ফেলানির মৃত্যুর দায় এই রাষ্ট্রের...
আশির দশকের মাঝামাঝি একবার খুব শোরগোল শুরু হইলো; ভারত নাকি বাংলাদেশের সীমানায় কাঁটাতারের বেড়া দিতেছে। তখন আমি সম্ভবতঃ ক্লাস সিক্সে পড়ি। আমার মনে হইছিলো মানে কি! এতোদিন কোন বেড়া ছিলো না নাকি!? নাকি ইটের দেয়াল ভাইঙ্গা কাঁটাতারের বেড়া দিতেছে তাই বাংলাদেশের পক্ষ থেইকা এতো প্রতিবাদের ঝড় উঠতেছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞান থেইকা বিশ্ববিদ্যালয় পাস দেওয়া আওয়ামি সমর্থক বাবা কি কারনে জানি আমারে খুব বেশি স্যাটিসফায়েড করতে পারে নাই, এইটুকই শুধু মনে আছে। তয় সীমানায় কাঁটাতার দেখনের জন্য তৈরী হওয়া আগ্রহটা মিটলো বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করার সময়ে প্রায়। বাংলাদেশ ভারতের সীমানা বেড়ি না দেখা হইলেও হলিউড ছবি থেইকা আমেরিকা-মেক্সিকো-কানাডার সীমানার বেড়া আর তার বিরোধ ততোদিনে অনেক দেইখা ফেলছি। দেখছি পূব আর পশ্চিম জার্মানের দেয়াল ভাঙ্গার অপরিচিত দৃশ্য। তয় এর মধ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় ভারতবিরোধী মনস্তত্ত্বটা টের পাইছি বেশ। আমেরিকান অভিজ্ঞতার সাথে মিলাইয়া বিষয়টারে বুঝনের চেষ্টা ছিলো ঐ সময়টায়।
তয় সীমানা দেখা হোক বা না হোক। বিরোধের রূপটা স্পষ্টভাবে না বুঝলেও, বিএসএফ বাহিনী নিয়া ততোদিনে আতংক তৈরী হইয়া গেছে। বিএসএফ মানে ভারতীয় খুনীর দল বইলা ধারণা করনের জন্য যথেষ্ঠ খুনের নমূনা পত্রিকা মারফত ভালোই জানছি ততোদিনে। সম্ভবতঃ পত্রিকাগুলিতেও বিএসএফের খুনের খবর গুরুত্ব হারাইলো নব্বই দশকের শেষ ভাগে। এমনো সপ্তাহ গেছে সেইসময়টাতে, যখন সাতদিনই বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফ বাংলাদেশী নাগরিকরে গুলি কইরা মারছে, ধইরা নিয়া গিয়া গুম খুন করছে, বাংলাদেশে ঢুইকা ডাকাতি করছে শষক্ষেত।
সীমান্ত বিরোধের এই চিত্রটা অবশ্য প্রাচীন চীন-জাপানের লাঠিয়াল বাহিনী ছাড়া আর কোথাও প্রচলিত বইলা আমার জানা ছিলো না বা এখনো নাই। সেই সময়ে হয়তো জাতি রাষ্ট্র কনসেপ্ট এতোটা সংহত ছিলো না। তাই সীমানায় না খালি, এই বাহিনীরা তাগো অত্যাচার চালাইতো আরো বহুদূর। যুদ্ধবাজ হিসাবে পরিচিত জাতিগুলি এমন কইরাই একসময় তাগো সম্পদ আহরণ করছে। কিন্তু ভারতের কি দায় বাংলাদেশের গনি মিয়ার ধানে!? হাজার হাজার বছর আগের বর্বর বা মধ্যযূগীয় আচরণ এখনো কিভাবে আধুনিক জাতিসংঘ আমলে একটা সাম্রাজ্য অন্বেষী জাতি রাষ্ট্র অনুসরণ করতে পারে!? প্রশ্নটা অনেক ভারী লাগলেও বিষয়টা আসলে খুবি সাধারণ। আমার মনে পড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত প্রতিরক্ষা বাহিনীও এমন আচরণই হয়তো করে মেক্সিকো সীমান্তে...অন্ততঃ হলিউড আর ঐ অঞ্চলের সিনেমা দেখলে তাই মনে হয় মাঝে সাঝে। বর্ডার সিকিউরিটি বাহিনীর এই আচরণ বৃহৎ রাষ্ট্রগুলি হয়তো উৎসাহিতই করে তার পরিচালনা পলিসিতে।
সম্প্রতি ফেলানি নামের এক কিশোরীর গুলিবিদ্ধ লাশ যখন কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তখন প্রতিবাদের ঝড় উঠছে সকল সচেতন মহলে। ভারত রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী আচরনের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষিত মহল বেশ সরব হইয়া উঠছে পত্রিকা আর ওয়েব টেরিটরিতে। যদিও আমি ফেলানি হত্যার প্রসঙ্গটারে আমার লেখার বিষয় হিসাবে খুব বেশি প্রাধান্য দিতে চাই না। আমার তখন মনে পড়ে এই দেশের কতো প্রজন্মের যুবক ইউরোপের বিভিন্ন সীমান্তে কিভাবে মারা গেছে। ইস্ট ইউরোপের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়া ওয়েস্ট ইউরোপের সম্পদশালি রাষ্ট্রে পৌছানোর রোমহর্ষক পরিণতির কথা কিছুদিন আগেই পত্রিকাগুলিতে নজর কাড়ছিলো। মোজাম্বিকেতো কয়েকদিন আগেই বেশ কিছু বাঙালি যুবক ধরা পরলো তাগো সীমান্ত পুলিশের হাতে। অবৈধ অনুপ্রবেশের ট্র্রানজিট রাষ্ট্র হিসাবে ব্যবহৃত উত্তর আমেরিকান দেশ ইকুয়েডর, নরম কোমল ভিসানীতির এই দেশ গতোবছরের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশের জন্য কঠোর ভিসানীতির প্রবর্তন করছে। এই তথ্যগুলিরে ভারতের অত্যাচারী আধিপত্যবাদী সময়ে অহেতুক মনে হইতে পারে। আদতে কিন্তু তা না...
