জিতেগারে জিতেগা পাকিস্তান জিতেগা অথবা একটি অসহায় প্রেমের উপাখ্যান...
১৯৯২ সালে আমি তাজা তরুণ। তখন অবশ্য তারুণ্যের দোলাচল শুরু হইছে সারা পৃথিবীতে। সোভিয়েত বিপর্যয়ের পর এই দেশেও তার প্রভাব ভালোমতোই পড়তে শুরু করছে। তেমন একটা সময়ে দেশের বামপন্থী দলগুলিও অনেক জাতীয়তাবাদী অবস্থান নিয়া ফেলতেছিলো। তারুণ্যের সামনে এই জাতীয়তাবাদ ছিলো অনেকটাই কৌশলী অবস্থান। কারণ স্নায়ূযুদ্ধের কাল শেষে তখন সারা পৃথিবীতে মৌলবাদ আবার মাথাচাড়া দিতেছিলো। আমেরিকা যেনো পরিকল্পিত ভাবেই তাদেরই পৃষ্ঠপোষণায় বেড়ে ওঠা মৌলবাদী শক্তিরে তখন শত্রুর পোশাকে সাজাইতেছিলো। এমনি একটা সময়ে এই দেশেও মৌলবাদের শক্তি প্রোথিত হইয়া যায়। যেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই দেশের সেক্যুলার ভাবাদর্শ গইড়া উঠতেছিলো তার বিপরীতে এই মৌলবাদের ছায়া পড়লো বেশ শক্তিশালি অবয়ব নিয়াই। মুখোমুখি লড়াইয়ে তখন দেশের সেক্যুলার চেতনার সবচাইতে বড় ধারক শক্তি সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলগুলি জাতীয়তাবাদরেই মূল হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার শুরু করলো। আমরা সেই জাতীয়তাবাদী বামপন্থী সময়ের তারুণ্য হইয়া উঠি...
১৯৯২ সালটারে আজকে মনে পড়লো আবার। সেই বছর ক্রিকেট বিশ্বকাপ হইছিলো অস্ট্রেলিয়া আর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে। অনেক ঝড়ঝাপ্টা শেষে উপমহাদেশের পাকিস্তান সেই টূর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হইছিলো। বিশ্ব ক্রিকেটের নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসাবে পাকিস্তান তখন থেইকাই বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হইলো বাকী সব দেশের-দলের জন্য। তারা ক্রিকেট বিশ্বে এর আগে মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল দল হিসাবে স্বীকৃত ছিলো। কিন্তু ঐ বিশ্বকাপে তারা একটা দল হিসাবে খেইলাই চ্যাম্পিয়ন হইছিলো...ইমরান খানের অধিনায়কত্ব, ওয়াসিম আকরাম আর ওয়াকার ইউসুফের বোলিং এবং তরুণ ইনজামামুল হকের ব্যাটিঙে তারা বিশ্ববাসীরে নতুন কইরা তাদের নিয়া ভাবতে বাধ্য করছিলো।
৯০'এর শেষদিকে আন্দোলন পরিণতি পাওয়ার কিছুদির আগে তৎকালীন স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্রে এই দেশে একটা ধর্মীয় দাঙ্গা বাঁধছিলো। যেই দাঙ্গার সময় আমরা প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে দেখতে পাইছিলাম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান কতোটা মুসলমান হইয়া উঠতে পারে। তবু ১৯৯২ স্মরণীয় হইয়া ওঠে আমার কাছে। পাকিস্তানি ক্রিকেট দলের জয় উদযাপন করতে গিয়া এই দেশে মানুষরে দেখি কেবল পাকিস্তানি পতাকা নিয়া দৌড়াদৌড়ি না বরং ভিন্ন দলের সমর্থকগো বাসায় বোমাবাজী করতেও। বিষয়টা খুব বেশী বিস্তৃতি পায় নাই যদিও, কিন্তু সম্ভাবনার অঙকুরোদগম দেখছিলাম সেই বছর। আর আমরা যারা বামপন্থায় আস্থাশীল ছিলাম তারা আরো বেশি জাতীয়তাবাদরে আকড়াইয়া ধরলাম। আমরা মানে তারা, যারা বিশ্বাস করতাম সকলের সমান অধিকারে...যারা ধর্মভিত্তিক চেতনারে মনে করতাম মানব সভ্যতারে থামাইয়া দেওয়ার হাতিয়ার।
