টাইগারদের মিউ মিউ আর সমালোচকের গর্জে ওঠার দিন...
স্টেডিয়ামে গিয়া খেলা দেখি নাই বহুদিন, কিন্তু গতোকাল রাত বারটার সময় এক বন্ধু হঠাৎ ফোন কইরা জানতে চাইলো বাংলাদেশ আর সাউথ আফ্রিকার সাথে খেলা দেখতে চাই কীনা, তার কাছে একটা ক্লাব হাউজের টিকেট আছে...এই টিকেট প্রাপ্তির সম্ভাবনায় মনে হইলো যাই একদিন অন্ততঃ দেশের ক্রিকেট সমর্থকগো বাস্তবতাটা বুইঝা আসি। আর তাই সকাল সকাল ঘুম থেইকা উইঠা রওনা দিলাম মিরপুর স্টেডিয়ামের উদ্দেশ্যে।
স্টেডিয়ামে ঢুকনের আগে আমার বুটের ভিতরে পাঁচটা সিগারেট লুকাইয়া নিলাম যাতে কোনো ঝামেলা না হয়। ফোন ছাড়া আর কোনো বহনযোগ্য মালামাল রাখলাম না সাথে, যাতে চেকিং বিষয়ক জটিলতা এড়ানো যায়। তারপরেও আমার পকেটে থাকা চ্যাপস্টিকটা বাইর কইরা ছুইড়া ফালাইয়া দিলো গেইটের সতর্ক প্রহরীরা। একা একা খেলা দেখতে যাওনটা একটু বোকামী আজকালকার যূগে। তয় আমার মন কইতেছিলো পরিচিত লোক হয়তো পাওয়াই যাইবো এতো লোকের ভীড়ে।
পরিচিত লোক পাইলাম। তারা তাগো পাশের একটা খালি চেয়ারে আমারে বসতে দিলো। বেশ উৎসাহী বাংলাদেশ সমর্থক এই বন্ধু আমারে জিগাইলো খেলার প্রেডিকশান বিষয়ে। আমি আমার মত কওনের পরে দেখি তাগো দৃষ্টি একটু অন্যরকম হইয়া গেলো। যেনো আমি অচ্ছ্যুৎ। আমি দূরে গেলেই তারা বাঁচে। কিন্তু আমি ঠ্যাটার মতোই তাগো পাশে বইসা খেলা দেখনের পন করলাম। মাঝে সাঝে বাংলাদেশি বোলারগো প্রশংসা করলাম ছেলে দুইটার মন ভালো করতে। স্ট্র্যাটেজিটা কাজে দিলো। যার বিনিময়ে তারা আমারে একবার কফি আর পেপসিও খিলাইলো।
আমি কী বলছিলাম তাদের?
বলছিলাম আজকের খেলায় সাউথ আফ্রিকা ২৮০+ রান সংগ্রহ করতে পারবো। আর বাংলাদেশ চেইজ করতে গিয়া ১৮০-২০০তে অল আউট হইবো। আমার প্রেডিকশানের প্রথম অংশ মিলা যাওনের পর দেখি আশেপাশের লোকজন আমারে মহা ক্রিকেট পন্ডিতের সম্মান দিতে শুরু করলো। সিগারেট ফুরানের পর কিছু সিগারেট সাপ্লাইও জুটলো এই বরাতে।
আমি কেমনে জানলাম সাউথ আফ্রিকা ২৮০+ রান করবো? আমার মাথায় ছিলো সাউথ আফ্রিকা এককালে স্পিনে খুব ভালো খেলতো না। আমার মাথায় ছিলো ২০০৮'এ তারা মিরপুরের এইসব পীচে মোটামুটি কনসিস্টেন্সী রাইখা সিরিজ জিতছিলো। আমার জানা ছিলো এইবারের সাউথ আফ্রিকা দলে অন্ততঃ তিনজন ব্যাটসম্যান আছে যারা স্পিন বেশ ভালোই খেলে, হাশিম আমলা-ডুমিনি আর রবিন পিটারসেন কিছু স্কোর দিবো; স্মিথ আর ক্যালিস দিবো মোটামুটি গ্রহণযোগ্য স্কোর...