কারখানা...(ছয়)
উচ্চ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোতে লুকোছাপা কেমন? কতোজন কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে মৃত্যুবরণকারীর পোস্টমর্টেম হয় এই বিষয়টা একটু খতিয়ে দেখতে হবে। থ্যালামিয়ার প্রতিক্রিয়া নাকি তিনদিন পরেও দেখা দিতে পারে। এই তিনদিন যদি শরীর খারাপের বাহানা থাকে তবুও কি বিষয়টা নিয়ে নাড়াচাড়া হবে খুব বেশিদূর? সাদ একটু এলোমেলো হয়ে যায়। তার মনে হয় নিরুপমার মৃত্যু যদি নিজ চোখে না দেখে তাহলে তার কি খুব ভালো লাগবে? নিরুপমা তার সামনেই ভেসে যাচ্ছে রক্তের স্রোতে, উপড়ানো চোখে কেবল একজন পরাজিত রমনীর করুণামাখা দৃষ্টি এমন নাহলে কি তার মৃত্যুর কোন অর্থ তৈরী হবে সাদের বিক্ষুব্ধ হৃদয়ে? সাদ দেখতে পায় নিরুপমা বেঁচে থাকার জন্য আকুল মিনতি জানাচ্ছে। আর তখন তার নিজের চোখে ক্রুঢ়তা খেলা করে। বাড়ির কাছের এই স্ট্রিট স্টোরটায় নির্মাণাধীন দেয়ালের অর্ধেক অবয়বে বসে বসে সাদ অনেক পণ্যের ক্লসিফায়েড বিপণন পরিকল্পণা করেছে। নিশ্ছিদ্র বলে প্রমাণিতও হয়েছে সেসব। আর আজ তার নিজের পরিকল্পণা কি দাঁড়াবে না...
সাদ একটু অস্থির হয়ে ওঠে। তার ইচ্ছে করে নিরুপমাকে ফোন করে বলে,
: নিরুপমা তুমি আর আধঘন্টার মধ্যে আমার বাসায় চলে এসো!
তার মনে পড়ে নিরুপমার শরীর মাঝে সে বিনোদন খুঁজতে যায়নি। আর অন্যদিকে নিরুপমা স্বীকার করেছিলো কেবল প্রয়োজন থেকে নয়, সাদের শরীরে সে তার আশ্রয় খুঁজে পাবার সম্ভাবনা দেখেছিলো। তার হাবি হাসান ফারুকের প্রতি তার ভালোবাসার চাইতে নিশ্চয়তার দাবীটাই বেশি হয়ে ওঠে। সাদ টের পায় নিরুপমার শরীর তাকে আকৃষ্ট করতো। এই আকর্ষণের তাড়না থেকেই হারিয়ে যাওয়ার পরেও রুনা তার জীবনে বারবার ফিরে আসে। মহা কন্ট্রাডিকশান।
যে পার্টিতে তার নিরুপমার সাথে পরিচয় ঘটেছিলো সেদিনতো সে বাস্তবিকই চাইছিলো এই মেয়েটা তার পাশে এসে দাঁড়াক। তাকে আহ্বান করুক। তার কনুইয়ের সাথে মেয়েটার উন্মুক্ত বাহুর ছোঁয়া লাগুক। আর মেয়েটা এগিয়ে এলেতো সে চাইছিলো তাকে মাতাল করে দিতে। মাতাল তরুণী মাতাল তরণির মতোন তাকে নিয়ে যাক সবার অন্তরালে। তবে অভিনয়টা ভালোই জানে সাদ। নিজেকে লুকোতে জানে। চোরাচোখে দেখে নিতে জানে বুকের খাঁজ। সেদিন নিরুপমাও সেই অনুভূতি নিয়ে ফিরেছিলো। নিরাপদ পুরুষের তকমাটা লেগেছিলো বলেইতো নিরুপমা শুরুতে তার কাছে এসেছিলো। ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতো তার সাথে...