ফেলানি বিষয়ে পত্রিকার বিভিন্ন উৎসমতে জানতে পারি নানা রকমের সম্ভাবনা। কেউ কয় ফেলানির বাবা ভারতেই কাজ করেন, এইবার আসছিলেন মেয়েরেও সাথে কইরা নিয়া যাইতে। কেউ কয় তারা কাজের সন্ধানেই যাইতেছিলো ভারতে। কেউ কয় এইটা সীমান্তবর্তী এলাকার স্বাভাবিক প্রবণতা ভারতেতো অনেক সীমানাবর্তী অধিবাসীরা সকাল বিকাল বাজার করতে যায়। যাইহোক ফেলানিরে নিয়া আবেগী অনেক বিশ্লেষণ দেইখা আমার একটা বিষয়রে বেশ অ্যালার্মিং লাগতেছে। ফেলানিরা ক্যানো ভারতে যাইতেছিলো এই প্রসঙ্গের চাইতে বিএসএফ ক্যানো গুলি চালাইলো এই পয়েন্ট বেশিরভাগ মানুষের চিন্তা ঘুরপাক খাইতেছে বইলা মনে হইতেছে।
নিজের বাড়ির কাছের সীমান্ত বইলা ফেলানির ছবি আমাগো পত্রিকার নাগালে চইলা আসছে আর তার বরাতে আমরা উত্তেজিত হইতে পারতেছি, কিন্তু ইউরোপ, আমেরিকা কিম্বা আফ্রিকার ট্রানজিট রাষ্ট্রে প্রতিবছর যখন শয়ে শয়ে বাঙালি গুলিবিদ্ধ হইয়া ধুইকা ধুইকা মারা যায় জঙ্গলের মধ্যে তার ছবি আমাগো হাতে পৌছায় না। এই যে পরিণতি তারে আমরা আর অনুসন্ধানে রত হই না। আমাদের মাথায় একবারো এই চিন্তা আসে না যে ফেলানীরা ক্যান দেশ ছাইড়া ভাগ্যান্বেষণে অন্য রাষ্ট্রে আবাস গাড়তে চায়। ক্যানো সেই সব রাষ্ট্রেই তারা আবাসের কথা ভাবে যেই রাষ্ট্র বর্বরতারে সীমান্ত নীতি হিসাবে ধারণ করে।
আমরা ভারতের খুনী মনোবৃত্তিরে সামনে আনতে গিয়া ভুইলা যাই ফেলানিগো এই পরিণতির জন্য আমার নিজের রাষ্ট্র কতোটুক দায়িত্ব রাখে। রাষ্ট্র ফেলানিগো কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারে না কাজের, অন্নের, বস্ত্রের। ফেলানিরা তাই সীমানার ঐপারে থাকা সমস্ত সুখের আস্বাদ নিতে চায়। মধধ্যবিত্তগত অবস্থানের কারনে শিক্ষা আর বিনিময়ের মতোন সম্পদ আছে বইলা আমরাও সীমানা পার হওনের কথা ভাবি। আমরা ওয়েবসাইটে খুজতে পারি ইমিগ্রেশন ফর্ম। আমরা পয়েন্ট মিলাইতে পারি ঐ সব রাষ্ট্রের বাইন্ধা দেওয়া নিয়মে। কিন্তু এই দেশের আরো অনেক ক্ষুব্ধ মানুষ আছে যারা আর এক মুহুর্ত এই দেশে থাকতে চায় না। সম্পদ হিসাবে তাগো কেবল সীমানা টপকানোর স্পর্ধা আছে। এই স্পর্ধার কোনো মূল্য নাই আধুনিক পৃথিবীতে। শ্রেণী বিভাজিত রাষ্ট্রসমূহের কাছে এই স্পর্ধার কোনো গুরুত্ব নাই। ফেলানিগো নিয়তির গেম থিওরীতে তাই বাঁচা-মরার সম্ভাবনা সমান সমান ৫০%-৫০%।
চলুন আমরা তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেশ ছাড়ি...ফেলানিদের মৃত্যু সম্ভাবনায় আমাদের মাথা খাটানের দরকার কী!





ফেলানিরা তো ফেলে দেওয়া সামগ্রী ! তার বা তাদের মত বাতিল উদ্বৃত্তদের দায় সরকার নেবে এমনটি ভাবলেই যত সমস্যা ! তাইতো চলুন আমরা তবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে দেশ ছাড়ি...ফেলানিদের মৃত্যু সম্ভাবনায় আমাদের মাথা খাটানের দরকার কী! ঠিকই তো বলেছেন !
সীমান্তের ঠিক ওপারেই না, বাবামাসহ ফেলানিরা ৬ভাইবোন-- পরিবারের আটজনই নাকি নয়াদিল্লির এক ইটভাটায় কাজ করেন/করতেন। বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের মজুরিহার কতো বেশি হলে এধরণের 'মবিলিটি অফ লেবার' (?) ঘটা সম্ভব, মাসুমভাই হয়তো বলতে পারবেন।
একমত, দায়টা পুরোপুরিই রাষ্ট্রের।
ফেলানি'র পরিবারের ভারতে কাজ করার উপরে বেশ কিছু রিউমার কানে আসছে...আমার কাছে সেইটা আদৌ ইর্ম্পট্যান্ট মনে হয় নাই...বরং ভারত বিরোধীতার মধ্য দিয়া দেশের রিয়ালিটি হাইড করার মতোন মনে হইছে তৎপরবর্তী আলোচনারে। এই দেশের মানুষ আর এখন দেশে থাকতে চায় না। সেইটা কেবল নিম্নবিত্তের ভাবনা ছিলো একসময় আর এখন মধ্যবিত্তের মধ্যেও বিষয়টা বেশ ভালোভাবেই স্প্রেড করছে।অনেক কালে আগে সামহোয়্যারে একটা লেখা লিখছিলাম ঐটার কথা মনে পইড়া গেলো বিষয়টা ভাবতে গিয়া...
