পুনম পাণ্ডের শরীর আর সোসাইটির পুরুষালী ক্রিকেট চর্চা...
এক.
ভারতে একসময় পুরোহিতগো মনোরঞ্জনের লেইগা সেবাদাসী থাকতো। প্রার্থনালয়গুলিতে এইসব নারীরা বাস্তবিক উৎসর্গীত হইতো ঈশ্বরের উদ্দেশে। পুরুষ শাসিত সমাজ এমনই প্রবঞ্চনার গল্প লিখছে নারীর জন্য। পুরোহিত ব্রাহ্মণরা অবলা নারীগো সামনে ঈশ্বরের প্রতিনিধির মতোন দাঁড়াইতো, ব্রাহ্মণের কাছে সমর্পিত হয় যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর টাইপ কনসেপচ্যূয়াল একটা স্টেইট তৈরী কইরা ম্যানিপ্যুলেশান চলতো দিনের পর দিন। এইসব নারীরা যখন মনোরঞ্জনের সামর্থ্য হারাইতো তখন আর তাদের স্থান হইতো না ঐ মন্দিরে, তারা তীর্থস্থানে গিয়া অনিশ্চিত অপেক্ষা শুরু করতো আসল ঈশ্বরের নিকটবর্তী হওনের।
এমনকি বাংলাদেশের যশোর জেলায় এখনো এমন একটা প্লেইস আছে, যেইখানে নারীরা পবিত্র সাদা শাড়ি পইরা ধর্মীয় মন্দিরের সেবায়েৎ হয়। যদিও বৃটিশ শাসনকালে সমর্পিত নারীগো এই স্থান রেড লাইট এরিয়া হিসাবে স্বীকৃত হইয়া গেছে। মনিহার সিনেমা হলের নিকটবর্তী মায়ামন্দির নামের এই রেজিস্টার্ড নিষিদ্ধ এলাকা (হ্যা জায়গাটার সামনে প্রায় শত বৎসর পুরনো একটা সাইনবোর্ড এখনো ঝুলানো আছে) আজ কেবল মন্দিরের পুরোহিত নয়, তাবৎ পুরুষ জাতিরে মূদ্রার বিনিময়ে মনোরঞ্জিত করনের জন্য নিবেদিত।
দুই.
বহুকাল আগে ল্যুইস মরগ্যান নামের এক আমেরিকান ভদ্রলোকের সমাজ সভ্যতার ইতিহাস নিয়া লেখা একটা বই পড়ছিলাম। তার বইতে লেখা ছিলো মানব ইতিহাস সূচীত হইছিলো আদিম সাম্যবাদী সমাজ ব্যবস্থার মধ্য দিয়া। বেদুঈন মানবেরা ধীরে ধীরে থিতু হইলো, আগুণ আবিস্কৃত হইলো, কৃষি কাজ আর পশু পালনের মধ্য দিয়া মানুষ গোত্রভূক্ত হইলো। তখন নাকি মাতৃতান্ত্রিক সমাজের পত্তন হইলো। তবে এইসব গোত্রগুলি যখন প্রজননের প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারলো তখন নারীদের উৎপাদন প্রক্রিয়া থেইকা প্রত্যাহার করা হইলো, তাদের ঠিকানা হইতে শুরু করলো অন্দরমহল। আমি ঠিক নিশ্চিত কইরা জানি না, এমনকি মরগ্যান সাহেবের পক্ষেও নিশ্চিত জানাটা সম্ভব হয় নাই এই কথিত মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থায় গোত্রপতি কোন জেন্ডারের হইতো বা এই গোত্রনেতা নির্বাচনের প্রসেসটা কি ছিলো। এই সিদ্ধান্ত কি নারীদের আওতাধীন ছিলো!? ফ্রেদেরিক এঙ্গেলসের The Origin of the Family, Private Property and the State বইয়ের প্রথম প্রকাশের প্রিফেইসে এঙ্গেলস বলছিলেন
According to the materialistic conception, the determining factor in history is, in the final instance, the production and reproduction of the immediate essentials of life.
