নৈতিকতা বিষয়ক কিছু এলোমেলো ভাবনা...
একবার হযরত মুহাম্মদের কাছে তার এক উম্মত পুত্রের চিনি প্রীতি বিষয়ে অভিযোগ নিয়া আসলেন। পুত্র চিনি খাইয়া সব উড়াইয়া ফেলতেছে এমনকি পিপীলিকারাও নষ্ট করবার অধিকার পাইতেছে না। মুহাম্মদ পুরা অভিযোগটা শুনলেন, তারপর তাকে এক সপ্তাহ পর পুত্রকে নিয়া আসতে বললেন। এক সপ্তাহ পর পুত্র সহ উম্মত আবারো হযরতের নিকটে যাওনের পর তিনি তৎক্ষণাৎ পূত্রকে অধিক চিনি খাওয়ার কুফল বুঝাইয়া দিলেন। উম্মত এবং তার পুত্র উভয়েই খুশী মনে হুজুরের বিশ্লেষণে-ব্যবস্থা মাইনা নিলো। সবশেষে উম্মত ঠিক বিদায় নেওয়ার সময় হযরত মুহাম্মদরে জিজ্ঞাসিলেন এই সামান্য নিদানে হুজুর কেনো এক সপ্তাহ সময় নিলেন? হযরত স্মিত হাইসা জবাব দিলেন, তার নিজেরো চিনির প্রতি আসক্তি ছিলো এই এক হপ্তা তিনি নিজের অভ্যাস পরিবর্তন করছেন। অন্যরে উপদেশ দেওয়ার আগে তিনি নিজে আগে বদভ্যাস ত্যাগ করছেন।
এই হাদিসখানা আমি শুনতেছি সেই শৈশব থেইকা। কাওরে উপদেশ দেওনের আগে নিজেও সেই একই দোষে দুষ্ট কীনা তা বিবেচনা কইরা দেখনের একটা নৈতিকতা জারী করা হইছে এই ঘটনার বর্ণনাক্রমে। আজ থেকে বহু বছর আগে আরবের নৈতিকতা বিবর্জিত ভূমিতে হযরত মুহাম্মদ এমনেই তার চারপাশের মানুষের প্রাণে-মনে আসন গাড়ছিলেন। এই ধরনের দায়বদ্ধ থাকার নজীর স্থাপনের মধ্য দিয়াই ইসলামী জীবনাচরণ তৎকালের অন্য প্রচলিত জীবনপদ্ধতির থেইকা পৃথক হইছিলো।
কিন্তু এই ঘটনারে যদি আমরা একটা সোজাসাপ্টা বিশ্লেষণে যাই তাইলে কি দেখি? ধরা যাক মুহাম্মদ প্রথমদিনেই ঐ উম্মতের পুত্ররে ডাইকা নিয়া উপদেশ দিতেন তাইলে কী হইতো? চিনি বিষয়ে যেই নৈতিকতা জারী হইলো মুহাম্মদ কি তা আগে জানতেন না! তিনি যদি ঐ অভ্যাস ত্যাগ না'ও করতেন তাইলে কী একটা বদভ্যাস জায়েজ হইয়া যাইতো? চিনি খাওয়ার ঐ অভ্যাস যে বদ সেইটা কি মুহাম্মদের মানদণ্ডে বিবেচিত হইতো? এই যে জায়েজ করার নৈতিকতা এইটা আসলে কিভাবে বিরাজ করে? একজন ডাক্তার যদি নিজেই রোগাক্রান্ত হয় সে কী অন্য রোগীদের চিকিৎসা করবার অধিকার হারায়!? নাকি তার চিকিৎসা বিদ্যা বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান সে যখন তখন বিতরণ করতে পারে?
