ইউজার লগইন

জীবন অন্যত্র - মিলান কুন্ডেরা (চতুর্থ কিস্তি)

কবিকে তারপর একটা বেবি কটে শুইয়ে দেয়া হোলো মায়ের বিছানার পাশেই। সন্তানের কান্না শুনে মন ভরে গেলো তার; গর্বের অনুভূতি ছাপিয়ে গেলো সারা শরীরের অসহ ব্যথাকে। প্রজণন প্রক্রিয়ার এ ব্যথাকে আর প্রশ্রয় না দেয়া হোক তবে; সুগঠিত মনে হলেও সেই শরীরটাকে তখনো সে ছুঁয়ে দেখেনি: ছোট ছোট পা আর নিতম্ব, কিন্তু দেখলেই বোঝা যায় তার কমনীয়তা, আর তার মসৃন চুলের (এতোই মসৃন যে একেবারেই গুছিয়ে রাখা যায়না ) আড়ালে ঢাকা পড়া চেহারা হয়তো চমকে দেয়ার মতো নয় কিন্তু মুগ্ধতা ছেয়ে ফেলে অন্তরের ভেতরতক।

মা অবশ্য সচেতনভাবেই তার মুগ্ধতার চাইতে গুরুত্ব দিচ্ছিলেন ভেতরকার লাগামহীন অনুভূতিকে, শৈশব থেকে সে বেড়ে উঠেছে এমন এক বড় বোনের সাথে যে নাচে অতুলনীয়া, প্রাগের নামকরা সব ডিজাইনাররা তার পোশাক তৈরী করে দিতো, আর টেনিসেও সে ছিলো শহরের সেরা, অথচ সে বাবার বাড়ি পেছনে ফেলে চলে গেলো অভিজাত পুরুষদের সাম্রাজ্যে। বড় বোনের এমন চমক লাগানো অস্থিরতা কবির মা'য়ের চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য ঠিক করে দিয়েছিলো, সে হয়ে উঠেছিলো বিষন্ন আর বিনয়ী, একরকম প্রতিবাদী প্রকাশেই যেনো সে সাহিত্য আর সঙ্গীতকে তার ভালোবাসার ভরকেন্দ্র হিসেবে বেছে নিয়েছিলো।

ইঞ্জিনিয়ারের সাথে দেখা হওয়ার আগে সে তার বাবার এক বন্ধুর ছেলে, এক হবু ডাক্তারের সাথে কয়েকদিন মিশেছিলো। কিন্তু এই সম্পর্ক কখনোই তার শরীরকে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে পারেনি। এক সকালে, শহরের বাইরের এক সামার হাউজে ডাক্তার সাহেব তার সাথে শরীরি ভালোবাসায় যেতে চাইলে, কবির মা সম্পর্কটা ভেঙে দেয়, বিষন্নবোধের মধ্য দিয়েই সে বুঝতে পারে এই শরীরি ভালোবাসা তার আবেগ কিংবা শরীর কোনোটাকেই কখনো ভালোবাসার শীর্ষ অনুভূতিতে পৌছে দিতে পারবেনা। এর পর তার স্কুলের পড়াশোনা শেষ করেই সে বাবাকে জানিয়ে দেয় তার আগ্রহ কাজের মধ্যে ডুবে থেকে জীবনের মানে খুঁজে বের করা আর বাবার বাস্তববাদী বন্ধুদের নেতিবাচক মতামত উপেক্ষা করে সে শিল্পকলা ও সাহিত্য অনুষদে নাম লিখিয়ে এলো।

আত্মবিশ্বাসহীন শরীরি হতাশা নিয়েই সে বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচার হলের বিস্তৃত বেঞ্চিতে বসে কাটিয়ে দিচ্ছিলো তার সময়, কিন্তু চার পাঁচ মাস পরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পথে তার পরিচয় হোলো এক উদ্ধত স্বভাবের তরুণ ইঞ্জিনিয়ারের সাথে যে শুরুতেই ভালোবাসার নতুন দুয়ার খুলে দেয়ার কথা বললো, তারা তিনদিন একসাথে বেরিয়ে গেলো শহর থেকে...যেনো শহরের দুয়ার খুলে নতুন ভূখন্ডে যাওয়া। আর এসময়ে কবির মা অবাক হলেও টের পেলো তার শরীরি সন্তুষ্টির, সে ভুলে গেলো তার শিল্পসাহিত্যের প্রেরণার কথা, বিশ্ববিদ্যালয়-ক্যারিয়ার সব, শরীরের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনাটাই যেনো তখন তার প্রাণের একমাত্র গন্তব্য হোলো। ইঞ্জিনিয়ারের নতুন নতুন পরিকল্পণা, তার হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া, দায়িত্বশীলতায় অনাগ্রহী আত্মা সবকিছুই কবির মায়ের ভাবনাকে আনন্দময়তায় ছেয়ে যেতো। যদিও সে জানতো এমন আচরণ তার অভিজাত পরিবারের সাথে কখনোই মিল খায় না। সে নিজেকে ইঞ্জিনিয়ারের বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে মিলিয়ে নিতে ভালোবাসতো, তাতেই তার বিষন্ন হতাশ শরীরের সংশয়গুলো দূর হয়ে যেতো, বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে, যা আছে তার মাঝেই পরমানন্দ খুঁজে পাওয়া।

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

শাপলা's picture


আঙশিক পড়েও ভালো লাগলো। তবে বিষয়টা বিসতারিত না জানায়, অপুরণতা থেকে গেলো। বাকী গুলো পড়ে নেব।

অদিতি's picture


ধন্যবাদ দেবার জন্য। সাবলীল।

মীর's picture


ভাস্করদা'র এই পোস্টটার জন্য অপেক্ষায় থাকি, জানিয়ে গেলাম

তানবীরা's picture


পড়ছি

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...