কথিত "বাম দূর্গের পতন" বিষয়ে একটি রাজনৈতিক পর্যালোচনা প্রচেষ্টা...
পশ্চিমবঙ্গে বাম দূর্গে ধস। এই হইলো একটা সংবাদ সংস্থা পরিবেশিত সংবাদের শিরোনাম। দুই বছর আগে একই এলাকার লোকসভা নির্বাচনে একইরকম ফলাফলের পর সামহোয়্যারে আমি এই বিষয়ে একটা স্বল্পায়তন পোস্ট দিলে সেই পোস্টে বেশ কিছু তর্ক-বিতর্কমূলক আলোচনা হইছিলো। সেই পোস্টে আমার সাথে আলোচনায় অংশ নেয়া দুইজন ব্লগার আমরা বন্ধুতেও সক্রিয় আছেন। তাই বাম জাতির এই ক্রান্তিকালীন সময়ে (?) আরেকটা পোস্ট দেয়ার লোভ সামলাইতে পারলাম না।
বামপন্থী এই শব্দটা কিভাবে আমাদের রাজনৈতিকতার পরিভাষায় যূক্ত হইলো? অষ্টাদশ শতকের শেষভাগে যখন ফরাসী বিপ্লব চলতেছিলো ঠিক সেইসময়কার এস্টেট জেনারেল মানে আইন ও নির্বাহী বিভাগের দায়িত্ব যাদের হাতে ছিলো, শাসক গোষ্ঠীর সেই পরিষদে বসার আয়োজনে থাকা বিভাজনরীতি অনুযায়ী বাম দিকে বসতো পরিবর্তনকামী, সমবণ্টন প্রয়াসী অংশ। তারপর থেইকা সারা পৃথিবীর সমাজ পরিবর্তনের ঝাণ্ডাওয়ালা রাজনৈতিক অংশরে বামপন্থী কওয়া হয়। মূলতঃ সমাজতন্ত্র ঘনিষ্ট বামপন্থী দলগুলিরেই বাম অনুশাসন রীতির দল বলা হইলেও রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে থাকা নৈরাজ্যবাদি কিম্বা সাম্যবাদি রাজনৈতিক চর্চারেও বামপন্থার অন্তর্ভূক্ত হিসাবে গণ্য করা যায়।
বাম শব্দের সিগনিফিকেন্সেই যেনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা পরিবর্তন প্রত্যাশার বিষয়টা লুকাইয়া থাকে। সামাজিক রীতির মধ্যেই যে ডানবর্তী হওয়ার চাহিদা আছে বামবর্ত সেইখানে প্রথাবিরোধী হিসাবে অবস্থান করে। বামপন্থা সেই অর্থে সামাজিক নৈতিকতার বিরোধী অবস্থান হিসাবেই দেখা হয়। ভদ্রতার মানদণ্ডে আমরা ডানপন্থী থাকি বায়োলজিক্যাল ভূমিকাগুলিতেও। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিকেট খেলাতে এর ব্যত্যয় দেখা যাইতেছে। বাংলাদেশ দলে বামহাতি স্পিনারের আধিক্য যেনো তারই বার্তাবহ। সামাজিক অভ্যাসের বিপরীতে বামপন্থা যে কার্যকরী কৌশল সেইটা আমরা টের পাই ইতিহাসে বামহাতিদের ভূমিকা আর উজ্জ্বলতায়। বেশ গড়পড়তা স্টেইটমেন্ট হইলো বিষয়টা, তবুও গবেষণার বিষয় হিসাবে কিন্তু বিষয়টা আজো স্বীকৃত তার নিজস্ব মানদণ্ডে।
রাজনৈতিকতার ইতিহাসে অবশ্য বামপন্থার আরো কিছু অবস্থান জোরালো ভাবেই ছিলো। যেমন ইউরোপিয়ান প্রেক্ষাপটে বেশকিছু রাষ্ট্রে রাজতন্ত্র আর সাম্রাজ্যবাদের বিস্তারের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গীও গইড়া উঠছে অনেক সময়। উপনিবেশের সময়কালে ঔপনিবেশিকতার বিরুদ্ধে দ্রোহ বা বিদ্রোহরেও বামপন্থী বলার প্রয়াস পাইছেন