আর যখন তার জীবনের সবচাইতে গোপন আকাঙ্খা পূরণের ইচ্ছে হলো, তখনো সে সাদের কাছে সেটা চাইতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠিত ছিলো না। সাদ এই গোপণীয়তাটুকু দিতে পারে আসলেই। গল্প করা ও বলার আগ্রহে পাকা হলেও কাউকে অপমানিত হতে দিতে তার খুবেকটা আগ্রহ নেই। সাদতো আজ অব্দি গোপণ রেখেছে তাদের শর্তবদ্ধ দেয়া নেয়াটাকে। আলভীর কাছে সহযোগিতা চাইলে নিরুপমা হয়তো কাল সকালে আর ভোর দেখবে না। বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাবে কয়েকদিন পরেই। কিন্তু সাদ তা চায় না। আর চায় না বলেই সে নিজের মতোন করেই কষতে থাকে নিরুপমার মৃত্যুর অংক। থ্যালামিয়া সল্যুশানটা কি একটু কোমল বিচার হয় যায় না? নিরুপমাকে ধরে এনে ধীরে ধীরে যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করাটা কি বেশী ভালো হবে না? একদিন তার নখ-পরদিন তার আঙুল-তার পরদিন তার হাত-এর পরের দিন তার জিহ্বা-তারো পরদিন তার চোখ...এমন খুবলে খুবলে হত্যা করলেই যেনো সাদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হবে বলে মনে হয় সাদের।
: স্যার, রুনা আপার ড্রাইভার আইছে। আপনের সাথে দেখা করতে চায়...
: বসতে বল।
রুনা’র ড্রাইভারের আগমণে সাদ একটু অবাক হয়। তার মনে হয় রুনা কি তার খুন করার বাসনাটা টের পেয়ে যাচ্ছে নাকি! অসম্ভব! এখন পর্যন্ত সে এমন কোনো আচরণ করেনি যাতে কারো মনে সন্দেহের উদ্রেক হতে পারে। গতোকাল ল্যাংকাশায়ের ছুরির খোঁজ নেয়াতে আলভী কি কিছু বুঝতে পেরেছে? রুনার সাথে ওর যোগাযোগ আছে এটা সাদ জানে। কিন্তু সাদ কি সেদিন অস্থিরতার প্রকাশ ঘটিয়েছিলো...চিরজীবন সংশয়ী সাদ আরো সংশয়ে পরে যায়।
সে লিভিংরুমে ঢুকতেই দাঁড়িয়ে যায় কালাম ড্রাইভার।
: আপা আপনের লেইগা এই বাক্সটা পাঠাইছে ভাইয়া। আমি যাই তইলে...
এক কার্টন মার্লবোরো লাইটস। সাদের মনে পড়ে রুনার মেলবোর্ন যাওয়ার খবরটা আলভী তাকে দিয়েছিলো। কিন্তু সাদের জন্য সিগারেট পাঠানোটা কিসের সাইন? রুনা কি ফিরে আসতে চাইছে? এমন একটা অ্যাজাম্পশনের জন্য সাদের লজ্জাবোধ হয়। রুনা কখনোই এমন উদ্দেশ্যমূখীন আচরণ করবে না। তার হয়তো এমনি মনে হয়েছে সাদকেও কিছু একটা গিফ্ট দেয়ার কথা। সে ফিরে আসতে চাইলে নিজেই বাক্স প্যাটরা নিয়ে উঠে আসতো। ডিগনিটি কনসার্নে কখনো কোনো ছাড় আর যেই দেক...রুনার বেলায় এমন অ্যাজাম্পশনটা অপরাধ। নিজের অজান্তেই সাদ কান ধরে জিভ বের করে...





দারুন হচ্ছে দারুন। নাটক হিসেবে কেমন হবে জানি না তবে উপন্যাস হিসেবে দই হবে
হুম, উপন্যাসই মনে হয় জুৎসই হবে।
মেগা সিরিয়াল হয়ে যাবে নাকি! অপেক্ষায় রাখা আর চমক দেয়া-- দুটোই ভাস্করদার দখলে।
ভাস্করদা'র লেখার প্যটার্নটাই ভিন্ন। যে কারণে পড়া শুরু করলে শেষ না করা পর্যন্ত ওঠা যায় না। সিরিজপাঠে অসম্ভব আনন্দ লাভ হচ্ছে।
মোটে একটা পড়তে পারলাম, সেটা পড়ে যতটুকু কৌতুহল জাগলো, তাতে মনে হচ্ছে পরের গুলো খোঁজাখুজি করতে হবে...যাই দেখি এগোই সামনের দিকে নাকি পেছনে।
মন্তব্য করুন