রহস্যময়তা আর আমার মা বিষয়ক কবিতা...
শৈশবে আমার মা কবুতর পুষতেন। ছোট ছোট ঘুলঘুলিময় খোপে হরেক রকম কবুতর। তাদের গায়ের রঙে, শরীরের আয়তনে, চোখের সম্মোহনিতে নাম পাল্টে যেতো। আমার মা সেইসব নামের আড়ালে নিজেকে আবদ্ধ রেখে খুঁজতেন রহস্যরে। তার একতালিতে উড়েছে রহস্যরা, আরেক তালিতে ফিরে আসতো রহস্য গাঁথা।
একজোড়া কবুতর ছিলো যারা লুটে আনতো অন্য কবুতর পাল। ওপিয়াম রসে নিমগ্ন শিরাজী কবুতর জোড়া নারী ও পুরুষ ভেদে ঠুকরে দিতো চোখে...অন্ধপ্রেমে তারা পিছু নিয়ে আমার মায়ের ঘুলঘুলিতে ঠাই নিতে এসেছে তখন। এক যোগ এক করে এভাবে রহস্যময়তায় বেড়েছে কবুতরের পাল।
কবুতর রহস্যে হারিয়ে যাওয়া মা আমার, তালি বাজাতো অন্তর নিঃসৃত আবেগে...উড়ে যেতো কবুতর। আবার সময় গেলে ঠিক ফিরে আসতো আপন খোপে। আমার মায়ের কাছে এই ফিরে আসার কোনোই অর্থ ছিলো না কখনো...
রহস্যের ঘেরাটোপে কবুতর পাল, মুক্ত কবুতর পাল অভ্যস্ত জীবনে ফিরে এসেছে সবসময়েই। ফিরে আসার নিয়মে আমার মা রহস্যের ঘেরান পেতেন। ফিরে আসবার এই অব্যর্থ নিয়ম হয়তো ব্যখ্যাতীত ছিলো না কখনো, তবু এমন প্রাণীজ ভালোবাসায় ফিরে আসার প্রবণতা রহস্য নামেই লিপিবদ্ধ ছিলো আমার মায়ের ডাইরীতে।
মানুষ কখনো ফিরে আসে নাই ইতিহাসে, একই স্রোত কখনো অবগাহন মন্ত্র লিখে নাই বারে বারে। মানুষের ফিরে আসা মানে বদলে যাওয়া। মানুষের ফিরে আসা মানে বেঁচে ওঠা নতুন জীবন...





আপাতত আপনার মাএর জন্য শুভকামনা। লেখা কেমন হইসে পরে বলবো।
ওকে...
বাহ, মুগ্ধ হলাম...
(মা আছেন কেমন ?)
ভালো আছেন...
অসাধারণ লাগলো লেখাটা, ভাস্করদা। আপনি যতোই বলুন আপনার মায়ের কাছে যা রহস্য তা ব্যাখ্যাতীত ছিলো না, আমার কাছে কিন্তু ব্যাপারটিকে রহস্যময়ই মনে হলো!
পশু-পাখির সঙ্গে আমার মায়েরও ছিলো এক অদ্ভুত সম্পর্ক। তিনি ওদের সাথে কথা বলতেন! একতরফা নয়, মনে হতো - কনভারসেশন চলছে!! যেন মা'র কথা বুঝতে পারতো ওই ভাষাহীন প্রাণীগুলো! কোনো কোনো ঘটনা এতটাই রহস্যময় লাগতো, যে নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস করতে পারিনি। পারিনি, কারণ এসব ঘটনার কোনো ব্যাখ্যা নেই আমার কাছে।... সত্যি কথা বলতে কি, ব্যাখ্যা করতে পারি না বলে বলারও সাহস হয় না! মানুষ তো গাঁজাখুরি গল্প বলে ভাববে! অন্তত মায়ের গল্পগুলোকে কেউ মিথ্যে ভাবলে খারাপ লাগে, মানতে কষ্ট হয়!
শেষ দুটো লাইন অসামান্য। হয়তো এই দুটো লাইনের জন্যই আগের অংশটি লিখেছেন। আর সব মিলিয়েই লেখাটা দারুণ উপভোগ্য হয়েছে।
ধন্যবাদ মোস্তফা ভাই...
অসাধারন লাগল লিখাটা। আপনার মা কি এখন ভাল আছেন দাদা?
মন্তব্য করুন