বামপন্থীদের চক্রান্তে মুজিব ধর্মনিরপেক্ষ হইছিলো!!!???
কিছুদিন আগে আমার এক ফেইসবুক স্টেটাসে এক পরিচিত আওয়ামি সমর্থক কোনো এক যুক্তির প্রেক্ষিতে হঠাৎ একটা অভিযোগ নাজিল করলেন। তিনি দৃঢ়ভাবেই কইতে চাইলেন ৭২ থেইকা ৭৫'এ আওয়ামি লীগের ভেতরে থাকা বামপন্থী নেতারাই শেখ মুজিবের সর্বনাশ করছিলো। তার উত্থাপিত এই অভিযোগ আমি সেইসময়টায় পাত্তা না দিয়া উড়াইয়া দিলাম। মনে খানিকটা খচ খচ করতে থাকলো যদিও...বাংলাদেশের ইতিহাস যতোটুক জানি তাতে এই বাম প্রভাবের ক্ষেত্রে তাজউদ্দিন সাহেবরে দায়ী করতে চাইলো সেই পরিচিত এইটা বুঝতে পারতেছিলাম স্পষ্ট। এছাড়া বামপন্থার অভিযোগের জন্য আর কোনো উপলক্ষ্য পাইলাম না। তবুও এই দেশের মানুষের গড় উপলব্ধি আর চিন্তা কাঠামোর বিবেচনায় বিষয়টারে উপেক্ষা করনটাই শ্রেয় বইলা ভুইলা গেলাম সব ক্ষোভ।
সেই স্টেটাসে আলোচনা পরবর্তী তিনদিন অতিক্রান্ত হইলো। আজকে হঠাৎ দেশের রাজনৈতিক খবরাখবর দেখতে রাজনৈতিক কর্মসূচীভিত্তিক সংবাদ দেখতে গিয়া হঠাৎ চোখ আটকাইলো একটা জায়গায়, সংবিধানে ‘আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস’ ওঠানো বা প্রতিস্থাপন করা যাবে না: ওলামা লীগ। সেই পরিচিত আওয়ামি সমর্থকের মতোন আওয়ামি ওলামারাও অভিযোগ উত্থাপন করছে বামপন্থী প্রভাবের, যারা এই দেশরে ধর্মনিরপেক্ষ হিসাবে দেখতে চায়। যেহেতু আলোচনার সুযোগ নাই তাই তাদের অভিযোগ কেবল ধর্মনিরপেক্ষতায়ই রইয়া গেছে। কিন্তু এই আলোচনা বাহাত্তরের সংবিধানেও যে একইভাবে বলবৎ হইতো সেইটা বুঝতে পারি। তাজউদ্দিনরে বলির পাঠা বানানের একটা প্রক্রিয়া বর্তমান আওয়ামি শাসকেরা বানাইতে শুরু করছে এই কন্সপিরেসীর গন্ধটা পাইতে শুরু করি পরিচিত আওয়ামি সমর্থক আর আওয়ামি ওলামাগো বয়ানের এমন আশ্চর্য্য সাযুজ্যে। অথচ একাত্তরের জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম চলাকালীন সময়ে তার ভূমিকা নিয়া কারো কোনো প্রশ্ন ছিলো না। পাকিস্তানিরা যখন ধর্মীয় নির্যাতন শুরু করছে তখন তার মধ্য দিয়া গইড়া উঠা সেক্যুলার মূল্যবোধের বিষয়টারে মুক্তিযুদ্ধের মূলনীতি হিসাবে গ্রহণ বা প্রচারে কোনো প্রশ্ন উঠে নাই। কারণ ঐ মূল্যবোধ বাঙালি জাতিরে ভিন্নতা দিছে বিশ্বের মানচিত্রে।
বিষয়টারে কেবল কিছু মাওলানার উপলব্ধি হিসাবে উড়াইয়া দিতে ইচ্ছা করলেও ব্যর্থ হই। কারণ এই চক্রান্তের বিস্তারটা আমি টের পাই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের অংশ হিসাবেই দেশে যখন যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের প্রস্তুতি চলে তখন আমার কাছে এই পদক্ষেপরে একটা পরিকল্পণা হিসাবে দেখাটারেই যৌক্তিক লাগে। সরকার ইতোমধ্যেই সংবিধান থেইকা বিসমিল্লাহ উঠানো হইবো না বইলা ঘোষণা দিছে। তারপরেও কেনো ওলামা লীগের এমন কর্মসূচী? মহাজোটে অবস্থানকারী ইনু-মেনন-দিলীপ বড়ুয়াগো ক্ষমতার প্রভাব আসলে কদ্দূর? এই প্রশ্নের কাঠামো বেশ কঠিন হইলেও আসলে উত্তরটা সকলেরই জানা। বর্তমান আওয়ামি মহাজোটে বাম ঘরানার দাবীদার এইসব নেতাগো কোনো যোগ্যতায়ই আসলে নাই। একজন আওয়ামি ওয়ার্ড কমিশনারের পাঠানো আবেদনেও মেনন সাহেবরে কোনোরকম বাছবিচার বা যথাযথ তদন্ত ছাড়া এ্যাপ্রোভাল দিতে হয়। ইনু'র তো সাতই নভেম্বরে তার নিজের মতের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে হয় গতো তিন বছর ধইরা, আর দিলীপ বড়ুয়া? তিনি আছেন চীনের সাথে তার সম্পর্কের বদান্যতায়, শিল্পে তিনি বন্দী আছেন বাণিজ্যের ফারুক খানের কাছে।
তাইলে এই বামপন্থীগো বলির পাঠা বানানের চক্রান্তে কার লাভ?