অনেক তাত্ত্বিক। তবে কালের বিবর্তনে বামপন্থা বিষয়টা একেবারেই মার্ক্সিজমের সম্পত্তি হইয়া গেছে। বিশ্বব্যাপী সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনরত মানুষের রাজনৈতিক চিন্তারেই আজকাল বামপন্থা বইলা দেওয়া হয় সাধারণ বিবেচনায়। মূলতঃ পুঁজিবাদি বিশ্বব্যবস্থার বিপরীতে শ্রমিক শ্রেণীর রাষ্ট্র বা সর্বহারার একনায়কতন্ত্রের বিষয়টাই যেই বামপন্থায় প্রভাবক হিসাবে কাজ করে।
সোভিয়েত যূগে যখন সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হইলো আর তৎপরবর্তীকালে তারে ধইরা জোসেফ স্তালিন আগাইয়া নিয়া যাইতে থাকলেন তখন বিশ্বব্যবস্থায়ই ডান-বাম এই বিরোধ তৈরী হইলো। পুঁজিবাদী সমন্বয় বনাম সমাজতান্ত্রিক জোট, ন্যাটো'র বিপরীতে ওয়ারশ এইরকম জোগত সংস্কৃতিতেও তার ছাপ আমরা দেখতে পাই। যদিও এই ঘটনাটা ঘটে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালের পর। যখন আমেরিকা তাদের যুদ্ধবিগ্রহে পারমানবিক অস্ত্রের সম্ভার বানাইতেছে আর সেইসব ফাটাইতেছে শত্রুবাহিনীর বিভিন্ন জনপদে। আর সোভিয়েত ইউনিয়নের বাহিনী জর্ম্মনগো আক্রমণ সামলাইতেছে তাদের বিশাল ভূমিতে। তবে জর্ম্মনরা আত্মসমর্পণ করলো সোভিয়েত বাহিনীর হাতেই। একই পতাকাতলে মিত্রবাহিনী হিসাবে থাকলেও সেইসময় থেইকাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ঠাণ্ডাযুদ্ধ শুরু হইয়া যায়। যার বিস্তার আমরা দেখতে পাই ১৯৯০ পর্যন্ত, সোভিয়েত বিপর্যয়ের শেষকালে আইসাও।
তবে ১৯১৭ সালের পর সারাবিশ্বে তৈরী হওয়া সমাজতন্ত্রকেন্দ্রীক আগ্রহ আসলে কেবল ১৯৯০'এই বিপর্যয়ের সম্ভাবনা দেখে নাই। বাম বিপর্যয়ের সম্ভাবনা তৈরী হয় ১৯৫৩তে নিকিতা ক্রুশ্চভ সোভিয়েত পার্টির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর থেইকাই। সে আইসা স্তালিনের নেয়া সব পলিসি পাল্টাইতে শুরু করে। সোভিয়েত ইউনিয়নের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবরে ব্যক্তিগত মূল্যায়নে বিভাজিত কইরা একটা মুক্ত সোসাইটি হিসাবে দাঁড় করানোর পরিকল্পণা তৈরী হইতে থাকে। সাথে সাথে সে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার বলয়টারেও কেন্দ্রীভূত করতে থাকে। এর পথ ধইরাই ব্রেঝনেভ আসলো। আর ব্রেঝনেভ আইসা শুরু করলো মহাবিতর্ক। তার সময়েই শুরু হইলো সোভিয়েতের সাম্রাজ্যবাদী চরিত্র। পূর্ব ইউরোপে সামরিক বাহিনী পাঠাইয়া রীতিমতোন আগ্রাসন শুরু করলো তারা। