ইউজার লগইন

যৌনতার ইতিহাস আর কিছু যৌনসর্ম্পকের ভিডিও বিষয়ক আলোচনা...

সূচনা:

যদিও পূণরুৎপাদনের বিষয়টা একেবারেই সামাজিক একটা দৃষ্টিভঙ্গীতেই শুরু হইছিলো বইলা সমাজবিজ্ঞানীরা দাবী করেন। যৌন সম্পর্কের বিষয়টা কিন্তু তাদের কাছেই একদম ব্যক্তিগত একটা বিষয়। যৌন সম্পর্কের সাথে সবসময় প্রজনণ প্রাসঙ্গিক না বইলা এইখানে ব্যক্তিগত আনন্দ কিম্বা পরিতৃপ্তির আকাঙ্খাও যূক্ত থাকে। আমার জানা নাই পোশাক প্রথার শুরু হইলো কবে, মানুষের শরীর ঢাকার প্রয়োজন কেনো তৈরী হইলো। ইসলাম ধর্মে পর্দা প্রথার শুরু কেমনে শুরু হইলো তার একটা ব্যখ্যাই কেবল আমার শোনা আছে। হযরত মুহাম্মদ একবার তার সাহাবাদের দৃষ্টিভঙ্গী আর আলোচনায় বিবি আয়েশার শারীরবৃত্তীয় প্রসঙ্গ শুনতে পাইয়া একটু বিব্রত হইলেন। আর সেই রাইতেই নাজিল হইলো পর্দা প্রথা বিষয়ক বিধান। আমি জানি না এই তাফসীর কদ্দূর সত্য, কিন্তু ইসলাম ধর্মে যৌনতার পরিধী ছোট কইরা নিয়া আসনের কারণ ছিলো পারিবারিক উপলব্ধি। ঠিক যৌনতার পরিধী ছোট কইরা আনা যদিও হয় নাই, যৌনতার সাথে নৈতিকতার বিভিন্ন শর্ত আর দৃষ্টিভঙ্গীরে যূক্ত কইরা দেয়া হইছিলো ইসলামে।

সেমেটিক ধর্মগুলিতে যৌনতারে সবসময়েই একটা নৈতিক আওতার মধ্যে নিয়া আসনের তাগীদ ছিলো। এই সকল নৈতিকতার মূল অ্যাপ্রোচ সভ্যতার সাথে সাথে পরিবর্ধিত হইছে কিছুক্ষেত্রে পাল্টাইছে। কিন্তু এই সকল অ্যাপ্রোচ মূলতঃ সামাজিক প্রসঙ্গ হইছে। যৌনতার সংজ্ঞা কিম্বা এর সীমা পরিসীমা নির্ধারনের ক্ষেত্রে মানুষ আর মানুষের ধর্মসমূহ সামাজিক নৈতিকতারেই গুরুত্ব দিছে। অথচ যৌনতা যে একেবারেই ব্যক্তিগত বিষয়, যেই কারনে তার লুকোছাপা চলে। ব্যক্তিগত বিষয়ের উপর সামাজিক পুলিশিং বা নজর রাখার পদ্ধতিটা কি সেইটা নিয়া ইতিহাসে অল্পস্বল্প হইলেও তর্ক জারী ছিলো নিয়তঃ'ই। আবার ধর্মগুলিতে নারীর অবস্থান অধঃস্তন হওয়াতে যৌনতায় পুরুষের ভূমিকা সবসময়েই প্রধান থাকছে, যার প্রভাব এইসব নৈতিকতা আরোপের পদ্ধতিতেও পড়ছে।