১৯৯২ সালে আমরা হতভম্ভ হইছিলাম বাংলাদেশের পাকিস্তান সমর্থকদের আচরনে। তারা মুসলমানত্বরে সমর্থনের মানদণ্ড হিসাবে ঘোষণা দিতেছিলো, তারা পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের বাঙালিগো সাংস্কৃতিক মিলের উদাহরণ দিতেছিলো। যেই পাকিস্তান রাষ্ট্রের সাথে আমাগো সেইসময় থেইকা মাত্র ২০ বছর আগে ছিলো অন্তরের বিরোধ। খেলায় সমর্থনের বিষয়ে আমার নিজের তেমন বিরোধ কখনোই ছিলো না। কিন্তু প্রকাশের মাত্রা নিয়া কিছু রুচীর মাত্রাগত উপলব্ধি ছিলো। বিশ্বকাপ ফুটবল কিম্বা ক্রিকেট কোনোটায় নিজের সমর্থিত দল জিতলে তার জন্য মিছিল বাইর কইরা সেই মিছিল থেইকা অন্য দলের সমর্থকগো উপরে হামলার নজীরতো আগে কখনো দেখি নাই! পাকিস্তানের জয়ে তবে কেনো আমরা অতোটা উদ্বেলিত? তৎপরবর্তীকালে পাকিস্তানের জয়ে আমাগো দেশের জনগণ নিয়মিতভাবেই উদ্বেলিত হইতে শুরু করলো...
২০১১ সালের ২৩ মার্চ আমি যখন স্টেডিয়াম প্রাঙ্গনে ঢুকতেছিলাম, তখন আমার মনে পড়লো ১৯৯২ সালের স্মৃতি। দলে দলে ক্রিকেট দর্শকেরা স্টেডিয়ামের ভেতর ঢুকার জন্য লাইন দিয়া দাঁড়াইয়া আছে। আর তাদের পাশে রঙতুলি-প্যালেট হাতে চিত্রশিল্পীরা...তারা অপেক্ষায় ছিলো গ্রাহকের আগ্রহ তৈরীর জন্য। সমর্থকেরা দলে দলে গালে-কপালে-হাতে পাকিস্তানের পতাকা আঁকাইয়া নিতেছিলো। তেমনি একজন যখন আমারে জিজ্ঞেস করলো আমার আগ্রহ নিয়া, আমি তারে ফোড়ন কাইটা কইলাম যারা হানাদার দেশের পতাকা আঁকে তাদের তুলি আমি আমার শরীরে ছোঁয়াই না...তখন তার মুখের পরিবর্তনে আমি স্পষ্টতঃই বিদ্বেষ তৈরী হইতে দেখি। সাথে আশঙ্কাও বেড়ে উঠে...
গ্যালারীতে প্রবেশের আগেই পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সবচাইতে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান ক্রিস গেইল আউট। পাকিস্তানের বোলাররা শুরু থেইকাই চাইপা ধরতে শুরু করে তাদের। একজন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সমর্থক হিসাবে খানিকটা মন খারাপ। এমন সময় দেখি পাকিস্তানের বিশাল পতাকা হাতে তরুণ তিনজন সমর্থক দৌড়াইতেছে। তাদের মুখে তখন আনন্দের উচ্ছ্বাস। আমার খারাপ লাগলেও কিছু করার নাই সমর্থকরা পয়সা খরচ কইরা পতাকা নিয়া দৌড়াইবো আমার কি বলার আছে তাতে! তবুও হাস্যোজ্জ্বল মুখে কই, "ভাই পাকিস্তানের পতাকা উড়াইতেছেন একেবারে।" তরুণদের উত্তর আমারে একটু হইলেও কনভিন্স করে,"খেলার মধ্যে রাজনীতি টানেন ক্যান ভাই?" আমি চুপ কইরা তাগো উচ্ছ্বাস দেখি...