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব যে বাইরে থেইকা চাপাইয়া দেয়া কোনো বিষয় হইতে পারে না সেইটা বোঝার মতোন উপলব্ধি নিশ্চয় মার্ক্সীয় মতাদর্শে আস্থাশীল সকল মানুষেরই থাকার কথা। মার্ক্সবাদের তিনটা উল্লেখযোগ্য বিষয়ের একটা হইলো দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ আর সেইখানে পরিবর্তনের বিষয়ে যেই সিন্থেসিস তৈরী হয় সেইটা হইলো বস্তু মূলতঃ আভ্যন্তরীন আর বাহ্যিক দ্বন্দ্বের কারনেই পাল্টায়, তবে বস্তুর সিন্থেসিস তৈরী হয় মূলতঃ আভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের গতিপ্রকৃতিতেই। আর তাই পৃথিবীর বেশিরভাগ বামপন্থী শক্তিই সেই সময় সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের বিরোধীতা করতেছিলো সেই সময়টাতে। আগ্রাসনরে জায়েজ করার জন্যই তখন সোভিয়েত ইউনিয়নের তৎকালীন অবস্থানরে সাম্যবাদের প্রথম স্তর বইলা ঘোষণা দেওয়া হয়। আর মাও জে দংয়ের সাথে এই তাত্ত্বিক অবস্থান নিয়াই বিরোধ শুরু হয় বিশ্বব্যাপী। শ্রেণীর সম্পূর্ণ বিলোপ ছাড়া সাম্যবাদের সংগ্রাম কখনোই শুরু হইতে পারে না এই ছিলো মার্ক্সীয় অনুধাবন। মাও জে দং দেখাইলেন সোভিয়েত ইউনিয়নে ঐ সময়ে শ্রমিক আর বুদ্ধিজীবী শ্রেণীর মাঝে দ্বন্দ্বমূলকতা বিদ্যমান। কিন্তু এরপরেও মস্কোপন্থী বইলা একটা অংশ তৈরী হইলো সারাবিশ্বে।
পশ্চিমবঙ্গের সিপিএম এই সময় মস্কোপন্থী অবস্থানে গেলো নিজেদের অবস্থানরে সংহত করার জন্য। এর প্রমাণ মেলে নকশাল বাড়ি আন্দোলনের সময় তাদের ভূমিকায়। শ্রেণী সহনশীলতাও তাদের সেইসময় ছিলো না। তারা কংগ্রেসরে সহযোগিতা শুরু করলো মাওবাদি নিধনের কর্মসূচীতে। তাদের মূল চাওয়া যে ক্ষমতা অধিগ্রহণ ছিলো সেইটা টের পাওয়া যায় অল্প কিছুদিনের মধ্যেই। সিপিএম পার্টি ক্ষমতায় আসলো, বামপন্থার নামে বুজুর্গ ব্যক্তিরা মূখ্যমন্ত্রী হইতে থাকলো। কিন্তু পার্টির তাত্ত্বিক অবস্থান পুরা লেজেগোবরে হইলো। সিপিএমের বিপ্লবের রণকৌশলগত অবস্থান আজো জনগণতান্ত্রিক, যার অর্থ হইলো তারা বিশ্বাস করে ভারত আজো আধা সামন্তবাদী আর আধা উপনিবেশবাদী। অথচ তারা ব্যক্তি পুঁজির দালালী শুরু করলো ক্ষমতায় কিছুকাল থাকনের পরেই।
একটা সময় ছিলো তবু, যখন সিপিএম'এর নেতারা আসলেই পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রিক একটা মানবতাবাদী রাজ্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করছে। কিন্তু এইভাবে তো আর থাকা যায় না। যেই কারনেই সেই মানবতাবাদের মরিচা পড়লো। সিঙ্গুর-নন্দিগ্রাম বিরোধ তৈরী হইলো। বিড়লা-টাটাগো পুঁজিরে রক্ষার ব্রত নিলো তারা। রাজ্যের সাধারণ মানুষের ভাত মাইরা হইলেও তাগো পুঁজির প্রতি নমনীয়তা দেখানের খেলায় প্রমাণিত হইলো তারা আর বামপন্থী নাই। পরিবর্তনে তাদের আর আস্থা নাই, তারা কেবলি আরেকদল শাসকশ্রেণীর দল, যারা ক্ষমতায় যাওয়াটারেই মূলতঃ উদ্দেশ্য আর লক্ষ্য হিসাবে জানে।
