ডাইরী ৩৯
চোখের ডাক্তার দেখাইয়া বিপদেই পড়লাম। নতুন চশমা দিছে। বাল্যকালের সকল সমস্যা নাকি আবার ফিরা আসছে। এক্সিসে সমস্যা। মাইওপিয়া হইছে দ্বিগুণের বেশী। চশমার সিলিন্ড্রিক্যাল কাঁচের অনভ্যস্ততায় পড়ছি। তয় চশমার দোকানে গিয়া ছোটকালের সেই শিয়াল পন্ডিত ফ্রেমটা কিনতে ইচ্ছা করতেছিলো বহুত। কিন্তু কি ভাইবা জানি কিনি নাই।
আগে এইরম সিদ্ধান্ত নেওনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার ভাবতাম না। এখন কেনো যে ভাবি ক্যান জানি। ভাবাভাবির জায়গা থেইকা বাইর হইয়া নিজের মতোন হওনের সিদ্ধান্তটাই নিতে চাই আবার। সেই বাল্যকালের মতোন। যা ইচ্ছা করবো তাই করুম।
শবে বরাতের রাইতে মরিচ বাতি বানানের লেইগা পটাশিয়াম নাইট্রেট, সালফার আর গরুর ঝিল্লি লইয়া ধরা খাইলাম পুলিশের হাতে। ঘটনাক্রমে একমাস হাজতবাস। বাপে তখন ভারতবাসী। সে ফিরা আসছে একমাস পর হাতে একগাদা পুজাবার্ষিকী আর একটা এসএস ম্যাচ ব্যাট। আইসা খুশিতে যখন গদগদ, তখন মা হাসতে হাসতে কইলো পোলায় তো তোমার শ্বশুড়বাড়ি ঘুইরা আইছে। সে কিছু না ভাইবাই চড় মারলো।
আর আমি কিছু না ভাইবা পলাইলাম বাড়ি থেইকা। ২০০ টাকা পকেটে লইয়া সীমান্তবর্তী শহর রুহিয়ায় চইলা গেলাম। আজকাল সেইসব দিনের মতোন বাধাহীন হইতেই ইচ্ছা করে আবার। নিজেরে কেরম আটকা আটকা লাগে।
আমার পুরানা স্বভাবে ফিরা যাইতে ফিরা যাইতে পারতেছি মনে হয়। চোখের ডাক্তার থেইকা চইলা আসছি আটকা লাগনের অনুভূতিতে...আসলেই শৈশব-কৈশোরের সেইসব স্বাধীনতারে আবার ফিরা পাইতে ইচ্ছা করতেছে বহুত...দায়বদ্ধ থাকনের দায় দিয়া কিছু হয় না মনে হয়। থাকতে হয় আস্থা। আমরা কেউ আস্থাশীল না হইয়াই অবদমনের খেলা খেলতে শুরু করি।
আর অবদমন নয় এইরম জায়গা থেইকাই আবার নিজের পৃথিবীটারে সিলিন্ড্রিক্যাল কাঁচের এই পাশ থেইকা দেখতে ইচ্ছা করতেছে আজকাল...





আগের গ্লাস দর্কার নাই... নয়াটাই জোশ
বরাবারই পেছনে ফিরতে ইচ্ছে করে, তাকিয়ে দেখা ছাড়া ফেরার শক্তি প্রকৃতি আমাদের দেয়নি।
স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন
আমার ইচ্ছে করে না পুরনো দিনে ফিরতে। নতুনকিছু্ই ভালো
একমত
আমার তো দুইটাই ভাল্লাগে
চমৎকার!
শিয়াল পণ্ডিতের চশমাকে এখন বলে হ্যারি পটারের চশমা।
আমি শ্লার সব সময়ই তথাকথিত ভালো ছেলে ছিলাম। জীবনেও বাঁদরামি করতে পারি নাই। সারাটা জীবন গৃহী থাইকা গেলাম। মাঝে মাঝে কষ্ট লাগে। একটু শয়তান টাইপ হইলেই জীবনটারে উপভোগ করতে পারতাম!
আমি কি চাই নিজেই জানি না। কোনটা ভালো আর মন্দ তাও জানি না। কেনো কিছু ভালো আর কেনো কিছু মন্দ তা বুঝিও না।
আমি এমন কেনো?
ভালো আর মন্দ চিনতে গিয়াইতো ঝামেলাটা লাগে...ঐ সব চিননের চাইতে যা ইচ্ছা করবো তা করাতেই মনে হয় শান্তি বেশী।
ভালো আর মন্দ কারা চিনে সেইটা জানেন আপনে?
জ্ঞানী গুনী স্নিগ্ধ সবজান্তারা .........
মন্তব্য করুন