মাশরাফি বিষয়ে আরো কিছু উপলব্ধি...
মাশরাফিরে জাতীয় দল থেইকা বাদ দেওনের পর আমি একটা পোস্ট দিছিলাম। নো মাশরাফি নো ক্রিকেট শিরোনামের সেই পোস্টের পর নদীর জল বহুঘাট ঘুরছে, পৌষের কনকনা শীত শেষে আজ বসন্ত সমীরনে মন উচাটন, মৌসুমী পাখিরা আবার উড়াল দিছে নতুন ঠিকানায়। কিন্তু মাশরাফি আর দলে অন্তর্ভূক্ত হয় নাই। সেই পোস্টের পর মাশরাফি তার শল্য চিকিৎসক বন্ধু ডাক্তার ইয়াংয়ের কাছ থেইকা ছাড়পত্র পাইয়াও লীগের একটা মাত্র ম্যাচ খেলনের পার্মিশন পাইছে। সেই ম্যাচে তার বোলিং দেইখা আমাগো সংগঠকগো মুখ হা হইছে, নির্বাচকরা কইছে ছেলেটা নিজের সর্বনাশ করতেছে।
তবুও মাশরাফি দল আসে নাই। যদিও সে এখন দলের সাথে ঘোরাফেরা করতেছে। এইটারে ডেভেলপমেন্টের অংশ হিসাবে ধরা হইতেছে। তয় অনেকে কইতাছে দলের কোনো একজন যদি অসুস্থ হয় তাইলে মাশরাফিরে আবার দলে নেওনের কথা ভাববো দল নির্বাচনের দন্ড-মুণ্ডের কর্তারা। পেশাগত কারনে কয়েকদিন দলের প্র্যাক্টিস দেখার সুযোগ হওয়াতে দেখছি মাশরাফি কেমন এ্যালুফ থাকে এখন মাঠে। যদি নিয়ন্ত্রকেরা চায় তাইলে সে ফিল্ডিং-বোলিং-ব্যাটিং করে।
ঐ সময়টাতে অনেকেই বোর্ডের সিদ্ধান্তরে যৌক্তিক ধইরা নিয়া অনেক যূক্তি করনের অবকাশ নিছেন। কিন্তু বাস্তবতা কি আর এক জায়গায় থাইমা থাকে!? এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার হাসি'র ওয়ার্ল্ড কাপ খেলনের আশা প্রায় তিরোহিত হওনের পথে। ভারতের আহত প্রাভিন কুমাররে দলে রাখনের শেষ চেষ্টাটাও বিফলে যাওনে তার বদলী শ্রীশান্ত ভারতীয় দলে পূণঃ অন্তর্ভূক্ত হইছে। ঠিক সেই সময়টায় ফিট মাশরাফিরে জেমি সিডন্স কোচিং টাইমে মাশরাফিরে নিয়মিত বোলার হিসাবে ব্যবহার করতেছেন। মাশরাফি তার নিজের গতিতে বোলিং করতেছে...
বাংলাদেশ দল ইতোমধ্যেই একটা প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেইলা জয়লাভ করছে। কানাডার সাথে ঐ খেলায় বাংলাদেশের বোলিং পারফর্ম্যান্স যে কোনো সময়ের চাইতে ভালো, কেবল ভালো না সেকেন্ড পেইসার রুবেলের পারফর্ম্যান্স। দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ আজকে পাকিস্তানের সাথে টসে হারার পর ফিল্ডিংয়ে গেছে আগে। এরমধ্যে বাংলাদেশের বোলিংও শেষ আজকের বোলিং পারফর্ম্যান্স খুব একটা জুইতের হয় নাই। শফিউল ভালো বোলিং করছে আজকেও সাথে রাজ্জাক আর শাকিবের ইফেক্টিভ স্পিনিং মোমেন্ট ছিলো বেশ। তবে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী রুবেল আজকেও সবচাইতে খরুচে বোলার ছিলো। এই দুই ম্যাচ শেষে আমার আবারো মাশরাফির কথা মনে পড়ে...
আমি নিজে ব্যক্তি মাশরাফির ভক্ত কখনোই ছিলাম না, এই কথা আগেও একবার বলছি। পেশাগত কারনে মাশরাফির সাথে যেই দুইতিনবার কথাবার্তা হইছে তাতে আমার কোনো সুখস্মৃতি নাই। তবুও একজন ফাস্ট মিডিয়াম মাশরাফির অভাব অনুভব করি এখনো। জানিনা বাংলাদেশের পারফর্ম্যান্স কিরম হইবো এই ওয়ার্ল্ড কাপে, কিন্তু মাশরাফি থাকলে যে ভালো হইতো এইটা বুঝতে পারি।
একসময় এই দেশে অনেক কিছুই পাল্টাইছে আন্দোলনে। অনেক পরিবর্তনের ফল ভোগ করছি আমরা আনন্দময়তায়। কিন্তু এখনকার যূগে আমরা মাইনা নেওনের জাতি হইছি...এখন আন্দোলনের যেকোনো পদক্ষেপরে লাগে অহেতুক বাড়াবাড়ি। নিশ্চিন্ত থাকনের পথ খুঁজতে খুঁজতে আজ আমরা দিশেহারা জাতি, যার কাছে গন্তব্যের কোনো আইডিয়াল রিয়ালিটি নাই...