তবে দ্বিতীয় উইকেটের পতনের পরে সেই একই তরুণ যখন চীৎকার কইরা উঠে, "ছোট ভাইয়ের প্রতিশোধ আজকে নিতেছে বড় ভাই" তখন আমি তারে আবারো জিজ্ঞেস করলাম,"কি কইলেন ভাই? ছোট ভাই আর বড় ভাই মানে! আপনে কি হানাদার একটা দেশরে আমাগো বড় ভাই মনে করেন নাকি?" সেই তরুণ এইবার বিচলিত হয়। খানিক্ষণের জন্য হইলেও চুপ থাকে। খেলায় উত্তেজনা বাড়তে থাকে। সারা স্টেডিয়াম কেমন উজ্জীবিত হয়। আমার চারপাশের তরুণরাও হঠাৎ আর আমার প্রতি খেয়াল করে না আর। তারা শ্লোগান দিতে শুরু করে,"জিতেগা রে জিতেগা, পাকিস্তান জিতেগা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ তু ঘার যা।" আমি কিছু কইবার ক্ষমতাও হারাই। উর্দুতে শ্লোগান শুনতে ঠিক জুতসই লাগে না আমার। তবু খেলা দেখার খাতিরে বইসা থাকি। আজকে পাকিস্তানের দিন। একাত্তরের ২৩ মার্চে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানোর দিন...

সেইসব শ্লোগানে খানিক অস্বস্তি লাগতে শুরু করায় জায়গা পরিবর্তন করি। শ্লোগানের প্রলয়ঙ্করী শব্দরে এড়ানো না গেলেও মানুষগুলির মুখরে তো এড়ানো গেলো ভাইবা মনে মনে সুখ পাই। কিন্তু যেইখানে জায়গা মিলে তার পাশেই এক ৭/৮ বছর বয়সী মেয়েরে পুরা পাকিস্তানের পতাকার ডিজাইনে ফেইস পেইন্ট দেইখা ভয় লাগে। জাতীয়তাবাদী বাংলাদেশের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধিরে দেখি...এরপর থেইকা আর খেলা দেখা হয় নাই ক্রিকেট পাগল আমার। আমি স্টেডিয়ামের গর্জন দেখতে শুরু করি। মেক্সিকান ওয়েইভের পর জিতেগা জিতেগা শ্লোগান ছাপাইয়া আমার কানে আসে নারায়ে তাকবীর আল্লাহু আকবারের ধ্বনি।

বাংলাদেশের সাথে দক্ষি্ণ আফ্রিকার খেলাতে এতো দর্শক ছিলো না মিরপুর স্টেডিয়ামে। মার্চের এই দিনে পাকিস্তানের পতাকার সংখ্যা ঐদিনে প্রদর্শিত বাংলাদেশের পতাকার চাইতে বেশি ছিলো এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত। আমি নিশ্চিত পাকিস্তানের পতাকা এইসব মানুষের জন্য যেই আনন্দের উপলক্ষ্য তৈরী করছে সেইটার সংখ্যাও ঐ খেলার চাইতে কম...তবুও কমপক্ষে ২০ হাজার পাকিস্তান সমর্থক বাঙালির পাকিস্তান প্রীতি আমারে ভীত করে।