আত্মজীবনির মুখোশ খুলিতেছি
পীড়িত মানুষ আহা বড় কষ্টে আছে...তাহাদের ছাতা মাথা আমার বুঝার সাধ্যি নাই, কেবল দারিদ্র রেখা দেখি আর জল ফেলি...নোনা জল নাকি শুনিয়াছি বাস্পীভূত হয়...সে বাষ্প মেঘের মেঝেময় ছড়ায়, আবার জলকনা হয়, তয় তার লবন ঝরে যায়...মিঠা জল শুনিয়াছি বনের মানুষ ট্যাবলেট মেখে পান করে।
চাইলের দামে কি কনা থাকে? প্রশ্নখানে কোন দানাদার প্রতারণা নাই...নিপাট পাথর যখন দাঁতের সংঘর্ষে আসে তার স্বাদ পাথর মানুষের ভালো লাগে নাই কোন কালে...তয় পাথরের ব্যবসায় লাভের আস্বাদ নিয়েছে সিলেটস্থ বাবুল মিয়া আর তার পরিবারবর্গ...পাথরের কি জান আছে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে আমি বিচলিত হই...মৌসুমের পাথর চিন্তায় আমি কোন সমাধান দিবার যোগ্যতা রাখি নাই...যেহেতু কোন কালে জিওলজী পাঠাভ্যাস ছিলো না।
তয় আমি ভাষা পড়িয়াছি, অর্থনীতিও কিয়ৎ...খুব বেশী বই পাঠের ক্ষমতা থাকে নাই, কারন টাকার উৎস খুব হাতে গোনা...কর গুননের অভ্যাসে যদ্দূর গণিত শিখা যায়, তার দর্শনগত পীথাগোরাস ভিত্তিও কিছুদূর জানা আছে।
আর এইসব জ্ঞানে একখান লাইন আজ সারাটাদিন বড়ই জ্বালা দিলো...সেই বাক্য এইখানে উদ্ধৃত করি...দেশকে ভালোবাসুন, থাকুন বিদেশে...
বিদেশে শ্রম বিনিয়োগ অলাভজনক নয় অনেক ক্ষেত্রেই। -----" দেশকে ভালোবাসুন, থাকুন বিদেশে..." এই লাইনটার সারকাস্টিক ভাবের সাথে আমি একটু দ্বিমত দাদা ।
বাংলাদেশের সমস্যার মাত্রা এত বেশি রাষ্ট্র ব্যবস্থা কি বা কেমন হলে সমস্যা মেটানো সম্ভব - মাথায় কাজ করে না। ইদানিং চাকরি-বাকরির ব্যাপারগুলো ক্লোজলি দেখার সুযোগ হওয়ায় আরো বেশি ডাম্ব লাগতেছে। রাষ্ট্র কি করবে ? যে মিসঅ্যালোকেশন চলছে তা থেকে উৎরানো কেমনে সম্ভব !
যেইসব প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠায় তাগো মধ্যে একটা বড় অংশ হইলো নিম্ন মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তারা দেশেই তাগো জীবনের শেষভাগ কাটানের প্ল্যান করে। কিন্তু মধ্যবিত্ত শিক্ষিত প্রবাসীরা দেশ নিয়া বহুত মামদোবাজী দেখায়, দরদের ভান্ডার উপুর কইরা দেয় পারলে। তাগো এই ভালোবাসাবাসি পাঠানের চাইতে ঐ গরিব-গুরবো শ্রমিক জাতের লেবাররা ভালো সেইটা মানি। তাগো পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির একটা বড় ভরসা।
আমার ঐ লেখাটা ছিলো ঐ সব মধ্যবিত্ত চরিত্র নিয়া। এরা দেখবেন যুদ্ধাপরাধীগো বিচার লইয়া ফাটাইয়া ফেলবো ব্লগের চত্বর; আবার টনি ব্লেয়ার না জিতনে তারা মন খারাপ কইরা বইসা থাকবো। তারা বিদেশে থাকনটাই ভালো। এদের অনেকরেই দেশে দেখনের সৌভাগ্য হইছে আমার। তখন তারা ভয়ে অনেক কিছু কয় না, কিন্তু বিদেশে পৌছানোর লগে লগে এইসব লোকের কোমরের জোর বাইড়া যায়।
রাষ্ট্রের তো অবশ্যই দায়িত্ব পড়ে। দেশের অর্থনৈতিক বিনির্মাণ নাইলে কে করবো? নানক-তাপসের দূর্নীতির দায় তো অবশ্যই সরকার আর রাষ্ট্ররে নিতে হইবো। সালমান রহমান আর লোটাস কামালরে নিয়ন্ত্রণের দায় তো রাষ্ট্রেরই, নাকি? আজকে এক আওয়ামি ওয়ার্ড মারা যাওনের পর আমাগো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মনে হইছে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হইছে। কারণ কয়দিন আগে একই ওয়ার্ডের সভাপতিও গুলি খাইছে। ঐ সভাপতি আবার সবচেয়ে বড় মাদক ব্যবসায়ি (সূত্র: প্রথম আলো)। তো এই দেশের মানুষের হতাশার ক্ষোভের দায়িত্ব রাষ্ট্র ছাড়া কে নিবো? যূদ্ধাপরাধীর বিচারের চাপা দিয়া আর কয়দিন চলবো দেশে! ইসলামী ব্যাংক এর আগে শেখ হাসিনার হাতে চেক দিছে...এইবার দিছে লোটাস কামালের হাতে। বিশ্বকাপ উত্তেজনায় আমরা চারপাশে যুদ্ধাপরাধীগো সহযোগী শক্তির নাম দেখতে দেখতে কমু, কী সুন্দর এ বাংলাদেশ!
