ক্রনিক্যাল অফ ঢাকা সিটি অথবা ঢাকা শহরের কিচ্ছা (৪)
সম্ভবতঃ সেই টাইমে কেজি ওয়ানে উঠছি মাত্র। ক্লাসের মিস সবার নামধামের লগে বাড়তি একটা প্রশ্ন জিগাইতেছিলো; বড় হইলে কে কি হইতে চায়। অলটাইম ব্যাক বেঞ্চার আমি বহুত টেনশনে পইড়া গেলাম। কি হইতে চাই আমি! বড় হইলে আমি আসলেই কি হইতে চাই! আমার মধ্যবিত্ত বাপ-মা কেনো জানি আমারে সেই বয়সে বড় হইলে কি হইতে পারি এইরম কিছু শিখায় নাই। আমি তখন বানান কইরা রূপকথার বই পড়ি। "ছোট্ট গোল রুটি চলছে গুটি গুটি..."। আমার কখনো মুচী ইভান হইতে ইচ্ছা করে, কখনো অর্জুন, কখনোবা ব্যঙ্গমা। নিজের এই কনফিউশন আর টেনশনের মধ্যেও আমি অন্যরা কি কয় সেইটা শুনতাছিলাম। বেশিরভাগ ক্লাসমেইট'ই ঐ সময় পাইলট হইতে চাইতো। প্লেন চালানোর চাইতে অ্যাডভেঞ্চারাস কিছু মনে হয় না ঐ আমলের পোলাপাইন ভাবতে পারতো। আমার অবশ্য একটা বিষয়ে আগ্রহ ছিলো ঐ বয়সে, মনে হইতো একটা বড়ো অ্যাকসিডেন্ট হইয়া আমার সব হাড়গোড় ভাইঙ্গা যাক; তারপর আমি সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান হইতে পারুম। সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান সবচাইতে জোরে দৌড়াইতো, সবচে উচুতে লাফ দিয়া উঠতে পারতো। ঘুষিতে ভাঙতে পারতো দেয়াল। কিন্তু আমার লোভ ছিলো তার বায়োনিক চোখের উপর। কেমন সহজে সে কতো দূরের জিনিস দেখতে পারতো! আমি অবশ্য লোক হাসাইতে চাই নাই। এমনিতেই ডিসলেক্টিক আমার উচ্চারণে ঝামেলা ছিলো, তাই বাসা থেইকা মা বইলা দিতো এমন কিছু যেনো না করি যাতে বন্ধু-বান্ধব আমারে নিয়া হাসাহাসি করে। তাই আমার ঠিক আগের জন যখন পাইলট হইতে চাইলো। আমিও জানালার দিকে তাকাইয়া পাইলট হইতে চাইলাম। আমার স্পষ্ট মনে পড়ে মিস'এর চোখের দিকে তাকাইতে পারি নাই।
গাড়ির মেকানিক হইতে ইচ্ছা করতো আমার অনেক সময়। মিস্তিরিরা যে চিৎ হইয়া শুইয়া গাড়ির নীচে ঢুইকা গিয়া ইঞ্জিন দেখতো, সেইটা নিয়া আমার চরম আগ্রহ ছিলো। এতো স্মার্ট লাগতো বিষয়টারে! এক খালাতো ভাই, বয়সে যে প্রায় আমার মায়ের সমান, সে বিদেশ যাইতো সরকারী সফরে, প্রত্যেকবার আসনের টাইমে আমার জন্য বান্ধা গিফ্ট ছিলো ম্যাচবক্স। লোকটার সাথে আমার খুব খাতির ছিলো এমন না, কিন্তু সে কেমনে জানি আমার গাড়ি প্রীতি টের পাইছিলো। অবশ্য বাবুল ভাইয়ের সাথে কারো খাতির ছিলো না। লোকটারে আমার চরম রহস্যময় লাগতো। অফিস থেইকা ফেরার সাথে সাথে সে তার রিডিং রুমে গিয়া ঢুকতো। তার রিডিং রুমে আমি মাঝে সাঝে সাহস কইরা ঢুকছি, কিন্তু সেইসব সময়ে খালাম্মা মহা টেনশনে থাকতো। বাবুল ভাইয়ের রুমে অদ্ভুত একটা গন্ধ পাইতাম। সে জড়ানো গলায় আমারে হয়তো কিছু জিজ্ঞেস করতো। আমি উল্টাপাল্টা কিছু একটা বলতাম না বুইঝা। ঘরে ঢুকনের পর থেইকাই তার রুমে গান বাজতে শুরু করতো। আমাদের বাসায় তখন টু ইন ওয়ান, কিন্তু বাবুল ভাইয়ের সেভেন পীস'এর আকাই ডেক সেট।
