ইউজার লগইন

বিবর্তনের পথ ধরে হরতাল: গণমানুষের হাতিয়ার যখন দলবাজদের মুঠিতে

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে দোকানপাট-যানবাহন বন্ধ করে এক অভিনব অসহযোগের কর্মসূচি নিয়েছিলেন মহাত্মা গান্ধী। গুজরাটি ভাষার প্রচলিত শব্দ হরতাল নামে অভিহিত এই ধর্মঘট কর্মসূচি প্রতিবাদের ধরন হিসাবে সে সময় থেকেই উপমহাদেশীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি জনপ্রিয় পদক্ষেপ। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম হরতাল কর্মসূচি পালনের নজির পাওয়া যায়। স্বাধিকারের এই আন্দোলন যাত্রা থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধকাল পর্যন্ত প্রতিবাদে মুখর বাঙালি জীবনে হরতাল ছিল নিত্যনৈমিত্তিক এক কৌশল। শাসকের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে অসহযোগের চেয়ে বড় আর কী হতে পারে! মূলত হরতাল কর্মসূচির শুরু নিপীড়িতের কৌশল হিসেবেই। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে, পাকিস্তানি শোষকদের বিরুদ্ধে হরতাল ছিল বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সম্মিলিত বিদ্রোহের প্রকাশ।

একাত্তরে যখন টানা হরতাল কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল তখন শাসকের খড়গ নেমে আসে সাধারণ মানুষের জীবনে। আন্দোলনের সঙ্গে জনগণের একাত্মতা শোষকের তখতে তাউস কাঁপিয়ে দিয়েছে সব সময়। ইতিহাসে তাই এ ধরনের অসহযোগ আন্দোলন চলাকালে শাসক লেলিয়ে দিয়েছে তার পেটোয়া বাহিনী, জোর করে মানুষকে কাজে নামাতে চেয়েছে মতের বিরুদ্ধে। হরতালকালীন শাসকগোষ্ঠী তার জনপ্রিয়তার জোর দেখাতে চেয়েছে, যেই জোরে ভালোবাসা নেই বরং ভয় আছে। শাসকের এই প্রবণতা সম্ভবত কখনোই জনগণের কাছে তার প্রিয় হয়ে ওঠার কোনো কৌশল নয়, বর্তমান জমানার মিডিয়াপ্রেমী সরকারি দল সবসময় আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের নিষ্কলুষ প্রমাণ করার চেষ্টায় রত থাকে।

স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত হরতাল সংঘটনের তেমন কোনো ইতিহাস খুঁজে পাওয়া যায় না। দেশে সামরিক জান্তা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই মূলত আবার হরতাল কর্মসূচি পালনের যুগ সূচিত হয়। তবে এরশাদশাহীর সময়টাতে হরতালের প্রাদুর্ভাব ঘটে সবচেয়ে বেশি। গত শতকের আশির দশকের শুরুর ভাগে পাঁচ বছরে হরতাল পালিত হয় এক শ'রও বেশি দিন। তবে '৮৭ থেকে '৯০_এ তিন বছরে হরতাল সংঘটিত হয় দ্বিগুণেরও বেশি দিন ধরে। এ সময়ের হরতাল কর্মসূচিগুলোতে জনগণের সম্পৃক্ততা ঘটে অভাবনীয়ভাবে। স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষের প্রকাশ্য প্রতিবাদের নজির দেখা যায়।

সামরিক জান্তার সময় থেকেই একটা বিশেষ ঘটনা ঘটতে থাকে। বিরোধী দল আহূত হরতাল কর্মসূচিগুলোর বিপরীতে সরকারি পেটোয়া বাহিনীর উপস্থিতি লক্ষণীয় হয় রাজপথে। হরতাল পালনকারী পিকেটাররা সম্মুখীন হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভাড়া করা মাস্তানদের নির্যাতনের। এই দশকেই প্রতিষ্ঠিত হয় হরতাল মানেই সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের মুখোমুখি সংঘর্ষ। হরতাল মানে রাজপথের সমরক্ষেত্রে সরকার আর বিরোধী দলের লড়াই। স্বৈরশাসকের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল অভ্যুত্থানের শামিল; কারণ বিরোধী দলের এসব কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ আর সমর্থন ছিল পূর্ণমাত্রায়। জনগণের অংশগ্রহণই স্বৈরশাসকের ভিত কাঁপিয়ে দেয়, আন্তর্জাতিক মিডিয়াগুলোতে যখন সামরিক জান্তাবিরোধী এসব আন্দোলনের খবর প্রকাশিত হয় তখন সামরিক জান্তা বা স্বৈরশাসক যা-ই বলা হোক না কেন, তখন তার বিপরীতে হরতালবিরোধী পক্ষ তৈরিতে সচেষ্ট হয় তারা।

জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণে স্বৈরশাসককেও গদি ছেড়ে প্রবেশ করতে হয়েছে জেলখানার নিরাপত্তাবেষ্টনীতে। হরতাল কর্মসূচির কার্যকারিতা এভাবেই প্রমাণিত হয়েছে ইতিহাসে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে ক্ষমতাভিলাষী যেই চরিত্র সর্বব্যাপী হয়ে গেছে এর মধ্যেই, তার প্রয়োগ আমরা এই হরতাল সংস্কৃতিতেও দেখতে পাই। গণতন্ত্র চর্চার উন্মেষের কালেই, অর্থাৎ নব্বই-পরবর্তীকালেই যদিও সরকারের প্রতি বিরোধী দলের অসহযোগ কর্মসূচি শুরু হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু ইতিহাসের সব রেকর্ড ভেঙে যায় বিংশ শতকের শেষভাগে এসে ১৯৯৯ থেকে ২০০১_এই তিন বছরে ৩৩২ দিবস দেশের স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ থেমে গেছে। তৎকালীন আওয়ামী সরকার এই সময়টাতে হরতাল কর্মসূচি দেশের অর্থনীতিকে কিভাবে বিপর্যস্ত করে দিচ্ছে তার প্রচারে নেমে যায় আগ বাড়িয়ে। হরতালবিরোধী আইনি প্রক্রিয়ার পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টাও এর অংশ ছিল। আওয়ামী লীগের হরতালবিরোধী প্রচার কার্যক্রমে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ভালোভাবেই সমর্থন জুগিয়েছিল ওই সময়টাতে। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচনে হেরে একই দল যখন বিরোধী দলের কাতারে শামিল হয়, তখন তারা যেন স্মৃতি বিস্মৃত হয়। ২০০১-এ বিএনপি সরকারকে উপহার নিতে হয় আওয়ামী হরতালের পসরা। যেভাবে আওয়ামী সরকার বিরোধীদলীয় হরতালকে নস্যাৎ করতে পেটোয়া বাহিনী মাঠে নামিয়েছিল, একই প্রক্রিয়ায় বিএনপি সরকারও আস্থা রাখে। মাঝখান থেকে জনগণের নিরাপত্তাই কেবল হুমকির সম্মুখীন হয়। হরতালকালীন খুন-হত্যা-জখমের সংখ্যা বাড়তে থাকে গাণিতিক হারে। এসব খুনের পর সরকারি দল ক্ষতিপূরণের রাজনীতিতে আগ্রহী হয়েছে বেশি, বিচারের আশা নিতান্তই বাতুলতা। অস্বচ্ছ আর রাজনৈতিক ফায়দা লোটার লোকদেখানো মামলার বিচারের কোনো খবর জনগণ পর্যন্ত পৌছানোর দায় কোনো সরকারই নেয়নি।

ভারতে একই ধরনের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া বন্ধের বিরুদ্ধে আদালত রায় দেয় ১৯৯৮ সালে। হরতাল বা বন্ধ'এর বিষয়টিকে রাষ্ট্রের প্রতি হুমকি মনে হওয়ায় আদালতের রায়ে বন্ধ বা হরতাল কর্মসূচি নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। এ ধরনের কর্মসূচিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সঙ্গে তুলনা করে তাকে নিরুৎসাহী করার রায় দেন বিচারক। আর তারই ধারাবাহিকতায় গত শতকের শেষ ভাগে বাংলাদেশেও সুয়োমোটো রুল জারি করার জন্য পদক্ষেপ নেন বাংলাদেশের হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি বেঞ্চ। কেন হরতালকে একটি গণবিরোধী, অনৈতিক এবং সন্ত্রাসী কর্মসূচি হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে তারা সুয়োমোটো রুল জারি করেন ১৯৯৯-এর ১৫ ফেব্রুয়ারি। একই বছরে শুরু হওয়া বিচার প্রক্রিয়ায় হাইকোর্ট বেঞ্চ হরতালকে একটি রাজনৈতিক অধিকার বলে রায় ঘোষণা করেন ১৩ মে, ১৯৯৯। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হলে ২০০৭-এর ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্তই নেয়। তবে হরতাল চলাকালে এর বিরুদ্ধে বা পক্ষে কোনো রকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম সংঘটিত হলে তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রমের বিধান জারি করার কথাও বলেন উভয় আদালত।