"মধ্যবিত্ত শিক্ষিত প্রবাসীরা দেশ নিয়া বহুত মামদোবাজী দেখায়"
এইগুলা দেশে থাকলে ঘুষখোর, করাপ্টেড লোকের সংখ্যা বাড়াইতো খালি , বাইরেই যা করার করুক। কিন্তু আমি বলছিলাম, কারো কারো জন্য - যেমন প্রকৌশলী যে সব আছেন বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাইক্রোসফট সহ, স্কলাররা আছেন বিভিন্ন একাডেমিক কাজে, -তারা দেশে থাকলে এত কাজের সুযোগ থাকতো না। যে ছেলেটা মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠানে কাজ করে, বা যে এমআইটির মত প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক -তার মেধার মূল্যায়ন করার মত দেশে সুযোগ কই। তারা দেশের বাইরে থেকে ভালো কোনো অবস্থানে গেলে সেটাও দেশের জন্য লাভজনক অনেক ভাবেই। এইধরণের ইনটেলেকচুয়াল এক্সপোর্ট চায়না ইন্ডিয়া রাষ্ট্রীয় সাহায্যে করছে, এখন আমেরিকার যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচুর পরিমানে চাইনিজ, ভারতীয় শিক্ষক, ছাত্র। এমনকী চাইনিজ ছাত্ররা এখন লিডিং জায়গায় , আমেরিকার নেটিভরা তাদের সাথে পেরে ওঠে না।
----
রাষ্ট্রের দায়িত্ব তো অবশ্যই, সব ক্ষেত্রেই --- আমি বলছিলাম, ফেইলড স্টেট হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। চাইলেও আর কত কি করা সম্ভব বুঝতে পারিনা ।
দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ নাই কইতে চান? এই দেশের কতো পোলাপাইন প্রোগ্রামিঙে আউটসোর্সিংয়ের কাজ কইরা কি পরিমাণ টাকা কামাইতেছে সেই বিষয়ে কি ধারণা আছে?
প্রবাসের মোহে যেইসব মানুষ বুয়েটের নাম ভাঙানো স্কলারশীপে বিদেশ গিয়া ঐ দেশের শিক্ষক হইয়া আর ফিরতেছে না তারা আসলে দেশের জন্য নাকি কান্না কান্দে ঐ অপরাধের বোঁঝাটা একটু কমানের জন্যই। এরা বিদেশ থাকনটাই ভালো। এরা দেশে আইলে আসলেই ঝামেলা হইবো এইটাও সত্য। আমার ঐ লাইনটা কিন্তু এইসব মানুষরে উদ্দেশ্য কইরাই বলা...
প্রকৌশল নিয়ে আসলেই ধারণা নাই । বুয়েটিয়ান বন্ধুদের কাছে যা শুনেছি তার জোরেই যা বলার । তবে ইকনমিক্সে আসলেই নাই মনে করি। এদেশে ইকনমিক্সে রিসার্সের সুযোগ পরিবেশ একটাও ভালো না। ডিপার্টমেন্টের অনেকেই বাইরে এমন কাজ করছেন, যা দেশে থাকলে কিছুই হোতো না। প্রজেক্ট বেইজড মিথ্যাচার ছাড়া এদেশে একটা রিসার্চ প্রতিষ্ঠান কিছু করে না । ---এইটাই বলতে চাচ্ছিলাম আর কি !
শুনেন, আপনেগো এই ধারণার লেইগাই দেবপ্রিয় নামের লোকটা কইরা কাইটা খাইতেছে। রিসার্চগুলি সব মিথ্যার উপর নির্ভর কইরা গইড়া ওঠে। এই দেশে সত্য ভিত্তি তৈরীর জন্য নতুন কেউ দাঁড়াইবার সাহসই পাইতেছে না।
আমি হয়তো আপনেরে চোখে আঙ্গুল দিয়া দেখাইতে পারুম না, কিন্তু একটা উদাহরণ দিতে পারি,আমার এক বন্ধুর ছোট ভাই আপনেগো ডিপার্টমেন্ট থেইকা পাস দিয়া আইএমএফ স্কলারশীপে শিকাগো অর্থনীতির স্কুলে পড়তে গিয়া আর ফিরে নাই...ঐখানে দুইটা পিএইচডি কইরা ফেলছে। অথচ তার অভিজ্ঞতার আলোকে দেশে আইসাও ঐ সেক্টর নিয়া কাজ করবার বহুত জায়গায় ছিলো বইলা আমার ধারণা। সে যদ্দূর জানি স্বাস্থ্য সেক্টরের পলিসি মেইকিঙ এবং সাইকোগ্রাফ নিয়া গবেষণা করছে। যেই সেক্টরে উন্নয়ণটা এই দেশে অনেক বেশি প্রয়োজন। আর তারে চাকরী দেওনের লেইগা অন্ততঃ তিনটা ইউএন বডি বইসা আছে। যাগো টাকা এই ছেলের হাতে গেলে বরং হালাল হইতো। যেইটা এখন হয়তো কোনো শ্রীলংকান অথবা কেনিয়ান নাগরিকের কাছে চইলা যাইতেছে।
ভাস্করদা, স্যরি কিন্তু ভুল ইনফর্মেশন দেয়াটা ঠিক না। আমাদের বিভাগের একজন ই আইএমএফ এর স্কলারশিপ নিয়ে শিকাগো থেকে পড়া - অতনু রাব্বানি। উনি এখন আমাদের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক আর আমি ওনার আন্ডারেই রিসার্চ অ্যাসিস্টেন্ট হিসেবে কাজ করি। আর কেউ আমাদের শিকাগোর নাই - ইনিই একা।
আপনার অনেক কথাই ঠিক, কিন্তু উদাহরণ দিলে একটু শিওর হয়ে দিয়েন ভাইয়া ।
আর হ্যা, অতনু ভাই হেলথ সেক্টর নিয়ে গবেষণা করেন ।
আচ্ছা। অতনুর কথাই আমি কইতেছিলাম। তার সাথে আমার শেষ কথা কওনের টাইমে যদ্দূর মনে পড়ে দেশে না আসনের কথাই কইতেছিলো। দুঃখিত আমি তার দেশে ফেরার ইনফো আমার না থাকার জন্য।
তার মানে তো আমার বক্তব্যটাই যথার্থ প্রমাণ হইলো। দেশে ফিরা না আসনের কোনো কারণ নাই এইসব মেধাবী তরুণগো। কিন্ততু এদের বড় অংশটাই রীতিমতো বিদেশে থাকনের কথাটাই ভাবে।
অতনুরে কইয়েন তার সম্পর্কে আমি এমন ভুল অনুমাণ করছিলাম। আর কইয়েন যে আমি এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী...