আমার ভয়ে কিন্তু কোনো অশ্রদ্ধার অবকাশ নাই। এই দেশের মানুষ তার নিজের ইচ্ছামতোন পতাকা প্রদর্শন করবো সেইটারেও মাইনা নিতে বাঁধা নাই আমার। কিন্তু বুঝতে পারি মুক্তিযুদ্ধের চেতনাগত দারিদ্র একটা জাতিরে আসলে কোথায় নিয়া যাইতে পারে। পাকিস্তানের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পরেও আজকে এক তরুণ আমার সাথে তর্ক করতে উদ্যত হয় যে তার বাবার দেশতো পাকিস্তান-ই ছিলো! এই তরুনের কাছে তাই বাংলাদেশের পর পাকিস্তানই দ্বিতীয় পসন্দ। যার জন্য একজন আধুনিক তরুণ নারায়ে তাকবীর শ্লোগানের সাথেও গলা মিলাইতে কোনোরকম দ্বিধা করে না।
পাকিস্তানের জয়লাভের পর পতাকা নিয়া মানুষের মিছিলে তাই আমি হতবাক হই না। এই রিয়ালিটিরে মাইনা নেওনের সময় চইলা আসছে মনে হয়। তবে রাস্তায় যখন পাকিস্তানি ক্রিকেটারগো বহনকারী বাসের অপেক্ষায় হাজার হাজার মানুষরে আর্মি-বিজিবি-ড়্যাব কিম্বা পুলিশরে তোয়াক্কা না কইরা দাঁড়াইয়া থাকতে দেখি, তখন মনে হয় ব্লগে আর ফেইসবুকেতো এতো লোকের পাকিস্তান বিরোধীতা চোখে পড়ে না! আমরা আসলে কতোটা জনবিচ্ছিন্ন হইতেছি দিনে দিনে...তার স্বরূপ আমার মধ্যে আরো ভয়ের তাড়না দেয়। এই দেশ আসলে কোথায় যায়!? জনতার এই যে সমর্পণ তার মূলে আসলে কার ব্যর্থতার প্রশ্রয় আছে!? মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কি জনগণের হাতে ভূলুণ্ঠিত, নাকি তার জন্য রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা সরকারী-বেসরকারী মানুষরা দায়ী!?
প্রশ্নগুলি সহজ তার উত্তরওতো জানা...





এইদেশেরই স্কলার- নির্মাতা তৈরী করে মেহেরজান, যেখানে মুক্তিযোদ্ধারা কাপুরুষ আর পাকিস্তানী সৈনিক হিরো। পাকি-প্রীতি এমনই জিনিষ!
সাধারন মানুষের আর দোষ কি?
মেহেরজান বিষয়ে আমার ভিন্ন ব্যখ্যা আছে সেইটা নিয়া একদিন আলোচনা করা যাবে। আমি পাকি প্রীতি নিয়া যতোটা ওরিড তার চাইতে বেশি বিরক্ত প্রীতি না থাকার পক্ষের আচরনে। গণবিচ্ছিন্ন আমরা জানিই না এই মানুষরা কোন অবস্থান থেইকা পাকিস্তান সমর্থন করে। আমি এইসব পাকিস্তানি সমর্থকদের একবারো কোনো মেয়ের সাথে বাজে ব্যবহার করতে দেখি নাই...বরং পাকিস্তান সমর্থক মেয়েদের বেশভূষা অনেক আধুনিক ছিলো...এই যে ধর্মীয় এক্সপ্রেশান আর পসন্দের মাঝে কন্ট্রাস্ট এইটা নিয়া আসলেই গবেষণা হওয়া দরকার। মেহেরজানে একজন পাকি প্রেমী তরুণীর জীবনগাঁথা দেখানো হইছে...এই পাকি প্রেম কি সেই সময় থেইকাই ছিলো? তাইলে তো মেহেরজান বরং সেই অংশের প্রতিনিধিত্বশীল চলচ্চিত্র...
আমি কনফিউজড হই এই পাকিস্তান প্রেম নিয়া
প্রশ্নগুলি সহজ তার উত্তরওতো জানা...