বস্তুবাদি ধারণা অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত ইতিহাসের নির্ধারক বিষয় হলো উৎপাদন আর পূণরুৎপাদন।
যদিও ধারণা করা হয় পরিবার প্রথা সেইটা যেই ফর্মেই হোক না কেনো নারী বা মাতা'ই ছিলো সন্তানের আত্মীয়তার সূত্র চিহ্নিত করনের মাধ্যম। এইটারে বাকোফেন যদিও বলতেছিলেন "মাতৃ অধিকারবোধ", এঙ্গেলস সেইটারে বাতিল কইরা দেন কারণ সেই আদিম গোত্রভূক্ত সময়ে ব্যক্তির অধিকার চর্চার বিষয়টা একটু বেশি কষ্ট কল্পিত হইয়া যায়। তখনো মানব জাতির মাঝে ভাষার উদ্ভব ঘটার কথা না। তখনো সম্পর্কের রাজনীতির কোনো চূড়ান্ত রেখা টানা হয় নাই বইলা ধারণা করা হয়। তবু সন্তানের পরিচিতির বিষয়টা গুরুত্বপূর্ন হইয়া উঠে নারীর গর্ভ ধারণ প্রক্রিয়ার জন্য। এই সিদ্ধান্তসমূহের ব্যুৎপত্তি কোথায় সেইটা হয়তো বা কখনো সভ্য মানুষের জানা হবে না; অতীত পরিভ্রমণের বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনা যদি কখনো বাস্তব হয় তখনি কেবল পুরুষ আর নারীর প্রারম্ভিক সম্পর্ককেন্দ্রীক বিবেচনাগুলি করা সম্ভব হইতে পারে।
তিন.
নৃ-তাত্ত্বিক আইনুন নাহারের সাথে কথা বলতেছিলাম। প্রথাগত ধারণায় আদিবাসীদের মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কাঠামো নিয়া জানতে চাইলাম। তিনি আমার দিকে বেশ সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকাইলেন, নিজের বুদ্ধি বিবেচনা নিয়া সংশয় তৈরী হইয়া গেলো এক চাহনীতেই। যদিও জানা ছিলো পোস্ট স্ট্রাকচারাল ডিসকোর্সে মরগ্যান সাহেব বাতিল হইয়া গেছেন বেশ কিছুদিন আগেই। আদিম সাম্যবাদী সমাজ কাঠামো শিরোনামটারে হেয়বাদী চেতনায় রীতিমতো বালখিল্য চিন্তাকাঠামো ভাবতেও পিছ পা হয় না উত্তরাধুনিক যূগের সমাজতাত্ত্বিকরা। কিন্তু বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকার অধিকাংশ আদিবাসী কৌমকেন্দ্রীক পরিবারগুলিতো এখনো মাতৃতান্ত্রিককায় পরিচালিত হয় বইলাই জানতাম। আর তাই শূন্য দৃষ্টি নিয়া আমিও আইনুন আপার দিকে তাকাইলাম। তিনি কইলেন মাতৃতান্ত্রিক পরিবার কখনো যে ছিলো না সেইটা নিয়া এই যূগে প্রায় সকল থিয়োরেটিশিয়ান নিশ্চিত, পার্বত্য এলাকাগুলিতে যেই ধরনের সম্পর্কের কাঠামো এখনো চর্চিত হয় সেইটারে বড়জোর মাতৃবর্তী বলা যাইতে পারে। এখনো এমন পরিবারের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব পুরুষেরই থাকে, নারীর থাকে কেবল জুম্ম চাষের দায়, সন্তান প্রতিপালনের দায়, রান্নাবান্নার দায়। আইনুন নাহার তার মাস্টার্সের থিসিস করছিলেন পার্বত্য এলাকায় আদিবাসী বা পাহাড়ি সমাজ কাঠামোয় নারী নির্যাতনের বাস্তবতা নিয়া।
আইনুন আপারা একটা আন্তর্জাতিক অ্যাক্টিভিজমের সাথে যূক্ত। এই অ্যাক্টিভিস্ট সমাজতাত্ত্বিকদের দাবী মানব সভ্যতার ইতিহাসে কখনোই গোত্র কিম্বা পরিবার কাঠামোয় মাতৃতান্ত্রিকতা ছিলো না। দায়বদ্ধ নারী আজীবনই পুরুষের আধিপত্যেই পরিচালিত হইছে, এখনো হইতেছে। ক্ষমতার লাঠি ঘোরানোর দায়িত্ব সবসময়ই পুরুষ নিজের হাতে রাখছে। এই কারনেই কেবল উৎপাদন কিম্বা পূণরুৎপাদনেই পুরুষের খবরদারী সীমিত থাকে নাই। সমাজের এমনকি নারীর নিজের রুচীবোধ, আচরণ, কমনীয়তা অথবা শরীরবৃত্তিয় সিদ্ধান্তগুলিও পুরুষ তার নাগালেই তৈরী কইরা দেয়। সম্পর্কের এক অদ্ভুত রাজনীতিতে নারী কেবল তার দেহসৌষ্ঠব সংরক্ষণ করে, কিন্তু শরীরে কেরম বক্রতা থাকলে তারে সৌন্দর্য্য বলা যাইবো, জনারণ্যে শরীরের কোন অংশ উন্মূক্ত রাখন যাইবো আর কোন অংশ দেখাইয়া পুরুষরে আনন্দ দেয়া হইবো এর নীতিমালা পুরুষের কনসেন্টেই তৈরী হয়।
