ইউজার লগইন

কারখানা...(দুই)

রুনার জন্মদিন ঠিক কয় তারিখে তা নিয়ে গতো তিন বছর ধরেই সাদ কনফিউশনে থাকে। তবে শেষ মুহুর্তে হয়তো ঠিকঠাক তারিখেই কোনো একটা কিছু সে অ্যারেঞ্জ করেছে। কিন্তু জন্মদিনের তিন মাস আগ থেকেই তার মাথায় খেলতে থাকে ১১ মার্চ নাকি ১৩? মার্চ পেরিয়ে এই সেপ্টেম্বরের গোধূলী বেলায় সাত রাস্তার মোড়ে ট্র্যাফিক জ্যামে আটকানো অবস্থায় হঠাৎ সাদের মাথায় পুরনো কনফিউশনের চিন্তাটা জেকে বসে। গাড়িতে তখন বাজছে হোয়্যার ডিড ইউ স্লিপ লাস্ট নাইট। স্পীডোমিটার কিম্বা মাইলেজ মিটার কোথাও ১১ বা ১৩ নাম্বারের অস্তিত্ত্ব না পেয়ে শেষতক খুঁজে পেলো সামনের গাড়িটার নাম্বার প্লেইটে ১১ আর ১৩ দুটো সংখ্যাই বহাল তবিয়তে ঝুলছে। ঢাকা মেট্রো গ ১১১৩। ইন্টারেস্টিং। স্মৃতি কেমন সাব কনশাসলি মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে। কোথায় সারা দুপুর আর বিকেল আর জুড়ে ছিলো খুনের চিন্তা আর এখন রুনার জন্মদিনের কনফিউশন। সাদ ভাবে খুনটা করে ফেলার আগে অন্য কোনো চিন্তাকে মাথায় গেড়ে বসতে দেয়া যাবেনা।
অন্য চিন্তা তাকে দূর্বল করে দেবে। অ্যালিবাই বেরিয়ে আসবে এক দেখাতেই। নিরুপমা ডায়েরী মেইনটেইন করে কীনা তার জানা নাই। ডায়েরীর চিন্তাটা মাথায় আসতে সাদ একটু স্বস্তি বোধ করে। এমন রাগ-ক্ষোভের সময়ও তার মাথা যে ভালোই কাজ করছে তার একটা নমূনা পাওয়া গেলো। না সাদ, তোমাকে দিয়ে হবে...তুমি যেমন নিজেকে এখন কর্পোরেইট জেলে ঠিকই সেট করে নিতে পেরেছো খুব সহজে, তোমাকে দিয়ে সব হবে। নিরুপমা খুন হবে। তোমার ক্ষোভের যন্ত্রণা প্রশমিত হবে। খুনের বদলা খুন হবে। সেই খুন নিয়ে তুমি একটা কালজয়ী কবিতা লিখবে। বছর বিশেক পর বাংলা কবিতার ইতিহাসে তোমার নাম লেখা হবে ঠিক যেমন অক্টাভিও পা’জের নাম লেখা থাকে ল্যাটিন সাহিত্যে।
এ শহর আর তুমি মিলে খুন করলে স্মৃতির শৈশব,
যদিও খুব পাওয়ারফুল কোনো লাইন নয়, তবু সাদের মাথায় খেলতে শুরু করলো শহর আর নিরুপমার অপরাধ। জ্যামটা তখন ভাঙলো। রেকলেস ড্রাইভার সাদ গাড়িটাকে লাইন থেকে বের করে ফেলে ওভারটেইক করতে শুরু করলো তার আশেপাশের সব স্থবিরতারে। ঠিক সাতটায় পৌছতে হবে আলভীর ওখানে। আজকের প্ল্যান রাত ১০টার মধ্যে বাড়ি ফিরে ভাবতে বসা। আজ তাই পৌছনোর আগেই জিম বিম অর্ডার করা হয়ে গিয়েছে। আলভীকে চানাচূর আর সোডা কিনে রাখতে ফোন করেছে গাড়িতে উঠেই। বেশি ড্রিংক করা যাবেনা আজ। হুইস্কিতে এলোমেলো ভাবনায় সময়টা নষ্ট করতে চায় না সাদ।