যৌনতায় নারী আর পুরুষের শারিরীক পারফরম্যান্স কিভাবে নির্ধারিত হয় তার কোনো নৈতিক মানদণ্ড যদিও কখনো তৈরী হয় নাই। তবে সভ্যতা আর ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় কিছু বিষয়রে নীতিমালার মধ্যে নিয়া আসা হয়, যেমন শিশু আর সমলিঙ্গের প্রতি আকর্ষণরে সামাজিকভাবে নৈতিকতার সঙ্কটের মধ্যে ফালাইয়া দেয়া হয় অধিকাংশ সমাজেই। তবে পুরুষ যেহেতু সবসময় এর মানদণ্ড তৈরী করার অধিকার পাইছে সকল পর্যায়ে, তাই নারীর ভূমিকা যৌনতায় বেশিরভাগ সময় হইছে উত্তেজনা তৈরীর হাতিয়ার, আর পুরুষের বাসনা মিটানের অবলম্বন হিসাবে। পশ্চিমে এর ধরণ অবশ্য অনেক্ষেত্রে পাল্টাইছে কারণ যৌনতায়ও বোরডোম তৈরী হয়(!)। পরিবেশের সাথে সংগ্রামের ধরনের কারনে পশ্চিমে অবশ্য যৌনতার ধরনে অনেকসময় পরিবর্তন আসছে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণে মাত্রাগত পরিমাণ কেবল যৌনতায় না সম্পর্কের অন্য সকল ধরনেও সেমেটিক নৈতিকতার সাথে অল্পস্বল্প বিরোধ সূচীত হইছে এই এলাকায়।

আর সকল অধিকারের মতোন যৌনতায়ও নারীর অধিকার সীমিত হইছে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায়। ইসলামিক ব্যখ্যায় অবশ্য কিছু যৌক্তিক বা যূক্তির পরম্পরাগত ব্যখ্যা হাজিরের চেষ্টা হইছে কিছু ক্ষেত্রে, যেমন পরিবার প্রথার বা বংশের পরম্পরাতে পিতৃপরিচয় রক্ষার একটা তাগীদ সামাজিক নৈতিকতা হিসাবে তার আগেই পরিচিত হইছে গোত্র আর কৌম গুলির মধ্যে। নারীর যৌনতা এই কারনে একমূখীন রাখার একটা মূল্যবোধ প্রয়োজন আছে সমাজে। পুরুষের বহুগামীতারেও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা ছিলো হযরত মুহাম্মদের নৈতিকতা আরোপের মধ্যে। নৈতিকতার এইরকম নিয়ন্ত্রণ পরবর্তীতে পরিবর্তীত না হইলেও প্রশ্নের সম্মুখীন হইছে পুরুষের বেলায়, কিন্তু নারীর বেলায় বিষয়টা সেই আদিম পর্যায়েই রইছে।

পরবর্তী কাল:

যদিও ফ্রয়েড আইসা এইসব নৈতিকতার চর্চা নিয়া বা এইসব চর্চার মনস্তত্ত্বগত ব্যখ্যারে ভালোই প্রশ্নের মুখোমুখি করেন। নারী আর পুরুষের সম্পর্ক নির্ভর সাইকিতে আসলে যৌনতা কিভাবে বিরাজ করে আর সমাজ সেইটারে কিভাবে দেখতে চায়, এই দুইয়ের মাঝে যে দ্বান্দ্বিক বিরোধ বা কন্ট্রাডিকশন তৈরী হইয়া গেছে কালের প্রবাহে তার একটা বৈপ্লবিক অনুধাবন আমরা দেখি ফ্রয়েডিয়ান আলোচনায়। মূলতঃ ফ্রয়েডের বেলা স্বপ্নে স্বপ্নে গেলেও যৌনতা সেইখানে মাথায় আর চিন্তায়ও ভালোই ছিলো আসলে। সে ইতিহাস আর মিথোলজী থেইকা যৌনতার লেজ ধইরা টান দিয়া দেখায় বহুকিছু। নারী যে পুরুষতন্ত্রের নৈতিক ধামাচাপার ভিতরে থাইকাও অন্যরকম ভাবনারে প্রশ্রয় দেয় সেইটা তারে আলোচনা করতে দেখি আমরা।