আর তাই সিপিএম দলের পরাজয়রে বাম দূর্গের পতন হিসাবে দেখার কোনো যৌক্তিকতা আমি দেখি না। বরং দেখি তৃণমূল-কংগ্রেস জোটে একটা ছোটো বামপন্থী দলের সহযোগ। এসইউসিআই কোন যুক্তি দেখাইয়া ঐ জোটভূক্ত হইছে তা আমি জানি না, কিন্তু এই দলের আন্দোলনের ইতিহাস থেইকা বুঝতে পারি সিপিএমের দুঃশাসনে তাদের ভক্তি নাই।
২০০৯'এর নির্বাচনে পরাজয়ের পরেও পশ্চিমবঙ্গে কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। দুই বছরে সিপিএম মানুষের আস্থায় কোনো পরিবর্তন দেখাইতে পারে নাই...দেয়ালে পিঠ ঠেকানো মানুষ কখনো কারো দূর্গের রক্ষক হইতে পারে না। বরং দূর্গের দেয়াল ভাঙাটাই ইতিহাসের শিক্ষা।





সিপিএম নামে বাম ছিলো।
যেমন আওয়ামী নামে সেক্যুলার
হ...
হ
আপনারা কি সামুরাই শোডাউন খেলতেসেন নাকি?
আচ্ছা বামপন্থীদের পুঁজির প্রতি এত ঘৃণা কেন? পুঁজির ব্যবহার খারাপ হইতে পারে, কিন্তু পূঁজি নিজে তো কোন সমস্যা সৃষ্টি করেনা?
পুঁজি কি নিজে নিজে হাটাচলা করে নাকি? পুঁজিপতিরাই পুঁজি ব্যবহার করে। আর পুঁজিপতিরা শ্রমিকরে ঠকায়। মার্ক্সবাদ মূলতঃ তিনটা বিষয়ের উপর দাঁড়ায়,
এক. দ্বন্দ্বমূলক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ।
দুই. শ্রেণী সংগ্রাম আর
তিন. উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব
এখন পুঁজির ইতিহাস যদি দ্বন্দমূলক বস্তুবাদ দিয়া ঐতিহাসিকতায় বিশ্লেষণ করি তাইলে দেখবো যে শ্রেণী বৈষম্য তৈরী করা একটা অবস্থান যাতে সমাজে একদল মানুষ বাকী মানুষের সাথে বৈষম্যমূলকতায় আছে। আর এই ক্ষেত্রে বৈষম্যের পুঁজিবাদি ইতিহাসে শ্রমিকের শ্রম শোষিত হয়। যার ফলে তৈরী হয় উদ্বৃত্ত মূল্য যা শ্রমিকের পাওনা হইলেও ভোগ করে পুঁজিপতি।
এইটা ঠিক মতোন বোঝা যায় একটি সিম্পল উদাহরনে, পুঁজিবাদের বাজারে একটা দ্রব্য বা বস্তু পণ্য হইয়া উঠে শ্রমিকের শ্রমের কারনেই, শ্রমিকের শ্রম ব্যতীত একটা দ্রব্য বা বস্তু পন্য হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই। কিন্তু শ্রমিক সেই পণ্যের মূল্যের থেইকা যেই লাভ তার কতোখানি পায়? পুঁজির নিরীখে এইখানে ঠিক হয় কে বেশি টাকা পাইবো...এই সমাজে পুঁজি বিনিয়োগের মাপকাঠিতে ঠিক হয় কে লাঠি ঘুরাইবো, তার নিয়তি। যার পুঁজি আছে সে শাসনের এবং শোষণের অধিকার পাইয়া যায়।
তো পুঁজির নিরীখে পরিচালিত সমাজে বা রাষ্ট্রে কখনোই শ্রমের সঠিক মূল্য শ্রমিক পাইবো না...বামপন্থিরা পুঁজির এই তন্ত্রের বিরোধীতা করে। পুঁজির নিরীখে চলা একটা সমাজের বা রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিরোধীতা করে...