তখনো রঙীন টেলিভিশন চালু হয় নাই দেশে। টেলিভিশনের সামনে এটা প্রটেক্টর টাইপ মনোক্রোম কালারের ফ্ল্যাট গ্লাস লাগানোটা ফ্যাশন হইতেছে কেবল। সাদাকালো টেলিভিশনেই আমাদের কল্পণা শক্তি রঙীন হয়। টেলিভিশন প্রযুক্তি নিয়া আমাগো তখন হাজারো প্রশ্ন...বাপ-মা দুইজনের একজনও বিজ্ঞানের ছাত্র-ছাত্রী না হওয়াতে বেশিরভাগ সময়েই বিপাকে পড়তো তারা। তখন সিনেমা হলে চলতো আংশিক রঙীন ছবি। আড়াই ঘণ্টার সিনেমায় হয়তো ৩-৫ মিনিটের বড়জোর দুইটা দৃশ্য থাকতো রঙীন। তা'ও সেই রঙের কি বাহার...ছড়াইয়া ছিটাইয়া ভুট্টিনাশ! আশি সালের ডিসেম্বরের দিকে রঙীন ট্রান্সমিশনের ঘোষণা দিলো বিটিভি। আশেপাশের সব বাড়িতে টেলিভিশন রঙীন হইতে শুরু করলো...তখন আমার বাপের ব্যবসা মোটামুটি চাট্টিবাট্টি গুটানের মতোন অবস্থা। অবশ্য সামর্থ্যের অভাব ছাড়াও তখনকার রঙীন আমল ছিলো বেশ মাজুল। হাতেগোনা কয়েকটা রঙ দেখা যাইতো ঐ আমলের টেলিভিশনে, সেই মনোক্রোমাটিক প্রটেক্টর গ্লাসের লগে যার পার্থক্য খুব বেশি হইলে সতর-বিশ। তখন রঙীন কমিক বুকে মইজা গেছি অলরেডি...টেলিভিশনের আধাখ্যাচরা রঙের খেলাতে তেমন একটা আগ্রহ তৈরী হইলো না আমাদের কারোরই।
তয় তখন অনেকদিন পরপর একেকটা চমক আসতো। আজকালকার মতো প্লে স্টেশন থ্রি'র আমেজ শেষ না হইতে হইতেই ফোরের চাপাবাজী শুনতে হইতো না। যেই কারনে তখন আমাগো কাছে টেকনোলজি'র চাইতে সুপার হিরোরা অনেক বেশি আগ্রহের বিষয় ছিলো। টেকনোলজি কইতে তখন ব্যাটস ডেন আর ব্লু হরনেট'এর গাড়ি। এর ধারে কাছের সময়েই নাইট রাইডারের সেই কথা কওয়া গাড়ি। আমাগো কাছে তখন লাবলু'র বাপের গাড়িটা হইলো চরম আকর্ষণ...অগো গাড়ি ব্যাক গিয়ারে নিলে নাইট রাইডারের গাড়ির মতোন কথা কইতো। রিমোট কন্ট্রোল চপারের চাইতে আমাগো কাছে ঘুড্ডির বোকাট্টা খেলা অনেক বেশি জনপ্রিয় ছিলো। ঢাকার ম্যাক্সিমাম ১০টা বাড়িতে আতারি ভিডিও গেমস আসছে কেবল। সেই ভিড্ও গেমস হইলো প্যাকম্যানের মতোন একটা খেলা, যেইটা খেলা হইতো লম্বা তারের জয়স্টিক দিয়া। আমাগো ছোট্ট হাতে ঐ ধাম্বা সাইজের জয়স্টিক ধইরা রাখাটা রীতিমতোন কষ্টের ছিলো।
৮৩'তে অবশ্য একটা বিপ্লব ঘটলো প্রযুক্তির দিক দিয়া। আমার বেস্ট ফ্রেন্ড লাবলুগো বাড়িতে মহল্লার প্রথম ভিসিআর আসলো। অগো বাড়ির বিশাল ড্রয়িংরুমে সেই ভিসিআর চালাইয়া ছবি দেখতে খালি ধানমন্ডির মানুষরাই পুরান ঢাকার খাজে-দেওয়ান থেইকাও লোকজন আইছিলো মনে আছে। নড়াচড়ার স্কোপও আছিলো না ছবি চলার টাইমে। তয় একটা প্রযুক্তি ঢাকায় মনে হয় বেশ আগাইছিলো। সব বাড়িতে তখন রঙীন ছবি তুলনের ক্যামেরা ছিলো। রঙীন ছবি মানে সত্যিকারের রঙীন ছবি। টেলিভিশন কিম্বা সিনেমা থিয়েটারের মতোন আধাখ্যাচরা রঙের আয়োজন না।