তবে ফ্রয়েডিয়ান আলোচনার পরে পুরুষ যৌনতা নিয়া তার দৃষ্টিভঙ্গীতে একটা সমতা আনয়নের চেষ্টা শুরু করে। এর পেছনে হয়তো যৌনতায় শীর্ষানুভূতি পাওনের একটা গোপন ইচ্ছা তাদের ভিতরেও ছিলো। পুরুষ তার নিজের রুচীর উপর গইড়া উঠা সমাজরেতো হুমকীর সম্মুখিন করতে পারে না, নারীর আকাঙ্খা যদি একসময় তার জন্য হুমকীর বিষয় হইয়া দাঁড়ায়! সভ্যতার এই পর্যায়ে নারী তাই একটু ভিন্ন রূপে আসে...যৌনতায় নারী আসে প্রধান কল্পচিত্র হিসাবেই। নারীদেহের বক্রতা ছাড়া ঠিক যৌনতা জমেনা। নারীর অজান্তেই তারে আরো্ বেশি অধিনস্ত করার পরিকল্পণা কইরা ফেলে পুরুষেরা। নারীরে তারা যৌন প্রক্রিয়ায় নায়িকাই বানায়, এই নায়িকার ভূমিকা যৌনতার সময় বিশাল থাকে। সে যৌন প্রক্রিয়ার সময় অনেক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা পায়। এই ক্ষমতা হয়তো নারীরে আবদ্ধ রাখতে বা তার আনুগত্যরে নিশ্চিত করবো এইরম সম্ভাবনা থেইকাই পুরুষের এতোটা দরদ!


মূল প্রসঙ্গ:

যেই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই সেইটা বেশ সেন্সিটিভ হওয়ার জন্য ভূমিকাটারে প্রাসঙ্গিক মনে হইলো। হয়তো পাঠকরে প্রস্তুত করতে চাইছি আলোচ্য প্রসঙ্গের উপস্থাপণরে গ্রহণযোগ্য করার জন্য। সম্প্রতি মিডিয়াতে পরপর একাধিক সেলিব্রিটি'র(লোকশ্রুতিতে আরো বেশি) যৌনতার ভিডিও মানুষের কম্যুনিকেশন মডিউলে ঘোরাফেরা করতে দেইখা আমি নিজে খানিকটা শংকিত হইছি। যৌন কর্মকাণ্ড আমার এই শংকার হেতু নয়। শরীরের চাহিদা বা মানসিক আকাঙ্খার বিস্তারে একজন নারী আর একজন পুরুষের শারিরীক সম্পর্কে লিপ্ত হইলে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাতে কোনো অপরাধ দেখি না। সামাজিক নৈতিকতার এই আরোপ কইরা দেওয়া আচরণরে আমি প্রশ্নবিদ্ধ করতে রাজী আছি যেকোনো সময়। একজন পুরুষ হিসাবে এইটা নতুন কোনো উপলব্ধি না, পশ্চিমা সমাজে এই নিক্তির উদ্ভব ঘটছে বহু আগেই। আমার শংকা তবে কোথায়!?

শুরুতে আরবান মানুষের মডেলাইজার হইয়া উঠাতে খানিকটা আরাম পাইলেও পরবর্তীতে শংকিত হই সেই মানুষের ম্যানিপ্যুলেটিভ আচরনে। যেই মানুষ সামাজিক নিক্তিতে ঠিক করছে যৌনতা হইলো ব্যক্তিগত বিষয় কারণ তার শারিরীক আনন্দ-সুখ প্রাপ্তি ঘটে যৌনতার সম্পর্কের সঠিক চর্চার মাধ্যমে। যেই আরবান মানুষ নারীরে যৌনপ্রক্রিয়ায় প্রোটাগনিস্ট বানাইছে। তারাই হঠাৎ এইসব ভিডিও প্রচার কইরা বিষয়টারে সার্বজনীন বানাইয়া ফেলতেছে। তারাই ভিডিওতে নারী সেলিব্রিটির পারফরম্যান্সগত ভঙ্গীমারে নিয়া হাসিঠাট্টা করতেছে। এই আচরণটা যদি একান্ত'ই বাঙালিগো হইতো তাইলে হয়তো আমার শংকা কিছুটা কম হইতো, কারণ বাংলাদেশের মানুষ আসলে এখনো তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে চিন্তাপদ্ধতির কথা ভাবতেই পারে না। (ধর্ম নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়া কিভাবে তা এই আলোচনার শুরুর দিকেই আমি উল্লেখ করছি।) কিন্তু উদারতার ধারক-বাহক পশ্চিমেও দেখি তাগো উঠতি তারকা লিন্ডসে লোহানের ন্যুড ভিডিও নিয়া পত্রপত্রিকায় বেশ উত্তেজনা বিরাজ করে। সামাজিক মানসিকতার গঠনের জন্য লোহানের তেমন কিছু আসে যায় না হয়তো। সুপারম্যানের পরবর্তী ভার্সনে তার নায়িকা হইয়া উঠার সম্ভাবনা তাতে খুব একটা হ্যাম্পার্ড হয় না হয়তো। কিন্তু আমাগো প্রভা কিম্বা চৈতির তো ঘর থেইকা বের হওয়াটাই বিপজ্জনক হইয়া উঠে।

