ইউজার লগইন

নো মাশরাফি, নো ক্রিকেট

(রায়হান ভাইয়ের অনুরোধে আসলে এই পোস্টের অবতারণা করতে হইলো। ৬০ দশকে ভারতের ব্যাটসম্যান মুস্তাক আলীরে ইডেন গার্ডেন টেস্টে দলভূক্ত না করনের পর সারা ভারত জুইড়া বিক্ষোভ শুরু হয়, তখনকার একটা শ্লোগান থেইকা শিরোনামটা ধার করলাম)

মাশরাফিরে বিশ্বকাপ দলে রাখা কিম্বা না রাখা নিয়া গতো বেশকিছুদিন ধইরাই তর্ক চলতেছিলো। যদিও অধিকাংশ ক্রিকেট মস্তিষ্কই ছিলো মাশরাফিরে দলে রাখনের পক্ষে। কিন্তু গতোকাল বাংলাদেশের দল নির্বাচকেরা মাশরাফিরে বাদ দিয়া একটা তালিকা সাংবাদিকগো সামনে প্রকাশ করছে। আমি নিজে যতোটা সাকিব পাঙ্খা ঠিক ততোটা মাশরাফির ভক্ত কোনোকালেই ছিলাম না। মাশরাফিরে আমার একটু ওভার রেইটেড ক্রিকেটার লাগতো একসময়। সে জোরে বল করতে পারতো বইলা হয়তো তারে গোনাগুণতিতে রাখতেই হইতো, কিন্তু ইনজ্যুরির পর সে তার গতি কমাইয়া দিয়া লেংথ লাইন ঠিক রাইখা বোলিঙে মনোযোগ দেয়। আর এই সময়টায় তারে অবজার্ভ করতে শুরু করি আমি। অভিজ্ঞতা আর দায়িত্ববোধ যে মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তন ঘটায় সেইটা স্পষ্ট দেখতে পাইলাম মাশরাফিতে। সে খুব ভালো ইয়র্কার দেয় না, সে আহামরি আউট সুইঙ্গার করে না, তার ইন সুইঙ্গার গুলি বিপদজনক, কিন্তু ব্যাটসম্যানরা যদি একটু বুইঝা খেলে তাইলে ঠিক আছে...অথচ মাশরাফি তার এই অল্পস্বল্প অস্ত্র নিয়াই মোটামুটি বিশ্বমানের বোলার হইয়া উঠে।

উৎপল শুভ্রের কিছু পত্রিকার আর্টিকেলের কারনে আমার মাশরাফি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরী হইতেছিলো। মাশরাফিরে গ্রামের নির্বোধ ছেলে মার্কা একটা অ্যাটিটিউড দিয়া দিছিলো এই বালের ক্রিকেট সাংবাদিক। অথচ এই সেইদিনও জিম্বাবুয়ের লগে খেলা শেষ তিনটা ওয়ানডেতে মাশরাফির বোলিং দেইখা আমি মূগ্ধ! শফিউল তার চাইতে ভালো আউট সুইঙ্গার দিতেছিলো, রুবেল তার চাইতে ভালো ইয়র্কার মারে, তারপরেও মাশরাফির ব্যাটসম্যান বিবেচনায় করা বোলিং ফেইস করতেই জিম্বাবুয়ানরা বেশি সমস্যায় পড়ছে। তার পরিণত ক্রিকেট ব্রেইন আসলেই একজন ফাস্ট মিডিয়াম বোলারের জন্য ঈর্ষণীয়।