ক্ষমতা চর্চায় পুরুষ বিকাশের শুরুতেই নিজের হাতে ক্ষমতা তুইলা নিছিলো, সেই দায়িত্ব এখনো তার হাতেই। যদিও সভ্যতার এই পর্যায়ে পুরুষ "পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী" হিসাবে নারীকে বিদ্যমানতা থেকে এগিয়ে নিয়ে আসার দায়িত্বটা নেবারও প্রয়োজনবোধ করে। নারী এখন রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হয়, নারী এখন ব্যবসায় বিনিয়োগকারী হয়, নারী কবিতা লেইখা বই প্রকাশ করে, নারী এখন হাফ প্যান্ট পইরা ফুটবল খেলে, ডঃ ইউনুস তার গ্রামীণ প্রকল্পের প্রধান ভারকেন্দ্র হিসাবে বাইছা নিছিলেন শুরুতেই। নারী ছলনাময়ী, নারী কোমলমতি, নারী ঈর্ষায় ভোগে, নারী ঝগড়া করে। এমন হাজারো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আর নারী চরিত্রের আচরণগত বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত হইছে ধীরে ধীরে। এই অগ্রগতির সীমানা নির্ধারণ তবে কে করে? নাকি এর কোনো সীমানা বা শেষ নাই!? নারীরে কেন্দ্র কইরা ভাবনা কিম্বা ফ্যান্টাসীর জাল বিছানোটা পুরুষ বেশ ভালোমতোই সমাধা করতে পারে এখন...এইসব ফ্যান্টাসীগুলিরে চাঙা করতেই নারীর মানদণ্ড তৈরী হয় পুরুষের চিন্তার সমান্তরালে।
পুরুষের ফ্যান্টাসীতে নারীর সেক্স গডেস রূপ তৈরী হয়। আবার পুরুষই নেকাব পরায় নারীর চারপাশ ঘিরা। নারীর অগ্রগতি মানে পুরুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনুসরণ, যেনো তার শরীরের কোনো ভিন্ন রাজনীতি নাই। পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষরে আকর্ষণ করাটাই একজন নারীর প্রধান কর্তব্য হয়। এই আকর্ষণের জন্য নারীরে কখনো খোলাতাই হইতে হয়, কখনো কোমল ছদ্মবেশ চড়াইতে হয়। পুরুষের তার দুর্দমনীয়তার বিপরীতে নারীরে দেখতে চায় রহস্যময়ী, অতএব নারী রহস্যময় হইয়া উঠে। পুরুষের জিগীষার বিপরীতে নারীরে হইতে হয় আবেগী কমপ্যাশনেট।
চার. (ক)
নারীরাও ক্রিকেট খেলে। একসময় তারা গাউন পইরা খেলা শুরু করছিলো, পরবর্তীতে সেইটা স্কার্ট টপসে পরিবর্তীত হয়, এখন পুরুষের মতোনই পাজামা ক্রিকেট হইয়া রঙীন পোশাকে আইসা থামছে। আমি জানি না কতোজন ক্রিকেটভক্ত বাঙালি পুরুষ নারীদের ক্রিকেট নিয়া আগ্রহ দেখান, আমি জানি না নারীদের ক্রিকেট নিয়া ভারতেই কতোটা উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরী হয়। ভারতের ক্রিকেট ঈশ্বর শচীনের নামের পাশাপাশি মিতালী রাজের নাম কয়জনের মনে থাকে!? যদিও এই বাড়তি মনোযোগের দাবী নিয়া আমার নিজের তেমন কোনো আগ্রহ নাই। পুরুষ ক্রিকেট নিয়া আলোড়িত নিয়মকানুন জানা নারীটাও কি খবর রাখে মহিলা ক্রিকেট বিশ্বকাপ কবে হয় বা সেইখানে কোন কোন দল খেলে?