আমি একেবারেই সোজাসাপ্টা দেখি আওয়ামি কন্সপিরেসী অনুযায়ী চলতে থাকা প্রচারণা কৌশলের উদ্দেশ্য বিধেয়। যেই কন্সপিরেসীতে এই দেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা আজ পাকিস্তানিগো প্রতি ঘৃণাবাদে পর্যবসিত সেই একই চক্রান্তে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বপ্ন আজ ধূলিস্মাৎ হওয়ার পথে। একসময় আমি ডরাইতাম, যুদ্ধাপরাধী বিচার যদি আসলেই সমাপ্ত হয় তাইলে এই দেশে জামায়াতি রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হইয়া যাইবো। এই কারনেই সামহোয়্যারে থাকতে যুদ্ধাপরাধীগো বিচারের দাবীর সাথে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বাতিলের দাবীটারে ব্লগারগো আন্দোলন পরিকল্পণার সাথে যুক্ত করনের প্রস্তাব দিছিলাম। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যাওয়া ঘৃণাবাদীগো গলার জোরে আর নোংরা কৌশলে পুরা আন্দোলনটারেই স্তিমিত কইরা দিছিলো।
আজকে দেশে চলমান রাজনৈতিক চর্চায় আমি আওয়ামি যেই ঘৃণাবাদি এজেন্ডা দেখি অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধরে কেবলি পাকিস্তানিগো যুদ্ধকালীন নির্যাতনের একটা প্রতিবাদী অবস্থান হিসাবে প্রমাণের অপচেষ্টা, তারই ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনামাফিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের চাহিদাটারে বামপন্থীগো চক্রান্ত হিসাবে চালাইয়া দেওয়া হইতেছে। এখন আর কিছুর দরকার নাই কেবল কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর বিচার করো আর তার পরে পাকিস্তানরে ঘৃণা করতে শুরু করো, এটাই এই সহস্রাব্দের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। যার কোপানলে হারাইয়া যাবে অর্থনৈতিক সূষম বণ্টনের প্রত্যাশা, রাজনৈতিক সম্মিলনে গণতান্ত্রিক চর্চার স্বপ্ন আর ইহজাগতিকতার প্রয়াস।
ঠিক আগের পোস্টের কিছু প্রতিক্রিয়া চোখে পড়লো এদিক ওদিকে। যারা আমার ঘৃণাবাদের বিরোধী অবস্থানরে রাজাকার ট্যাগিং দেওনেরও চেষ্টা করছেন। কিন্তু আওয়ামি এজেন্ডার কন্সপিরেসীতে যে সেই সব ট্যাগবাজ আবেগী মানুষগুলি বিভ্রান্ত হইতেছেন সেইটা আমি ভালোই উপলব্ধি করতে পারি।
আমি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অবসান চাই!





কি যা হইছিল তখন , কইতে পারুম্না ।
ভাগ্যিস জন্মাইনাই তখন
পরবর্তী কোনো এক সময়ে জন্মাইয়াই বা কি লাভ হইছে?
৫৩ বার পঠিত, ১ টি মন্তব্য!!!
আমি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই, ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অবসান চাই!