ভিডিও ধারণটারেও আমার তেমন গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য লাগে না এই বিষয়ে। বরং ভিডিও'র প্রচারে যেই অসদুদ্দেশ্য থাকে সেইটা আমার চোখে লাগে। একজন মডেলাইজার পুরুষ আসলে এই ভিডিও প্রচারের মধ্য দিয়া একজন তারকার বা আরো সুনির্দিষ্ট কইরা বললে একজন উঠতি তারকার জীবনরে হুমকীর সম্মুখিন কইরা তার পুরুষালি দাপটের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। সমাজের সকল পুরুষ আর পুরুষালি চেতনার নারীরাও এই ভিডিও দেইখা দুই ধরনের স্বার্থ সিদ্ধি করে, ১. একটা যৌন প্রক্রিয়া তার উত্তেজনা নিজের শরীরে উত্তেজনা আনে। যেহেতু সে ফ্যান্টাসাইজ করতে ভালোবাসে। ২. একজন নারী সেলিব্রিটি'র এই পতনোম্মুখ প্রয়াসে সামাজিক পৌরুষ জয়যূক্ত হয়। এই ধরনের যৌনপ্রয়াস তো এই সমাজে হরহামেশাই ঘটে। সামাজিক নৈতিকতারে বুড়া আঙ্গুল দেখানোর এই ঔদ্ধত্য আমাগো সমাজেও বহু আগেই বিস্তৃত হইছে। শরীর তার চাহিদার রাজনীতি দিয়া এই পরিস্থিতি তৈরীতে উদ্যোগী হইছে। সামাজিক নীতিমালার বাইরেও তাই নারী-পুরুষের শারিরীক সম্পর্কের ধরনে ভিন্ন ভাষা প্রয়োগ হয়।

কিন্তু ভিডিও প্রচারণার বিষয়টা আসলেই অ্যালার্মিং লাগে। পুরুষের পৌরুষ যখন এমন নোংড়া প্রকাশে তার চেহারা দেখায় তখন মনে হয় আদিম প্রবণতাগুলিই অনেক ভালো ছিলো, কি লাভ হইছে সভ্যতার এতোদূর পরিভ্রমণে!? এই সব বিচ্ছিন্ন ভিডিও আসলে শোবিজ সম্পর্কে মানুষের ভিন্ন মূল্যবোধ তৈরী করতেছে। যার ফল খুবেকটা ভালো হওয়ার কথা না...

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


আমি শুনছিলাম, মেয়েটি নাকি ব্ল্যাকমেইল করার জন্য ভিডিওটা করসিলো। ছেলেটাকে ব্ল্যাকমেইল করতোও।

ভাস্কর's picture


এইটা কেবলি একটা তথ্য...কিন্তু এই তথ্য পুরুষতন্ত্রের নোঙড়া প্রবণতাটারে জায়েজ করে না।

মীর's picture


তাতো বটেই। কুপায়া মাইরালানি দর্কার আছে দু'একটারে। আর এই বিষয়ে মাসুম ভাইএর একটা কথা খুব ভাল্লাগছিলো।