আমি ঠিক কইতে পারুম না মাশরাফি তার জীবনে কতোবার ইনজ্যুরির শিকার হইছে। এইটা আসলে একসময় বিরক্তির চরম সীমায় পৌছাইয়া দিছিলো। ইনজ্যুরি আর কাম ব্যাক হইতে হইতে মাশরাফির প্রিয় বন্ধু কোনো ক্রিকেট কোচ বা খেলোয়াড় না হইয়া হইছে একজন শল্য চিকিৎসক ডেভিড ইয়াং। যাই হোক আমার সবসময়েই মনে হইছে মাশরাফি তার ইনজ্যুরি নিয়া ইনসিকিউরিটিতে ভোগে, একটু ছইড়া গেলেও তার মনে হয় অস্ট্রেলিয়া যাইতে হইবো। সাইকোলজিক্যালি'ও বিষয়টারে এমনভাবে বিবেচনা করা যায়। সেই মাশরাফি যখন কয় যে এইবার সে বিশ্বকাপের আগে ফিট হইতে পারবো...তারে যাতে দলে নেয়া হয়। তখন আমি আসলেই তার উপর আস্থা রাখি। মাশরাফির অতীত যা কয়, একটা ওয়ার্ল্ড কাপ না খেললেও তার ক্যারিয়ারে এমন কিছু যাইবো আসবো না। অথচ সে এইবারের ওয়ার্ল্ড কাপটা খেলার জন্য নিজেরে ফিট বানাইতে শুরু করে, এবং বিশ্বকাপের আগেই সে সুস্থ্য হইয়া উঠবো এমন প্রতিশ্রুতি দিলে আমি বিশ্বাস করি এইটা সম্ভব। কারণ মাশরাফিরে এমন ডেসপারেইট আগে কখনো দেখা যায় নাই।

মাশরাফি দলে থাকা মানে বিপক্ষ দলরে সাইকোলজিক্যালি প্রেশারের রাখার একটা অস্ত্র। ক্রিকেটে এইটা হরহামেশাই ঘটে। পড়তি ফর্মের বুইড়া ম্যাকগ্রা'ও যেই কারনে ইফেকটিভ হইতে পারে শেষ খেলায়। মাশরাফির ভ্যারিয়েশন নির্ভর ফাস্ট মিডিয়াম বোলিঙের ক্ষেত্রে এইটা একটা এক্সপেক্টেড এ্যাজাম্পশন। পরিচিত ব্যাটসম্যানরা মাশরাফিরে সর্বক্ষণই ভয়ে ভয়ে খেলবো শুরুতে, কারণ তারা তার কাছ থেইকা আন এক্সপেক্টেড বল এক্সপেক্ট করবো।

যাই হোক আমি নড়াইলবাসীর হরতালে সমর্থন জানাই। তারা দেশবাসীর কাছে প্রতিবাদ আর ক্ষোভ প্রকাশ করছে এই হরতাল সফলের মধ্য দিয়া। মানুষের আবেগের চাইতে বড় আর কিইবা আছে? মানুষরে ছোট কইরা দেখনের চাইতে ক্ষুদ্রতা আর কিইবা হয়...

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মুকুল's picture


মাশরাফিরে দলে চাই। বাঁশরাফুলরে চাই না।

ভাস্কর's picture


হ...

নুশেরা's picture


মাশরাফিকে দলে চাই, রাখতে হবে

বাঁশরাফুল Loser

লিজা's picture


মাশরাফি Sad Sad Sad

মীর's picture


মাশরাফি ছাড়া বাংলাদেশের বোলিং অ্যটাক নখদন্তহীন মনে হয়।

রাসেল's picture


মাশরাফি আগামি ২৬ দিনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলবার মতো "ফিট" হয়ে উঠতে পারে এটা তার বিশ্বাস, এমন কি তার সংগ্রামী চেতনার কারণে হয়তো সেটা সম্ভবপর কিন্তু নিশ্চিত কোনো বক্তব্য না।
মাশরাফি ইনজুরড না থাকলে তার বাদ পড়াটা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া যেতো কিন্তু এখানে মাশরাফির যোগ্যতার চেয়েও জুয়া না খেলবার মানসিকতাই গুরুত্বপূর্ণ। দলে আশরাফুলকে রাখা নিয়ে আমার আলাদা বিবেচনা আছে, আশরাফুল যেই মাণের খেলোয়ার এবং তার কাছে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ যা পেয়েছে তাতে ওর ব্যাটিং অর্ডার হবে রাজ্জাকের পরে, দেশ সেরা ব্যাটসম্যান আশ্রাফুল ৯ নাম্বারে ব্যাটিং করবে, ৩ নাম্বারে ব্যাটিং করবে শাহরিয়ার নাফিস, এ জন্য যদি জুনায়েদ সিদ্দিকী কিংবা ইমরুল কায়েস কিংবা নাজিমউদ্দিনকে ১১ জনের বাইরে রাখতে হয় সেটা দলের জন্য ক্ষতিকারক।