আমার এক বন্ধু ডাক্তার, তার সময় পর্যন্ত তরুণতম এফআরসিএস। পিজিতে শল্য চিকিৎসা করতো মাঝেসাঝেই। তবে প্রত্যেকবার ওটিতে যাওয়ার আগে সে আজিজে আসতো একশলা গাঁজা মেশানো সিগারেটে টান দিতে, নাইলে নাকি তার নার্ভাসনেস কাজ করতো। এখন এই ডাক্তাররে নিয়া কি করা উচিৎ? কাউন্সেলিং করা? পূণর্বাসন প্রক্রিয়ায় ঢুকাইয়া দেওয়া? নাকি যেমন চলতেছিলো সেরমই চলতে দেয়া? সেই বন্ধু এখনো শল্য চিকিৎসা করে...আমি নিজে এখন গাঁজায় খুব বেশি আগ্রহী না বইলা তার সাথে দেখা সাক্ষাত হয় না। সামাজিক নৈতিকতার তোপে পড়ার সম্ভাবনা আছে বইলা তার নাম নিলাম না এইখানে।
তবে সেই সময় থেইকাই সামাজিক মূল্যবোধের উপর প্রতিষ্ঠিত এই নৈতিকতায় আমার কোনো আস্থা নাই। সব সময় ভালো মানুষরাই প্রয়োজনীয় এমন আমি মনে করি না। একজন মাদকাসক্ত্ও প্রয়োজনীয় হইয়া উঠতে পারে সময়ের প্রেক্ষিতে। বা সেই যে বৃটিশরা কিছু নৈতিকতা চালু করলো তারে গলধঃকরণ কইরা চলতে হইবো এইরম কলোনিয়াল মানসিকতা আমি লালন করি না। বরং অনেকসময়েই সমাজের সাথে বিদ্রোহে যাওয়া কথিত সমাজবিরোধীদের মাঝে আমি অমিত সম্ভাবনা দেখি পরিবর্তনের লড়াইয়ে অংশগ্রহণের। ঠিক যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে প্রচুর ডাকাত-দস্যূর দল অংশ নিছিলো বইলা জানতে পারি। মুক্তিযোদ্ধাগো কলিজা জিবরাইল ফেরেশতা আইসা ধুইয়া দেয় নাই বইলাই বিশ্বাস করি। কিন্তু একটা অধিকারের লড়াইয়ে সংগ্রামে চারিত্রিক সনদের কোনো গুরুত্ব নাই।
ঠিক উল্টা ভাবেও দেখা যায় পুরা কনটেক্সটটারে। মুহাম্মদ চিনি খাওয়া কমাইছিলেন বইলাই তিনি উপদেশ দেওনের অধিকার পাইছেন এরম হইলে যেই লোক চিনি খাইতে ভালোবাসে, তার সাপেক্ষে ঐ বিষয়টা আর নৈতিক থাকে না। অথচ যা ক্ষতিকর সেইটা ক্ষতিকরই থাকে, একজন ভোক্তাও এই জ্ঞান ধারণ করতে পারে। অথবা সমাজের বদভ্যাসমুক্ত মানুষেরাই কেবল উপদেশ বিতরনের অধিকার রাখে। সেই অর্থে এই সমাজের গুরুত্বপূর্ন মানুষ হইয়া উঠনের সম্ভাবনা রাখে কেবল হরিপদ কেরানীরা। এইভাবে বিষয়টারে বেশ সহজ একটা প্রক্রিয়া মনে হইতে পারে, কিন্তু বাস্তবিক জীবনাচরণ কখনো জ্ঞানীমানুষের ধ্রুবক হইতে পারে না। জ্ঞান নির্ভর করে চিন্তার প্রক্রিয়ায়; বিশ্লেষণের পর্যায় আর ধারাবাহিক যুক্তিবাক্য বোঝার মতোন চিন্তক প্রয়োজন এই সামাজিকতারে প্রশ্ন করতে। একজন চিন্তক সামাজিক নৈতিকতা কতোটা ধারণ করে সেইটাও হয়তো বিবেচনা করা যাইতে পারে, কিন্তু কখনোই তা প্রাথমিক শর্ত হইতে পারে না।
এই সমাজের নৈতিকতাগুলি কেমনে নির্ধারিত হয়? জাতি রাষ্ট্র গঠনের পর যারা ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান করে তারাই রাষ্ট্রের ল এ্যান্ড অর্ডার নির্ধারনের নামে নৈতিকতা আরোপ করে। এর বাইরে ধর্মীয় নেতারা কিছু ভূমিকা রাখে। কিন্তু এইসব নৈতিকতা নির্ধারনের মানদণ্ড কি? মানুষের রুচীবোধ নৈতিকতা নির্ধারণে বড়ো নিয়ামক হয়। এই রুচীবোধ আবার ভৌগলিক পরিবেশ-পরিস্থিতি'র নিরীখে ভিন্ন হয়। একজন শহুইরা বাঙালি মধ্যবিত্ত হিসাবে আমার সংস্কৃতির সাথে বান্দরবানের মুরং পাড়ার কোনো একজন জুম্ম নারীর কোনো মিল নাই। প্রকৃতির সাথে আমাদের দুইজনের যেই সম্পর্ক, তার দ্বান্দ্বিকতায় কোনো মিল থাকতে পারে না। আমার পরিচিত কোনো নারী উদোম গায়ে কলসী কাঁখে ঝর্ণার জল আনতে যায় না...