একটি জানালার গল্প
খেলাপী হিসাবে আমার সুখ্যাতি আছে...এই কারনে মুরাকামির ছোট্ট একটা গল্প বেছে নিলাম অনুবাদের জন্য। তার চার ভাগের এক ভাগ হিসাবে শুরুর চিঠিটা গড়গড়িয়ে অনুবাদ করা গেলো...আশা করি আগামি তিনদিনেই এটা শেষ করে ফেলা যাবে...
একটি জানালার গল্প
হারুকি মুরাকামি
শুভেচ্ছা,
ফুরিয়ে যাওয়া এক একটা দিনের সাথে শীত চলে যাচ্ছে ধীরে ধীরে, আর সুর্যের আলোয় ঘ্রাণ পাচ্ছি বসন্ত দিনের। মনে হয় তুমি ভালোই আছো।
তোমার শেষ চিঠি পড়ছিলাম, ভালো লেগেছে। বিশেষ করে হ্যাম বার্গার স্টেক আর নাটমেগ'এর সম্পর্ক নিয়ে লেখা প্যারাগ্রাফটা বেশ হয়েছে। নিত্যদিনকার ঘটনা নিয়ে তোমার অনুভূতির তীব্রতা টের পাওয়া যায়। রান্নাঘরের উষ্ণ ঘ্রাণ কিংবা কাটিং বোর্ডে ছুরির সাথে পেয়াজের রেষারেষিটা একদম ঠিক ভাবে ধরা পড়ে!
তোমার চিঠি পড়ার পর হ্যাম বার্গার স্টেকের তীব্র বাসনা এসে আমাকে এমনভাবে ছেকে ধরে যে আমি সেই রাতে বাধ্য হয়েছি পাশের রেস্তোরাঁতে গিয়ে হ্যাম বার্গার স্টেক অর্ডার করতে। তবে প্রতিবেশি এই দোকানে আমার সামনে আট ধরনের হ্যামবার্গার স্টেকের একটা তালিকা ধরিয়ে দেয়া হয়: টেক্সাস স্টাইল, হাওয়াইয়ান স্টাইল, জাপানীজ স্টাইল, এমন আর কয়েকটা নাম। টেক্সাস স্টাইলের স্টেকটা বিশাল তবে আমি নিশ্চিত টোকিওর এপ্রান্তে থাকা যে কোনো টেক্সানের জন্য তা বেদনাদায়ক কিছু একটা হবে। হাওয়াইয়ান স্টাইলের সাথে গার্নিশ হিসাবে আসে এক টুকরো আনারস, আর ক্যালিফর্নিয়ান স্টাইল...আমি এই মুহুর্তে ওটার কথা মনে করতে পারছি না। জাপানীজ স্টাইলে স্টেকটা আবার মাখানো থাকে পোড়ানো মুলা দিয়ে। রেস্তোরাঁটা বেশ সাজানো গোছানো একটা জায়গা, ওয়েইট্রেসরা নিঃসন্দেহে সুন্দরী, তাদের পরনের শর্ট স্কার্টগুলো আসলেই বেশ খাটো।
এর মানে আবার ধরে বসো না যে আমি রেস্টোর্যান্টটার ইন্টেরিয়র ডেকোরেশন কিংবা সুন্দরীদের ওয়েইট্রেসদের লম্বা লম্বা মসৃন পা দেখতে সেখানে গিয়ে হাজির হয়েছি। আমি আসলেই একটা হ্যামবার্গার স্টেক খেতে সেখানে গিয়েছিলাম - টেক্সাস কিম্বা ক্যালিফর্ণিয়ান অথবা অন্য কোন স্টাইলের নয় - একটা প্লেইন আর সিম্পল নিরেট হ্যামবার্গার স্টেক।
আমি রূপসী ওয়েইট্রেসটাকেও তাই বললাম। কিন্তু সে আমার দিকে অবাক তাকিয়ে জবাব দিলো, "দুঃখিত স্যার, আমাদের কেবল অমুক, অমুক, অমুক স্টাইলে হ্যাম বার্গার স্টেইকই আছে..."