নড়াইলের পাবলিকের হরতাল আমার কাছে বাড়াবাড়ি মনে হইছে। লোটাস কামালের সাথে মাশরাফির মনোমালিন্য কিংবা প্রতিহিংসাপরায়ন মানসিকতার গল্পটা কিছুটা উদ্ভট এবং সেটা যেকোনো উপায়ে নড়াইলের নির্বোধ হরতালকে সমর্থন করবার খোঁড়া যুক্তির বাইরে অন্য কিছু না।

মাশরাফির একটা বড় সমস্যা ও পুরোনো বলে ভালো করতে পারে না। বুদ্ধিদৃপ্ত এই বোলারকে ৪০ ওভারের পর ব্যাবহার করা যায় না। তার রেকর্ড স্লগ ওভারে খুব খারাপ, সে তুলনায় নাজমুল, রুবেল কিংবা শফিউল ভালো, মাশরাফির অভিজ্ঞতা এবং ডেডিকেশনের বাইরে এমন কোনো নিজস্ব দক্ষতা নেই যার ভিত্তিতে ও এই মুহূর্তে দলে সুযোগ পেতে পারে। অভিজ্ঞতা প্রদর্শণের জন্য দুই দুইটা বোঝা বাংলাদেশ নিয়ে ফেলেছে, ইনজুরড মাশরাফিকে নিয়ে তৃতীয় বোঝা বাড়ানোর আগ্রহ থাকাটাই ঠিক না। বাংলাদেশ ১২জনের দল ঘোষণা না করে ১৩জনের দল ঘোষণা করেছে এইটুকু বাস্তবতা।

ভাস্কর's picture


ক্রিকেট সায়েন্স এখন অনেকটাই নিশ্চিত...শরীরটাও। তাই ডেভিড ইয়াংয়ের কাছ থেইকা প্রেসক্রাইব্ড মাশরাফি ২৬ দিনের মধ্যেই বল করতে পারবো এইটাও সার্টেইন ইনফরম্যাশন। আশরাফুলের বিবেচনা নিয়া আমার নতুন কোনো বক্তব্য নাই। তার কোয়ালিটিও যে এখন কোনো অবস্থানে নাই সেইটা তো ঢাকা আর জাতীল লীগ পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিলেই বোঝা যায়।

মাশরাফি স্লগ ওভারে ভালো বোলার না এইটাও যদি মাইনা নিতে হয় তাও আসলে তার দলে অন্তর্ভূক্তি নিয়া খুব বেশি কিছু বলার নাই, কারণ স্লগ ওভারে কে বল করবো সেইটা কোনো নির্ধারিত বিষয় না। ক্যাপ্টেইন উইল ডিসাইড যে কে স্লগে বল করবো। মাশরাফির দক্ষতা নিয়া আমার কোনো সন্দেহ'ই নাই জিম্বাবুয়ে সিরিজে তার বোলিং দেখার পর। স্পীনিং ট্র্যাকেও সে যেমনে ব্যাটসম্যানদের নাকানিচুবানি খাওয়াইছে সেইটা আসলেই তার পারফম্যান্সের রিফ্লেকশান...