আমার পরিচিত নারীরা পাহাড়ের সাথে যুদ্ধ কইরা জুম্মচাষের জন্য প্রস্তুতি নেয়ার প্রয়োজনবোধ করে না। নাগরিক রান্নাঘরে ফ্রেশ মাছ-মাংস যেইভাবে আসে ঐ মুরং নারী সেইরম নিশ্চয়তায় জীবন যাপন করার কথা ভাবতেই পারে না। তারে শুয়োর বা হরিন শিকার শেষে মাংস পঁচাইয়া আর শুটকি কইরাই জমাইয়া রাখতে হয়। কারণ তার কাছে প্রযুক্তি পৌছায় নাই।
এখন নৈতিকতার বেলায় আমরা দুইজন কি একই ছাতাতলে অবস্থান নিতে পারি! কোনোই সম্ভাবনা নাই। আমাদের দু্ইজনের শারিরীক দূরত্ব মাত্র শ চারেক মাইল হইলেও, মানসিকভাবে দুইজনতো দুই মেরুতে থাকার কথা। তারমানে নৈতিকতা শাশ্বতঃ কোনো বিষয় না। শ পাচেক বছর আগেও মিশরে মায়ের সাথে পূত্রের যৌনসম্পর্ক বৈধ ছিলো। ঠিক তখন ভিক্টোরিয়ান নৈতিকতা সভ্যতার পথ দেখাইতেছে সারা পৃথিবীরে। বাণিজ্যের ক্ষমতায় বৃটিশরা পৃথিবীর বিভিন্ন সমাজে সমাজে নৈতিকতার বীজ বুনতেছে। আর বৃটিশগো ক্রিশ্চিয়ানিটির বিপরীতে অন্য ধর্মের আলেমরাও সংঘবদ্ধতার স্বার্থে নৈতিকতার কাঠামো পাল্টাইতেছে।
আর ধর্ম বিষয়টাতো নৈতিকতার উপরেই দাঁড়ায়। পরকালের হাতছানি হিসাবে নৈতিকতা আরোপিত হয়। এই নৈতিকতা সেই মুহাম্মদেরও আগের আমলের। যদিও পুরুষতন্ত্র আর পুঁজিবাদের বিশ্বে ধর্ম কিম্বা রাষ্ট্রীয় নৈতিকতার ব্যখ্যা কখনো এই দুইয়ের আওতার বাইরে যায় না। পুরুষ আর পুঁজির নিরীখেই নৈতিকতার প্রয়োগবিধি লেখা হয়। এমন মানদণ্ডে চলতে চলতেই নৈতিকতা বিষয়টা কখনোই সার্বজনীন হইয়া উঠার চান্স পায় না।
এইভাবে পাঠ করতে গেলে একটা সমস্যা আছে। নৈতিকতার নৈতিকতারেও প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করাইয়া দিতে হয়। তবে বহুযূগের প্রচলিত ধারণারে এমন পেরেশানিতে দেখতে খুবেকটা জুইতের লাগে না। আমার অনেক প্রগতিশীল বন্ধুদের তো কেবল অভ্যাসবশতঃ নৈতিকতার ট্যাবু নিয়া চলতে দেখি। সমাজের ডিসিপ্লিন মাইনা চলাটারে তারা প্রয়োজনীয় মনে করে...এই প্রয়োজন নিরাপদে সময় পার কইরা দেওনের, নিরাপত্তাহীনতার মতোন মানসিক ব্যাধি থেইকা দূরে থাকবার কৌশল সংক্রান্ত। বাস্তবিক এমন সমর্পণে আমি নিজেও বিশ্বাসী হই মাঝে সাঝে। এমন বৈপরীত্য ব্যক্তিগত নৈতিকতার (?) সাথে খানিকটা কনফ্লিক্ট করে হয়তো, কিন্তু মহাভারততো অশুদ্ধ হইয়া যায় না...





ডাক্তারের ঘটনা শুনে ভয় পাইসি।
*********************************
পুরো পোস্ট পড়া শেষ করে মনে হচ্ছে কপালের মাঝে একটা চিন্তার রেখা চলে গেল এবং আপনার পোস্টের শেষ লাইনের সাথে পুরোপুরি একমত
আরবীতে হাদিছটা মনে হয় 'লা তাফালু মা লা তাফালুন' মানে হইলো - 'তুমি তা বলোনা যা তুমি নিজে কর না'
ব্যক্তিগত জীবনে আমি কথাটা মাননের চেষ্টা করে থাকি...