নারী সমর্থকদের নারীদের খেলাতে মনোযোগ দিতে হইবো ডেটা মুখস্ত রাখতে হইবো এই চাওয়াটাতেও মেইল শভিনিস্ট অ্যাপ্রোচ থাকনের সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু পুরুষের ক্রিকেটে নারীগো আগ্রহের কারণগুলি নিয়া যদি ভাবা যায় তাইলে কি দেখা যায়। আমার এই বিষয়ক কোনো গবেষণার তথ্য জানা নাই, কিন্তু অভিজ্ঞতা আর পরিচিত গণ্ডীর নারীদের এক্সপ্রেশনগুলিরে বিবেচনায় নিয়া যদি বিচার করা যায় তাইলে আমরা কি পাই?
এইবারের ওয়ার্ল্ড কাপে তিনটা খেলা স্টেডিয়ামে গিয়া দেখার অভিজ্ঞতা মিলানোর চেষ্টা করা যাইতে পারে, পাকিস্তান বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলার দিন শরীরের উন্মূক্ত ত্বকে আফ্রিদির নাম লেইখা সমর্থন করতে দেখছি অধিকাংশ নারী সমর্থকদের। এই বিশ্বকাপে আফ্রিদি সামনে থেইকা লিড করছে দলরে যদিও বাংলাদেশের দর্শকরা তার বোলার পরিচিতির চাইতে হার্ড হিটার ব্যাটসম্যান পরিচয়টারে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশ্বকাপে তার ব্যাটিং ফর্ম বেশ কিছুদিন ধইরাই খারাপ যাইতেছে...কিন্তু আমার মনে পড়ে মাত্র কৈশোর পার হওয়া আফ্রিদিরে উদ্দেশ্য কইরা একটা ফেস্টুন নিয়া স্টেডিয়ামে গেছিলো, যেইখানে লেখা ছিলো, ম্যারি মি আফ্রিদি। একসময় পাকিস্তান দলে সুদর্শন ক্রিকেটারের ভীড় ছিলো, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলে নতুন আসা তরুণরা ঠিক খুবসুরৎ ক্যাটেগরিতে পড়ে না। ইফেক্টিভ ক্রিকেটার আব্দুল রাজ্জাক নারী সমর্থকদের মধ্যে তেমন একটা জনপ্রিয় না, প্রয়োজনীয় ব্যাটসম্যান মিসবাউল হকের গ্রহণযোগ্যতাও খুবেকটা বেশি নয়...তাদের অনাকর্ষক চেহারা কি এর জন্য কিছুটা দায়ী?
সুন্দর চেহারা আর সৌষ্ঠবরে একজন খেলোয়াড়ের বড় যোগ্যতার মাপকাঠি হিসাবে বিবেচনাটা টের পাওয়া যায়, অন্ততঃ আমাদের দেশের অনেক নারী সমর্থকদের কাছে। এই মানদণ্ড নির্ধারনের প্রবণতাটা অনেক নারীসূলভ, মানে ঠিক একজন পুরুষ যেই নারী সুলভ আচরণ পছন্দ করে। নারীর ধর্ম হইতেছে বিজয়ী বীর পুরুষের পদসেবা। এই মানসিক কাঠামো এখন আর শেখানোর প্রয়োজন পড়ে না, কন্যা অনুসরণ করে জননীরে, অথবা চুপচাপ ছাত্রীটি অনুকরণ করতে চায় প্রগলভ নারী ছাত্রীটারে, এভাবেই ছড়ায়।
চার. (খ)
ভারতীয় দলে নায়কোচিত চেহারার খেলোয়াড় তেমন নাই, তবু তারা ভারতীয় নারীদের কাছে জাতীয় বীরের মর্যাদা পায়। এবারের সেমি ফাইনালে পাকিস্তান ক্রিকেট দলরে মোটামুটি হাইসা খেইলা হারানের পর বর্তমান বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরীর সেঞ্চুরী, টূর্নামেন্টে সেরা ভারতীয় খেলোয়াড় যূবরাজ সিং'এর পারফরম্যান্স কিম্বা সেওয়াগের তাণ্ডবের সম্ভাবনার খবরগুলির পাশাপাশি আরেকটা খবর খুঁইজা পাইলো মিডিয়া, ভারতের উঠতি এক সদ্য কৈশোরোত্তীর্ণ মডেল পুনম পাণ্ডে ঘোষণা দিয়া বসলো, ভারত যদি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় তাইলে সে দলের খেলোয়াড়গো সামনে নগ্ন হইবো। অর্থাৎ তার দেহ বল্লরী দেখাইয়া দেখন সুখ দিবো ক্রিকেটারগো। নারীর নগ্নতা যেহেতু পুরুষের কাছে একান্ত ব্যক্তিগত একটা অনুভূতি, তাই আমাগো দেশের পুরুষগো মাঝেও বিষয়টা বেশ আলোড়ন তুললো। অনেকে হয়তো পুনম পাণ্ডের নগ্ন দেহ নিয়া ফ্যান্টাসাইজ করতেও শুরু করছে, কিন্তু বাস্তবতাটা আসলে কি?