মেয়েরা ভালবাসার মানুষকে জান-প্রাণসহ সব কিছু দিয়ে ভালবাসুক। কিন্তু একটু বুদ্ধিমতি হোউক।

xoaher's picture


Big smile Crazy Glasses Wink Tongue

তানবীরা's picture


ছেলেটা কেনো আইনের আওতায় আসলো না? এটা একটা সাইবার ক্রাইম। প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত ব্যপারটা জানেন কিন্তু কোন একশান নিলেন না? কি উদাহরন দিলেন? অনেক আগে নূপুর পালিয়ে গেছেন এখন সে পালালো। ত্রিশ বছরে আসলে পরিবর্তন হয় নাই কিছুই। কোন সুশীল নারীসংগঠনও এগিয়ে এলো না মেয়েটিকে সাহায্য করতে, ধিক ধিক।

মেয়েটা কিছুতেই কাউরে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যে এই ভিডিও করাতে পারে না মীর।

মীর's picture


আমি জাস্ট এটা শুনছিলাম দেখে বলসি। Smile

হাসান রায়হান's picture


মীর অন্য ভিডিওর কথা বলছে তানবীরা।

রাসেল's picture


মডেল কিংবা তারকার বাইরে যাদেরটা প্রচারিত হইতেছে তাদের তুলনায় এইসব তারকার ঘটনা কি কোনো ভাবে আলাদা
সেইসব যে কারণে ঘটে অন্যগুলা কিংবা তারকা সম্পর্কিতগুলা আলাদা একটা কারণে ঘটে এমন অনুমাণ করবার কারণ কি

ভাস্কর's picture


সমাজের যেকোনো নারীর এই ধরনের ভিডিও আর মডেল তারকার ভিডিও করার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হয়তো আলাদা না...কিন্তু প্রচারণার কারনে মডেল তারকার ভিডিওটা আলাদা হইয়া উঠে। পুরুষেরা নিজ দায়িত্বে এইসব ভিডিও'র মার্কেটিং করে দিগ্বিদিকে...

১০

রাসেল's picture


পরিচিত মেয়েদের এইসব ভিডিও বিতরনের উৎসাহ পৌরুষ দেখানোর তাগিদে ঘটে না। রাজনীতিটা মনে হয় আলাদা।

অসংখ্য জনশ্রুতির ভেতরে প্রভার কিংবা চৈতির বিষয়টারে আলাদা কইরা যদি দেখি, প্রভার বিষয়টা বাস্তবতা মাইনা নিতে না পারা একজন প্রতিহিংসাপরায়নতা বলা যায়, যদিও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করবার জন্য এমনভাবে কাউকে নাজেহাল করা কিংবা অপমান অসম্মান করাটা যৌক্তিক কিংবা নীতিসম্মত কি না এটা নিয়া একটা বিতর্ক করা যাইতে পারে।

চৈতির বিষয়টা দৈনিক পত্রিকায় আলোচিত হইছে, সেইখানের বয়ান দেইখ্যা মনে হইছে ভিডিও চিত্রের চেয়েও বড় বিষয় ছিলো সপ্রতিভতা, মানে সাবলীলতা, এইটার একটা অর্থ দাঁড়ায় এইটা তার কিংবা তাদের কাছে নতুন না। অন্যটা হইতাছে সে নিজের ইচ্ছায় এইটা করছে

হয়তো তাদের সম্মতিতেই এইটা ঘটছে, এইটাতে লুকাছাপার বিষয় নাই, কিন্তু সেইটা এইভাবে পাবলিক ব্রডকাস্টের অনুমতি কি তারা দিছিলো।

এইরকম ভিডিও সম্প্রচারের অনুমতি না দেওয়ার পরেও এইটা পাবলিক ডোমেইনে চলে আসা একটা অপরাধ বিবেচিত হইতে পারে,