দেশে কাজের সুযোগের অভাব বলতে যদি কেবল "চাকরি" "টাকা রোজগার" এ সীমাবদ্ধ থাকে, একাডেমিক স্কলারলি পরিবেশে না যায় , তাহলে কিছু বলার নাই ।
আপনার কি মনে হয় অতনু যেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হইছে তার অনুসন্ধান বা প্রয়োগ বাংলাদেশে সম্ভব না? আপনার কি মনে হয় না অতনু রাব্বানী বাংলাদেশে ফিরা আসাতে আপনার কাজের এরিয়া নিয়া ভাবনের স্পেইস তৈরী হইছে?
যারা বিদেশে থাকনের লেইগা যাইতেছে তাদের কয় শতাংশ কাজের বিস্তৃতির লেইগা যাইতেছে বইলা আপনের মনে হয়?
আপনার কি মনে হয় অতনু যেই বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হইছে তার অনুসন্ধান বা প্রয়োগ বাংলাদেশে সম্ভব না?
হ্যা, আমার মনে হয় , সম্ভাবনা অনেক কম । একাডেমিক পরিবেশ নাই বললেই চলে এখানে।
যারা বিদেশে থাকনের লেইগা যাইতেছে তাদের কয় শতাংশ কাজের বিস্তৃতির লেইগা যাইতেছে বইলা আপনের মনে হয়?
আমার চেনাজানাদের মধ্যে যারা যাচ্ছে তারা বেশির ভাগ একারণেই যাচ্ছে। আমি ইকনমিক্স বাদে অন্য স্পেশালাইজেশনের ব্যাপারে জানি না।
===============
প্রশ্নটা অতনু ভাইরা ফেরত আসছে কিনা সেটা নিয়ে না। আমি ফেরত আনার জন্য ইনসেনটিভ রাষ্ট্র দিচ্ছে না এটা বলছিলাম। এবং এটাও যোগ করতে চাই যে দেশে থাকলেই কেউ দেশ পাল্টায়া ফেলছে আর বিদেশে থাকলেই কাউকে গালি দিয়ে উজার করে ফেলতে হবে - এব্যাপারে একমত না বলেই এত কথা বলা।
এনিওয়ে, এই ব্যাপারে মনে হয় কথা বাড়িয়ে লাভ নাই। ভালো থাকবেন।
প্রথম বিষয়ে কই দেশে গবেষণা চালাইয়া যাওনের লেইগা যেই রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা দরকার তা হয়তো পাওয়া সম্ভব না, কিন্তু গবেষণার লেইগা যেই রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্র লাগে তার জন্য বাংলাদেশ আদর্শ রাষ্ট্র।
দ্বিতীয় বিষয়ে কই, আমি বহুত মাইগ্রেট করা লোকরে দেখছি যারা বিদেশে গিয়া আর তাগো ফিল্ডে কাজ করে না। বেশিরভাগই রেস্তোরাঁ'তে কাজ করে নাইলে ট্যাক্সি চালায়। বিদেশে মাইগ্রেট করনের প্রসঙ্গটা পোলাপাইনের ভবিষ্যত নির্মাণের তরেই উৎসর্গ কইরা দেয়। তবে এই বিষয়টাও সত্য যে যারা বিদেশে পড়তে যায় তারা তাগো গবেষণার জন্য প্রপার এনভায়রনমেন্ট পাইবো বইলাই যায়। আমার কোনোরম ক্ষোভ'ই এই শ্রেণীর জন্য নিঃসৃত হয় নাই।
আর আমিও আপনের সাথে একমত বিদেশে গেলেই তারে গাইলাইয়া ভুত বানাইয়া দিতে হইবো আর দেশে থাকলেই দেশের খোলনলচে বদলাইয়া দিবো বিষয়টা এমন না। তয় যারা বিদেশে গিয়া দেশের পরিস্থিতি না বুইঝা বিদগ্ধ মন্তব্যের জোয়ার ডাকে তাগো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা জ্ঞান-গরিমা নিয়া আমার সন্দেহ তৈরী হয়। আর যারা দেশে থাইকা দেশের প্রয়োজন না বুইঝা নিশ্চুপ থাকে তাগো জন্য তৈরী হয় হতাশা।
আমারো মনে হয় এইটারে আর টানাটানি না করনটাই ভালো...টানলেই মনে হয়, আরে! আমি তো ভালো নাই...