~
বিষয়টা ৫৩ জন পাঠকের দৃষ্টিগোচর হইছে তারমানে...খারাপ না।
আগেই জামাতি হইছি ....... রাজাকার হইছি...... নতুন করে হবার শখ নাই আর
পোস্টে কমেন্ট করলে এর পর যুদ্ধাপোরাধী বানায় দিবো তেনারা 
সমস্যাতো এইখানেই, এই ঘৃণাবাদী আওয়ামি স্বজনরাতো নিজেরাই ট্রাইব্যুনাল বসাইয়া দিছে। তাগো মতের সাথে না মিললেই যে কেউ ছাগু অথবা পাকিপ্রেমী টাইটেল পাইয়া যায়। কয়দিন পর আর এই সব ভার্চ্যুয়াল বীরপুঙ্গবগো দেয়া টাইটেলে কারো আস্থা থাকবো না...
নোয়া এইবার আপ্নারে নিয়া কবিতা লিখা শুরু কর্পে, সারিন্দারা বাজাবে ঢোল
ঐসব স্যাটায়ারের যে কোনো গুরুত্ব নাই সেইটা আজকাল যে কেউই বুঝে...
আরেকটা মজার ব্যপার লক্ষ্য করেছি
।
তেনারা বলেন, "ব্লগের সব জামাতি - রাজাকার দের ছানা পোনাদের পিতাই নাকি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, অথচ তেনাদের কারো পিতাই মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না ৭১ এ। তেনাদের পিতাতো দূরের কথা, বংশের কেউই মুক্তিযুদ্ধ দূরের কথা বাংলাদেশের কোনো সংগ্রামেই যুক্ত ছিলেন না। তেনারাও কিন্তু মাঠে ময়দানে যে কোনো সংগ্রাম হতেই ১০০ হাত দূরে ছিলেন। যত গলাবাজী শুধু ব্লগেই। এই জন্য বলি ব্লগে দারুন বিনোদন।
কারো পিতা কি ছিলেন বা কারো পরিবারে মুক্তিযোদ্ধা স্বজন ছিলো কীনা সেই বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। এই বিষয়টা অনেক স্পর্শ কাতর আর ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক...
বামপন্থীদের চক্রান্তে বঙ্গবন্ধু ধর্মনিরপেক্ষ হইছিল কিনা সেটা কতটুকু প্রাসংগিক জানিনা, কারন এইটা প্রমাণ করা যাইবনা। কিন্তু মুজিব হয়ত আদতে ধর্মনিরপেক্ষ পুস্তকি ভাষায় না থাকলেও আপাদমস্তক অসাম্প্রদায়িক ছিল সেটা আঁচ করা যায়। কিন্তু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ সংবিধানে ঢুকিয়ে দেয়াটা কতটুকু জরুরী সেটাও প্রশ্ন। ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকাইলে কি হঠাৎ কইরা আমগ জাতীয় চরিত্র পরিবর্তন হয়া যাইব? আগামীবার বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসলে কি নির্বাচন পরবর্তী সংখ্যালঘুদের প্রতি নৃশংসতায় কোন মাকে "বাবারা, আমার মেয়ে ছোট, তোমরা একজন একজন আস" এইটা বলতে হইবনা? ভারত তো সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ, কিন্তু এইটা তাদের কি লাভটা করছে জানিনা, ভারতের মত সাম্প্রদায়িক তো আধুনিক বিশ্বে খুব কমই দেখি। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকাক না ঢুকাক, রাষ্ঠ্র ধর্ম ইসলাম বাদ দেয়ার সময় এসেছে, তবে নিশ্চিত যে কোন সরকারই সেটা করবেনা। নির্বাচনে ভোট হারাইতে কে চাইবে?
প্রথমে অফটপিক কথা কই, আ,ার আগের পোস্টে করা আপনার প্রশ্নের কিছু জবাব দিছিলা,...
১.
ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র সাংবিধানিক হইলে দেশের আইন ও নির্বাহী বিভাগ সেইমতো চলবো। সংবিধান কেবল একটা ভাষা বা শব্দ সংরক্ষণের জায়গা না। এইখানে একটা শব্দ মানুষের অধিকার আর চাহিদার সম্পর্ক নির্ধারণ করে। সংবিধান একটা দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়া।
২.
সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা উল্লেখ কইরা মানুষের চরিত্র পাল্টানো সম্ভব না হয়তো, কিন্তু রাষ্ট্রস্থিত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত হয়, তারা আইনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
৩.