বকলম's picture


আগামী ২৬ দিনের মধ্যে যদি মাশরাফি ফিট হইয়া প্রুফ করতে পারে তয় তারে দলে লউন উচিত। সবচেয়ে বড় বিষয় দেশের সন্মান আই মিন বাংলাদেশ টিমের খেলার আউটপুটটা। আমার মতে, হরতালের বিষয়টা এইখানে সাইট টপিক, সেই আবেগটা মাশরাফিরে নেয়া বা বাদ দেয়ার ব্যাপারে মূখ্য নয়।

আনিস মাহমুদ's picture


সম্পূর্ণ সহমত। সব কথার এক কথা।

১০

ভাস্কর's picture


এতোদিন তার ফিটনেসের অগ্রগতি ছিলো মূল দলের সাথে প্র্যাক্টিস করতে করতেই...দলের ফিজিও তারে আলাদা কইরা গুরুত্ব দিছে। কিন্তু দলের বাইরে থাকা একজন খেলোয়াড় কি সেই সুযোগটা পাইবো? সেই ক্ষমতা কি একটা বিশ্বকাপমূখী দলের থাকে? কিন্তু দলে অন্তর্ভুক্ত একজন প্লেয়ার সেই ফ্যাসিলিটিটা পাইতো...

১১

আবদুর রাজ্জাক শিপন's picture


মাশরাফিরে দলে চাই। বাঁশরাফুলরে চাই না।
মাশরাফিরে দলে চাই। বাঁশরাফুলরে চাই না।
মাশরাফিরে দলে চাই। বাঁশরাফুলরে চাই না।
মাশরাফিরে দলে চাই। বাঁশরাফুলরে চাই না।

১২

লিজা's picture


আপনি কি সুন্দর করে মাশরাফিরে বর্ণনা করলেন । মাশারাফির কান্না দেইখা আমার চোখেও পানি আসছিল । বেচারা একটা কিশোরের মতন কান্না করল । ও ভালো খেলুক আর মন্দ খেলুক আমি ওর ফ্যান সেই পিচ্চি কাল থেইকা (নাইন টেইন তো পিচ্চি কাল , নাকি?)। আশা করি ও দলে আসার সুযোগ পাবে । আমার মনে হয় ক্রিকেটের এই দলভুক্তিতেও নয় ছয় হয় ।

১৩

রন's picture


মাশরাফিরে দলে নেয়াটা "রিস্ক" বরং নির্বাচক কমিটির "শূন্যস্থান পূরণ কর" বিষয়টারেই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত মনে হইসে। আমাদের দরকার ছিল এই মুহূর্তে খেলতে প্রস্তুত এমন একটা স্কোয়াড। এমনতো হইতে পারে যে এই স্কোয়াডের একটা খেলোয়ার অসুস্থ হয়ে পড়ল, বিশ্বকাপে খেলাই হবেনা তার, তইলে কি এই খেলোয়ারটাকে বাদ দেয়ার সুযোগ নাই? অবশ্যই আছে! ঠিক তেমনি মাশরাফি সুস্থ হইলেই তাকেও স্কোয়াডে ফেরানো সুযোগ রয়েছে।

স্কোয়াডে নাম নাই, এর মানে মাশরাফির পারফরম্যান্স অথবা বাংলাদেশ টিমের একটা খেলোয়ারকে ছোট করা হইসে বা দাম দেয়া হইল না এই ভাবনাটাই ভুল। তারপর যদি হরতালের মত একটা ব্যাপার হয় তইলে তো বিষয়টা বাড়াবাড়ির পর্যায়েই চলে যায়!

১৪

ভাস্কর's picture


মাশরাফির পর দেশের যেই পেইস বোলাররা দলে থাকনের কথা তারাই আছে দলে...শফিকুল আর রুবেলরে নিয়া কোনো সন্দেহ নাই, কিন্তু লো প্রোফাইল নাজমুল হোসেনরে দলের সাথে ক্যারি করাটা আর আহত মাশরাফিরে আনফিট অবস্থায় ক্যারি করা একদম একই কথা। যদি মাশরাফি খেলতে গিয়া আহত হয় তাইলেও নাজমুল হোসেনের মতোন বোলারদের নেওয়া যায় দলে...তাইলে আগেই মাশরাফিরে দলভূক্ত না করনের যূক্তি কি হইতে পারে? তার যেহেতু সম্ভাবনা আছে ফিট হওনের তাইলে তো দলভূক্ত হইয়াই সেই চেষ্টাটা বরং সে আরো ভালোমতোন করতে পারতো। এখন দল থেইকা বাদ হইয়া অনিশ্চয়তা নিয়া সে দলের সাথে প্র্যাক্টিস করবো কেমনে? এই দেশে কি একজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত জিম আছে নাকি?