আর আপনার ডাক্তার বন্ধুর ক্ষেত্রে আমার পয়েন্ট অফ ভিউ হইলো তার গাঁজা টাইনা সার্জারী করা নিয়া আমার আপত্তি নাই ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না সে সার্জারী করতে গিয়া মেজর কোনো ব্লান্ডার করতেসে. কিন্তু সে যদি গাঁজার অপকারিতা নিয়া কিসু কইতে যায়, তইলে আমার আপত্তি আসে. কারণ সে গাঁজার সুবিধাভোগী, তার গাঁজার অপকারিতা নিয়া কিসু বলা মানায় না...
চিন্তা বেশ ভাল লাগল। মিশরের মাতা-পুত্র সম্পর্কের কথা যা বললেন তা মনে হয় শ পাচেকের অনেক বেশী পুরনো হবে। নৈতিকতার নৈতিকতা নিয়ে আরেকটু ইলাবোরেট করতে পারতেন মনে হয়। তয় মুহম্মদের যেই হাদিসটা কইছেন সেইটা জাল হাদিস!
মিশরে অটোমান সাম্রাজ্যের সময়ে ইনসেস্টের নজীর পাওয়া যায়। মাতা আর পুত্রের সম্পর্ক হয়তো ততোটা প্রচল ছিলো না, তবে ভাই বোনের শারিরীক সম্পর্কের খবর পাওয়া যায় অনেক...
হাদিসটার কোনো সূত্র আমি জানি না। তবে এই হাদিসের উল্লেখ আমি বহুতজনের কাছ থেইকা শুনছি। পোস্টেও সেইটাই বলছি।
নৈতিকতার নৈতিকতা বিষয়টা আসলে তেমন কিছু না। শ্রেণী বিভাজিত আর শভিনিস্ট সমাজে যেই নৈতিকতা গড়ে উঠবো সেইটা খুব স্বাভাবিকভাবেই একপেশে আর ক্ষমতার পদলেহী হইবো। তখন তার নৈতিক ভিত্তি নিয়া সংশয় তৈরী হয়। যেই নৈতিকতা সবার জন্য সমান মর্যাদা তৈরী করে না, তার নৈতিকতাতো অবশ্যই প্রশ্ন সাপেক্ষ...
এই কথাটা প্রায়ই শোনা যায়। নারু তো ইসলামি চিন্তাবিদ তোমার কাছেই প্রশ্ন করি। জাল হাদিস কোনটা আর কোনটাই বা ঠিক হাদিস এইটা বের করে কীভাবে, কারা বের করে?
বহুত দিন পর বাংলার মানস এথিক্স নিয়া ভাবতে বসলো, ভাল্লাগছে।
বাইরের দেশে নৈতিকতার উপর বছরে গন্ডায় গন্ডায় বই বের হয়।
নৈতিকতার উপর বই লেখা জরুরী কেন?
জরুরী কারন প্রতিদিনই কালচারে নতুন নতুন আইটেম(যেমন এখন সবচেয়ে জনপ্রিয় হল প্রেমিকার ভিডিও নেটে ছেড়ে দেওয়া) অনুপ্রবেশ করছে।
নৈতিকতা বড় পিছলা জিনিষ তাই এটা নিয়ে বার বার কথা না বললে, বার বার এর সীমা নির্ধারন না করলে মানুষ পিছলে পড়ে যায়, কালচারে পঁচা মালের আমদানি হয়, এবং এটাই পরে নিয়ম হয়ে দাঁড়ায়।
এক্ষেত্রে, সাম্প্রতিক পঁচা মালটি হল, মেয়েদের ছোট ও 'আপত্তিকর' জামাকাপড়ের জণ্যই তাদের টিজ করা হয়। এ যুক্তি থেকে বোঝা যায়:
১। টিজাররা আসলে সমাজসংস্কারক
২। ছেলেদের মূল্যবোধের স্থির কোনো মানদন্ড নাই, এটা মেয়েদের কাপড়ের সাথে বাড়ে ও কমে।
এমনকি পরিমল স্যারও এ যুক্তি দিয়েছন!!!!!