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম পাল্টাইয়া কি ওলামা লীগের ভাষ্যমতোন আল্লাহ'র প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস এই উল্লেখ চান আপনি? নির্বাচন মাথায় রাইখা করুক আর নিজেগো অতীতরে ছদ্ম আবরনে ঢাকতেই এই কৌশল নেক এইটা আওয়ামি কন্সপিরেসীর অংশ সেই বিষয়ে আমি দিনদিন নিশ্চিত হইতে পারতেছি।
৪.
শেখ মুজিবর কতোটা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন সেই বিষয়ে আমি অবশ্য নিশ্চিত না। তিনি এই দেশরে প্রথম ইসলামী রাষ্ট্রসমূহের সংঘে তালিকাভূক্ত করার উদ্যোগ নিছেন। তিনি ইসলামী শরীয়তি বহু আইনের প্রতিফলন দেখাইছেন সংবিধানে। আর ওলামা লীগতো কইলোই তিনি নাকি মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাও আল্লাহর নামেই করছিলেন...আর প্রথম সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস শুরু হইছিলো তার আমলেই। তৎকালীন সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম বকুল পাবনায় মন্দির ভাইঙ্গা হিন্দু ধর্মাবলম্বীগো নির্যাতন কইরাও পার পাইয়া গেছে শেখ মুজিবর সাহেবের বদান্যতায়...
আর এখনকার এইসব আওয়ামি প্রচারণা মতে তো মনে হইতেছে শেখ মুজিবর আসলে সাম্প্রদায়িক ছিলেন, বামপন্থী কিছু নেতার চক্রান্তে তারে অসাম্প্রদায়িক ভাব ধরতে হইছিলো বা তিনি বাধ্য হইছিলেন কোনো কারনে।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাষ্ঠ্রীয়ভাবে বা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বৈষম্য করতে চাইলে সেটা সংবিধানে "ধর্মনিরপেক্ষতা" থাকলেও হইব না হইলেও হইব, সংবিধানের সাথে রাষ্ঠ্রীয় চরিত্রের খুব ভাল সম্পর্ক উন্নয়নশীল দেশগুলাতে নাই। নাহ, আমি সংবিধানে কোন ধর্মীয় লেবাস চাইনা, কিন্তু ধর্মীয় লেবাস নাই সেটা প্রমাণ করার জন্য "ধর্মীয়-নিরপেক্ষতা" যোগ করতেই হবে, সেটা নিশ্চিত না। এর চেয়ে বরং "সকল ধর্মের সহাবস্থান" টাইপ কিছু যোগ করলে সেটা জনগণ গ্রহণ করবে এবং রাজনৈতিক দলগুলাও এত অনাগ্রহ দেখাবেনা। বিভিন্ন কারনে "ধর্মনিরপেক্ষতার" সাথে "ধর্মহীনতা" বা "ধর্মবিদ্বেষ" এসব ট্যাগ জুড়ে গেছে এবং এই ট্যাগের পিছনে সেক্যুলারিজমের চেয়ে সেক্যুলারাইজেশান বেশি দায়ী বলে তালাল আসাদের লেখা কিছুটা পড়ে মনে হইছে। এর জন্য ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদেরই দোষ বেশী, তারা শব্দটার গুড় অর্থ জনমনে ঢুকাইতে পারেনাই। তাছাড়া নাইন-ইলাভেন পরিবর্তিত বিশ্বপরিস্থিতিতে সেক্যুলারিজমের ধারণা কিছুটা পাল্টাইছে এবং মুসলমান জনমনে এটা ভিন্ন অর্থ বহন করছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আরো পন্ঞাশ বছরেও সংবিধানে কোন সরকারই ধর্মনিরপেক্ষতা ঢুকাবেনা। রাজনীতিতে আদর্শবাদের জায়গা নাই, এখানে ক্ষমতার সমীকরনই বড় ব্যাপার। সেজন্য যদি কিছু অগ্রগতি অর্জন করতেই হয়, সংবিধানে সকল ধর্মের জনগোষ্ঠীর সহাবস্থানজনিত কোন ধারা যোগ করা যেতে পারে, এইটা অনেক বেশী বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়।
১.
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উপর বর্তমানে যেই নির্যাতন-নিবর্তনমূলক আচরণ চলতেছে সেইখানে ধর্ম একটা বড় ইস্যূ হিসাবে উপস্থিত। আমার কাছে এই বিষয়ে বেশকিছু লিখিত গবেষণা রিপোর্ট আছে।
২.
আমি রাষ্ট্রের ধর্মহীনতারেই বুঝি ধর্মনিরপেক্ষতা কইতে। মানুষ তার ধর্ম পালন করতেই পারে, একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রেই সকল ধর্মের সহাবস্থান ঘটতে পারে বইলাই মনে করি।
৩.
