কারখানা...(তিন)
বিয়েশাদি করে তিন বাচ্চার বাবা হওয়ার পরেও আলভী একটুও পাল্টায় নি। সেই আগের মতোন ঝুটি বেধে ঘোরাঘুরি করে। চল্লিশ বছর বয়স কিন্তু তার রঙ পসন্দ এখনো সেই এলভিস প্রিসলি, গান পসন্দ লেড জেপলিন। একমাস আগে তার জন্মদিনের পার্টিতে বেলুন ফুলিয়ে ঘর সাজানোর বাহানা দেখে জাহিদ টিপ্পনি কেটে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই রাইট হ্যান্ড আপারকাটে নক আউট। কিচ্ছু আসে যায় না আলভীর, জাহিদকে টেনে তুলে ডেটলে ভেজানো তুলোয় রক্ত মুছে এমন ভাব করলো যেনো কিছু হয় নি। কিন্তু এরপর থেকে জাহিদ আড্ডায় আসেনি একবারো। কিন্তু শুক্রবার জুম’আর জামাত শেষ হলেই আলভী সবাইকে ফোন করতে শুরু করে। জাহিদও নিশ্চিত বাদ যায় না। সাদ জানে না জাহিদের সাথে আলভীর কি কথা হয়, কিন্তু নিশ্চিত করে ভাবতে পারে জাহিদের অপমানিত হওয়ার বোধটা আলভী হয়তো বুঝতেই পারেনি। সে একাই যেনো রয়ে গেছে সেই আঠারোর উত্তেজনায় আর বাকীরা চল্লিশ পেরিয়ে খোড়াতে শুরু করেছে বার্ধক্যের পানে।
সাদকে এতো তাড়াতাড়ি পৌছতে দেখে আলভী খুশি হয়। সে অলরেডি গ্লাস নিয়ে ঘোরাফেরা শুরু করেছে।
:মামা, আইজকা একটা নতুন পদের ককটেল বানাইলাম। খাইবানি?
সেইফটি মেইজারে সাদ কখনোই আলভীর ফ্যান্টাসীতে বানানো ককটেল কিম্বা পাঞ্চ ট্রাই করেনি। আর আজকে তো সে প্ল্যান করে এসেছে হুইস্কিও খুবেকটা ছোঁবেনা। তাই নিজস্ব ভঙ্গীতে ইগনোর করে গেলো আলভীর অ্যাপ্রোচ। পুরনো আমলের বনেদি স্প্রিঙের সোফায় বসতে বসতে সে পাল্টা প্রশ্ন করে আলভীকে,
:তর কালেকশানে ল্যাংকাশায়ারের ছুরি আছে?
:নারে মামা...একটা আছিলো, বাবায় ঐটা বেইচা দিছে। এইসব পুরান আমলের কালেকটরগো হ্যাবিট আমি বুঝি না মামা। কিননের টাইমে পাগল হইয়া যাইবো, আবার নতুন কিছু দেখলে আগের সব কালেকশান বেইচা দিতেও কসুর করে না...তুই ছুরি দিয়া কি করবি? তর তো লাগবো একটা কলম...কবি মানুষ। হা হা হা...
সাদ অবাক হয় না আলভীর কথায়। আলভীটা একবারে তার বাবার মতোই হয়েছে অভ্যাসে। বনেদি পরিবারগুলো বোধহয় এমনি হয়। অনেক কিছুর পরেও বাবাই যেনো তাদের রোল মডেল। আর কিছুদিন পর আলভীও হয়তো বাবার মতোন পার্ফেক্ট ফ্রেঞ্চ কাট দাড়ি গোফ রাখতে শুরু করবে। ভিনটেইজ পুরনো গাড়িগুলোর যত্ন নিতে রিকসায় করেই যাবে মৌচাক মার্কেট। আলভী তো তা'ও ডেভেলপারকে দিয়ে স্ট্রাকচার তোলা ফ্ল্যাটে থাকতে রাজী হয়েছে। ওর বাবা এখনো দুই বিঘার উপর জমিদারী ডুপ্লেক্সেই আছেন। অভ্যাসে আমোদে পুরো ফ্যামিলিটাই যেনো জমিদারী আভিজাত্য টিকিয়ে রেখেছে। আর আভিজাত্য টিকিয়ে রাখতেই যেনো ঈশ্বর এদের মাথায় ব্যবসা’র বুদ্ধি দিয়েছে অঢেল। আপাতঃ চেহারায় আলভীর এলোমেলো বোহেমিয়ান আউটলুকে বিভ্রান্ত হতে পারে যে কেউ। সাদের খুব ইচ্ছা একদিন ওর অফিসে গিয়ে দেখে, অফিশিয়াল ম্যানেজমেন্টের সময় ওর চেহারাটা কেমন হয়। হিসাবের খাতায় চোখ বুলানোর সময় ওর চোখ কতোটা কুচকে যায়। কিন্তু আলভী কখনোই ওর অফিসে কাউকে অ্যালাউ করে না। ওর এক কথা,
:সবখানে সবকিছু মানায় না মামা, যষ্মিন দেশে যদাচার। যেইখানে সেইখানে তো তুমি মাইয়ার লগে শুইবানা মামা, শোওনের লেইগা আছে বেডরুম আর হাগনের লেইগা টয়লেট।
বন্ধুরা বুঝে নেয় যা বোঝার। কেউ আর বাড়তি কোনো প্রশ্নের চিহ্ন রাখে না চেহারায়। কিন্তু সাদের আগ্রহটা কখনোই মরে যায়নি। তবে আলভীর কাছে ল্যাংকাশায়ারের কোনো ছুরি নেই জানবার পর ওর মনে হয় ছুরিটা খুব ভালো অপশন না খুনের জন্য। ওর নিজের পেটে যদি ছুরি চালায় কেউ তাহলে তো সারা পাড়া জানবে কিছু একটা হলো। খুনের প্ল্যানটা হতে হবে নিশ্ছিদ্র। কেউ জানবে না...





সাসপ্যান্স আসছে
বর্ণনা ভালো লাগলো।
জমছে দই
একসাথে তিন পর্ব পড়লাম। কাহিনী জমজমাট।
ভাল আগাচ্ছে। সাথে আছি
চলুক
ভালই আগাইতেছে...
জমছে বলেই ভয়টা পাই
ভাস্করদার বোধহয় এই সিরিজও থামায় দেওনের সময় আসছে
মন্তব্য করুন