সাথে একটা ধারাবাহিক বিরতি মাইনা তাগো উইকেট পড়বো। এরফলে তিনটা অর্ধশতকে তাগো স্কোর ২৫০+ হইতে পারে খুব স্বাভাবিক গতিতেই, আর সাথে যদি অন্য কেউ একটু ইফর্ট দেয় তাতে ২৮০+ একটা সংখ্যাই যৌক্তিক ভাবে দৃশ্যমান হয়। আর বাংলাদেশের স্কোরটা মাথায় আসছিলো কারণ স্টেইন-মরকেল জুটির অনুপস্থিতি, সাথে তৎসবে আর পারনেলের নিকট অতীত মানে ভারতের সাথে সিরিজের পারফরম্যান্স। আর রবিন পিটারসেন-তাহির আর বোথার ওয়ার্ল্ড কাপ পারফরম্যান্স। আশা করছিলাম তামিম ধীরে হইলেও কিছু রান পাইবো, সাথে ইমরুলও। শাহরিয়ার নাফিসের উপর আস্থা ছিলো।
তবে একটা ফ্যাক্টর বাদ দিয়া এই যূক্তির সিদ্ধান্ত টানছিলাম। আজকের ম্যাচটা বাংলাদেশের জন্য একটা মাস্ট উইন খেলা ছিলো। এইরকম অবস্থায় বড় দলগুলি মোটামুটি মিডল অর্ডার শক্ত কইরা খেলে। ওপেনিং স্ট্যান্ড খেলে একটু হাম্বল আর মিডল অর্ডার তাগো অ্যাগগ্রেসিভ স্লগ ক্ষমতা দেখায়, সাথে যায় লোয়ার অর্ডার। আমাগো ওপেনিং স্ট্যান্ড ভালো হইতে পারতো...তামিম আর ইমরুলের সেই যোগ্যতা হয়তো ছিলো। কিন্তু মিডল অর্ডারটা আসলেই মাজুল; কারণ সাকিব তার ফর্মে নাই। বাংলাদেশ বড় দল না...এই দলের স্লগ ক্ষমতা অনেক খারাপ। বইলা কইয়া শট খেলার প্লেয়ার দলে মাত্র দুইজন ছিলো, তাদের একজনের থকথকে দূর্বলতা বের হইছে এইবার আর দ্বিতীয়জন মানে দলের অধিনায়কের পায়াভারী হইছে কিছুদিন ধইরা। তাই মিডল অর্ডার পর্যন্ত গিয়া সম্মানের দিকে নজর দিবো এমনই ভাবছিলাম। মাস্ট উইন ম্যাচের প্রেশারটা হয়তো তারা ইগনোর কইরা দিতে পারে এমন চিন্তা আসছে মাথায়।
কিন্তু বাংলাদেশ ফেইল করলো। কারণ তাগো দলের কোনো ব্যাটিং স্ট্র্যাটেজি নাই। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ব্যাটিং কোচ বর্তমানের বাংলাদেশ কোচের সময় যায় ব্যাটসম্যানগো টেকনিক সারাইতে সারাইতেই, তারা স্ট্র্যাটেজি শিখাইবো কখন!? এইভাবে দল চালাইলে আমি কখনোই কোনো সুদিনের সম্ভাবনা দেখি না। মানে এখন যেমন ঠেলা ধাক্কায় মিনোস উপাধি থেইকা বের হইয়া ইনকন্সিসটেন্ট উপাধি পাওয়া হইছে এইটাতেই আটকাইয়া থাকতে হইবো।