একজন ক্রিকেট সমর্থক নারী একদল জাতীয় বীরের সামনে নিজের শরীর প্রদর্শন করবো। এইটা একেবারে নতুন বিষয়ও না। এর আগে প্যারাগুয়ান এক মডেল তাদের ফুটবল দলের সামনে ঠিক এমনি প্রতিশ্রুতি দিছিলো। কিন্তু এই প্রবণতাটা আসলে এই সমাজ নারীর জন্য যেই দায়িত্ব ঠিক কইরা দিছে তারই একটা অল্টারনেটিভ অথবা আরো ক্রুঢ় প্রকাশ। নারীর শরীরটারে দেওয়া হইছে গুপ্তধনের মর্যাদা...যারে রক্ষা করতে হইবো যক্ষের ধনের মতোই। জাতীয়তাবাদী ভালোবাসায় পুনম পাণ্ডে তার সেই ধন উন্মুক্ত করতে চাইছে একদল অপরিচিত অথচ আকাঙ্খিত পুরুষের সামনে...যেই পুরুষরা হয়তো তার নগ্ন দেহ দেইখা উত্তেজিত হইতো। এই উত্তেজনার প্রশমনের জন্য তারা হয়তো পুনমরে কল্পনায় উপভোগ করতো, কারণ পুরুষরাই আবার সেক্স বিষয়টারে সভ্যতার সাথে সাথে ভব্যতার আবরণ বা আভরণ পরাইছে। এই আবরণ গোপনীয়তার। ভারত বইলাই হয়তো এইরম গোপনীয়তার চর্চা এখনো হয়। পুঁজিবাদে বিকশিত দেশগুলিতে এখন সেক্স আর দূর্লভ না। ভারতীয় পুরুষের পৌরুষ প্র্যাক্টিসে খুব বেশিদিন হয় নাই অর্থ-বিত্তের প্রভাব পড়ছে।
শেষ পর্যন্ত পুনমরে ক্রিকেটারদের সামনে নগ্ন দেহ প্রদর্শনের জন্য অনুমতি দেওয়া হয় নাই...অন্য পুরুষদের কাছে পুনমের এই প্রচেষ্টা একজন নারীর আচরণ হিসাবে বাড়াবাড়ি মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক।





ভাস্করদা, লেখা ভাল লেগেছে এজ ইউজুয়াল।
লেখাটার সাথে সরাসরি প্রাসংগিক না হয়ত, কিন্তু নারী-পুরুষের এই বিষয়টাকে কি অর্থনৈতিক উপযোগ বা প্রাকৃতিক ড্রাইভ এই দৃষ্টিভংগী থেকে দেখা যায়না?
