লেডি গাগা'র চুল পড়ার সংবাদে কার কী আসে যায়!
সেলিব্রিটি হলে জীবন অনেক কঠিন হয়ে পড়ে মনে হয়। আজকে মনে হয় সারা পৃথিবীর প্রায় সব পত্রিকায় একটা কমন খবর ছাপা হইছে। খবরটার গুরুত্ব কতোটুক সেইটা আমি টের পাই নাই অবশ্য, কিন্তু আজকের যূগের খবরের বাণিজ্যধর্মী আচরনে বেচা বিক্রী না থাকলে নিশ্চিত কোনো খবর ছাপে না। কমন খবরটা হইলো লেডি গাগার চুল পইড়া যাইতেছে। সে তার ফ্যাশনের জন্য চুলে মাত্রাতিরিক্ত রঙ ব্যবহার করছে এতোদিন আর তার ইফেক্টে এখন চুল পড়তেছে দেদারসে। সে নাকি রঙ মাখা চুল নিয়াই বিছানায় শুইয়া পড়তো। এই খবরে লেডি গাগার ক্ষতি হইলো না লাভ হইলো এই বিবেচনা করতে গিয়া মনে পড়ে...নিউজ মানেই এখন একজন সেলিব্রিটির জীবনের উন্মোচন। লেডি গাগা চুল রঙ করে রাখেন এইটা সংবাদ হিসাবে বেশ চটকদার...কারণ এই রঙের বাস্তবতা তাকে সাধারণ মানুষ থেকে আলাদা কইরা ফেলে। কিন্তু চুল পড়ার ঘটনাটা কিভাবে তার সেলিব্রিটিসূলভ গ্রহণযোগ্যতায় কতোটা সহযোগিতা করে? কিন্তু মিডিয়া বাণিজ্য লেডি গাগার এই হতাশাব্যঞ্জক খবরটারে যখন পত্রিকায় আনলো তখন কি তার জীবন আর সহজ থাকার কোনো পথ খোলা থাকে?
শুরুতে যেইভাবে একজন সেলিব্রিটির ব্যক্তিগত জীবনের খবর প্রকাশের বিষয়টারে খারাপ লাগতেছিলো বেশ কয়েক লাইন লেখার পর মনে হইতেছে এই ধরনের সংবাদও আসলে সেলিব্রিটিদের মিডিয়া প্রেজেন্স দ্যায়। আমারো চুল পড়ে, আমার কাজের মহিলার চুল পড়ে বইলা মাঝে মাঝে বিড়ম্বনা তৈরী হয় আমার জীবনে। সে যেইদিন বাজার থেইকা আনা তরকারী কুটে সেই তরকারীতে তার চুলের উপস্থিতি দেখা যায়। তরকারীর রান্নার স্বাদ যেমনই হোক খাওয়ার রুচী প্রায়শঃই নষ্ট হইয়া যায় ঐ চুলের জন্য। এইসব খবর আমি হয়তো পরিচিত লোকের সাথে শেয়ার করতেও আগ্রহী হই। কিন্তু তাতে আমার কাজের মহিলার নাম উহ্য থাকে, সে সমাজের যে কোনো ঠিকা কাজের বুয়া হইয়াই পরিচিত হয়। তার জীবনের কোনো সিগনিফিকেন্স এই প্রচারণায় থাকে না। অথচ লেডি গাগা'র চুল পড়ার খবরটা তার ভক্তদের মনে হতাশা তৈরী করে। অথবা তার এই চুল পড়াটা বৈজ্ঞানিক মহলে আলোচনার ইস্যূ হয়। এই যে উপস্থিতি এর জন্যই কি সেলিব্রিটি হয়ে ওঠার মানসিকতা আমাদের মাঝে কাজ করে? সেলিব্রিটির জীবনের সকল ঘটনাই তখন সাধারণ মানুষদের মধ্যে সেলিব্রেশনের উপলক্ষ্য তৈরী করে। এই সেলিব্রেশনে দুঃখ থাকে, আনন্দও থাকতে পারে।