সাদ যখন আলভীর অ্যাপার্টমেন্টের সামনে গাড়ি পার্ক করার জন্য চারদিকে চোখ বুলায় তখনো কাবেইন গেয়ে চলেছে হোয়্যার ডিড ইউ স্লিপ লাস্ট নাইট। এ আরেক বদ অভ্যাস সাদের রুনা ভীষণ খেপে যেতো। এক গান শুনতে শুনতে তারা একবার ব্যাংকক পারি দিয়েছিলো। সারাপথ সাদের আইপড ব্যস্ত ছিলো অ্যামেরিকান প্রেয়ারে। রুনার কানে কিন্তু একবারো পৌছায় নি মরিসনের প্রার্থনা, কিন্তু ভাবতেই নাকি ওর অস্বস্তি লাগতো। একটা গান কিভাবে রিপিটেডলি শোনা যায়! এতো অসুস্থ্যতা! সাদের বেলায় এমনই ঘটে, কখনো সিঙ্গেল-কখনো অ্যালবাম ধরে টানা বাজতে থাকে তার আইপডে-গাড়ির সাউন্ড সিস্টেমে-পুরনো আকাই সিস্টেমে। রুনা এগিয়ে গিয়ে বন্ধ করলেই হয়। তার এতোটা পার্সোনালিটি নাই যে রুনা বন্ধ করলে সেটা নিয়ে কিছু একটা করে অথবা বলে বসবে। কিন্তু রুনা কখনোই প্রোঅ্যাক্টিভ হয়ে বন্ধ করেনি বা আইপড কেড়ে নেয়নি বলে সাদ’ও ইগনোর করতো তার চাওয়াটাকে। ইগোকেন্দ্রীক এমন স্টাবর্ননেস কাজ করে সাদের। বন্ধুরা প্রায় সবাই এটার সাথে পরিচিত। তাই কেউ আর এই চল্লিশ বছর বয়সে বিষয়টা নিয়ে বেশি ঘাটায় না। কিন্তু রুনা চাইতো। সাদের মনে হয় রুনা কি তাকে পাল্টে দিতে চেয়েছে সবসময়? সাদের তো পাল্টাতে তেমন কোনো রিজিডিটি নেই। বরং একটুখানি শান্তির জন্য সেতো যেকোনোকিছু পাল্টে ফেলতে এক পায়ে খাড়া। কিন্তু মেয়েরা পাল্টে যাওয়া মানুষের প্রতিও আস্থা রাখতে পারে না। সাদ ভাবে আসলে জগতজোড়াই খেলা করে ইনসিকিওরিটি...সভ্যতা পাল্টানোতে-সভ্যতার আটকে যাওয়াতেও ইনসিকিওরিটি খেলা করে।
গাড়ি আটকে সাদ লিফটের দিকে রওনা দেয়। লিফটে উঠতেই তার মনে পড়ে নিরুপমাদের ফ্ল্যাটটা টপ ফ্লোরে। তাদের ফ্ল্যাট থেকে একটা এক্সিট ওয়ে আছে ছাঁদের দিকে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


পড়ছি।

আতঙ্ক জমছে Glasses

শর্মি's picture


আপনার ১১ না ১৩ নিয়ে কনফিউশন, আমার হয় ৯ না ১১, ৯ না ১১!
ভাল হচ্ছে, চালায়ে যান।

মীর's picture


কারখানা দুই গেল, এবার তিন। Stare

তানবীরা's picture


এমন একটা লেখায় কমেন্ট না পরা অত্যান্ত দুঃখ জনক Stare

নুশেরা's picture


লেখার ভঙ্গি যথারীতি আকর্ষণীয়

তবে ইংরেজি শব্দের অত্যধিক ব্যবহার কার্যকারণপ্রসূত হলেও পড়তে আরাম লাগে না
বেশ কিছু টাইপোও রয়ে গেছে

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...