রাত আর নীরবতা
রাত মানে শুনশান নীরবতা।
তবে এই শহর কখনো শিখে নাই
কিভাবে নীরব হতে হয়।
গভীরতার ভেতরে বেজে ওঠে ক্রিং ক্রিং
রিকশা চালকের সতর্কতা,
আলো আর আঁধারীর ব্যর্থ মেমোরান্ডাম।
কেউ একজন চিৎকার করে ওঠে
আজকে চাঁদের আলোয় বড্ড
অসমান চলেছে পৃথিবী।
অভিযোগে অভিযোগে রাত্তিরের নীরবতা-শুনশান নীরবতা
ভেঙে যায় মুহুর্তে মুহুর্তে। রাত গভীর হলেও
আঁধারের সাদাকালো অভ্যন্তরে
রঙীন নাচের মহড়া চলেছে।
কতো শত সেলিব্রিটি
সেই নাচে
আইটেম নাচে।
খুঁজে দেখতে চেয়ে, খুড়ে দেখতে চেয়ে
আমি কেঁচো বের করে ফেলি
অতীতের সকল গহ্বর থেকে।
এই রাতে, নীরবতা ভেঙে ভীষণ আওয়াজে
আমার রাতের ডিসকোর্সে ফাটল ধরেছে,
পিপাসায় জিহ্বা শুকিয়ে কাঠ।
রাতের আঁধারে তুমি এসে জলের গেলাস,
আমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত আর্দ্র করে দেবে
তার অপেক্ষায় থাকি...





কবিতার সাথে পরিচিত হইলেও ব্যাক্তি কবির সাথে আসলে মনেহয় অপরিচিতি থাকাটাই বেটার। নয়তো, লেখা পইড়া পাঠক তার অর্থ খুঁজায় মনোযোগী না হইয়া কবির মানসিক অবস্থার ব্যাবচ্ছেদে বেশী ব্যস্ত হইয়া পড়ে...
বহুত দামী একটা কথা কইছেন। জাজমেন্টাল হওয়া এমনিতেই খুব খারাপ একটা হ্যাবিট। তারমধ্যে কবিতারেও যদি ব্যক্তি লেখকের মানসিকতা দিয়া জাজ করতে যান সেইটা অনেক সময় বেশ বিরক্তিকর আচরণ হয়। ব্যক্তি লেখকের চরিত্র বাদ দিয়া লেখারে উপভোগ করতে পারাটা কঠিন হইলেও সেইটাই নেসেসিটি লাগে আমার কাছে।
আমিও সেইটাই মনে করি। সেজন্যই কবিতাটারে উপভোগ করার চেষ্টা করতেছিলাম।
তানবীরান্টির মতো আমারো মনে হইছে আইটেম নাচের অংশটা না থাকলে কবিতাটায় কোনো ক্ষতি-বৃদ্ধি হইতো না।
প্রচুর বক্তব্য, কিন্তু আঁটো প্রকাশ। গল্পও হতে পারতো, মুক্তগদ্যও হতে পারতো; কবিতা হয়েছে, তাতেও ক্ষতি হয় নি।
এই লাইনকটা হালকা লেগেছে পুরো কবিতার মধ্যে
হালকা মানে কী অপ্রয়োজনীয়? নাকি এইখানে ভাষার গাথুনী বা শব্দচয়ন অন্যকিছু হইলে ভারী মনে হইতো?
আমার রাতের অভিজ্ঞতায় প্রায় শ খানেক জানালায় রাতের গভীরে সেলিব্রিটিদের আইটেম নাচ নাচতে দেখি।
শুভর সাথে একমত। কবি অপরিচিত থাকা ভালো। কবিতার সর্বশেষের দিকের লাইনগুলোর হাত ধরে আসা আশাবাদী ভাবটা আমার কাছে হাহাকারের মতো লাগতেছে।
শুভ'র কমেন্টের জবাব দ্রষ্টব্য...
এটা ইউরোপ-আমেরিকার চিত্র। আমাদের দেশে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে। মানে এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে আর কি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে সমসাময়িক সমাজকে ধরে রাখার একটা সফল প্রচেষ্টার মতো লাগলো লাইন দুইটাকে।
আগের পোস্টে খড়ের গাদা সংক্রান্ত ব্যাখ্যা ভালো লেগেছে।
আমাদের আঁধাখ্যাচড়া আরবানাইজেশনেও ঘটনাগুলি এমনই ঘটে...
আগের পোস্টের জবাব মনঃপুত হওয়ায় আমিও আনন্দিত হইলাম।
রাতের আঁধারে তুমি এসে জলের গেলাস,
আমার অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যত আর্দ্র করে দেবে
তার অপেক্ষায় থাকি...
অদ্ভুত।
এক দৃষ্টিতে, এ অংশটুকু অপ্রয়োজনীয়, না দিলেও চলে
অন্য দৃষ্টিতে, অন্যরকম শব্দ বা ভাষার গাঁথুনী আসতে পারে যা পুরো
কবিতার আবহাওয়ার সাথে মিশে যায়
আপনিতো কবিতা লিখেছেন, প্রবন্ধ না
এই কবিতায় আমি একেবারেই একটা রাতের ধারাবর্ণনা করছি...সেলিব্রিটিরা আইটেম নাচে কিন্তু। এইটা একটা নতুন ফেনোমেনন আমাদের জীবনে।
আর প্রবন্ধে বরং আপনি অনেককিছু বাদ দিয়া যাইতে পারি। কবিতায় একটু কঠিন বিষয়টা।
হাহাহাহা, ভাস্করদা, সেলিব্রেটিরা আইটেম নাচে আমি বিশ্বাস করি।
তাতে আমি দোষের কিংবা সমস্যার কিছু দেখি না। সেলিব্রেটিরা প্রয়োজনে
টয়লেটও ব্যবহার করেন। নাচতো খারাপ কিছু না।
কবিতাটা পড়তে পড়তে এখানে এসে ধাক্কা লেগেছিল আমার।
কিন্তু আমি কবির স্বাধীনতার বিশ্বাসী
শেষটা দুর্দান্ত।
আপনার শেষ কয়েকটা পোষ্ট শুধুই কবিতা। আপনার গদ্য পড়তে আসি কিন্তু।
পুরো লেখাটায় একটা আলাদা আমেজ আছে। দারুন লাগল।
মন্তব্য করুন