এই লেডি গাগা একবার গরুর কাঁচা মাংস দিয়া বানানো পোশাক পইরা এক অনুষ্ঠানে হাজির হইয়া সাড়া ফালাইয়া দিলো। এইরকম পোশাক যদি আমাদের বাড়ির কাজের বুয়ার গায়ে থাকতো তাইলে সেও আলোচনার বিষয় হইতো। তাইলে তার মানসিক সুস্থ্যতা নিয়া প্রশ্ন উঠতো মহল্লায়। আর অন্যদিকে লেডি গাগা'র এই রুচী দোলা দিলো চতুর্স্পার্শ্বে। আর কেউ হয়তো এই রম পোশাক পরনের সাহস করে নাই সামাজিক পরিসরে কিন্তু লেডি গাগা'র এই পোশাক পরিধানে মিডিয়া পাইলো তার চরিত্রের একটা উল্লেখযোগ্য দিকের প্রকাশ। লেডি গাগা ফ্যাশন নিয়া ভাবে, সে অন্যদের চাইতে ভিন্ন ভাবতে পারে। তার এই ভাবনা সামাজিক মূল্যবোধরেও প্রশ্নবিদ্ধ কইরা দিতে পারে। মিডিয়া বিক্রিবাট্টা শুরু করলো গরুর মাংসে তৈরী পোশাক নিয়া।
এই প্রচারণা যে কেবল লেডি গাগা'র গ্রহণযোগ্যতা তৈরী করলো তা কিন্তু না। অনেকে তারে দেখতে না পারার মানদণ্ডও ঠিক করলো এরপর। সেলিব্রিটিরা যদি ঈশ্বরের মতোন গ্রহণযোগ্য হইয়া উঠেন তাইলেও কিন্তু আসলে বাণিজ্যে সমস্যা হয়। কারণ মিডিয়া সবসময় অপশন তৈরী রাখে, প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকলে সেলিব্রিটিরাও বিক্রির জন্য খুব ভালো পণ্য হয়না। একজন লেডি গাগা নিজে যেমন আলাদা হওয়ার জন্য চেষ্টা করে, প্রচারমাধ্যমও চায় তারে নিয়া বিতর্ক তৈরী করতে আর বিতর্ক তৈরীর মধ্য দিয়াই তাকে কেন্দ্র কইরা নির্দিষ্ট কাল্ট তৈরী হয়। যারা লেডি গাগা যা করে তারেই আরাধ্য মনে করে। কারণ লেডি গাগার প্রতি ভালোবাসা কেবল লেডি গাগারেই আলাদা করুক এইটা প্রচারমাধ্যমগুলি চায় না। তারা চায় তার ভক্তরাও মনে করুক এই ভালোবাসা তাদেরও অন্যদের থেইকা আলাদা করে। আর যেই কারনে তাদের পছন্দ,তাদের ভালোবাসা আরো আষ্টেপৃষ্টে বাঁধে তাদের। অনেকটা ধর্মের মতোন তারা নিজেদের অনুশাসন তৈরী করে। এই অনুশাসনে হয়তো কোনো প্রাপ্তির সম্ভাবনা নাই ধর্মের মতোন, কিন্তু পার্থিব প্রাপ্তি তারে সেলিব্রেশনের বোধ দ্যায়। যেই বোধে লেডি গাগা'র ২০০ গজ দূরত্বে থাকতে পারাটাও তারমধ্যে অনুভূতি জাগায় সে তার আরাধ্য আইকনের কাছাকাছি ছিলো। যেইখান থেইকা সে হয়তো পড়ে যাওয়া চুলটা দেখতে পায় না। কেবল রঙের ওড়াওড়িটাই দেখে মঞ্চে গাগার করা বিভিন্ন ব্লকিঙের মধ্য দিয়া। আর যেই ব্যক্তি গাগার অটোগ্রাফের মালিক হয় কিম্বা আরো দুঃসাহসিকতায় গাগার সাথে একটা ছবি তুইলা ফেলতে পারে তার গুরুত্বও অনেক বাড়ে এই গোত্রের মধ্যে। কিন্তু যারা লেডি গাগা'র গায়কী, তার জীবন যাত্রার বিরোধী হইয়া পছন্দ করে রিহানা'রে তারা আবার ভিন্ন ধরনের জীবনযাত্রার প্রতি আকৃষ্ট মানুষ...