আমি যদিও নিজে পূঁজিবাদী না, কিন্তু আপনার সাথে পূঁজিবাদী খুব শজ-সরল দৃষ্টিভংগী থেকে কথা বলব।
০১.
পূঁজি ব্যবহারে যে যোগ্যতা দরকার, সৃজনশীলতা এবং উদোগীমুখিতা, ঝুঁকিপ্রবণতা এসব যেহেতু খুব কম মানুষই নিতে চায়, সেহেতু কি পূঁজি ব্যবহারকারী শ্রমিক থেকে বেশি পারিশ্রমিক (বা মুনাফা) দাবি করতে পারে না?
০২.
একটা পূঁজিবাদী সমাজে ধরেন একজন উদ্যোক্তা একটা শিল্প কারখানা দিল,
তার পূঁজির সঠিক ব্যবহারের যোগ্যতা আছে এবং ধরি তার মোট ১০০ জন কর্মচারী বা শ্রমিক আছে, সে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ মূলধন, ধরেন ১০০০০ টাকা, খাটিয়ে মোট ২০০০ টাকা লাভ করল। ১০০০ টাকা নিজে রাখল, ১০০০ টাকা ১০ টাকা করে শ্রমিকদর মধ্যে বন্টন করে দিল। মোট সম্পত্তির পরিমান এখন ১২০০০ টাকা।
আবার একটা সাম্যবাদী সমাজে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে একই শিল্প কারখানা গড়ে তুলা হল, এম্পিরিকাল এভিডেন্স খুবই দৃঢ়ভাবে প্রমাণ করে যে ব্যক্তি-মালিকানা অনেক বেশি এফিসিয়েন্ট, তাই ধরলাম এই সরকারী শিল্প কারখানায় ৫০০ টাকা লাভ হল। ১০০ জন শ্রমিক প্রত্যেকে ৫ টাকা করে পেল। মোট সম্পত্তির পরিমাণ ১০৫০০ টাকা।
প্রথম ক্ষেত্রে পূঁজির মালিক লাভের অর্ধাংশ নিলেও শ্রমিকরা তুলনামূলকভাবে ২য় ক্ষেত্র থেকে বেশি লাভবান হচ্ছে। তাছাড়া জাতীয়ভাবেও প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে লাভ বেশি হচ্ছে।
তাহলে এখানে পুঁজির মালিক অর্ধেক লাভই নিয়ে যাচ্ছে এই অজুহাতে ব্যক্তি-মালিকানায় শিল্প-স্থাপন করতে না দিলে তো শ্রমিকদের নিজেদের ক্ষতিই, দেশেরও ক্ষতি। এটা ঠিক যে প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে ধণবৈষম্য বৃদ্ধি পাবে, কিন্তু প্রথমোক্ত শ্রমিকরা তবুও তুলনামূলকভাবে ২য় ক্ষেত্রের শ্রমিকদের থেকে ভাল জীবনযাত্রা পাবে।
মার্ক্স এবং এংগেলের জটিল তত্ত্ব না এনে, খুব সহজ যুক্তিতে কি আমাকে বুঝিয়ে দিতে পারবেন কেন এখানে তবুও সাম্যবাদ প্রাসংগিক?
১.