১। প্রবাসীদেরকে দেয়া ধিক্কারটা প্রবাসী হিসাবে মাথা পেতে নিলাম।
২। তাও একটা কথা বলি, ফেলানি কেন দেশে সুস্থ জীবন পাইলো না, সেটা নিয়া বাংলাদেশ সরকারকে গালি দিতে পারেন, সমাজকে পারেন, এমমনকি আমাকেও দিতে পারেন। কিন্তু কেন সে মরলো সে দায় বিএসএফের, ভারতের। শুট ফার্স্ট, দেন আস্ক - এই শিক্ষা যদি বিএসএফকে দেয়া হয় তাহলে ফেলানিরা মরবেই। তবে "শুট ফার্স্ট, দেন আস্ক" এই নীতি শুধু বিএসএফ পায়না আরো অনেকই পায়। তবে যারা "শুট ফার্স্ট, দেন আস্ক" এর বিরোধিতা করে তাদের কেউ ভালো পায়না। কোথাওই না।
১.
ধিক্কারটা আসলে ক্ষোভ থেইকাই বাইর হয়...ঐটারে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসাবে না নিতে অনুরোধ করবো।
২.
পুরানা উদাহরণটাই দেই, আওয়ামি ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক মরার পর ঐ এলাকার ওসি আর ডিসিরে সাসপেন্ড করা হইছে। এইটাই নিয়ম। খুন কে করছে তার দায় তো আছেই,, কিন্তু খুন করার সম্ভাবনাময় পরিবেশ তৈরীর জন্য যারা সহযোগিতা করে তারাও সমান দায়ভারই বহন করে। রাষ্ট্রের সমস্যা হইলো ওসি'র উপর দিয়া চালাইয়া দিতে পারলে নানক আর তাপস বাঁইচা যায়। ঐ এলাকার এমপি হিসাবে নানকরেও তো সাসপেন্ড করা দরকার ছিলো। কিন্তু রাষ্ট্র সেইটা করে না। যেই কারনে মাদক ব্যবসায়িরা সংগঠনের সভাপতি পদে বহাল থাকতে পারে, সাথে সন্ত্রাসের জনপদটারেও টিকাইয়া রাখতে পারে।
ভাস্করদার পোষ্ট ও কমেন্ট কোনটাতেই দ্বিমত করতে পারছি না
ভাস্করদার পোষ্ট ও কমেন্ট পড়ে ক্ষোভটা আরো বেড়ে গেলো।
কমেন্টে দ্বিমত।
ইঞ্জিনিয়ারদেরটা বলতে পারি...ইঞ্জিনিয়ারদের বাইরে যাওয়ার যথেষ্ঠ কারণ আছে। খালি আউটসোর্সিং দেখায়া কইতে পারেন না যে,- "পয়সা তো কামানো যায়, দেশে থাকেন"। সব ইঞ্জিনিয়ার আউটসোর্সিং এর ইঞ্জিনিয়ার না। ধরলাম সব কম্পুওয়ালা আউটসোর্সিং করে পেট চালাবে। আরো তো ইঞ্জিনিয়ার আছে, সিভিল-মেকানিকাল-কেমিক্যাল-ইলেক্ট্রিকাল-নেভাল। দেশে জায়গার নাম বলেন দেখি কোনখানে বাকি ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরি করা উচিত...কিংবা চাকরি না করলে কি কি করা উচিত।
এপু'র যেই কমেন্টের জবাবে আউটসোর্সিঙের প্রসঙ্গটা আসছিলো সেইখানে আইটি রিলেটেড জবের কথা বলা হইতেছিলো। বাকী প্রফেশনাল প্রকৌশলী যারা দেশে আছেন তাগো মধ্যে বেকারত্বের হার কেরম কনতো? আপনার দেয়া লিস্ট থেইকা যদ্দূর বুঝি এক নেইভাল আর্কিটেকচার বাদে আর কোনোটাতেই দেশে চাকরীর অভাব নাই। দেশে রিয়াল স্টেইট ইন্ডাস্ট্রি এখন সবচাইতে বেশি লোকাল রেভিনিউ আলা সেক্টর সুতরাং সিভিলগোতো খুব একটা সমস্যা থাকার প্রশ্নই উঠে না। সরকার বা রাষ্ট্র উদ্যোগী হইলো দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ণেও তারা ভালো ভাবেই ইনভল্ভ হইতে পারে। মেকানিক্যাল আর কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররাই বেশি বিদেশ যায়গা বইলা জানি। এই সেক্টরে তাই শিক্ষিত ইঞ্জিনিয়ারের অভাব আছে। এইখানেও হয়তো রাষ্ট্রের দায় আছে, সেইটাও সত্য। শিল্পায়ন ছাড়া একটা দেশের উন্নয়ণ কিম্বা কর্মসংস্থান সম্ভব না। আর নেইভাল আর্কিটেকচারেও কিন্তু এই দেশের সম্ভাবনা তৈরী হইছে সাম্প্রতিক সময়ে...এই দেশের ডি্জাইন করা জাহাজ বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বিক্রয় শুরু হইছে...এই শিল্পেরো খানিকটা সরকারী পৃষ্ঠপোষকতা দরকার।
রাষ্ট্রের এখন শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের হুজুগ চলতেছে। তাতে শিল্প কলকারখানার কি উন্নতি হইতেছে এইটা মাসুম ভাই আমার চাইতে ভালো বুঝবেন।