মাশরাফীরে দলে নেয়া মানে হইলো অন্য কেউ ইনজুরীতে যাওয়া যেইটা আমি আশা করি না। একজন তরুন ছেলে বিশ্বকাপ দলে যোগ দিলো তার তাকে বাদ দিয়ে আরেকজনকে নেয়াটা নির্মম রসিকতা যেটা অতীতে আমরা দেখেছি। নান্নুকে নেয়ার জন্য জাহাংগিরকে দল থেকে বাদ দেয়া !
নান্নু কিন্তু সেইবার দলের সেরা পারফর্মারদের মধ্যে একজন ছিলো...
সেইটা যে মাশরাফীর জন্য প্রযোজ্য হবে সেটাও কিন্তু ঠিক না, হলেও হতে পারে নাও পারে
আমি কই নাই মাশরাফি সেরা পারফর্মার হইবো...কিন্তু আপনের যূক্তির ভুলটা ধরাইলাম আর কি। মাশরাফি যে দলের জন্য প্রয়োজনীয় এই বিষয়টা আমি এখন আরো বেমি উপলব্ধি করতেছি। সে সেরা পারফর্মার না হইতে পারলেও প্রয়োজনীয় পারফর্মার যে হইতে পারতো এই বিষয়টা নিশ্চিত।
তবে এইবার যে বাংলাদেশের জান, বাংলাদেশের প্রাণ সাকিব আল হাসানের পারফর্ম্যান্স খুবেকটা ভালো হইবো না সেইটা আমার মনে হইছে তারে নিয়া কাজ করতে গিয়া। পায়া ভারী হইলে ফুটওয়ার্ক থাকে না ক্রিকেটারগো...
তাহলে আপনার মতে আমাদের কি করা উচিৎ ছিল, মাশরাফিকে দলে নেবার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতাম। মিডিয়া সোচ্চার থাকত এটা নিয়ে। টিম ম্যানেজমেন্ট বিশ্বকাপে দলের স্ট্রাটেজি, বিপক্ষ দলের শক্তিমত্তা/ নিজেদের দূর্বলতা নিয়ে চিন্তা না করে ব্যস্ত থাকত মাশরাফি পরিস্তিতি চিন্তা করে। আর দলের ২-৩ জন খেলোয়াড় সব সময় থাকত ইনসিকিউরিটির মধ্যে, মাশরাফিকে জায়গা করে দেবার জন্য তাকেই কিনা বাদ পড়তে হয়। টিম মিটিং বা প্রাকটিসে কেউ মুখে না বললেও মাথায় ঠিকই এ টপিক ই ঘুরতো। আর মনে মনে (প্রকাশ্যে না হলে) দুটো দল তৈরী হত দলের ভিতরে এর পক্ষে বিপক্ষে।
বাহ! সার্বিক ভাবে আমাদের দলের জন্য উজ্জ্বল কিছু করার কি সুযোগটাই না হারালাম আমরা মাশরাফির পক্ষে জোর আন্দোলন না গড়ে তুলে...
মাশরাফি আমাদের সেরা পেস বোলার এতে কোন বিতর্ক নেই, আমি নিজে তাকে ১৫ জনের দলে রাখার পক্ষে ছিলাম, যদি সে ফিট না হতে পারত তাহলে ৮/৯ তারিখে তার বদলে অন্য কাউকে নেয়া যেত, হাসি বা প্রভিন কুমারের মত। কিন্তু সেটি যখন হয় নি তার পর থেকে যে ১৫ জন নিয়ে খোয়াড গড়া হয়েছে তাদের উপরেই পুরো সাপোর্ট/ ব্যাকিং দিয়ে যাচ্ছি। কারন এখন মাশরাফি টপিক নিয়ে এগিয়ে গেলে উপরের ঘটনাগুলো ঘটার সম্ভাবনাই থাকবে, ভাল কিছু নয়।
মাশরাফির প্রতি সর্বোচ্চ শুভকামনা, মাশরাফি সামনে বাংলাদেশকে আরো অনেক সার্ভিস দিবে, আরো অনেক ম্যাচ জিতাবে। আর লম্বা এই টুর্নামেন্টে দলের যে কেউই ইঞ্জুরড হতে পারে, সেক্ষেত্রে আমাদের সৌভাগ্য যে ওর মত একজন আমাদের ব্যাক আপ হিসেবে আছে।
সর্বোপরি আমার কাছে একজন ব্যক্তি মাশরাফি থেকে পুরো বাংলাদেশ ক্রিকেট টিম অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
মাশরাফি বিহীন বোলিং লাইন যে কতটা নির্বিষ তা আজকের ম্যাচেই বুঝা গেছে। তাই... বিশ্বকাপে মাশরাফি বিহীন বাংলাদেশ যে তাক লাগানো কিছু এক করে ফেলবে, সে ব্যাপারে আমি মোটেও আশাবাদী নই। তবে বোলাররাই শুধু নয়, আজকের ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের পারফরমেন্স ও ছিল হতাশাব্যঞ্জক।