শহীদ সালাম, বরকত, রফিকের আত্মদানে সিক্ত ভাষা আন্দোলনের মাসে স্টেডিয়ামে ক্যাটরিনার 'শীলা কি জাওয়ানী' আর আর্মি স্টেডিয়ামে শাহরুখের গ্র্যান্ড হিন্দি নাইট সম্পর্কে আপনার মতামত জানালে খুশি হব।
বিষয়টা মনে হয় না এমন কইরা দেখা যায় যে ভাষা আন্দোলনের মাসে শীলা কি জাওয়ানি'র কনসার্ট হওয়াটা ঠিক না আর অন্য সময় ঠিক। ব্যক্তিগতভাবে আমি কারো সাংস্কৃতিক ইনক্লুশান কিম্বা মাইগ্রেশানে আপত্তি করতে চাই না। আমি নিজে শীলা কি জাওয়ানি গানটা শুনছি বা দেখছি এইটুক কইতে চাই...এই ধরনের গান আমার পছন্দ না। আবার তাই বইলা আমি শুদ্ধ ভারতীয় সঙ্গীত প্রীত বোধ করি না তেমন। বাউল আর সহজিয়ার দর্শনভিত্তিক সঙ্গীত আমার পছন্দ কিন্তু প্লেইটে লেড জেপলিন থাকলে আমি আগেরটা স্যাক্রিফাইস করতে রাজী আছি।
তো মোদ্দাকথা আমার ক্যাটরিনা কাঈফ কিম্বা শাহরুখ খান প্রীতি নাই বইলা তাগো শো'য়ের বিরোধীতাও করি না। আপনের প্রশ্ন যদি হয় ভারতীয় সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমি সমর্থন করি কীনা, তাইলে সোজাসাপ্টা উত্তর না। মানুষের অংশগ্রহণ সমর্থন করি কীনা এই প্রশ্ন হইলে উত্তর হ্যা কিম্বা না কোনোটাই না। তবে ভারতীয় পতাকা উড়াইয়া হিন্দি বাতচিতে আমার অস্বস্তি আছে।
এইটা নতুন কিছুনা । সম্ভত ৭৪ এ যখন ভুট্টো বাংলাদেশে আসছিলো তখন হাজারে বিজারে রাস্তায় দাঁড়াইয়া পাকি জিন্দাবাদ শ্লোগান দিছিলো। পাকি সাপোর্টিং এই দেশের আবাল ছাবাল থেকে শুরু কইরা তথাকথিত শিক্ষিত মোসলমানরা ঈমানি দায় থিকাই করে। আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত হলেও দেখছি পাকিস্তানের খেলায় ৯৯ ভাগ পাকি সাপোর্টার। বাকি এক ভাগটা ছিলাম আমি। আর পকিদের বিপক্ষে তালি দিতে পারছিলাম ছাত্রলিগের হল বইলা। ছাত্রদলের হল হইলে সাহস পাইতামনা।
অনেকে আবার সারিন্দা বাজায় এই বইলা যে খেলার মধ্যে রাজনীতি ক্যান। কিন্তু পাকি সাপোটারদের তর্ক করতে দেখছি, প্রত্যেক মুসলমানের পকিস্তানরে সাপোর্র করা উচিত এই ফতোয়া দিয়া। ওরা কিন্তু আবার বাঙালি জাতীয়তাবাদি দল আওয়ামি লিগের সমর্থক!