১৫

মানুষ's picture


আপনি যৌক্তিকতার চেয়ে ভাবাবেগটাকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন। আহত খেলোয়াড়কে দলে রাখা মানে দলকে আহত করা।

১৬

ভাস্কর's picture


তাইলে এইবার আহত দলরাই বিশ্বকাপে খেলতে আসতেছে, ইন্ডিয়ার টেন্ডুলকার, সাউথ আফ্রিকার ক্যালিস, অস্ট্রেলিয়ার হাসি তাগো দলরে আহত কইরাই দলে আছে। বাংলাদেশের তো মহা চান্স আছে তাইলে...

১৭

টুটুল's picture


একজন সচিন অথবা একজন ক্যালিস যদি ৫০% ও দেয় তাইলে যে কোন দল উতরাইয়া যায়... মাশরাফির ক্ষেত্রে কিন্তু কথাটা খাটে না...

১৮

মানুষ's picture


বাঁশরাফুলকে চাই না। এই মতবাদের উপর আমি সহমতের উপর একমত।

১৯

মুক্ত বয়ান's picture


আমার কেন যেন মনে হয়, একটা বিশ্বকাপ খেলার জন্যে অযথা ঝুঁকি না নিয়ে মাশরাফির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে নিজেই নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত ছিল।
ফিজিও যেখানে বলছে আরো দুই সপ্তাহ পরে সে হাঁটতে পারবে, সেখানে কালকে দেখি সে দুই স্টেপে বোলিং করা শুরু করছে। অনর্থক ঝুঁকি নিয়ে ভবিষ্যতটাকে নষ্ট করার কোন মানে নাই।

২০

ভাস্কর's picture


সে দুই স্টেপে বোলিং শুরু করছে...ইয়ান পন্ট সেইটা দেইখা বলতেছে ভালো লাগছে তার। যেই ছেলে একটু ছিলা গেলেও অস্ট্রেলিয়ায় ফোন লাগায়, সে এমন অবস্থায় রিস্ক কেনো নিবো? কারণ সে বুঝতে পারতেছে এতে তার ভবিষ্যত অন্ধকার হইবো না। একজন খেলোয়াড়ের তো তার খেলতে পারাটাই ভবিষ্যত। তার ডাক্তার পর্যন্ত কইতেছে এই অবস্থায় ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার নজীর বহু আছে, তাইলে কেনো আমরা সেইটা নিয়া এতো ওরিড হইতেছি...

২১

মুক্ত বয়ান's picture


আমি তো মাশরাফিরে দলে না নেওয়াটারে সাপোর্ট করতেছি না। আমি বললাম মাশরাফি এটা করতেও পারতো।
কিন্তু, সে যখন বলছে খেলতে পারবে, তখন তারে দলে রাখা যাইতো, আর কিছু না হোক, অন্তত প্রতিপক্ষরে মানসিক চাপে রাখার জন্যে।
কিন্তু, তারপরও কেন যেন মনে হয়, মাশরাফি বিশ্বকাপে খেলার জন্যে অনেক বেশি মরিয়া হয়ে গেছলো। আমরা ঘরপোড়া গরু। সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পাই। Sad

২২

তানবীরা's picture


একটা বোকা প্রশ্ন? রিজিওন্যাল হরতাল কেনো? মাশরাফি কি নড়াইলের লোক? জাতীয় হরতাল হচ্ছে না কেনো?

২৩

ভাস্কর's picture


মাশরাফির বাড়ি নড়াইলে, তাগো ইমোশনটাতো একটু বেশি হইবোই...আর আমাগো ন্যাশনাল কোনো ক্ষোভ প্রকাশ মানে তো আসলে ঢাকা শহর। এইখানকার মানুষরা এখন শেয়ার বাজারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশে ব্যস্ত। হাড়ির টান এখন নাড়ির টানের চাইতে অবশ্যই বড় হইবো...