কিশোর বয়সে ঢুকনের সময় আমরা ট্রান্জিস্টার কিনা মাটিতে লবন কয়লা দিয়া আর্থিং কইরা টেলিফোনের রিসিভার লাগাইয়া রেডিও বানাইতাম। রেডিও বাংলাদেশের অনুষ্ঠান শোনা যাইতো সেই শিশু হাতে বানানো রেডিওতে। আশির দশকের শুরুতেও ঢাকাবাসীরা রেডিও শুনতো। সিনেমার প্রোপাগান্ডা-রেডিও'র নাটক-বিজ্ঞাপন-খবর-ওয়ার্ল্ড মিউজিক ছাড়াও সৈনিক ভাইদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠান দূর্বার শুনতে শুনতে তো ঐ সময়ে অনেক মায়েরা তাগো ছেলের নামই রাখতো দূর্বার। আশির দশকে মাঝামাঝিতে আরেকটা গ্যাজেট আসলো ঢাকায়...ওয়াকম্যান। মানুষ হাটতে হাটতে ক্যাসেট শুনতো। ঐ সময়টায় ঢাকায় রোলার স্কেটিংয়ের চল শুরু হইছে। কানে ওয়াকম্যানের হেডফোন আর রোলার স্কেইট করতে করতে পোলাপাইন নামতো সাত মসজিদ রোডে। এই দুই মাল রীতিমতোন স্ট্যাটাস সিম্বল হইয়া উঠছিলো ঐ সময়।
ঢাকা শহর আর এই শহরের মানুষের ইতিহাস দায়বদ্ধ থাকবো চীন দেশের কাছে। আশির দশকের শুরুর ভাগে আসা লাখ টাকা দামের ভিসিআর'এর বদলে ফুনাই ভিসিপি চইলা আসলো ৮৬/৮৭তেই। আতারীর দাম মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চইলা আসলো। চীনা প্রযুক্তিতেই মহল্লার মোড়ে মোড়ে টু ডাইমেনশনাল ভিডিও গেমসের দোকান বসলো। প্রথম দিককার পার্সোনাল কম্পিউটার আসলো এই সময়টাতেই সাদাকালো মনিটরে। যদিও মধ্যবিত্তের জন্য কম্পিউটার তখনো লাক্সারী। খালি ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স আর বুয়েটে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স পড়ায় তখন। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন আর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিপর্যয়ে সারা পৃথিবীতেই মুক্তবাজার অর্থনীতির ঝোক দেখা দিলো। কেবল কমিউনিস্ট পার্টিই ভাঙে নাই এর দাপটে, আমাগো জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের সোল এজেন্ট দাবী করা রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রও পাল্টাইলো। বাহাত্তরের সংবিধান-মুক্তিযুদ্ধের চেতনা-মূলনীতি বলতে বলতে গলায় রক্ত তুইলা ফেলা দলের সুষম সামাজিক বণ্টনের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ কইরা প্রতিযোগিতামূলক বাজার অর্থনীতির সবক নিলো। আর বাজারের মুক্তি নিশ্চিত করার সাথে সাথে নিত্যনতুন প্রযুক্তি ঢুকনের রাস্তা ক্লিয়ার হইতে শুরু করলো। প্রযুক্তি এখন প্রতিযোগিতার বিষয়...বৈষম্যের সূচক, মানদণ্ড।





আপনার স্মৃতিশক্তি সেরম, লেখার হাতের কথা নতুন করে কি আর বলবো!