মোসলমানদের এই পাকি পীরিত শুধু বাংলাদেশে দেখা যায় এমন না। শ্রিলংকার ক্রীড়া মন্ত্রি, ৯৬ এ ওদের দেশের মুসলমানদের আহ্বান করছিলেন পাকিস্তান সমর্থন বাদ দিয়া নিজ দেশরে সমর্থন দেয়ার জন্য।
নিজের চোখে স্টেডিয়ামে বসে ওই দৃশ্যগুলি হজম করেছেন
আপনার ধৈর্য আছে । আমার মুখ দিয়া গালি বাইর হইত
।
যে লোকেরা বলে, অতীত নিয়া বইসা থাকো বা যা গেছে তা গেছে, এতো কচলাকচলির কি আছে, সেই লোকেদের মুখে জুতা মারতে ইচ্ছা করে ।
আমাদের রাজনৈতিক বিভাজন দায়ী আসলে এর জন্য । কে কি করবে, কি বলবে, কিছুর ঠিক নেই । আর আমরা সাধারণ লোকেরা দায়ী আমাদের সন্তানদের সঠিক ইতিহাস না জানানোর জন্য ।
আমিও অবাক হয়ে টেলিভিশনে গ্যালারি দেখছিলাম। সত্যিই বিচিত্র এই দেশ।
আপনে তো অনেক ভাল হইয়া গেছেন দেখতাছি। গ্যালারিতে বইসা দেখলেন।
১৯৯২ তে টিমে ওয়াকার ছিল না। ইনজুরড ছিল। আকরাম আর আকিব জাবেদ ছিল মূল বোলার।
গ্যালারীতে বইসা মজা দেখছি। পরিবর্তনটা অনুভব করতে চাইছি। কিন্তু অবজার্ভেশন হইলো আরেক রকম...সাথে একজন ছিলো আর আমার রাগ তার জন্য প্রবলেম তৈরী করতে পারে বিধায় অনেক গ্যাঞ্জামে জড়ানের পরিস্থিতিতেও নিজেরে শান্ত রাখতে হইছিলো।
আমি ওয়াকারের নামটা আসলেই ভুল কইরা লেইখা ফেলছি মাসুম ভাই...আপনে কওনের আগেই অস্বস্তিটা ছিলো কওনের পর বুঝলাম পাকি ইতিহাসটা আসলেই মনোযোগ দিয়া ফলো করি নাই...
হতাশ
সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে রেডিও টিভিতে যেভাবে প্রচারণার ফেনা তুলতেছে, তার ফলাফল কি এই ! এদেশে তরুনের হাতে যখন পাকিস্তানী পতাকা উড়ে, তখন নিজের কপালে নিজেরই উষ্ঠা মারতে ইচ্ছা করে, আমরা কি রাজাকারের বংশ না মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরসূরি ! স্বাধীন বাংলাদেশে এই দিন দেখতে হবে, ভাবি নাই। এ লজ্জা কোথায় রাখি !
এটাকে আমাদের দেশের আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থকদের মত করে কি ভাবা যায়? ক্রিকেট বিশ্বকাপের সময় দেশের পতাকা এরা উড়ায় না, কিন্তু ফুটবল বিশ্বকাপের সময় ঠিকই পাল্লা দিয়ে আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় পতাকাটা বাড়ির ছাদে উড়িয়ে রাখে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা এদেশে পাকিস্তানের মত ভারতীয় দলেরও অনেক ভক্ত রয়েছে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলছি এক যুগের মত। বলার মত তেমন সাফল্য এখনো দেখাতে পারে নাই। কাজেই নিজের দেশের বিদায়ের পর পুরানো সমর্থকরা ঠিকই খুঁজে ফিরে আগের প্রিয় দলকে সমর্থন দিচ্ছে। এভাবে কি আমরা ভাবতে পারি?
পাকিস্তান দলটি সবসমই কিছু ভাল ক্রিকেটার বিশ্বকে উপহার দিয়েছে। বিশেষত ইমরান খান, জাভেদ মিয়াদাদ, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনুস, ইনজামামুল হক, শহীদ আফ্রিদিদের ব্যক্তিগত কারিশমার কারনে অনেকেই হয়ত এদের ভক্ত হয়েছেন। আজ ভক্তের আবেগের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হয়ত পিছিয়ে পড়েছে। একথা বললাম কারন আমার দুজন বন্ধু আছে যারা আওয়ামী লীগের কট্টর সমর্থক, কিন্তু ক্রিকেট খেলার সময় পাকিস্তান দলের সরব সমর্থক। রাজনৈতিক বিশ্বাস খেলায় সমর্থনকে বাঁধা দিতে পারে নাই।
তবে স্বাধীনতার মাসে স্টেডিয়ামে পাকিস্তানী পতাকা উড়তে দেখাটা আমাদের বিস্মৃতিপরায়ণতার কুখ্যাতির আরেকটা নজির হয়ে থাকল।
ভাস্কর দা, নির্মম সত্য মাইনাই আমি এই সব পাকি গুহ্যচাটা বাহিনিরে '*ান্কির পোলা' গাইল দিতে চাই।
মন্তব্য করুন