পুঁজি বিনিয়োগ করা হইলো কাঁচা মাল কিনতে ২ টাকা, শ্রমিকরে মজুরী দেওয়া হইলো ১ টাকা, আর পণ্য বাজারে পৌছাইতে খরচ হইলো ১টাকা আর সেই পণ্য বিক্রি হইলো ১০ টাকায়। এই তো বাজারের চিত্র। এখন বিনিয়োগকারী লাভ করলো ৬ টাকা। বৈষম্যটা এমনেই তৈরী হয়। ২টাকার কাঁচামালের সাথে ১ টাকার শ্রম বিনিয়োগের পর একটা পণ্যের মূল্য দাঁড়ায় ১০ টাকা। ঐ শ্রম যদি না যুক্ত হইতো তাইলে ঐ দ্রব্যের পণ্য হইয়া ওঠাই হইতো না। কিন্তু কেবল পুঁজির বিনিয়োগের কারনে ব্যবসায়ির সাথে শ্রমিকের প্রাপ্তির এই বৈষম্য কি প্রত্যাশিত লাগে আপনার কাছে? বা উল্টা কইরা কইলে শ্রমিকের শ্রমের মূল্য কি সঠিক মনে হয় পণ্যের বাজার মূল্যের নিরীখে?
আর বিভাজিত সমাজে, পুঁজির বিনিময়-বণ্টন কিম্বা যেকোনো ধরনের প্রাপ্তির সম্ভাবনাটাই বা কিভাবে ঘটে? এই প্রক্রিয়াই তো স্বচ্ছ কোনো প্রক্রিয়া না।
আর আধুনিক সময়ের নিরীখে যদি কইতে হয় তাইলে মালিকের সাথে বৈষম্যে থাকে তার চাইতে অধিক ব্যবসা বোঝা হোয়াইট কলার এক্সিকিউটিভটাও। এখন এই এক্সিকিউটিভরে আপনে কি কইবেন? শ্রমিক নাকি মালিক পক্ষের লোক?
২.
আপনে একটা পুঁজিবাদি রাষ্ট্রের এ্যাসপেক্টে যুক্তি করতেছেন কিনা সেইটা বুঝতেছি না। যদি তাই হয় তাইলে আমার কিছু বলার নাই। কারণ একটা ক্যাপিটালিস্ট স্টেইটে ব্যক্তি মালিকানার চাইতে রাষ্ট্রীয় মালিকানার উৎপাদন প্রক্রিয়া ইনএফিশিয়েন্ট বা লেস এফিশিয়েন্ট হইতে পারে কিন্তু সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রে তা একইভাবে হয় কীনা সেইটা তর্কসাপেক্ষ। আপনি যদি সোভিয়েত ইউনিয়ন আর ইউএসএ'র মধ্যে তুলনা করেন তাইলে বিষয়টারে আরেকটু ঐতিহাসিকভাবে বোঝার প্রয়োজন আছে বইলা মনে করি। ১৯১৭ সালের আগে রাশান জার শাসকরা দেশের জমি বেচার জন্য ইউরোপের ক্ষমতাশালি দেশগুলিতে ধর্না পর্যন্ত দিছিলো। সেই সময়ে ঐ এলাকায় প্রযুক্তির বা অন্যকোনো জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নয়ণ পর্যন্ত ঘটে নাই কয়েকজন সাহিত্যিকের লেখালেখি ছাড়া। সেই সোভিয়েত ভূমিতে পাল্লা লাগাইয়া প্রযুক্তির বিকাশ হইছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অব্যবহিত আগে-পরে। স্তালিন আমলে একবার ওভার প্রোডাকশনের দায় পর্যন্ত নিতে হইছে রাষ্ট্রের।
একটা প্রোলেতারিয়েত রাষ্ট্রে শ্রমিক-কিম্বা ম্যানেজমেন্ট সবাই একটা মতাদর্শিক অবস্থান থেইকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অংশ নিবো। এইখানে লেস এফিশিয়েন্সি হইবো কীনা বা হইলেও সেইটা আপনের দেখানো উদাহরণ মতোন এক চতুর্থাংশ হইবো কীনা সেই বিষয়ে আমার দ্বিমত আছে।
অনেক পরে লেখাটা চোখে পড়েছে, আজ আর সময় নাই কাল এটা নিয়ে কিছু বলবো অবশ্যই
ভারতবর্ষে আসলে সত্যিকারের বাম কখনো সুসংগঠিত হয়ে কোমড় সোজা করে দাড়াতেই পারে নাই। যোগ্য নেতৃত্বের প্রচন্ড অভাব। শিক্ষা ও আত্মত্যাগের প্রচন্ড অভাবও ছিল। নকশাল আন্দোলনের ব্যর্থতা এটার বড় উদাহরন। সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসগুলোও বেশ সুন্দর করে এ জিনিসগুলোকে উপস্থাপন করেছে।
আপনে অগ্নিবলাকা নামে্আবুল বাশারের একটা উপন্যাস আছে ঐটা পইড়েন...