ওয়েইট্রেসটাকে অবশ্য আমি দোষ দিতে পারি না। সে তো আর এই মেন্যু ঠিক করে নি। সেতো আর শখ করে তার ইউনিফর্মটা পরে নি যাতে টেবিল পরিষ্কার করার সময় তার শ্বেত শুভ্র উরু চোখের সামনে ভেসে থাকে। আমি তার দিকে তাকিয়ে হালকা হেসে একটা হাওয়াইয়ান স্টাইলের হ্যামবার্গার স্টেইক অর্ডার করে দিলাম। আমি যখন আনারসের টুকরোটা একপাশে সরিয়ে স্টেইকটা খেতে শুরু করলাম তখন সে তাকিয়ে তাকিয়ে সেটা দেখলো।
এ এক আজব পৃথিবীতে আমরা বাস করি! আমার চাওয়া ছিলো শুধু একটা সাধারণ হ্যামবার্গার স্টেইক, কিন্তু ঠিক এই সময়টাতেই আমাকে খেতে হলো আনারস ছাড়া একটা হাওয়াইয়ান স্টাইলের হ্যামবার্গার স্টেইক।
তোমার বানানো সেই হ্যামবার্গার স্টেইক, আমার মনে পড়ে, ছিলো একেবারেই সোজাসাপ্টা ধরনের। তোমার চিঠি পড়ে আমিও চেয়েছিলাম আসলে একটা ঠিকঠাক হ্যামবার্গার স্টেইক, একেবারেই তোমার হাতের সেই স্বাদ।
অন্যদিকে, রেলওয়ে বিভাগের অটোম্যাটিক টিকেট মেশিন নিয়ে লেখা প্যারাটা আমার একটু আরোপিত বলে মনে হয়েছে। তোমার দৃষ্টিভঙ্গীটা ঠিক হলেও লেখার ধরনে পাঠকের কাছে দৃশ্যটা খুব স্পষ্ট হবে না। এমন ছিদ্রান্বেষী ভাবে না দেখলেই ভালো। লেখালেখিতো আসলে এমন কঠিন জিনিষ নয়।
এই শেষ চিঠিটায় তোমার নাম্বার প্রায় ৭০। ধীরে ধীরে তোমার উন্নতি হচ্ছে সেটা বোঝা যায় নিশ্চিত ভাবেই। অধৈর্য্য হবে না একদম, তোমার চেষ্টা চালিয়ে যাও। পরের চিঠির জন্য অপেক্ষায় থাকলাম, বসন্ত দিনের সেই চিঠিটা অনেক সুন্দর হবে তাই না!
বিদ্রঃ বিস্কুট গুলোর জন্য ধন্যবাদ, বেশ স্বাদের। যদিও সোসাইটি'র নিয়মে এধরনের ব্যক্তিগত যোগাযোগে নিষেধ আছে, আশা করি এ ব্যাপারটা পরবর্তীতে মাথায় রাখবে।
যাইহোক, তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ চিঠির জন্য।
(চলবে)





কত রকমের লেখা যে পৃথিবীতে আছে
অসাধারণ অনুবাদ হয়েছে ভাস্করদা'। আপনার খেলাপী হিসেবে ভয়ানক সুখ্যাতি আছে। তবে এইবার সেটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে হচ্ছে।
ঠিকাছে ... বাকিগুলার অপেক্ষায়
মুরাকামির এই শর্ট স্টোরি কালেকশনটা কঠিন... অনুবাদ ভালো হইসে... তয় শেষ কইরেইন
মজা পাইলাম চিঠিটা পড়ে। শেষ কইরেন অবশ্যই
চিঠিটা তো সুন্দর!
যাই পরেরটা পড়ি এবার
আরেকটু বর্ননা থাকলে হয়তো অনুবাদের কাঠ কাঠ ভাবটা কেটে যেতো।
বিস্কুট খেতে ইচ্ছা করছে।
মন্তব্য করুন