তালাল আসাদদের ডিসকোর্স দিয়া যদি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সামলানের উদ্যোগ নেয়া হয় তাইলে তো হইতোই। তালাল আসাদ ধর্মীয় যেই ডিপ্রাইভেটাইজেশনের কথা কইতেছে সেইটা এই দেশে করা হইলে এই মুহুর্তে আমিনীরা যা করতাছে সেইটারে বন্ধ করা কখনোই সম্ভব না। এই দেশে কখনোই একটা সঠিক নারী নীতি হইবো না, কখনোই শিক্ষাব্যবস্থা একমূখী হইবো না, কখনোই এই দেশের মুসলিমরা খিলাফতের স্বপ্ন দেখা বাদ দিবো না...
মূল কথাটা বলতে চাইছিলাম, সামাজিকভাবে একটা অসাম্প্রদায়িক, ধর্মীয়ভাবে সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরী করাটা রাষ্ঠ্রকে সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ করার চেয়ে অনেক জরুরি।
আপনে যেই সমাজের কনসেপ্টের কথা কইতে চাইতেছেন, সেইটা এই রাষ্ট্ররে ইসলামি রাইখা, সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিধান রাইখা একটা স্কুল খুইলা দিলে যেমন সম্ভব না, তেমনি কেবল সরকারী প্রচারণাতেও সম্ভব না। এইটা করতে হইলে আগে এই রাষ্ট্রের আইন আর নির্বাহী বিভাগরে ধর্মনিরপেক্ষ ঘোষণা দিয়াই শুরু করতে হইবো। রাষ্ট্র আর কোনো ধর্মরে পৃষ্ঠপোষকতা করবো না এই ঘোষণা দিতে হইবো। আর রাষ্ট্রীয় যে কোনো বিনির্মাণে ধর্মনিরপেক্ষ অ্যাটিচিউড দেখাইতে হইবো। তাতে প্রথমে ধর্মীয় সকল মনোভঙ্গী নিরুৎসাহিত হইবো তারপর শান্তির শিক্ষা পাইবো। এইটা একটা সার্বজনীন পলিসির প্রথম ধাপ।
ভারতীয় জনগোষ্ঠী গত ষাট বছর ধরেই সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ, তাতে কি লাভ হইছে? বরং তারা তো বাংলাদশীদের থেকে অনেক বেশী সাম্প্রদায়িক এবং অসহনশীল।
যুক্তরাষ্ঠ্রেও কিন্তু ইন গড ঊই ট্রাস্ট আছে, তাতে রাষ্ঠ্রের চরিত্রের পরিবর্তন হয়নি, যুক্তরাষ্ঠ্র বা ইংল্যান্ড (যাদের রাষ্ঠ্রীয় চার্চ আছে), ভারত থেকে অনেক বেশী সহনশীল। যদিও ৯/১১ এর পরে কিছুটা ভিন্ন হইছে। মূলকথা হচ্ছে সংবিধানে একটা ধারা যোগ করে দিলেই তেমন কোন লাভ আসলে হয়না। এজন্য সুদদুরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে জনমনে ধারণাগুলো প্রোথিত করতে হয়।
মানে রাষ্ঠ্র উপর থেকে চাপিয়ে না দিয়ে জনগনই রাষ্ঠ্রকে বলুক তারা সংবিধানে অসাম্প্রাদয়িক চেতনা দেখতে চায়। রাষ্ঠ্র চাপিয়ে দিলে তাতে শেষে কোন লাভ হয়না। জংন এটা বলার জন্য জনগনেকে সেভাবে তৈরী করতে হবে। সেটা কেমন করা যায় সেটা নিয়েই বেশি ভাবা উচিৎ।
১.
ভারতীয়রা বাংলাদেশীগো চাইতে সহনশীল কি সহনশীল না এই পরিমাপের নিরীখটা নিয়া আমার আপত্তি আছে। দ্বিজাতিতত্ত্বের ফর্মূলায় ভাগ হওয়া একটা রাষ্ট্রে ধর্মনিরপেক্ষতার শ্লোগানইতো হাস্যকর লাগার কথা। আর অন্যদিকে বাংলাদেশের সৃষ্টি হইছিলো এই তত্ত্বরে প্রশ্নের মুখোমুখি কইরা...
২.
