ফুটবলের জীবন, জীবনের ফুটবল...(১)
এক.
বিশ্বকাপের ডামাডোলে বাকীসব বিষয়গুলি কেরম স্যাচ্যুরেটেড হইয়া গেছিলো জীবনে। রাতে বাড়ি ফিরা খেলা দেখনের চিন্তায় মহল্লা থেইকা বাইর হওয়াটাও হইতো না। এক বন্ধু বিশ্বকাপ মাথায় রাইখা প্রজেক্টর কিনা ফেললো হুট কইরা। আমরা দল বাইন্ধা সেই প্রজেক্টরে খেলা দেখি, চীৎকার চেচামেচিতে বাড়িওয়ালা লোক পাঠায়। আমরা তখন গলা নামাইয়া চিল্লাচিল্লি করি। বন্ধু মহলে ম্যাক্সিমাম এইবার ছিলো ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমিই ছিলাম ব্যতিক্রম। জার্মানী সাপোর্ট কইরা কোনঠাসা ছিলাম আনন্দ উপভোগের বেলায়। যেইদিন জার্মানী চাইর গোলে হারাইলো আর্জেন্টিনারে ঐদিন ছাড়া বাকীসব দিন আমার গেছে বিশেষজ্ঞ টাইপ ভাবে। ব্রাজিল ভালো খেললে তার পক্ষে কথা কই আবার খারাপ খেললে কিছু কইলেই বন্ধু বান্ধব কয় সুবিধাবাদী রাজাকার।
দুই.
বন্ধুমহলের দুইজন এইবার হঠাৎ কইরা আর্জেন্টিনার সাপোর্টার বইনা গেলো। ম্যারাডোনার ইন্সপায়ারিং এ্যাটিচিউড তাগো কাছে ভালো লাগছে। তার লগে ফিদেল ক্যাস্ত্রোর বন্ধুত্ব আর গরীবের বন্ধু হিসাবে ন্যাপলস শহররে জাতে তোলা টাইপ ঘটনা গুলিও নাকি ভালোই প্রভাব ফেলছে। তো এদের একজন শুরুর দিকে একটু কনফিউজ্ড ছিলো...তাই আমি স্বভাবজাত চাপাবাজীতে তারে আর্জেন্টিনা সমর্থন না করার লেইগা কইলাম, খেলা হইলো যুদ্ধ, এইখানে আক্রমণ যেমন প্রয়োজনীয় কৌশল পলায়নের পথ খোলা রাখা বা প্রতিরোধটাও দরকারী। আরেকভাবে কইলে কওয়া যায় ম্যারাডোনার দল হইলো শিল্পী সমন্বয়, কিন্তু খেলা মানে তো খালি শিল্পীর অনিয়মতান্ত্রিকতা না, সেইখানে নিয়মের রোবটও দরকার হয়। আমার বন্ধু কয় তাইলে সে আর্জেন্টিনারেই সাপোর্ট দিবো এইবার। যেই লোক এমন কইরা খেলারে দেখতে পারে সে যদি প্রথম রাউন্ডও পার না হইতে পারে তাইলেও সে'ই হইতে পারে পরের জমানার দিশারী।
আমরা একলগে খেলা দেখতে বইছি। তো শুরুতে ক্যামেরা কোচগো চেহারা দেখায়। সব দলের কোচই ক্যামেরা দেইখাও না দেখনের ভাব করে। কিন্তু ম্যারাডোনার মুখে যেইদিন প্রথম ক্যামেরা ধরা হইলো, ম্যারাডোনা দাঁত বাইর কইরা একটা ভেঙচি দিলো, জার্মানীর মতোন কৌশলী ফুটবলের ভক্ত আমার মন নরম হইয়া গেছিলো ঐ ভেঙচিতে। শিশুর সরলতা দরকার, জীবনের সবক্ষেত্রেই নিজেগো ম্যাচিওর্ড বানাইতে গিয়া এতো প্রেশার নেই, বিনোদনের ফুটবলেও যদি একই অবস্থা হয় তাইলে কেমনে চলে!
তিন.
জার্মানী আর আর্জেন্টিনার খেলার দিন আমি শুরু থেইকাই চাইছিলাম জার্মানী জিতুক। কিন্তু আর্জেন্টিনা প্রথম দুইগোল খাওনের পর মন খারাপ হইতে শুরু হইলো। ফলাফল আসলে যুক্তি তর্কের লেইগা বড় উপাদান হইতে পারে, আবেগে-ভালোবাসায় তার ভূমিকা খুব বেশি হইলে মানুষ আর মানুষ থাকে না। ম্যারাডোনারে আমি কখনোই খুব একটা পছন্দ করতে পারি নাই, অথচ সেইদিন তার শূন্যতা টের পাইছি...শূন্যতারে বোঝার ক্ষমতা না থাকলে খুব ভালো যন্ত্রও হওন যায় না, মানুষতো বহুদূর...





ম্যারাডোনার জন্য আমারো খারাপ লাগছে।
গুরু, কই আছেন!
অফিসে ওস্তাদ।
রাত্রে বন্ধু-বান্ধব মহল্লায় প্রজেক্টরের ব্যাবস্থা করছে। আমরা সামাজিক প্রাণী তাই সমাজের সিস্টেম মানতে হয়। কিন্তু যদি একলা একলা আমার ঘরে বসে খেলা দেখতারতাম ভাল্লাগতো বেশি।
একটা সত্য কথা বলি, ল্যাটিন আমেরিকার কোন দলই কেন জানি মন টানে না। আর্জেন্টিনারে ব্রাজিলের চেয়েও খারাপ পাই। তারপরও ম্যারাডোনার জন্য খারাপ লাগছে।
অবশ্য ওর তাবিজ-কবজ মার্কা চালচলনও খুব একটা ভালো লাগতো না। তবু স্বীকার করি যে ওর একটা অপরাজেয় ভাবমূর্তি ছিলো। ভাবমূর্তি তৈরী করতে পারা কিন্তু বিশাল বিষয়। বেচারার জন্য সমবেদনা।
আজকে স্পেন জিতলে পার্টি!
নব্বইয়ে যখন খেলা বোঝা শুরু করছি একটু একটু তখন খেলোয়াড় ম্যারাডোনা আমার মন জয় করতে পারেনাই ... পরে ৮৬ এর ভিডিও আর ন্যাপোলির হয়ে খেলাগুলা দেখে ম্যারাডোনাত্ব জিনিসটা টের পাইছি ... তবে এবার কোচ ম্যারাডোনা মন জয় করছে, ম্যারাডোনা ছিলো আর সবার চেয়ে অন্যমাত্রার, ইউনিক
বলা যায় খেলা দেখা শুরু ৮৬ থেকে। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই সেরা গোল আর ৯০ এ ব্রাজিলকে হারানো সেই অসাধারণ এক পাস-এই দুই লাইভ দেখা আমার জীবনের একটা বড় অংশ বলেই মানি আমি।
আমার আবার কারো জন্য খারাপ লাগে না বিশেষ করে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, গুনী, শিক্ষিত, সবজান্তাদেরকে আমি করুনা করি। আই জাষ্ট পিটি দেম
আমার আবার কারো জন্য খারাপ লাগে না বিশেষ করে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, গুনী, শিক্ষিত, সবজান্তাদেরকে আমি করুনা করি। আই জাষ্ট পিটি দেম
মন্তব্য করুন