যেমন ধরেন পুনম পান্ডে যদি স্বেচ্ছায় নগ্ন হয়ে হয়ে মানসিক উপযোগ (য়ুটিলিটি) পায়, তাতে পুরুষতান্ত্রিকতার কি আছে? সেটা তার অধিকার না? আবার একজন নারী যদি নিজেকে ঢেকে মানসিক উপযোগ পায় সেটাও তার অধিকার না? নারী তো প্রকৃতিগতভাবেই নিজেকে আকর্ষনীয় করতে চাইবে পুরুষদের জন্য, পুরুষরা চাইবে নারীদেরকে আকর্ষণ করতে। তাই পুরুষের ডিমান্ড অনুসারে সে সেসব কোয়ালিটিই বা পণ্যই প্রেজেন্ট করবে যেটা পুরুষের কাছে চাহিদা আছে, তাই তার কমনীয় হওয়া, নিজেকে ঢেকে রাখা বা সামাণ্য দেহ খুলে পুরুষকে টিজ করা এসবই তো একধরণের মার্কেটিং টেকনিক, এবং প্রকৃতির খেয়ালেই কি এসব নয়? প্রাণীজগতেও কি এক লিংগ অন্য লিংগকে আকর্ষন করার চেষ্টা করেনা? একইভাবে পুরুষও নিজেকে বিপরীতলিংগের আকর্ষনবস্তু বানানোর জন্য কত রিস্ক নেয়, কেউ বীরপুরুষ হতে চায়, কেউ স্পোর্টসম্যান হয়, কেউ অর্থনৈতিক সফলতা চায়, কেউ জিমে গিয়ে ভারী ওজন নিয়ে নিজেকে এথলিটিক বানাতে চায়। এসবকি শুধু পুরুষতান্ত্রিকতা বা নারীতান্ত্রিকতা? নাকি এসব নিতান্তই প্রাকৃতিক?
কইতেছেন মার্কেটিং টেকনিক আবার বিষয়টার সাথে প্রকৃতির খেয়াল বিষয়টারে ইনভল্ভ করতেছেন...এই দুইটা বিষয় একটু কনফ্লিক্টিং হয় না?
আর আমি নারী বা পুরুষের মাঝে সম্পর্কের যেই রাজনীতি এইটারে প্রকৃতিগত বিষয় মনে করি না। কারণটা খুব সহজ, কোনো মেয়ে, ধরেন একজন পুনম পাণ্ডে হিরো ওয়রশীপ করে, এইটার ব্যখ্যা আমরা দিলাম যে প্রকৃতিগত ভাবেই একজন নারী আরেকজন সমর্থ্য পুরুষের প্রতি অনুরাগ বোধ করে। আবার এই সমাজে আমি অনেক না হইলেও বেশ কিছু নারীরে দেখছি যারা প্রকৃতিগত ভাবে অন্য রকম আকর্ষণ বোধ করে...এখন আপনে কি কইবেন প্রকৃতির (?) এই বৈষম্য প্রবণ আচরণরে? এই বিবেচনা কি আপনেরে বা প্রকৃতির উপর আস্থাশীলগো রেসিস্ট বানাইয়া দেয় না!?
তবে শরীরের একটা চাহিদার রাজনীতি আছে, ঐটারে আমি নেগেইট করতেছি না। এই চাহিদার স্বাধীনতা যে কোনো মানুষের আছে বা থাকা দরকার। শভিনিস্ট অ্যাপ্রোচে যখন সেইটা নিয়ন্ত্রিত হয় তখন ঝামেলা বাঁধে। পুনম পাণ্ডে জানে একজন পুরুষের জন্য তার নগ্ন দেহ দেখানোটা অনেক চিত্তাকর্ষক আইডিয়া হওনের সম্ভাবনা থাকে। এইখানে পুনম পাণ্ডের শরীরের কোনো ভূমিকা নাই...আমি নিশ্চয়ই ভাবুম না ১৫ জন খেলোয়াড়ের সামনে নগ্ন দাঁড়াইয়া সে তার শরীরের ক্ষুধা (?) মিটাইবো। পুরুষের কাছে নারীর নগ্ন শরীর আরাধ্য বাস্তবতা...পুরুষতন্ত্র এই চিন্তাটারে প্রোমোট করে। সোসাইটির পুরুষরা এই বাস্তবতারে আরো ফ্যান্টাসাইজ করতে করতে বড় হয় আর নারীরা ঐ চিন্তার এক্সিকিউশনে তাদেরো ভূমিকা থাকবো এই রিয়ালিটি মাথায় নিয়া বড় হয়। হাজার হাজার বছরের পুরুষতন্ত্রের আধিপত্যে আসলে নারীও পুরুষরে দেখছে পুরুষের চোখেই...যেই নারী পুরুষের পছন্দমতো চলে না তারে কি কওয়া যায়? ঐটা কি একরকম অসুস্থ্যতা? প্রকৃতিগত হইলেতো ঐটা নিয়মের ব্যত্যয়!