আমি চেয়েছিলাম, এই প্র্যক্টিস ম্যচগুলোয় দল যেন হুট করে অলৌকিক কিছু করে না বসে। তাহলে সেই ফ্যসিনেশন আর বাড়তি চাপ সামলাতে সামলাতে টুর্নামেন্টটা বেরিয়ে যেতো হাত গলে।
এখন মনে হচ্ছে মাশরাফির দলে থাকা উচিত ছিলো।
কালকের খেলার স্কোরকার্ড দেখে মনে হচ্ছে সিডন্সের একটা এক্সপেকটেশনের সাথে প্রকৃতি বিট্রে করতে যাচ্ছে। সেটা হলো, রাতে যথেষ্ট শিশির জমে। যেজন্য, কাল পাকিস্তান খুব নির্বিষ বোলিং (স্পিনার আফ্রিদি আর হাফিজ, শোয়েব বল করেনি, গুল মনে হয় ৬ ওভার মাত্র) দিয়েও শুদঃু পেসের জোরে বাংলাদেশকে বিধ্বস্ত করে ফেলছে।
ফেব্রুয়ারীর শেষ বা মার্চে তেমন শিশির জমবেনা ভেবে সিডন্স দুই পেসারের বেশী না খেলানোর ঘোষনা দিয়েই ফেলেছেন। আমার মনে হয় পরে বোলিং করলে বাংলাদেশ আরেকজন পেসারের, বিশেষত মিডিয়াম পেসারের (যাদের বোলিং স্পিড শিশিরের কারণে খুবই আনপ্রেডিক্টেবল হতে পারে) প্রয়োজন বোধ করবে। সেক্ষেত্রে নাজমুলের চেয়ে মাশরাফি ভালো এই অর্থে যে মাশরাফি স্লগ হিটার। প্রয়োজনে ১৫ বলে ২৫ রান এনে দেবার ক্ষমতা তার আছে, যেটা মাঝে মাঝে ম্যাচ জেতায়।
আশরাফুলকে ইনজুরড দেখায়ে মাশরাফিকে দলে নেয়া হউক। গ্যেঁটে বাতের ব্যাথা দাবী করলে এক্স-রে তে কোন প্রমাণ না দেখাইলেও চলবে। খালি রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেছে এমন একটা ডাক্তারী রিপোর্ট দিলেই হবে।
জ্বীন ভাই, 'আশরাফুলকে ইনজুরড দেখায়ে মাশরাফিকে দলে নেয়া হউক। গ্যেঁটে বাতের ব্যাথা দাবী করলে এক্স-রে তে কোন প্রমাণ না দেখাইলেও চলবে। খালি রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে গেছে এমন একটা ডাক্তারী রিপোর্ট দিলেই হবে।' আপনার একথার সাথে আমি একমত! ডাক্তারী রিপোর্ট'র দরকার হলে আমাদের কাছে আসতে পারে, ওয়ার্ল্ড ক্লাস ডাক্তারী রিপোর্ট যোগার করে দিব!!!
গতকাল ওর খেলা দেখে পাগল হবার জোগার হয়েছিলাম। খেলাধুলার প্রতি আমার আগ্রহ বেশী নাই, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা দেখতে চেষ্টা করি।
খেলার মাঝামাঝি ওকে নিয়ে একটা পোষ্ট দিয়েছিলাম অন্য একটা ব্লগে। নানা কমেন্ট পড়ে হাসতে হাসতে শেষ। আমার কাছে ওকে একটা 'বলদ'ই মনে হয়!
আশরাফুলকে আমার কাছে বলদই মনে হয়। বলদ যেমন সব সময় বলদামি করে বেড়ায়, আমার কাছে আশ্রাফুলকে তাই মনে হয়, আজো তাই মনে হল। এতটা বছর (বছরের পর বছর) খেলেও এখনো মনে হয় খেলার কিছুই বুঝে না। একজন খেলোয়াড় কোন সময় কি ভুমিকায় যাবে, তার বিন্দু মাত্র কমনসেন্স তার নাই!
আশরাফুলকে 'বলদ' বলে, মনে হয় বলদদের অপমান করলাম!
কন তো কালাকুদ্দুস রে ফিট করি। রাতের আন্ধারে আশরাফুলরে এট্টু বাইন্দা

তাইলে মাশরাফির এন্ট্রি কেডায় ঠেকায়। আর জ্বালি রিপুর্ট দেয়া তো বাংলাদেশে ওয়ান-টুয়ের খেইল..জ্বীন ভাইয়ের পরামর্শ বিসিসি কে জানানো হোক....
ভাস্কর দা, আশরাফুল কে বিশ্লেষন পুর্বক আপনার একটা মতামত চাই!
পাকিস্তান ক্রিকেট টীম সাপোর্টার (গতকাল এটিএনে দেখলাম) সাকিব কে নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা জানতে চাই।
ক্রিকেট, কবিতা, বইমেলা সব মনে হয় আর এক জীবনের কথা
মন্তব্য করুন