অন্যায় এক জিনিষ; কিন্তু এটাকে ল্যাজিটিমাইস করা আরো বড় অন্যায়।
নৈতিকতা কালে কালে, সমাজে সমাজে পাল্টে।
চাপিয়ে দেয়ার ব্যাপারটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাড়ায়।
যেমন, কলোনিয়াল টাইমে ইয়োরোপিয়ানরা যখন প্রথম আফ্রিকা যায়, সেখানে ছাত্রদের মধ্যে জামাকাপড় অত বালাই ছিলনা, নেংটি পড়েই অনেকে স্কুলে আসত, ছেলেমেয়ে একসাথে পড়ত। ওরা বলল, জামাকাপড় না পড়ে থাকা 'অসভ্যতা', আর ছেলে ও মেয়েদের আলাদা আলাদা স্কুলে যেতে হবে।
এখন সময় পাল্টে গেছে। এখন ওরা বলে, জামাকাপড় পড়াই অসভ্যতা, এবং মধ্যপ্রাচ্যের মহিলাদের 'ফ্রি' হতে হলে অবশ্যই বোরখা খুলতে হবে।ছেলেমেয়েদের কোএডুকেশনে পড়তে হবে।
আমার মতে বোরখা পড়তে বলা যেমন অন্যায়, এটা খুলতে বলাও অন্যায়।
কলোনিয়াল পাওয়ার চলে গেছে। কিন্তু আমাদের ভাবদাস্যতা যায় নাই। পঁচা মালের তারাই সবচে বড় সাপ্লায়ার। আমরা এখনো তাদের নৈতিকতার আদলে নিজেদের সাজাতে ব্যাস্ত।
তাই নৈতিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন আলোচনা।
স্বাধীনতা পরবর্তীকালে নৈতিকতা নিয়া দু্ই-একজন কাজ করছে একভাবে। আহমদ ছফা, সৈয়দ আবুল মকসুদ এদের নাম পড়তেছে। আধুনিকতা পার হইয়া আমরা যখন ডেকাড্যান্সে ঢুকছি তখন খুব কম মানুষরে এই অবক্ষয়ী সময়ের নৈতিকতা বিষয়ে ভাবতে দেখছি। পুরানা নৈতিকতার মানদণ্ড নিয়া আক্ষেপ করতে শুনছি অনেকরে যদিও। গেলো গেলো রব তুলতে দেখছি বেশির ভাগের ক্ষেত্রে।
*নৈতিকতা নিয়া এই ডেকাড্যান্স কালে বেশিরভাগ মানুষই সুবিধাভোগী। যেই নৈতিক মানদণ্ডে যার যতোটা পাওনা ঘটে সেই অনুযায়ী জীবনযাপন।
*ব্যক্তিগত ভাবে আমি এইরম সামাজিক নৈতিকতাতে বিশ্বাস না করার পক্ষের লোক। ব্যক্তির স্বাতন্ত্র আর স্বাধীনতার পক্ষের লোক আমি...
*পরিমলের কিম্বা হাসান সাঈদের পক্ষ নিয়া অনেকরেই কথা কইতে দেখি।
*পোশাক আর সম্পর্কের নৈতিকতা বিষয়ে আমি আলোচনায় আগ্রহী।
আমার যদি বেসিক কোনো ফিলোসফিকাল ড্রিফ্ট থাকে তা হলো একধরনের পরিবারবোধের চেষ্টা করা। এ বিষয়ে টাইম পেলে পরে লেখা দিব।
পড়ছি .......।
লাস্টের প্যারায় তো ফাডায়ালাইছেন
...
প্রডাক্টের গায়ে "টেস্টেড অন হিউমেনস" লেখা দেখলে নৈতিকতার খেতা পুড়াইতে ইচ্ছা করে ... নৈতিকতা যদি লাইফস্টাইল কিংবা লাইফস্টাইলের পার্ট হয়া থাকে তাইলে সেইটা কদ্দুর পর্যন্ত?
ক্ষমতার মানুষগো যাচ্ছেতাই করনের অধিকার আছে...আমার ছোট বোন একটা এনজিওতে চাকরী করতো, জিভিতা বাংলাদেশ। তো এরা জন হপকিন্সের একটা প্রজেক্ট চালাইতো বেসিকালি। উত্তর বঙ্গের তিনটা জেলাতে এই প্রজেক্টের নিয়মমতোন ৫০ হাজার প্লাস গর্ভবতী মা'দের উপর গবেষণা চালাইতো ভিটামিন এ আর বি ক্যাপসুল খাওয়াইয়া।
আমি নিজেও ইউনিসেফের এমন একটা প্রজেক্টের সাথে কাজ করছি। তো ঐ প্রজেক্ট ইন্ডিয়ার গরীব এলাকাতেও চলতেছিলো।সেইখানকার নি্উজ পাইলাম একদিন। পশ্চিত বঙ্গে প্রায় হাজার দুয়েক মা এই ভিটামিন লাল-নীল খাইয়া মারা গেছিলো সেই সময়টায়।
আচ্ছা ,
তখন আরব দেশে সুগার মিল কে প্রতিষ্ঠা করেছিল ? মরুভুমিতে কি আখ চাষ হইতো ???
চিনি আইলো কেমনে তাইলে ???
মন্তব্য করুন