পুরুষতন্ত্র যদি কোনো মতাদর্শিক অবস্থান হইতো তাইলে ঐটা নিয়া বিরোধ থাকতো কিন্তু বিদ্বেষ থাকতো না। পুরুষের যেই দিগ্বিজয়ী হওয়ার বাসনা, তার পৌরুষের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়ার যেই আকাঙ্খা, পৌরুষের প্রকাশ দিয়া সে চায় অন্যগো অধীনস্ত করতে (এমনকি নারীদেরো) আবার ঐটাই নাকি নারীর কাঙ্খিত ভালোবাসা। এইটা কন্ট্রাডিক্টরী লাগে না আপনের কাছে?
এইটা সম্ভবত স্টান্টবাজী ছাড়া আর কিছু না। পুরুষতন্ত্র নারীতন্ত্র কিছুই না, পুনম পাণ্ডের নামটা এখন কোটি কোটি লোকে জানে এইটাই হইলো ঘটনা। মডেল হিসাবে নিজের নাম দাম বাড়ায়া নিলো বিশ্বকাপরে উপলক্ষ্য কইরা
নতুন একটা ভিডিও ক্লিপস-এর নাম দেখলাম ক্যারিয়ার। পুনম পান্ডেও তাই করছে।
পুরুষতন্ত্রে নারী পণ্য হয়...সে শৈশব থেইকাই বুঝতে শিখে তার বাজার কাটতি বাড়াইতে দেহ সৌষ্ঠবে পুরুষের পছন্দানুযায়ী কার্ভ আর কমনীয়তা তৈরী করতে হইবো। পুনম পাণ্ডেও তাই করছে। এই স্টান্টবাজী পুরুষশাসিত সমাজে তার ডিমান্ড বাড়াইবো এইটা সরল আর বাস্তবানুগ কৌশল...
১. আদিম সমাজ সাম্যবাদী!!! সার্টেনলি নট।
২. আইনুন নাহারের থিসিসের বিষয়টা দারুন।
৩. আ্যাসিরীয় রা নারীদের প্রথম পর্দা কারনো শুরু করে।
ওভারঅল লেখার বক্তব্যের সাথে একমত।
১.আদিম সাম্যবাদী সমাজের কনসেপ্টটা ল্যুইস মরগ্যানের ছিলো। কার্ল মার্ক্স ঐটারে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ দিয়া ডিফাইন করছিলেন। তয় মার্ক্সের কিম্বা এঙ্গেলসের ব্যখ্যায় ঐ সাম্যবাদ বিষয়টা আসছিলো কারণ তখনো সম্পর্কের রাজনীতি নিয়া তেমন আলোচনা শুরু হয় নাই। ল্যুইস মরগ্যান একজন আমেরিকান ইতিহাসবেত্তা ছিলেন।
২.আইনুন আপার থিসিসের ফাইন্ডিংটাও ভালো ছিলো।
৩.পর্দা করনের বিষয়টা একেবারেই সেমেটিক একটা ঘটনা। আপনের এইটা লিখলে বেশ ভালো লাগতো।
৪.ধন্যবাদ।
ওভারঅল লেখার বক্তব্যের সাথে একমত।
এইটা সম্ভবত স্টান্টবাজী ছাড়া আর কিছু না। পুরুষতন্ত্র নারীতন্ত্র কিছুই না, পুনম পাণ্ডের নামটা এখন কোটি কোটি লোকে জানে এইটাই হইলো ঘটনা। মডেল হিসাবে নিজের নাম দাম বাড়ায়া নিলো বিশ্বকাপরে উপলক্ষ্য কইরা
স্টান্টবাজীটার সুযোগ তৈরী হওয়া অথবা স্টান্টবাজীটা মার্কেটিং কৌশল হিসাবে কাজে দেওনের যেই সামাজিক সূত্র সেইটা পুরুষতান্ত্রিকতার অবশেষ থেইকাই তৈরী হয়। নারীর শরীর দেখানোটা আমার আপনের কাছে মূল্যবোধের ব্যত্যয় লাগে বইলা হয়তো আমরা চমকিত হই...
স্টান্টবাজীটারে আপনের কাছে কেনো পুরুষতন্ত্র বইলা মনে হয় না এই বিষয়ে জানতে আগ্রহ হইতেছে...
পহেলা বৈশাখের পর আইমিন মে মাসে ফিরে আসবো ব্লগে, তখন লিখবো। আপনের মতো সিরিজ খেলাপীরে ওয়াদা দিলাম
মন্তব্য করুন