স্বৈরতান্ত্রিক সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে যে হরতাল কর্মসূচি মানুষের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছিল এক দশক ধরে, নির্বাচিত সরকারের সময় এসে সেই কর্মসূচি কেন গুরুত্ব হারিয়ে ফেলল, সে বিষয়টি অবশ্যই ভেবে দেখার সময় এসে গেছে। ২০০৮-এ নির্বাচন-পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ প্রায় দেড় বছর সরকার পরিচালনা করে ফেলেছে। ইতিমধ্যে দুটি বাজেট ঘোষিত হয়েছে এ সরকারের হাত দিয়ে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার ছাড়া এখন পর্যন্ত আর কোনো বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি এ সরকার। ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী, এলাকার স্থানীয় চাঁদাবাজ আর জেলা পর্যায়ে তথাকথিত তৃণমূল নেতারা প্রকাশ্যেই এমন সব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন, যার জন্য বিব্রত হতে হচ্ছে সরকারকে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে ঠিক যতটা হওয়া সম্ভব। পুঁজিবাজার চলেছে লাগামহীন। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম বেড়েছে সর্বক্ষেত্রে, এমন এক সময়ে তো সাধারণ মানুষের ডাকেই অসহযোগ শুরু হয়ে যাওয়ার কথা। তবু মিডিয়াগুলোতে মানুষের মাঝে হরতালের সমর্থনে কোনো বক্তব্য শোনা যায় না। নতজানু বাণিজ্যিক নীতিমালায় রপ্তানি খাত খুব সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকলেও দেশের শিল্প-কলকারখানার মালিকরা না হয় তাঁদের উৎপাদন সম্ভাবনা নিয়ে ভাবেন, কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মানুষ, যারা এখনো 'দিন আনি দিন খাই' বাস্তবতায় তাঁদের প্রতিদিনের হতাশার রুটিন তৈরি করেন, তারা কেন রাজনৈতিক দলের আহ্বানে এসব রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে দিন দিন অনাগ্রহী হয়ে পড়ছেন? যার সুযোগ নিয়ে রাজপথের মালিকানা চলে যাচ্ছে সরকার আর বিরোধীপক্ষের সন্ত্রাসীদের হাতে। যে পথে হেঁটে যেতে হয় সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের, সে পথেই তাঁদের জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটছে দুই দলের ক্রসফায়ারে, না হয় অতর্কিত বোমা বিস্ফোরণে।

সুয়োমোটো রুল বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ। হরতাল কর্মসূচি বিষয়ে পক্ষ এবং বিপক্ষ উভয় পক্ষের বিরুদ্ধেই আদালত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বেশ দৃঢ়ভাবেই বলেছেন। এই যে পক্ষ কিংবা বিপক্ষে যাওয়ার সংস্কৃতি, এখানে জনগণ বেশির ভাগ সময়ই কোনো বিবেচনায় আসে না। হরতাল পালন করে সরকারকে বিপদে ফেলাটাই বিরোধী দলের মুখ্য উদ্দেশ্য হয়ে ওঠে; অন্যদিকে মিডিয়ার দখলদার সরকার হরতাল পালন হয়নি এমন পরিস্থিতি দৃশ্যমান করে তার ফায়দা লোটার চেষ্টা করে বা শক্তি প্রদর্শনে সরকারও পিছিয়ে নেই, এমন যুক্তির অবতারণা করতে চায়। যে কারণে সরকারি দলের হরতালবিরোধী মিছিলের স্লোগানে রাজপথ ছেড়ে না যাওয়ার আশ্বাসবাক্য শোনান কর্মীরা। বিরোধী দলের মিছিলে তখন থাকে যুদ্ধের জয়োল্লাস। এই যে প্রবণতা জোর প্রয়োগের রাজনৈতিক সংস্কৃতি তার জন্য প্রতিবাদের একটি কৌশলকে দায়ী করে ফেলা হচ্ছে মিডিয়ার কারিকুরিতে।