২৪

নড়বড়ে's picture


এই ইস্যুটা আমার কাছে খুব কনফিউজিং। একবার মনে হয় ঠিকই আছে- আহত খেলোয়াড়, যে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আগে ফিট হবে, তারে নেয়াটা জুয়া খেলা, হয়ত একটা জায়গা নষ্ট করা হবে আখেরে। অন্যদিকে "বিগ নেইম" এরও দরকার আছে। আমার মনে হয় এইটা একটা ৫০-৫০ সিচুয়েশান ছিল, নির্বাচকরা রিস্ক নিতে চায় নাই তাই প্রথম অপশনটা চুজ করছে। আমি নির্বাচকদের দোষ দিব না, আবার নাজমুলরে বাদ দিয়া মাশরাফি রে নিলেও দোষ দিতাম না। ফিফটি-ফিফটি ফর মি।

তয় বাঁশরাফুলরে নিয়া সিরিয়াস ডাউট আছে। Undecided

২৫

ভাস্কর's picture


যেই টিমে নাজমুল হইলো তৃতীয় পেসারের অপশন সেই টিমে মাশরাফি খোড়াইয়া খোড়াইয়া বোলিং করতে পারলেইতো থাকার কথা। আর যদি মাশরাফি আবারো ইনজ্যুর্ড হয় তাইলে তো নির্বাচকরা নাজমুলরে নিতে পারতো, এইটাতে রিস্কের কি আছে সেইটাইতো বুঝতে পারতেছি না। যৌক্তিকভাবে যদি দেখি যে রুবেলের সাথে অপশনে অর্ধেক ফিট মাশরাফি বাদ পড়ার সম্ভাবনা রাখে, এমনকি শাহাদতের সাথে অপশনে গেলেও হয়তো একই হইতো...কিন্তু নাজমুল যদি অপশন হয় তাইলে মাশরাফিতো আনফিট অবস্থায়ই থাকতে পারে টিমরে ইন্সপায়ার করার জন্য...

২৬

শওকত মাসুম's picture


আমি একটা ব্যাখ্যা দেই।
এখন মাশরাফিকে নিলে তাকে ইনজুরড প্লেয়ার হিসেবে নিতে হবে। সুতরাং খেলার সময় খেলতে না পারলে তার রিপ্লেসমেন্ট বাংলাদেশ পাবে না। আইসিসি টেকনিক্যাল কমিটি আটকে দেবে। বলবে, সে যে ইনজুরড তা বাংলাদেশ জেনেশুনেই নিয়েছে। আর যদি তখন মাশরাফি উপযুক্ত থাকে তাহলে নাজমুলকে ইনজুরড দেখানো তেমন কোনো ব্যাপার হবে না। এর রিপ্লেসমেন্ট তখন অটোমেটিক মাশরাফি।
আমি জানি যে, এই বিবেচনা করেই শেষ পর্যন্ত মাশরাফিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এইটা আমার নিজস্ব ব্যাখ্যা না।

টেন্ডুলকার, হাসি ও ক্যালিস মূলত ব্যাটসম্যান। সুতরাং তুলনাটা সহজ না। আর এই তিনজন যদি সামর্থ্যের ৫০ শতাংশ দেয় সেটিও অনেকের চেয়ে বেশি। কিন্তু ৫০% সামর্থ্য দিয়ে বল করা সম্ভব কী?