আলোচনায় অনেক দেরীতে ঢুকলাম। সুতরাং নতুন কিছু আর বলার নাই। আমাদের এপু অনেক কথা বললো। গবেষণার সুযোগ নিয়েও বললো। আমার ভয় হয়, এপু হয়তো দেশেই থাকবে। আর এখানে থাকতে থাকতে এপুও তথাকথিত প্রকল্পভিত্তিক গবেষণায় ঢুকে যাবে। এপুর মতো নতুন ছেলে মেয়েদের কাজে লাগানো শিখলো না দেশ।
আর যাদের্ আমরা রপ্তানি করি, তারা যে কত কষ্ট করে বিদেশে কাজ করে দেশকে বাচিয়ে রেখেছে সেই মর্যাদাও দেই না।
এখন শেয়ার বাজারে যা চলছে তার মধ্যে অর্থনীতি মোটেই নেই।
বেকারত্বের হার বুঝার উপায় নাই। সবাই বিদেশ যায়। এর মধ্যে মেধাবী কয়েকজন রিসার্চ-টিচিং প্রফেশনের জন্য যায়, বেশিরভাগই দুই একটা ডিগ্রি নিয়া চাকরি করে বা সরাসরি চাকরি করতে যায়। দেশে মোটামুটি স্বচ্ছল বেতনে চাকরি করতে পারলে বেশিরভাগই হয়তো দেশে থাকতো...কে জানে?! আবার এমনও আছে দেশে থাকবে দেইখা মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ কইরা ব্যাংকে চাকরি করে...বলতে পারেন চার বছরের সরকারী ফাণ্ডিং এর অপচয়।
আইটি কম্পুর একটা ছোট পার্ট...কম্পু নিয়াও কিছু জব আছে যেগুলার বাংলাদেশে সুযোগ নাই(উদাঃ-হার্ডওয়ার নিয়া কাজ)। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সমস্যা ডিটেইলস বলছিল আখসানুল ভাই। মোবাইল কোম্পানির বাবল ফুটার পরে ইলেকট্রিকালের অবস্থাও তেমন সুবিধার না।
তবে মূল কথা এইটাই যে এইদেশে শিল্পকারখানায় কাজের সুযোগ নাই। সুতরাং টিপিক্যাল সাবজেক্টে ইঞ্জিনিয়ার পয়দা করার আরেক নাম জনশক্তি রপ্তানি লক্ষ্যে চারবর্ষের ট্রেনিং। বাইরের দেশে জব মার্কেট অনুযায়ী সাবজেক্ট পয়দা হয়, কারিকুলাম চেঞ্জ হয়। ঐভাবে না চললে জনশক্তি রপ্তানি বাদে ইউনিভার্সিটিগুলা থেকে তেমন কোন আউটপুট পাওয়া যাবে না।
সহমত...
হুমম... একটা ভোটাভোটি করেন:
০ দেশকে ভালোবাসুন, থাকুন বিদেশে
০ বিদেশকে ভালোবাসুন, থাকুন বিদেশে
০ দেশকে ভালোবাসুন, থাকুন দেশে
০ বিদেশকে ভালোবাসুন, থাকুন দেশে
~
০ দেশকে ভালোবাসুন, থাকুন বিদেশে
দেশ পরিচালনায় রেমিটেন্স এখন একটা বড় ফ্যাক্টর। দেশ ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলো তার স্বজনদের জন্য রক্ত পানি করে কোটি কোটি ডলার পাঠাচ্ছে। আমাদের আয়ের সবচাইতে বড় উৎসই এটা।
শিক্ষিত মধ্যবিত্তগো রেমিট্যান্স পাঠানের প্রবণতা কিন্তু অশিক্ষিত মূর্খগো চাইতে কিছুই না...
কিসের দেশ, কিসের রাজনীতি, আসলে সব স্বার্থনীতি...
~
বিদেশ থাকা নিয়া এত চিল্লাপাল্লার কি আছে? যার ইচ্ছা বিদেশ থাকবে যার ইচ্ছা দেশে থাকব। রিসেশনের ধাক্কায় তো প্রচুর পোলাপাইন আইসা পড়ল দেশে, বিদেশে পড়ালেখা কইরা দেশে ফিরা আসলেই যে দেশের শনৈঃ শনৈঃ উন্নতি হবে এইটা ধারণাটার কারণ কি আসলে? মেধাবী লোকজন, ভালো রিসার্চাররা ঐখানে সুযোগ থাকা সত্ত্বেও দেশে ফিরা আসল, তাতে কোন সিনারিও পাল্টাবে? আর এইরকম যে কেউ আসেনাই তাও তো না, প্রচুর লোকজন আসছে, কেউ কেউ চেষ্টা করছে কিছু একটা করার, কিন্তু সিস্টেমের প্যাচে পৈরা ছাইড়া দিছে, কেউ এখনো চেষ্টা কইরা যাইতেছে...বাকিরা মাল্টিন্যাশনাল আর এনজিও করে। একটা দেশ যে চলে ভিক্ষা কইরা আর ঋণ নিয়া, সে কিভাবে ডনর দেশগুলা যেই খাতে টাকা দিবে সেই খাত ছাড়া রিসার্চ করবে? আর রিসার্চের নামে দুই নাম্বারী শুধু বাংলাদেশে না, সমস্ত গরিব দেশেই হয়। 'বিদেশে থাকা মানুষগুলার দেশকে নিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলা ভন্ডামি', এইটারে আরেকটা এক্সট্রিমিস্ট দেশপ্রেমিক পয়েন্ট অফ ভিউ ছাড়া আর কিছু বলা যায়না।