তবে বিরোধী দল বিএনপি এবার জুনের ২৭ তারিখে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের ঘোষণা দেয় এক মাস আগে। দেশজুড়ে তারা প্রচার প্রপাগান্ডা চালিয়েছে তাদের এই হরতালের সমর্থনে, নেতারা রাজপথে এসে লিফলেট বিতরণ করে জনগণকে হরতালের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, এই প্রক্রিয়াটি বেশ লক্ষণীয় মনে হয়েছে। রাজনীতির এমন চর্চা বহুদিন এ দেশে দেখা যায়নি। রাজনৈতিক দলগুলোর জনঘনিষ্ঠতা কেবল নির্বাচনকেন্দ্রিক একটি আচরণ বলে ধারণা জন্মে যাচ্ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি তথা চার দলের ভরাডুবির কারণে এমন আচরণ কি না তা নিয়ে অবশ্যই প্রশ্ন তুলে ফেলা যায়। গত নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ হিসেবে বিএনপি দলীয় নেতা-কর্মীদের যথেচ্ছাচারকে দায়ী করা হয় অনেকখানি। ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে ক্রমাগত। ২০০৭-এর প্রশ্নবিদ্ধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাদের সব দুর্নীতি জনগণের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে দলের তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের রাজনৈতিক ব্যবসার খবর জনগণের কাছে ভালোভাবেই চাউর হয়েছে সে সময়টায়। জনগণ কেবল আন্দোলন-সংগ্রামের ঘুঁটি নয়, দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া জনগণ যে প্রতিশোধও নিতে পারে, ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়েই ইতিহাসে লিপিবদ্ধ হবে।

২৭ তারিখের হরতাল পালন নিয়ে দুই পক্ষের কথা চালাচালি কম হয়নি। আওয়ামী লীগ জনগণের নিরাপত্তার নামে হরতালের ঘোষণা নস্যাৎ করতে গণগ্রেপ্তার প্রক্রিয়াও ভালোই চালিয়েছে বলে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। অন্যদিকে হরতাল কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকারও করেছিলেন বিএনপির বর্তমান মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। এই যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের আচরণ এর কোনোটাই রাজনৈতিকতা বহন করে না। পাড়া-মহল্লার খুদে ফুটবল খেলুড়েরাও আজকাল এর চাইতে অনেক বেশি সমঝে চলার আচরণে বিশ্বাসী। কিন্তু সরকার আর বিরোধী দলের এসব অহমিকার দায়ে পড়ে জনগণ তার অধিকার আদায়ের আন্দোলনকেও বাহুল্য মনে করতে বাধ্য হয়।

নব্বই-পরবর্তী সময়ে হরতাল ঘোষণার পরই পত্রিকার পাতায় নিয়মিত ছাপা হয় এক দিনের হরতালে দেশের অর্থনীতির কী ক্ষতি হতে পারে। দেশের মানুষের জীবন কতটা বিপর্যস্ত হয়। হরতাল আহ্বানকারী দলগুলোর জনঘনিষ্ঠতার অভাবে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সাধারণ মানুষের স্বার্থের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়ে আমাদের মিডিয়ার ভাষায়। কিন্তু এই হরতালের পথ ধরেই যে প্রতিবাদী দাবি আদায়ের ইতিহাস গড়ে উঠেছে বাঙালি জাতির, তার কথা আমরা বিস্মৃত হতে চলেছি কেবল সঠিক রাজনৈতিক সংস্কৃতিহীনতায়। ইতিহাসের পাতায় হরতাল মানে শাসকের অন্যায্য সিদ্ধান্তের সঙ্গে জনগণের অসহযোগ, হরতাল মানে রাষ্ট্রীয় যথেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে জনমানুষের ক্ষোভের প্রকাশ। বর্তমানে ক্ষমতার কামড়াকামড়িতে এর প্রায়োগিক অর্থ পাল্টে গেলেও হয়তো সেই জনগণের সামষ্টিক রাজনৈতিক শক্তি শিগগিরই আবারও জেগে উঠবে এ দেশে, যার অসহযোগিতার ভয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত কখনোই গণবিরোধী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে না।

(৩০ জুন কালের কণ্ঠের নিয়মিত সাপ্তাহিক সাপ্লিমেন্ট রাজকূটে প্রকাশিত)

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শওকত মাসুম's picture


লেখা নিয়ে দ্বিমত নাই। তবে কালকূটে যদি ২ পাতায় আপনার লেখা ছাপতে চায় তাহলে আরেকটু ছোট করেন। মেকআপ টা এমন হয় যে মনে হয় ঠাইসা দুপাতায় ঢোকানো হইছে।

তানবীরা's picture


আমারতো ধারনা ছিল বাংলাদেশের জনগনের ভোগান্তির নাম হরতাল। পোষ্ট প্রিয়তে। শেয়ার করা উচিত সবার সাথে। ধন্যবাদ একটা সময়োপোযোগী তথ্যবহুল লেখার জন্য।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...