কিন্তু এরপরের বিষয়টা প্রচারণা এবং পিছিয়ে পড়বার ভয় কিংবা সাম্প্রতিক থাকবার তাগিদেও ঘটতে পারে। যারা দেখছে তারা এই টক অফ দ্যা টাউনের বাইরে থাকতে চায় না, কিংবা ওরাও দেয় ওরা খারাপ মেয়ে মানুষ, মিডিয়ার সবাই সবাইরে এই রকম করে বিষয়টাও এর পেছনে থাকতে পারে, এক রৈখিক বিষয়টা থাকবে না

প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অভিরুচিকে আমলে আনলে বিষয়টার অন্তত দশটা রাজনৈতিক কারণ খুজে পাওয়া সম্ভব

১১

ভাস্কর's picture


পৌরুষ দেখানো মানে কিন্তু গেঞ্জির হাতা গুটাইয়া মাসল দেখানোর কথা মিন করতেছি না। এই পৌরুষ হইলো নারীর দুর্দশা দেইখা মিচকি মিচকি হাসনের পৌরুষ। অর্থাৎ পুরুষ আসলে নারীরে বুঝাইতে চায়,"বহুত অ্যাডভেঞ্চারাস হইছো, তোমার যা করার সেইটা না কইরা তুমি সেক্স করো!"

পুরুষতন্ত্র মানে নারী আর পুরুষের বিভাজন আর বৈষম্যেমূলক সম্পর্কের ধরণ। আমি আমার পোস্টে স্পষ্টতঃই কইতে চাইছি এইসব ভিডিওর প্রচারণা কৌশলের বিরুদ্ধে। যারা প্রচার করে তারা নারীও হইতে পারে, কিন্তু এই নারীরা আসলে এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতি সাবমিসিভ নারীকূল। যারা এই পুরুষালি অ্যাটিটিউডরে প্রশ্নহীন দেখতে চায়।

১২

শওকত মাসুম's picture


নিজেদের ছবি ভিডিও করার মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা টা কি?

১৩

ভাস্কর's picture


নিজেদের ভিডিও করার মনস্তাত্ত্বিক ব্যখ্যা খোঁজার চাইতে আপাততঃ আমি ঐটারে ইচ্ছার অধিকার হিসাবেই দেখতে চাই।

তবে এই বিষয়ে গার্গী ভট্টাচার্যের একটা বই পাইলাম, সে এই বিষয়টারে পশ্চিমা নারীবাদের বিপণন হিসাবে দেখার একটা ডিসকোর্সের উল্লেখ করছে। গার্গী বলতেছেন এই নারীবাদ যে আদতে পুরুষতন্ত্রেরই আরেকটা এক্সপ্রেশন, যেইখানে নারী আসলে পণ্য হিসাবেই চিহ্নিত হয়।

পুরুষ বিষয়টারে একেবারেই উত্তেজনার উপলক্ষ্য হিসাবে বিবেচনা করে। কিছু ভিডিও ধারনের ক্ষেত্রে নারীরে ব্ল্যাকমেইল্ডও হইতে দেখা যায়। আর বেশির ভাগ ভিডিও'ই হয় নারীর অজ্ঞাতে।

১৪

জ্যোতি's picture


ভিডিও'র প্রচারে যেই অসদুদ্দেশ্য থাকে সেইটা আমার চোখে লাগে। মানুষের এই বিকৃত রুচি দেখে ভয় লাগে।

১৫

মীর's picture


বিষয়টা নিয়ে সবশ্রেণীর মানুষের মধ্যে একটা উৎসাহ তৈরী হইসে। সবাই এখন খুঁজতেসে এরপর কে? আজকে একজনরে বলতে শুনলাম, প্রভার রাজত্ব একচেটিয়াই ছিলো বলা যায়। অন্য সবাই ছিলো দ্বিতীয় সারিতে। এমন একটা মেয়েকে পুরাপুরি কিল করে দিলো কেবলই একটা ২ মিনিটের ক্লিপ। বিষয়টা নিয়া চিন্তা করলাম।
এটা আমাদের সমাজের একটা বৈশিষ্ট্য। যেকোন একটা ব্যপারকে খুবই গুরুত্ব দিয়ে ফেলা। প্রভার ব্যক্তিগত ক্লিপ দেখে সবাই মজা পাইছে বুঝলাম। কিন্তু সেজন্য তাকে বয়কট করা কেন? কেন সে এখন আবারো আমাদের মধ্যে নেই? ফিজিক্যালি আমি টিভি দেখি না, তাই মেয়েটিকে বয়কট করার বিষয়টা ঠিক সেভাবে ধরতে পারি না। কিন্তু এই ইন্ডাস্ট্রি থেকে একটা মেয়ের প্রস্থান, এটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য? বিষয়টা তো খুব কষ্টের ব্যপার হওয়ার কথা আমাদের জন্য।