এরা লেডি গাগার মতোন সামাজিক মূল্যবোধরে প্রশ্ন করে না, আশির দশকে বিখ্যাত হওয়া গানের ধরণ রক এন্ড ব্লুজের সাথে রিহানার ক্যারিবিয়ান রেগ্যা কিম্বা ড্যান্সবীটের গান শুনতে এরা উদ্দাম হয়, যার সাথে বিদ্যমান সমাজের রুচীবোধের খুবেকটা বিরোধ নাই। এইটাই গতো দুইদশক ধইরা জনপ্রিয়তার মানদণ্ড ঠিক করতেছিলো বড় অংশের তারুণ্যের মাঝে। কিন্তু তাতে মিডিয়ার শেল্ফে বিক্রির জন্য পণ্যের ভ্যারাইটি কইমা যাইতেছিলো। তবে রিহানা'র যেই ধরণটা তারে আলাদা করে সেইটা হইলো তার ক্যারিবিয়ান জীবনযাত্রা, পোশাক আর নাচের মূদ্রা। লেডি গাগা তার সাদামাটা পপ গান গাইয়াই আইকন হইয়া উঠতে পারে জীবনযাত্রার ভিন্নতার জন্য। আর রিহানা তার পূর্বসূরী বিয়ন্স-জ্যানেট জ্যাকসনের মতোন ফ্যাশন মেইনটেইন করলেও আলাদা হইয়া উঠে ক্যারিবিয়ান ফিউশনের জন্য। এরজন্য অবশ্য তারে খুব ইনোভেটিভ হইতে হয় নাই, রিহানার জন্ম ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বার্বাডোসে। সে বরং তার অঞ্চলের রকের সাথে আমেরিকার পপের একটা সম্মিলন করছে। যেইটা বিক্রীর জন্য একটা নতুন পণ্য মনে হইছে মিডিয়া ব্যবসায়িদের।
লেডি গাগা হাইস্কুল অব্দি ছিলো ক্যাথলিক চেতনার ভালো ছাত্রী আর কোকেনাসক্ত বাবার অসামাজিক আচরনের জন্য রিহানার শৈশব ছিলো খানিকটা ডিস্টার্বড। যাই হোক লেডি গাগা তার আমেরিকান-ইটালিয়ান সংস্কৃতির জন্য যতোটা সহজে আমেরিকান আন্ডারগ্রাউন্ড ফেনোমেননের লগে মিশা যাইতে পারছিলো ক্যাথলিসিজম ঝাইরা ফেইলা, রিহানার জন্য বিষয়টা এমন হয় নাই। তার গান গাওয়ার ধরণটা শুরু থেইকাই নতুনত্ব দিছে। লেডি গাগা যেই কারনে গান করেন গড়পরতা পপ কিন্তু জীবনযাত্রায় আন্ডারগ্রাউন্ড মানে অনুশাসনের ভাঙচূড়রে বেইচা বিখ্যাত হয়। রিহানা ৮০'র জ্যানেট জ্যাকসনের মতোন পোশাকে বার্বাডিয়ান ধরনে গান গাইয়া ভক্তকূল তৈরী করে। আর মিডিয়ার তাতে পোয়া বারো হয়। একই পাতায় তারা লেডি গাগার আনইউজ্যুয়াল পোশাক আর রিহানার ক্যারিবিয়ান নাচের মূদ্রা বেচে অধিক সংখ্যক পাঠকের-শ্রোতার বা দর্শকের কাছে।