যুক্তরাষ্ট্র কখনো এই ক্ষেত্রে একটা মার্জিনালাইজ্ড স্টেইট সিস্টেমের সাথে তুলনীয় হইতে পারে না। তারা ইন গড উই ট্রাস্ট বইলা আসলে চলে ইন মানি উই ট্রাস্টের ফর্মূলায়। বাংলাদেশের মতোন একটা অবিকশিত পুঁজিবাদি রাষ্ট্রের পরিস্থিতি আর মার্কিনীগো পরিস্থিতিরে এক করলেতো চলবো না।
৩.
৯/১১ এর মধ্য দিয়া প্রমাণিত হইছে তারা ধর্মের ব্যাপারে আসলে কতোটা কনসার্ন্ড। অবদমনরে তো আর অভ্যাস কইতে পারা যায় না।
শেখ মুজিব ধর্মহীন আর ধর্মনিরপেক্ষ দুইটা কনসেপ্টকে গুলিয়ে ইসলামিক কায়দায় মরুভূমির বালুঝড় সৃষ্টি যদি না করতেন, তাইলে হয়তো আজ এই ধরণের মৌলবাদী-নামৌলবাদী মাতম বইতো না । কোথায় সেক্যুলার আর কোথায় বাংলাদেশি কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা । ভারত সেক্যুলারকে ধর্ষণ করে কথিত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বীকৃতি লাভ করে । আর আমরা করলাম উল্টো । সেক্যুলারকে স্যাডিস্ট কায়দায় ধর্ষণ-বলাৎকার করে ছেড়ে দিলাম আরবের মরুভূমির 'ল্যু হাওয়া'য় ! হয়ে গেলো . . . কথিত বাংলাদেশি ধরমনিরপেক্ষতাবাদ ! কথিত জাতীয়তাবাদ দিয়ে যখন আর চলেনা তখন ই ঠেনে আনো এটা সেটা । যেমন এখনকার প্রধাণ খবর ধর্মনিরপেক্ষতা ।
আপনের "কথিত" মন্তব্য আমার চিন্তার আবহাওয়ায় আরবের "ল্যু" হাওয়াই বহাইয়া দিলো...কিছুই বুঝলাম না।
সত্যি তাই !
হ...
হ...কিন্তু ধর্মভিত্তিক রাজনীতির অবসান চান না?
সেটা আলাদাভাবে বলার কি আদৌ প্রয়োজন আছে ? সেক্যুলার রাষ্ট্র দর্শনে অঙ্গিকারবদ্ধ সংবিধানে বিসমিল্লাহ , রাষ্ট্রধর্ম বা ধর্ম্ভিত্তিক রাজনীতি থাকা সাংঘর্ষিক কিন্তু কথা হইল আম্বালীগ বরাবরই ছিল ছদ্ম সেক্যুলার আদতে ভন্ড , এরা আওয়ামী ইসলামী ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনে তৎপর ।
আম্বালীগের ক্রমলাইন :
মুসলীম লীগ (১৯০৫)
আওয়ামী মুসলীম লীগ (১৯৪৯)
আওয়ামী (মুসলীম উহ্য) লীগ -১৯৫৫
(আওয়ামী উহ্য )মুসলীম লীগ (১১৯৭২ থেকে শুরু তবে লিখিত নয় আচরণে । সম্ভবত সাহিত্যিক -আমলা আবদুশ শাকুর ১৯৭৪ সালে বলেন-আওয়ামী লীগ 'মুসলীম লীগ'ই রয়ে গেছে )
তবে সুবিধাবিচারে এরা সেক্যুলার লাড্ডু ও ধর্মের জিগির দুটারই (অপ)ব্যবহার করে যেহেতু দুটারই বাজার রয়েছে । লুম্পেন বুর্জোয়া ছদ্ম সেক্যুলার আম্বালীগের এসব ভণ্ডামীতে মর্মাহত হবার অবকাশ আছে কিন্তু হতাশ ও বিস্মিত হবার কিছু নেই ।
আওয়ামিরা যে মুক্তিযুদ্ধরে কেবলি একটা যুদ্ধ বানানোর যেই ন্যারেটিভ তৈরী করতেছে সেই বিষয়ে আপনার ভাবনা শেয়ার করতে পারেন। ঔপনিবেশিক শাসক পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিষয়ে তারা যে কৌশলগত অবস্থান নিয়া ফেলছে সেইটা কি আপনারও মনে হয় না?
অনেকেই বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, ধর্মনিরপেক্ষতা আর আওয়ামি লীগ এ শব্দগুলোকে এক সাথে গুলিয়ে ফেলে।
মন্তব্য করুন