১৬

ভাস্কর's picture


আমাদের কাছে ভার্জিনিটি একটা বড় বিষয় হইয়া আছে...ঠিক যেই কারনে আমরা কই পাকিস্তানিরা আমাগো দুইলক্ষ মা-বোনের ইজ্জত নিছে, যারা যুদ্ধের কারনে নির্যাতিত হইলো তারা আমাগো কাছে বীরাঙ্গনা। পাকিস্তানিরা ধর্ষণ কইরা মা-বোনের সবচাইতে সেন্সিটিভ বিষয় ইজ্জতটা নিয়া নিছে, ইজ্জত হইলো আমাগো কাছে নারীর সবচাইতে বড় সম্পদ। সমাজে তারা যেই কারনে আর প্রাপ্য সম্মান কখনো পায় নাই।

কুমারী না হইলে আমাগো নায়িকারা ঠিক নায়িকা হইয়া উঠে না। এই অঞ্চলে নায়িকারা এমনকি বিয়াশাদি করতেও ভাবতে শুরু করে, কারণ বিবাহিত নায়িকাও আমাগো কাছে কাঙ্খিত না। দর্শক হিসাবেও আমরা এমনি মেইল শভিনিস্ট...

১৭

মেঘলা শ্রাবনী's picture


লিখাটার মন্তব্য নয় কিন্তু এর আসল মজ্জা ভেদ করে যদি আমরা আলোচনায় লিপ্ত হই তবে এটা অসমাপ্ত থেকে যেতে বাধ্য। ধর্ম, নৈতিকতা, যৌনতা, আকাংক্ষা, নারী-পুরুষ এই বিষয়গুলো একেবারেই মৌলিক।

মানবজাতি হলো স্টিয়ারিং ছাড়া গাড়ি চালানোর মত। যা ছাড়া দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী। আর এই স্টিয়ারিং হিসেবে আবিভাব ধর্ম, সরকার, আইন, শিক্ষা ইত্যাদি। এগুলোর কোনটাই মানুষকে বিপথগামী করার জন্যে নয়। বরং অশুভ সময়ে তাকে সঠিকপথে পরিচালিত করার জন্যে। চলমান পৃথিবীতে এগুলো থেকেও এর প্রয়োগিক কাঠামো আর চালনাকারীদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সাথে রয়েছে আমাদের ব্যক্তিস্বাধীনতা।

আজ যারা বাইরে বের হতে পারেনা তাদের এ ভাগ্যের জন্যে তারাই দায়ী। আজ পাশ্চাত্য সংস্কৃতির বদৌলতে আমরা এতদূর এগিয়েছি যে কিছুদিন পরে হয়ত আরো না পাবার কস্টে আত্মহত্যার মত পথ বেছে নিতে হবে। আর এই পাশ্চাত্য সংস্কৃতি আমাদের এমন কিছু শিক্ষা দেয় যা সত্যি 'অনুস্মরনীয়'। যেমন- তারা কখনই বলবেনা "মুক্ত যৌনসঙ্গ পরিহার কর" বরং তারা বলবে "এটা চালিয়ে যাও তবে তা এমনভাবে যাতে তোমার কোনভাবেই 'এইডস' না হয়, কারন তুমি স্বাধীন"। কারন এর সাথে তাদের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা জরিত যা আমাদের চোখে তারা ধূলো দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে। আর এখানে ধরা খেয়েই পরে প্রভা-চৈতিরা আর বাইরে বের হতে পারেনা।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...