আবার বিকল্পটাও তৈরী হইতে থাকে এরা উচ্চাসনে সমাসীন থাকতে থাকতেই। ব্যবসা হিসাবে মিডিয়া অনিশ্চয়তারে একদম রীতি হিসাবে রাখে না। তারা কাল্ট তৈরীর পেছনে যা যা করতে হয় তা তা করতে থাকে অবিরত। একটা গান রেকর্ডিঙে যতো খরচ হয় তার বিশগুণ হয়তো প্রচারণা ব্যয় হিসাবে নির্ধারিত থাকে। যেই প্রচারণায় লেডি গাগার চুল পড়াটাও সংবাদ হয়, তার স্টাইল কিম্বা ট্রেন্ডস যখন ভবিষ্যতের দিক নির্দেশনারে উন্মূক্ত রাখে, একই সময় রিহানারে বিক্রির জন্য পুরানা ঘরাণার মিউজিক রিমেইকের প্রতি আগ্রহ তৈরী করা হয়। এমনকি সেক্স অ্যাপিলেও রিহানার ধরণটা বেশ আশির দশকীয় মেজাজ তৈরী করে। তবে এইসব প্রচারণায় একটা ব্যাপার বেশ লক্ষ্যনীয় সেক্স সর্ম্পকীত মানুষের ধারণারেই পুঁজি কইরা গাগা কিম্বা রিহানার পোশাকের ধরণ, স্টেইজে কোরিওগ্রাফ ঠিক করা হয়। পাশের বাড়ির মেয়ের ইমেইজে অ্যাভ্রিল লেইভিন কিম্বা পার্টি ড্রেসের মারাইয়া ক্যারির পারফরম্যান্সরে এখন আর বিক্রী করা সম্ভব না। তারে ভাইঙ্গা দিয়া নতুন সেন্সুয়াস প্রেজেন্টেশনে সামাজিক মূল্যবোধের রিহানারে পরানো হয় পৃথিবীর সবচাইতে ছোট সাইজের শর্টস। লেডি গাগার কথাতো বলাই বাহুল্য।
যাই হোক যেইখানে শুরু করছিলাম, সেলিব্রিটির জীবন বড় কঠিন। মানে এই কাঠিন্যটুক না থাকলে আসলে সেলিব্রিটি হইয়া থাকা সম্ভব না এই সময়ে। শিল্পীর জীবনযাত্রা এখন যতোটা না তার নিজের জীবনের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তার চাইতে অনেক বেশি দর্শকরে কি দেখাইলে বিক্রির নিশ্চয়তা তৈরী হইবো তার উপর নির্ভর করে। লেডি গাগার চুল পড়ার খবরটা তাই মিডিয়া ফলাও কইরা সামনে আনে। এর মধ্য দিয়া তার শ্রোতাগো মনে করাইয়া দেয়া হয় গাগার চুল রঙের আস্তরনে ঢাকা ছিলো। যেই আস্তরনের কারনে বেইসিক বিউটিতে পর্যন্ত ঝামেলা সৃষ্টি হইছে। আইকনের এই কষ্ট স্বীকার আসলে জৈবনিক চর্চা। সঙ্গীতের চাইতে এখন উপস্থিতি অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রারম্ভিক আমলের লেডি গাগা টিপিক্যাল আমেরিকান টুকে জমানার আন্ডারগ্রাউন্ড কালচারে ওরাল সেক্স নিয়া লিরিক লিখছে...পরবর্তীতে তার অ্যালবামে শরীরি আহ্বান থাকলেও প্যান আমেরিকান কালচারাল এক্সপ্রেশনও বেশ গুরুত্ব নিয়াই হাজির হইছে। গাগা'র নিজস্ব ভাষ্যটা দিয়া লেখাটা শেষ করি, সে যখন গান লিখতে থাকে তখন তার মাথায় স্টেইজে তার পোশাক, মেইকআপ, কোরিওগ্রাফ কিম্বা ড্রামাটিক পরিবর্তনগুলির ইমেইজও খেলা করতে থাকে যার টানে দর্শক তার শরীর জিহ্বা দিয়া চেটেপুটে খাওনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে...