এই পোস্টের মূল বক্তব্য ছিলো রাষ্ট্রের দায়িত্বে অবহেলা নিয়া। ফেলানি হত্যার পর আমরা শিক্ষিত মানুষরা বিএসএফ'এর বা ভারতের আধিপত্য নিয়া অনেক কথা বলছি, কিন্তু কারো চিন্তায়ই আসে নাই যে ফেলানিরা যে জীবনের ঝুকি নিয়া ঐ পাড়ে চইলা যাতে বাধ্য হয় রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে অবহেলা আর যথার্থ জীবনের নিরাপত্তা দিতে পারে না বইলা। মধ্যবিত্ত আমি নিজেও মাঝে সাঝে দেশ থেইকা চইলা যাওনের কথা ভাবি। এর পেছনেও রাষ্ট্রের ব্যর্থতাই দায়ী। দেশ থেইকা লাখে লাখে লোক যে ইমিগ্রেট করতে চায় সেইটাও এর বাইরের কিছু না। পার্থক্য একটাই ফেলানিগো যাইতে হয় অবৈধ ভাবে...আর মধ্যবিত্তরা বৈধতার সুযোগটা নিতে পারে। আরেকটা পার্থক্য আছে, নিম্নবিত্তের যারা প্রবাসে যায় তাগো মধ্যে যেমন দেশে ফিরা আসনের বা দেশে রাইখা যাওয়া পরিবারে রেমিট্যান্স পাঠানের প্রবণতা দেখন যায় তার তুলনায় মধ্যবিত্তের আয় এবং টাকা পাঠানের রেশিও কিছুই না। এখন এইটা হইতেই পারে ব্যক্তির পছন্দ-অপছন্দ। কিন্তু যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের কনসেপ্টে বা জাতীয়তার কনসেপ্টে এখনো আস্থা রাখি, যেহেতু তারে পাল্টাইয়া ফেলতে পারি নাই তাই দেশপ্রেমের এই এক্সট্রিম অবস্থানরে স্বীকার কইরা নেওনের এথিক্স বা ভ্যালুটারে পাল্টানের কথা এতো সহজে বলতে পারি না। অনেক ক্ষেত্রে বিষয়টারে মাইনাই নিতে চাই।
এখন প্রশ্ন আসে শিক্ষিত মানুষরা দেশে ফিরা আইসা কি করতে পারে বা পারছে। আমি নিজেও তার রূপরেখা হয়তো জানি না বা ফিরা আইসা দেশের কাজে নামলেই সব পাল্টাইয়া যাইবো এমন নিশ্চিত আশাও করতে পারি না। কিন্তু এই পোস্ট দেয়ার কিছুদিন আগের থেইকাই তিউনিশিয়ার বিদ্রোহটারে অবজার্ভ করতেছিলাম, গত পরশু তিউনিশিয়ার মানুষের জয় দেইখা মনে হইছে শিক্ষিত মধ্যবিত্তরা অন্ততঃ পাল্টানের ক্ষেত্রটা তৈরী কইরা দেওয়ার প্রভাবক শক্তি হওয়ার ক্ষমতা রাখে। উইকিলিক্সে প্রকাশিত তথ্য তাদের এমন বিদ্রোহে নামাইছে এমন কইরা হয়তো আমি ভাবতে পারি না। কিন্তু বিভিন্ন বিশ্লেষকদের মতে বিদ্রোহ ছড়ানোতে শিক্ষিত মধ্যবিত্তরাই বড় ভূমিকা রাখছে। আমেরিকার সমর্থনে ২৩ বছর ধইরা টিকা থাকা একজন স্বৈরশাসকরে ক্ষমতাচ্যূত করতে দেশের ১০ ভাগের ১ ভাগ ইন্টারনেট ইউজার নাকি বিরাট ভূমিকা পালন করছে। ফেইসবুকের মাধ্যমে মার্কিন সহায়তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আর্মির চিত্র তারা ছড়াইছে। অন্যায় অবিচারের প্রামাণ্য তারা বিলাইছে জনে জনে।
বিদেশে থাকা মানুষগো দেশরে নিয়া আহাজারি বা দীর্ঘশ্বাস ফেলার প্রবণতাটা ভালোবাসা থেইকা হইতে পারে, একজন আমেরিকানও বাংলাদেশের ফেলানিরে নিয়া চোখের জল ফেলতে পারে...পার্থক্য হইলো একজন বাংলাদেশীর কাছে দেশপ্রেমের প্রত্যাশা কেবল চোখের জলে আবদ্ধ থাকাটা জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে খুব সুখকর হয় না।
তবে বেশ কয়েকটা মন্তব্যে আমি মধ্যবিত্তের অভিবাসী হওনের প্রবণতারে কটাক্ষ করছি, বাস্তবিক মধ্যবিত্তের কাছে প্রতিবাদ সংগঠিত করনের প্রত্যাশা থাকে বইলাই এই ক্ষোভের প্রকাশ। নাইলে মধ্যবিত্তের অভিবাসী হওনের দায়টাও রাষ্ট্রের বইলাই মনে করি। দায় কইয়া হয়তো বিষয়টারে বোঝানো যায় না...বলা দরকার, রাষ্ট্রের ব্যর্থতা।
বাংলা সিনেমা স্টাইলের ডায়লগ হইলো না ? সেই যে মস্তান নায়ক, বিবেক আনোয়ার হোসেনের সামনে বলে, "সমাজ, কিসের সমাজ, এ সমাজ আমাকে কি দিয়েছে ? যখন চিকিৎসার অভাবে মা মারা গেলো তখন কোথায় ছিলো এ সমাজ "
গোটা দেশ পাল্টায়া বসবাসের জন্য লোভনীয় জায়গা কইরা হেশেপরে সীমান্ত মৃত্যু ঠেকানি যায় । তয় সাত মণ ঘি ও জোগাড় হইবো না রাধাও নাচবো না । এইজন্য তৎক্ষণাৎ দায় বিবেচনা , বিয়েসেফের শয়তানি নিয়া চেইত্যা ফায়ার হওয়াটা একেবারে অপ্রয়োজনীয় না ।
প্রথমে কই বাংলা সিনেমার এই ডায়ালগ দিয়াই আমরা বিদেশ যাওয়ার প্ল্যান করি।
আপনে কার উপরে বিলা খাইবেন সেইটা আপনের বিবেচনা, কিন্তু আসলে দায়ী কে সেইটা এই পোস্টে বলতে চাইছি...
মন্তব্য করুন