আমার স্মৃতিশক্তি খুব ভালো এমন না...তয় কিছু মুহুর্ত এমন হয় যে সেইটা জীবনে ভুইলা যাওয়া সম্ভব না।
এই ধরণের একটা ঘন নীল বা ধুসর কালারের জিনিস আমাদের বাসার সাদাকালো ন্যাশনাল টিভিতে লাগানো ছিলো, আপনার লেখা পড়ার চট করে সেটা মনে পড়ে গেলো। এই লেখা আমারে স্মৃতির মধ্যে নিয়ে যাইতে পারছে।...বিস্মৃত অনেককিছু মাঝে মধ্যে মনে পড়ে গেলে চোখের কোনে কি যেন এসে পড়ে
বাবা কাতারে যান ৭৬ এ।
৭৭ সালেই ফ্রীজ কিনে আনেন । তখন সবাই ফ্রীজে বানানো বরফ খাইতে আসতো। আমি একটু বড় হবার পরেও এইটা দেখেছি। বাটি ভরে বরফ নিয়ে একটা পর একটা খাইতেছে একজন।
আগে বাসায় সাদাকালো টিভি ছিলো - ৪ পা ওয়ালা বক্সের ভিতর। বক্সের দরজা টা দারুন ছিলো । ভোল্টেজ কইমা গেলে টিভি অফ হয়ে যেত।
৮১/৮২ সালের দিকে কাতার থেকে আনা হোল রঙীন টেলিভিশন । বিটিভিতে তখন পুরাতন - নতুন ক্যামেরা দিয়ে কাজ চলতো। সেটের ভিতরে চালাইতো সাদা কালো ক্যামেরা আর আউটডোরে চলতো রঙীন। সকাল সন্ধ্যা নাটকের কিছু অংশ সাদা কালো (শিমুদের বাপের বাড়ী ) আর কিছু অংশ রঙীন (শিমুর শ্বশুড় বাড়ী)।
এলাকায় সবাই চিনতো - টিভিওয়ালা বাড়ী হিসাবে।
আর তখন বেগম রোকেয়া স্মরনী হয় নাই। বাবারে রিসিভ করতে যাইতাম মিরপুর রোড দিয়া সংসদের সামনে দিয়া মানিক মিয়া এভিনিউ দিয়া ঢুকতাম ময়মনসিংহ রোডে।
আমাদের বাড়িতে টিভি ফ্রিজ আসার আগেই মনে হয় এলাকার সব বাড়িতে ছিলো। আমার নানা বাড়ির ফ্রিজটা দেখলে ভয় লাগতো, অতিকায় ডাবল ডোর! তাদের টেলিভিশন-রেডিও দু্ইটাই ধবকা সাইজ, সবাই কইতো রাশিয়ান। আসলে জাপানীজ।
ঝরঝরে লেখা , উপভোগ্য
সব আমার জন্মেরও বহু আগের গল্প। তবে লেখা পড়ে শুরুর দিকের কাহিনী জানতে পারলাম
আগে সব কিছুই ছিল সীমিত তাই মনে হয় অল্পতেই আমরা খুশী হতাম। আর এখন এতো কিছু যে কোনটা ছেড়ে কোনটা নিবে সেই প্রতিযোগীতা চলে তাই আমাদের সময়কার আনন্দটা এই সময়কার ছেলে মেয়েরা পায় না। আপনার লেখা পড়ে নষ্টালজিক হয়ে গেলাম। অনেক কিছু মনে পড়ে যাচ্ছে।
প্রায় ভুলে যাওয়া অনেক কিছু মনে করাইয়া দিলেন। সেই সাদাকালো জীবনটাই হয়তো ভাল ছিল।
আশির দশকের ঢাকায় ফুটবলটা একটা বড় ব্যাপার ছিল। পাড়া-পড়শী আর আত্মীয়তে খুব ফাড়াক ছিল না।
সিরিজটা চলুক...