যাই হোক খেলা দেইখা বের হইলাম। বাংলাদেশের ৭৮ রান আমার তার মানের চাইতে একটু খারাপ স্কোর মনে হইছে...আরো ৭০ রান তারা করতে পারার ক্ষমতা রাখে সাউথ আফ্রিকার সাথে বর্তমান ব্যাটিং লাইন আপ নিয়া। এইটা পারে নাই পরিকল্পণার অভাবে। সাকিব যদি টাকার চাইতে প্র্যাক্টিসরে গুরুত্ব আরেকটু বেশি দিতো তাইলেই হইতো...তাইলে অন্ততঃ এক দল মন খারাপ করা মানুষের সাথে যানবাহন শূন্য রাস্তায় হাটতে হইতো না। বাঙালির মন ভালো করতে খুব বেশি কিছু দরকার হয় না আসলে...কেবল একটু একাগ্রতার অনুভব থাকতে হয়। এই দলের সেইটা অন্য যেকোনো সময়ের দলের চাইতে কম।





সব দোষ মিয়া আপনার। বিমার বৌভাতে আমার পাশে বইসা রোস্ট খাইতে খাইতে কইছিলেন এই ওয়ার্ল্ড কাপে সাকিব হইবো ফ্লপ মাস্টার। আপনার কথার কারনেই তো এই দশা

সে তো আমি ম্যালা আগেই কইছি।

আমার কথা কি আপনে লোটাস কামালরে দিয়া সাকিবরে কওয়াইছিলেন?
আজকের খেলা নিয়ে কোন কথা বলতে ইচ্ছা করতেছে না, নইলে একটা কমেন্ট দিতে পারতাম।
কিচ্ছু কওয়ার নাই। ১৫ মিনিট খেলা দেইখা তারপর বইসা বইসা জীতেন্দ্র-শ্রীদেবীর নাচ দেখছি ।
স্টেডিয়ামে আইলে মজা পাইতেন নিশ্চিত...৫৮'র পর ১ রান নেওয়া হইলে সবাই মেক্সিকান ওয়েইভ দিছে...
জ্বি এই অভাগা ছিল সেসময়
ক্লাব হাউজেই। নর্থ।
সবই কপাল!
একদম ঠিক কইছেন...কপালে লেখা ছিলো বইলাই এতোকিছু...সাকিব-তামিম তো উছিলা মাত্র...
প্লেয়াররা নাকি সারাদিন নামাজ পড়ে খেলার আগে। এতেই বুঝা যায় ওদের কনফিডেন্স লেভেল। নামায পড়ারে আমি খারাপ বলি না। কিন্তু খেলায় ভালো করতে যাদের মন্ত্রের উপরে
ভরসা করতে হয় ওরা আর কেরম খেলব!
সাহস কৈরা সবাই সব কথা বলতে পারে না, রায়হান ভাইরে ধইন্যা। গ্রামীণ ফোনও যেভাবে মোনাজাতের আর প্রার্থনার প্রচার দিয়া আগায় আসছিলো তা দেখে প্রমাদ গুনছিলাম। ভারতীয় সিনেমায় নায়ক নায়িকা কোন বিপদে পড়লে দেবীর দুয়ারে আছড়ায় পড়তো। ঘন্টা বাজানোর মাধ্যমে বিপদউত্তরণের ব্যাপার স্যাপার দেখছি। বাংলাদেশে সেইটা হৈত পীর বাবার দরবারে। এই কনসেপ্ট খেলার মধ্যেও আসলো! আফসুস।
মন্তব্যে লাইক মারনের ফিচারটা অ্যাড করেন শীঘ্রই...
৫৮ করার পর দর্শকদের করতালি কি সাকিবদের কানে গেছিলো?
সংবাদ সম্মেলনে সাকিব কি কইবো এইটা নাকি ওরে ব্রিফ করছে কর্মকর্তারা...নাইলে সাকিব কালকেও হয়তো আরো কিছু কইতো জাতির উদ্দেশ্যে...
মন্তব্য করুন