২৭

ভাস্কর's picture


মাসুম ভাই,
মাশরাফি যদি ওয়ার্ল্ড কাপের আগে সুস্থ্য হয় এবং তারপর খেলার মাঝে ইনজ্যুর্ড হয় তাইলে এই যূক্তি ধোপে টিকে না। তখন তার রিপ্লেসমেন্টে কোনো বাধা থাকনের কথা না। রিকভারীর পর ইনজ্যুর্ড হওয়াটারে টেকনিক্যাল কমিটি কেমনে আটকাইবো সেইটা বুঝলাম না। এইটা একটা দূর্বল যূক্তি, তয় এইটা সবল হইবো তখনি যদি মাশরাফির রিকভারীর কোনো চান্স না থাকে। কিন্তু সেইটাতো কেউ কইতেছে না।

আর বাকী তিন বিদেশী ইনজ্যুর্ড প্লেয়ারের দুইজন ব্যাটসম্যান আর একজন অলরাউন্ডার যে আবার তার দলের ওপেনিং অথবা ফার্স্ট চেইঞ্জ বোলার। একজন ব্যাটসম্যানের ফুটওয়ার্ক হইলো বড় শক্তি গ্রোইন ইনজ্যুরি কিম্বা লিগামেন্ট ছিড়লে আসলে ব্যাটসম্যান বোলার কোনো ব্যাপার না, সবারই সমস্যা হয়। আমি আরেকটা যূক্তি দেই এই বিষয়ে গতবারের আগের ঢাকা লীগেও মাশরাফি ইনজ্যুর্ড ছিলো তো সেই সময়ে সে ডেভিড ইয়াংয়ের কাছে অপারেট করতে যাওনের আগে আবাহনীর হইয়া তিনটা ম্যাচে স্পীন বোলিং কইরা আবাহনীরে লীগ চ্যাম্পিয়ন করছিলো। যাই হোক আমি মাশরাফির স্পীন বোলিং ক্ষমতার প্রয়োগের খাতিরে এই যূক্তি দিতেছি না। একটা সাধারণ মানের দলরে একজন বিগ নেইমের উপস্থিতি যে কোথায় নিয়া যায় সেইটা ঐ লীগে টের পাওয়া গেছিলো বেশ ভালোভাবেই...মাশরাফি একজন ইন্সপিরেটর...

২৮

ভাস্কর's picture


মাসুম ভাই,
ইংল্যান্ড টিমে কিন্তু দুইজন ইনজ্যুর্ড প্লেয়ার আছে জেমস অ্যান্ডারসন আর গ্রাহাম সোয়ান...

২৯

শওকত মাসুম's picture


এখন নিলে রিপ্লেসমেন্টে সমস্যা হবে। নিয়মের কথা বললাম।

৩০

ভাস্কর's picture


মাসুম ভাই এমন কোন কনডাক্টের কথা আইসিসি রুলস এ্যান্ড রেগ্যুলেশনে পাইলাম না খুঁইজা, তয় একটা নোট পাইলাম ২০০৭-এর ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লীগের সেইখানে এমন কোনো আভাস নাই। ঐ খানে বলা আছে,

The ICC World Cricket League Technical Committee is responsible for making decisions on issues relating to cricketing technical or operational matters at the ICC WCL Division 1 2007.

Its areas of jurisdiction cover medical regulations, playing conditions, player eligibility,

replacement of injured players, compliance with player terms, enforcement of the ICC Code of Conduct in circumstances which fall outside the jurisdiction of the Tournament Referee.

Team managers must apply in writing to the WCL Div. 1 Technical Committee for permission to replace a player. The application for a replacement player may be on medical grounds or on other exceptional grounds.

The Committee will decide whether a player may be replaced taking into account the advice of the Cricket Kenya (CK) medical representative, appointed by CK to examine the player, following which the he may certify that a player is unfit to play a part in any match during the remainder of the event.

Except for medical grounds, players may only be replaced in exceptional circumstances such as family bereavement or where a player is suspended and such suspension relates to an incident which is unrelated to the event. The form of a player shall not be regarded as a circumstance justifying that player's replacement. Once replaced, a player shall take no further part in the event.

There is a right of appeal against decisions reached by the Event Technical Committee.

৩১

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


মাশরাফিরে দলে রাখতে আশরাফুলরে পচানোর মানে কিতা সেটা অবশ্য বুঝি নাই(কমেন্টে)। ও কি আশরাফুলের জায়গায় ঢুকবে?

৩২

ভাস্কর's picture


সহমত...

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...