এ কথাটি আমি বললে আমাদের বাসার সবাই রাগ করে। মানুষের জন্মস্থান আসলে মানুষকে আলাদা করে ফেলে। কর্মটা ঠিক না। আমি মধ্যবিত্তের ঘরে জন্মাইছি বিধায় প্লেনে করে বিদেশে কাজ করতে এসেছি। সারা বছর কাজ করি তারপর বছরে একবার দেশে ছুটি যাই। সারা বছর আমার পরিবারের সবার জন্য উপহার কিনি, জমাই। আমাদের বাসায় সে মেয়েটা সাহায্য করে সে গরীবের ঘরে জন্মাইছে বলে লঞ্চে করে ঢাকা আসছে, সারা বছর সেও কাজ করে, বছরে একবার বাড়িতে যায় একমাস ছুটি কাটে। সারাবছর তার বেতনের টাকা দিয়ে তার পরিবারের জন্য উপহার কিনে। পার্থক্য কোথায়? দৃষ্টিভঙ্গীতে আর কোথাও না। সকলি গরল ভেল
আপনের রিয়েলাইজেশনটা একটু বেশি সরল বইলা মনে হইলো আমার কাছে। পুঁজিবাদি একটা রাষ্ট্রে কেবল জন্মগ্রহণের দায় দিয়া শ্রেণী বৈষম্যের বিষয়টারে ব্যখ্যা করা যায় না। এইখানে বড় পুঁজি ছোটো পুঁজিরে গিলা ফেলে। এইখানে অনৈতিক ব্যবসা কইরা হঠাৎ বড়লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেছে। এইখানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ তার চূড়ান্তমাত্রা ধারণ করছে, যার সুযোগ কাজে লাগাইয়াও অনেকে টাকা কামাইতেছে।
তবে ক্রোমোজোমের কারনে নারী হিসাবে কিছু কমন ফেনোমেননতো অবভিয়াসলি থাকে। আর পুরুষশাসিত সমাজে সব নারীই পুরুষের বাইন্ধা দেয়া মান অনুযায়ীই চলে। শিক্ষিত শহুইরারা হয়তো কিছুটা স্বাধীনতা ভোগ করে...কিন্তু আপাতঃ অর্থে পুরুষের রুচীর বাইরে নারী খুবেকটা যাওনের চিন্তা করে না।
ভাস্করদা, অনেক ছাঁকার পর যেটা পরে থাকে সেটা খুবই সাধারণ সরল জিনিস। ভেবে দেখেন ঘুম না আসা কোন রাতে
বিশ্লেষণী লেখা ভালো লাগল। যদিও আমি এখন ইংরেজি পপ শুনিনা। লেডি গাগা শোনার চেষ্টা করছিলাম। মজা পাই নাই।
লেডি গাগা আমি জীবনে একবার শুনছি...ঐ পপ সঙ্গীত শুইনা আমার ভালো লাগে নাই...তবে রিহানার দুই তিনটা গান ভালো লাগছিলো...ঐটাও আমার পছন্দের ঘরানা না হওয়াতে অনেক মনোযোগ দিয়া শুনি নাই...
রিহানার নাম এই প্রথম শুনলাম! বয়স হইয়া গেল।
লেডি গাগার চাইতে রিহানা শতগুণে ভালো...
