কারখানা...(আট)
অপ্রত্যাশিতভাবেই সাদ বেশ স্বাভাবিক পেইসেই প্রেজেন্টেশন শেষ করে। সবাই বেশ খুশি-সুখী চেহারা নিয়ে বেরিয়ে যখন প্ল্যান করছিলো ওয়েস্টিনে লাঞ্চের জন্য সাদ তখন ছুটি চাওয়ায় বিষয়টা সবার কাছেই আন ইউজ্যুয়াল লাগে। কিন্তু কারো কথায় কান না দিয়ে সে নিজের গাড়িতে উঠে সাই করে বেরিয়ে যায়। যদিও সে নিজেও জানে না তার প্ল্যানটা কি, বাকী দিনটায় সে কি করবে কিংবা আদৌ আজ সে ছুটি কাটাবে কিনা...কিন্তু সাদের মনে হয় আজ তার অস্থিরতার দিন। সে মনে করতে পারে না তার জীবনে ২৫ সেপ্টেম্বরের কোনো মর্তবা রয়েছে কিনা, অথচ তার মনে খচ খচ করতে থাকে আজ ২৫ সেপ্টেম্বর, আজ তার জীবনে কিছু একটা ঘটেছিলো। কিন্তু ঘটনাটা সে কোনো কারনে ভুলে গিয়েছে। এই ভুলে যাওয়াটা অপরাধ। অপরাধের কথা মাথায় আসতে আবার তার নিরুপমার কথা মনে পড়ে। নিরুপমা নিষ্পাপ চেহারার আপটাউন মেয়ে। যে হয়তো রেসপন্সিবলিটির সংজ্ঞা শিখেনি কখনো। জল গড়িয়ে খাওয়ার জন্যও হয়তো তার বাবার বাড়িতে একজন কাজের লোক অ্যাপয়েন্ট করা হয়। সেই মেয়ে কোন সাহসে তার কাছে সুখ খুঁজেছিলো। রেসপন্সিবলিটি নেয়ার তাগীদ জানিয়েছিলো। সোসাইটিতে একজন ইররেসপন্সিবল নিজের মতোন থাকলে কোনো সমস্যা নেই যদি সে নিজের মতোন থাকে, কিন্তু মিমিক করাটা ইমব্যালেন্স করে দেয়। একজন ডাইনী যদি মাতৃমূর্তি বনতে চায় তাহলে তার প্রকাশ কেমন হবে? সাদের হাসি পায় অ্যালিগরিটার কথা ভেবে। দোলনায় শিশু কাঁদছে দেখে ডাইনী মা তাকে কোলে তুলে আদর করতে গেলে বাচ্চা লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার অ্যাটেম্পট করে...
নিরুপমা কি ঐ ডাইনীর মতোন? নাকি তার অমন ডাইনীগীরির তাগীদটাও নেই...নিরুপমা আসলে কি ভালোবাসে? জীবন? নিজেকে? নিজেকে ভালোবাসতে গিয়ে ভুল করে খুনটা করে ফেললো? নিজেকে ভালোবেসেছিলো রাজকুমারী স্নো হোয়াইটের সৎ মা, আর সেই ভালোবাসার মূল্য তাকে দিতে হয়েছিলো।
মিরর মিরর অন দ্য ওয়াল
হু ইন দ্য ল্যান্ড ইজ ফেয়ারেস্ট অফ অল?
যাদুর আয়না সেই হিংসুটে-কুচুটে নারীর তোষামোদ করতো নাকি সত্যি বলতো কে জানে। কিন্তু রাজকুমারী স্নো হোয়াইটের শ্বেতবর্ণ আয়নাকেও বলতে বাধ্য করেছিলো
কুইন ইউ আর ফুল ফেয়ার দিস ইজ ট্রু,
বাট স্নো হোয়াইট ইজ ফেয়ারার দ্যান ইউ...
আর তাতেই কুচুটে রানী খুন করতে চায় রাজকুমারীকে। ছোটোবেলায় যতোবার এই গল্প পড়তে গেছে সাদ, ততোবারই তার ঐ রানীর বর্ণনা লেখা পাতাগুলোকে ছিড়ে ফেলতে ইচ্ছে করেছে তার। সাদ লেড জেপলিনের অল মাই লাভ ট্র্যাকটা ছেড়ে এক্সিলারেট করে আশুলিয়ার দিকে।
উত্তরার কাছাকাছি এসেই অবশ্য জ্যামে আটকে যায় তার গাড়ি। আটকে যাওয়া মানে সে থেমে থাকে ঠিক এক বিন্দুতেই। আশপাশের গাড়ি থেকে একে একে লোক নামতে শুরু করে ৪৫ মিনিট পর। সাদের বেরোতে ইচ্ছা করে না। সে অল মাই লাভ শুনতে শুনতে রুনার সাথে বান্দরবান বেড়াতে যাওয়ার দিনগুলো নিয়ে ভাবতে থাকে। আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম টাইপ অনুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে সে। একসময় অস্থির হয়ে জানালা দিয়ে গলা বাড়িয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করে
: ভাই হইছে কি? এমন জ্যামতো বাপের জন্মেও দেখি নাই...
: গার্মেন্টসের গ্যাঞ্জাম...ঈদের আগে হ্যারা বোনাস চায়। মালিকের নাকি লাভ নাই, ঈদে এইবার আম্রিকা যাইবার পারবো না। বোনাস দিতে গেলে দেশেই ঈদ করতে হইবো গরীব মানুষের লগে। শ্রমিক আর মালিকের গ্যাঞ্জামে ভোগান্তি লাগে আমাগো। আল্লাহর দুনিয়ায় আরো কতো কি দেখবেন বাইচা থাকলে...
সাদের নিজের সাথে মেলাতে চেষ্টা করে এই শ্রমিকদের আমলনামা। বেতনের এমন অবস্থা হলে কি সে নিজেও রাস্তা আটকে বসে পড়তো? পড়তো হয়তো, বোনাস পেতে দেরী হলে তো সে’ও অস্থির হয়ে হেড অফ ফিন্যান্সের কাছে জবাবদিহিতা চায়। সিইওকে নালিশ জানায়। তার ঐ সময়কার অ্যাটিটিউডের সাথে এর কি খুব পার্থক্য আছে! ক্ষমতা থাকলে হয়তো এই শ্রমিকরাও তার মতোই অফিস টেবিলে বসে ধমকের সুরে কথা বলতো কেবল...কিন্তু তাদের কথা শুনতে বয়েই গেছে শিক্ষিত ম্যানেজারের। হঠাৎ সিদ্ধান্ত পাল্টায় সাদ, আজ আর কোথাও যাবে না সে, জ্যাম থেকে বেরোনর সুযোগ মিললে বাসায় ফিরে একলা একলা ভডকা গেলার শখ হয় তার...





দুর্দান্ত একটা কথা।
চমৎকার
জটিল
মন্তব্য করুন