কী হইছে দাদাভাই?
পুঁজিবাদের সব সুফল ভোগ করেও যারা মনের গহীনে কোথাও একটা আশা লালন করে যে, “একদিন, কোন একদিন, ঠিকই পৃথিবীতে শ্রেণীহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা পাবে”, তাদের জন্য সিপিএম এর পতনটা স্বস্তির নয় । সিপিএম নামেই বাম ছিল হয়তো, টাটাদের পৃষ্ঠপোষকতা হয়তো বাম-নীতির সাথে যায় না । কিন্তু মমতা বাম-বিরোধিতার নামে শিঙ্গুর-নন্দিগ্রামে যা কিছু করেছেন তাতে তার আজীবন লালায়িত মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নই সফল হয়েছে,আর সেটার মূল্য দিতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়েছে কয়েক যুগ । পশ্চিমা শক্তি, দিল্লী আর মমতার বহুদিনের ইচ্ছেপূরণ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের পরিবর্তনের স্বপ্নকে পুঁজি করে । বুশ থেকে ওবামা হলেও পরিবর্তন আসেনি, এখানে যাহা বিএনপি তাহাই আওয়ামীলীগ; দেখা যাক পশ্চিমবঙ্গে কি হয় ।
ওপাড় বাংলার মানুষ অন্তত: ভাগ্যবান যে, তাদের জ্যোতি-বুদ্ধ-মমতার ব্যক্তিগত সততা ঈর্ষ্ণনীয়ভাবে প্রশ্নাতীত ।
~
মমতা শিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে কি করছে সেইটা জানি না, তবে সাধারণ মানুষ সরকারের একটা অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে লড়ছিলো জানি। পুঁজি বিনিয়োগের নামে স্বৈরাচারী মনোভঙ্গীতো কখনো সমর্থনীয় না। মানুষের জায়গা-জমি কোনো কথা ছাড়া একোয়্যার করতে শুরু করবেন, সঠিক পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার পরিকল্পণা ছাড়া এইটা কি ঠিক মনে করেন নাকি?
সিপিআইএম এমনকি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটও না। তারা কেবলি একটা মানবতাবাদি দল যারা পুঁজির বেইসিক চরিত্রের কাছে নিজেগো সমর্পণ করছে।
আসলে কী বাম বলতে দুনিয়ায় কিছু আছে আর?
অবশ্যই আছে। আপনার সাথে দ্বিমত করছি।
।
ক্যান, আমাদের বাম হাত
বাম বলতে দুনিয়ায় অনেক শক্তিই আছে, পুরা দক্ষিণ আমেরিকা জুইড়া আছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা। পূর্ব ইউরোপেও সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরাই ক্ষমতায় ফিরতেছে। এরবাইরে নেপালে মাওবাদিগো অবস্থানও বেশ ভালো বইলাই শুনছি।
আমারো রিয়াদের মতোন একই প্রশ্ন ডান বইলা আসলে কোনো কিছু পৃথিবীতে এখন কিছু কি আছে? মুক্ত বাজার বইলা কোনো নীতি কি পুঁজিবাদে এখন অনুসৃত হয়?
পাল্টা প্রশ্ন যদি করি, আসলে কী গনতন্ত্র বলতে দুনিয়ায় কিছু আছে আর?
~
মন্তব্য করুন