সেলিব্রিটিদের আলাদা ইমেজ তৈরি করাটা আসলে নতুন কিছুনা। আমাদের রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত আলখাল্লা পড়ে ইমেজ তৈরী করে ফেলসিলেন।
রবীন্দ্রনাথ আলখাল্লা পরতে শুরু করছিলেন রবীন্দ্রনাথ হওনের পর। আইডেন্টিটি তৈরীর এই প্রক্রিয়াটা খারাপ না। কিন্তু পশ্চিমে সব যেনো ডব্লিউডব্লিউএফ'এর মতোন চলে, একজন নতুন সেলিব্রিটি তৈরী করা হয় পাতানো খেলার মতোন কইরা। হয়তো পুরা সেনারিওটা এমন না...ঐখানেও এখনো অল্টারনেটিভ ব্যান্ডগুলি আছে যারা প্রথমে গান তারপর ভাব বা আইডেন্টিটি এই নিয়মে বাজায়।
তবে পুঁজির বেইসিক চরিত্র'ই এমন...দিন দিন বিষয়টা বেশি দৃষ্টিকটু হইতেছে কেবল।
যারা নিজেদের পন্য হিসাবে উপস্থাপন করেনা তাদের নিয়ে মিডিয়ার মাথাব্যাথাও কম থাকে। ব্রুকলিনের শিল্পী, আমার ধারনা, এই সময়ের সবচেয়ে প্রতিভাবানদের একজন, কেলি ম্যাকরে, তার নাম কেউই জানেনা, অথচ অসাধারন গান গায় সে। আর এদিকে চলে লেডি গাগার আগা-পাশতলা নিয়ে মিডিয়ার বিস্তর আলাপ।
আগে একটা প্রজন্মে একটা আইকন তৈরী হইতো...আর এখন মিডিয়া একইসময়ে মাল্টিপল আইকন তৈরী করে, ব্যবসার জন্য। রিহান্না তার বৌ পিটানো জামাই ক্রিস ব্রাউনের কাছে ফেরত যাইতেছে ক্যান এইটা নিয়া দেখলাম মিডিয়াতে চরম আলোচনা চলতেছে...তয় কিছুক্ষণ কয়েকটা নিউজে ঘোরাঘুরি করতেই মনে হইলো এই ফেরত যাওয়াটাও মিডিয়ার কারসাজি হইতে পারে। কারণ রোলিঙ স্টোন ম্যাগাজিনের কাভার গার্ল হওয়ার জন্য সে দুইটা স্টান্ট করছে ১. ক্রিস ব্রাউনের তথ্যটা দেওয়া আর ২. পৃথিবীর সবচাইতে ছোট ডিজাইন্ড শর্টস পরা। ঐ শর্টস নাকি আবার পরার পর ডিজাইন কইরা ছেড়া হইছে...
কেলি ম্যাকরের জনি ক্যাশ ভালোই লাগলো...অন্তত গা ভাসানো গান না।
লেডি গাগা শুনি নাই। যাই হোক,আপনার বিশ্লেষণী লেখা ভালো লাগল।
আমারো মাত্র চব্বিশ বছর বয়সে চুলগুলোর আত্মহত্যার মিছিল চলছে
মিউজিক লিসনার হিসাবে হয়তো লেডি গাগার গান শোনাটা খুব নেসেসারি না। এর প্রথম কারণ হইলো সে কেবল গান গায় না, তার স্টেইজ পারফরম্যান্সটাও দেখতে হয়, নাইলে ঐ গান যেকোনো ইংরেজী গান গাওয়া ফিমেইল ভোকালিস্টের মতোন। আর মার্কিনী মিউজিক স্কুলে নতুন যূক্ত হওয়া পপ রকের মান ইজ্জত যতোটুক ছিলো গাগা সেইটুকও শেষ কইরা দিছে। তৃতীয়তঃ লেডি গাগা আসলে আশির দশকের চার পাঁচজন জনপ্রিয় ঘরানার সিঙ্গারের একটা কম্পোজিট মাল বাইর করে। আশির মতোন কইরাই হয়তো সে কয় সেক্স-ড্রাগ এন্ড পপ রক।
আপনেও কি চুলে রঙ মাখেন নাকি গাগার মতোন?
চমৎকার একটা লেখা পড়লাম...
গাগা নাম শুইনাই তার গান শোনার বা দেখার কোনো আগ্রহ হয় নাই কখনো।
মন্তব্য করুন