। ঐ খেলায় অবশ্য মনে পড়ে ব্রাজিল সাপোর্ট করতে করতেও ম্যারাডোনার অবস্থা দেইখা মাঝে মাঝে মন খারাপ হইতেছিলো। শেষমেষ তো ম্যারাডোনা মেজাজ খারাপ কইরা লাথি মাইরা বসলো ব্রাজিলের ডিফেন্ডার হোসে ব্যাতিস্তারে। সাথে সাথে লাল কার্ড।
কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিল হাইরা গেছিলো ইতালির কাছে সেইবার। খেলার রেজাল্ট দেখলে এই লাইনটা সত্য হয়। যদিও আমার মনে আছে ঐ খেলায় ব্রাজিল দল খেলছিলো আজকাল যারে জোগো বনিতা কয়, এক্কেরে সেই ফুটবল। কিন্তু কয়েদখানা থেইকা বের কইরা নিয়া আসা ফুটবলার পাওলো রসি ঐ খেলাতেই শুরু করলো তার সুযোগসন্ধানী ক্যারিশমা। ব্রাজিল বাদ হইয়া গেলো বিশ্বকাপ থেইকা।
ঐ টূর্নামেন্টে আমি আর ইতালিরে সমর্থন করতে পারি নাই। যেহেতু আর্জেন্টিনারে হারাইছিলো ব্রাজিল তাই আমার বাপ ব্রাজিল বধের দল ইতালিরেই সমর্থন করতে শুরু করলো্। সেমি ফাইনালে আমি অঙ্ক করছিলাম কেনো প্লাতিনির দল জার্মানিরে হারাইবো। আমার বাপ এখনো সেই গল্প করে অনেকের কাছে। ১০ বছরের বালক আমি ডাইরীতে লিখছিলাম ফ্রান্সের জিতনের সম্ভাবনার কথা। আমার আজীবনের শত্রু বড় বোন সেই ডাইরী ফ্রান্স হারনের পর চুরি কইরা সবাইরে পড়াইয়া বেরাইছিলো। ফাইনালে জার্মানির কট্টর সাপোর্টার বইনা যাওয়া আমি নিশ্চিত ছিলাম এইবার জিতবো আমার দল, কিন্তু ক্ষণজন্মা মে ফ্লাওয়ারের মতোন ফুটবলার পাওল রসি মনে হয় আর জেলে ফেরত যাইবো না বইলা পন কইরা খেললো। প্রথম গোল কইরা ইতালি'র ক্যাটনেশিও ফুটবলের নমূনা দেখলো সারা বিশ্ব। পুরা খেলা খেললো জার্মানরা আর কাপ জিতলো ইতালি।





আমার বাপ আর্জেন্টিনা সাপোর্টার আর সেই কারনে স্বাভাবিকভাবেই আমি বেলজিয়ামের সমর্থক।
আমিওতো দেখি বিরোধি পক্ষ
ব্রাজিল আর মোহামেডান
আপনের পিতার বিরোধীতা কি সবখানেই ?
আমি বাপের বিরোধী পক্ষ কিনা জানিনা
কিন্তু আমি মায়ের পক্ষে।আম্মা ব্রাজিল-আবাহনী
আমিও.।।
হৈ মিয়া এই সিরিজতো শুরু করমু আমি।
আর্জেন্টিনা আর আবাহনী। কিন্তু আম্মা আবাহনী আর ব্রাজিল
আমি ব্রাজিল আর মোহামেডান, তয় বাপের সাথে ১০০% মিল আছে।
প্রথম বিশ্বকাপ দেখি ১৯৮৬ সালে আব্বা আর মামার সাথে রাত জাইগা। সেইখানে প্রথম ডেনমার্কের খেলা দেখছিলাম বৈলা মনে পড়ে, এইটা মনে থাকার কারন ডানো গুড়া দুধ
। প্রথম সাপোর্ট তাই ডেনমার্করেই করছিলাম। ধীরে ধীরে ব্রাজিলের দিকে ঝুকলাম বড়দের দেখাদেখি..... যদিও কোকেনিচ্চির(ম্যারাডোনা) খেলা ভালো লাগছিলো। বাট এরপর সব দুরে রাইখা ব্রাজিলের সাপুটার এখন, হু......।
আমি হৈলাম আবাহনী আর আর্জেন্টিনা...
আমার পোলাটাও ক্যান জানিনা আর্জেন্টিনারে সাপোর্ট দেয়...
কাইলকা তারে একটা মেসির জার্সি আর একটা আর্জেন্টাইন পতাকা কিন্যা দিলাম...
ওর খুশী দেইখ্যা মনে হৈলো... আর্জেন্টিনা জিতলেও এতটা ভালো লাগতো না...
আমিও আবাহনী আর আর্জ। আমরা ছোট থাকতে আবাহনী-মোহামেডান খেলায় কতো মাইরপিট হইতো...ভাবতাম বড় হইয়া আমিও দুই-এক ঘা লাগামু। বড় হইতে হইতে আবাহনী-মোহামেডানের ফুটবলই হারায়া গেল
আশির দশকের গোড়ার দিকে বাংলাদেশে অনেক বাবামা ছেলের নাম রসি রাখছিলেন মনে পড়ে। তখন ফুটবলের বেজায় দাপট, বছরজুড়ে আবাহনী মোহামেডান সমর্থক গোষ্ঠী সক্রিয় থাকতো। পাড়ায় পাড়ায় টুর্নামেন্ট হতো, সাদা-কালো আর আকাশী-হলুদ ফ্ল্যাগ উড়তো। দর্জির দোকানে জামাকাপড়ের পাশাপাশি অবাহনী-মোহামেডানের পতাকা সেলাই চলতো।
লেখাটা খুবই উপভোগ করলাম ভাস্করদা। আপনার স্মরণশক্তির প্রশংসাও আলাদাভাবে করতে হয়।
আবাহনী আর আর্জেন্টিনা..বাপ মোহামেডান আর ব্রাজিল। পুরাই সোহরাব-রুস্তম কেস!
আহারে!
একেবারে কাছাকাছি রকমের অভিজ্ঞতার কথা মনে পইড়া গেলো, খালি সময়টা ৮৬
আমার কিচ্ছু মনে থাকে না।
(
দারুণ লেখা। স্মৃতির চারণ আপনি ভালই করতে পারেন। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা যুদ্ধে আমি যেমন আর্জেন্টিনা তেমনি আবাহনী-মোহামেডানে আমি আবাহনী। বাবা'র বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে দেখি আপনি নিজের পছন্দকেই পাত্তা দেন না! বাবা হ্যা তো আমি না? অদ্ভুত তো!!
বিয়াফক মজা পাইলাম, দারুণ লিখছেন, আমি আর্জেন্টিনা, ভাই জার্মানী, বাপ ব্রাজিল, মায়ে ছিল ইতালির সাপোর্টার, বুঝেন তাইলে অবস্থা, স্ম্বতিকাতর হইলাম, এইদিকে মোহামেডান আর আমার এক দুস্ত আছিল আবাহনী, ঝগড়া লাইগা একবার হালারে ব্যাডমিন্টনের লাইগা পুতা বাঁশ তুইলা হালারে পিটাইছিলাম, বড়ই মধুর দিন ছিল সেইগুলান

আমি ব্রাজিল আর আবাহনী
আমি আর্জেন্টিনা আর মোহামেডান
মন্তব্য করুন