~
৯০/৯১ তে আমার ভিডিও গেমসে হাতেখড়ি হইছিলো।
মাটিতে লবন কয়লা দিয়া আর্থিং করে টেলিফোন টাইপের জিনিস বানাইতে ভাইয়াদের দেখছিলাম, জিনিসটা কি মনেই ছিলো না এদ্দিন। সেই আমলের পাড়াপ্রতিবেশীরা আত্নিয়ের মতোই ছিলো, দেখা যায় এখন আর একখানে থাকি না, কিন্তু তাদের সাথে যোগাযোগ ঠিক মতোনই আছে।
এইটা ঠিক কইছেন। আশির দশকে মহল্লার প্রতিবেশিদের সাথে কেমন আত্মীয়তার সম্পর্ক হইয়া যাইতো, এখন এমনও আছে যারা আমাগো কাজিন বইলা পরিচয় দেয়ম আমরাও দেই...অথচ রক্তের সম্পর্ক নাই একেবারেই।
আপনার ছেলেবেলা অনেক রঙীন ছিল। ছেলে হওয়ার কারণেও অনেক বেশি সুবিধা পেয়েছেন জীবনকে নেড়েচেড়ে দেখার
ছেলে হওয়ার চিত্র-বৈচিত্র দুইটাই আছে। আমার ছেলেবেলার ইররেগুলারিটিটাই আমারে আনস্টেবল-ইররেসপন্সিবল বানাইছে। তয় সুবিধাতো এই সোসাইটিতে ছেলেরা একটু বেশি পাইবোই...কিন্তু ছোটবেলায় মা তিন ভাই-বো্ইনের মধ্যে বড় বোনটারেই বেশি পছন্দ করতো...কৈশোরে সেইটা গেছে আমার দিকে আর কলেজ পাস দেওয়ার পর ছোটবোনটা ফ্যামিলি ইনক্লাইন্ড ছিলো বেশি, এই কারনে ওর গুরুত্বও বেশি মায়ের কাছে।
বৈচিত্র্য আজকাল আমারে অনেক মনোটনি'র ফিল দেয়। একটা সহজ-সরল-স্বাভাবিক জীবন থাকলেই মনে হয় ভালো হইতো এমন মনে হয় মাঝে মাঝে।
দ্যা গ্রাস ইস অলওয়েজ গ্রীনার ফ্রম আদার সাইড
বৈচিত্র মাঝে সাঝে খারাপ লাগে না...কিন্তু সেইটাই যখন একমাত্র চিত্র হইয়া পড়ে তখন তাতে বোরডোম তৈরী হয়। মনোটোনাস বৈচিত্র...মনোটোনাস এনথু ছাড়া লাইফের চাইতেও এর বোরডোম ঝামেলার, কারণ তখন সামাজিক নিয়মমতো একটা কাঁধও পাইবেন না ধারেকাছে যার উপর ভর দিয়া একটু কান্দনের সুযোগ পাইবেন।
কোনটা হইলে যে আরাম হইতো দাদা সেটার উত্তর আমি নিজেও জানি। কয়দিন রুটিন এলোমেলো হলে, রুটিনে ফেরত যাওয়ার জন্যে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। আবার রুটিনে চলতে চলতে বৈচিত্র্যের জন্য হা হুতাশ করি।
এটা আমার চেয়ে বেশি কে জানে দাদা? নাবালিকা কন্যা সন্তান, অসুস্থ স্বামী আর দূর পরবাস। এতো একা নিজেকে কখনো লাগেনি। হতাশ। তবে আগে সামান্য ব্যাপারে পরিবারকে অস্থির করে ফেলতাম হয়তো, এখন ভাবি থাক, কাউকে বিরক্ত করেই বা কি হবে। এই বেশ ভাল আছি
*****জানি না ****
লেখাটা চলতে থাকুক। ভাল লাগছে খুব।
মন্তব্য করুন