ইউজার লগইন

আসল ইডিয়টের সন্ধানে...

মুন্না ভাই এমবিবিএস কিংবা লাগে রাহো মুন্না ভাইয়ের মতো জনপ্রিয় ব্যঙ্গাত্মক হাসির সিনেমা নির্মাণের মধ্য দিয়ে রাজকুমার হিরানী উপমহাদেশীয় ছবির জগতে উল্লেখযোগ্য চিত্র পরিচালক হিসাবে আগেই নজর কেড়েছিলেন। থ্রি ইডিয়ট্স নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছিলো ছবির মহরত অনুষ্ঠানের ঘোষণা থেকেই। ভারতের অভিনয় জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র আমির খানের উপস্থিতি এসব আলোচনার প্রধান হয়ে উঠেছিলো। তার শেষদিককার একটি ছবি তারে জমিন পার আসলে দর্শকদের চাহিদা বাড়িয়ে তুলেছিলো। কিন্তু থ্রি ইডিয়টস সিনেমার গল্প এবং উপস্থাপণ ভঙ্গী একেবারেই অন্যরকম। কেবল উন্নয়নমূলক বাস্তবতাতেই থেমে থাকেন নি পরিচালক। হিরানী আরো গভীরে যেতে চেয়েছেন। তার এই ছবিতে মূলতঃ শিক্ষানীতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গী পাল্টে দেবার আহ্বান রয়েছে।

ছবির শুরু হয় মধ্য তিরিষের একজন ফারহান কুরেশী’র হঠাৎ একটি এসএমএস পাওয়ার ঘটনা দিয়ে। তাদের বন্ধু র‌্যাঞ্চোদাসের ফিরে আসার খবর নিয়ে আসা সেই এসএমএসটি পড়া মাত্র ফারহান কুরেশী প্লেনের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে যাওয়ার অভিনয় করলে প্লেন আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় যাত্রা স্থলে। সেখান থেকেই শুরু হয় দুরন্তপনার দৃশ্যায়ন। ফারহান কুরেশী ফোনে ডেকে তোলে তার আরেক বন্ধু রাজু রাস্তোগীকে। রাজু তখন ছুটির দিনের ঘুমে ছিলো। সে শর্টস আর পাঞ্জাবী পরেই নেমে আসে বন্ধুর ডাকে। এসএমএস টিতে তাদের একটি জায়গায় অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিলো। তারা সেখানে গিয়ে পৌছায়। কিন্তু যাওয়ার পর তারা দেখতে পায় এই মেসেজটি পাঠিয়েছিলো তাদের কলেজ জীবনের আরেক সহপাঠি, প্রায় শত্রুবৎ চতুর রামালিঙ্গম। ঠিক ১০ বছর আগে চতুর এই জায়গাতেই চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলো তিন কলেজ সহপাঠিকে যে সে অনেক ধনী হয়ে তাদের অপমানের প্রতিশোধ নেবে। এ জায়গা থেকেই ফারহান আর রাজুর স্মৃতি রোমন্থন পর্ব শুরু হয়, শুরু হয় ছবির মূল গল্পে প্রবেশ।

ভারতের একটি কাল্পনিক বিখ্যাত ইম্পেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রতি বছর ছাত্রদের ভর্তির প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এ প্রতিযোগিতা থেকে যারা ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় নিজেদের তারা ধন্য মনে করে। সে কলেজে ভর্তি হতে পেরে ফারহান কিংবা রাজু্ও স্বপ্ন বুনছিলো একটি সুন্দর পেশাজীবী ভবিষ্যতের। এমন সময় সেখানে একটু দেরীতেই র‌্যাঞ্চোদাসের প্রবেশ। অন্যান্য নতুন ছাত্রদের যখন সিনিয়র ছাত্ররা র‌্যাগিং করছিলো ঐতিহ্য মতো। র‌্যাঞ্চোদাসের বুদ্ধিতে সেবারের মতোন সব ছাত্র বেঁচে যায়। এই ঘটনার পর র‌্যাঞ্চো তার বাকী দুই রুমমেটের চোখের মনি হয়ে উঠে। র‌্যাঞ্চো দুরন্ত। র‌্যাঞ্চো পরিবর্তন প্রয়াসী। র‌্যাঞ্চো সবার থেকে আলাদা। তার এসব চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য বন্ধুদের কাছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে।

ইম্পেরিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রিন্সিপাল ভীরু সহস্ত্রবুদ্ধি। যিনি দীর্ঘসময় এই কলেজের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়ে খ্যাতনামা হয়ে উঠেছিলেন সকলের কাছে। তার রূঢ় আর কঠোর আচরণের কারণেই কলেজের নতুন ছাত্র জয় লোবো আত্মহত্যার পথ বেছে নিলে র‌্যাঞ্চো প্রতিবাদমূখর হয়ে উঠে। সাথে সাথে ভীরু সহস্ত্রবুদ্ধির শত্রু হিসাবেও আবির্ভূত হয় সে। র‌্যাঞ্চোর বুদ্ধির কাছে পদে পদে পরাজিত হন প্রিন্সিপাল ভীরু। ব্যঙ্গাত্মক আচরণের মধ্য দিয়ে র‌্যাঞ্চো খেপিয়ে তুলে অভ্যাসের দাস প্রিন্সিপাল ভীরুকে। এমন এক পর্যায়ে প্রিন্সিপাল এই তিন ইডিয়টসের বাকী দুজনের কর্মজীবী অভিভাবককে সতর্কতামূলক চিঠি পাঠান যেখানে র‌্যাঞ্চোদাসের সাথে মিশার কারণে তাদের অন্ধকার ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। এর পর ফারহান আর রাজুর বাড়ি থেকে ডাক পড়ে তিনজনেরই। র‌্যাঞ্চোকে অপমানের মধ্য দিয়ে তারা নিজেদের ছেলেদের বাঁচাতে চেষ্টা করে। কিন্তু র‌্যাঞ্চো’র আকর্ষণ এড়াতে পারে না ফারহান কিংবা রাজু উভয়েই। বরং সেরাতে তারা শহরের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়ে অনাহুত ভাবেই। সেখানে গিয়েও তারা ব্যঙ্গ করে কনের ছোট বোনের হবু জামাইয়ের নাক উচু ভাব নিয়ে সতর্ক করতে চায়। প্রিন্সিপাল ভীরুর মেয়ের বিয়েতে এভাবে তারা ঢুকে গিয়ে প্রিন্সিপালকে আরো খেপিয়ে তুলে।

থ্রি ইডিয়টস মিলে কেবল প্রিন্সিপাল ভীরুকে খেপানোই নয়, তারা সুবিধাভোগী রামালিঙ্গমকেও চরম অপমান করে। এতে সাধারণ ছাত্ররা তাদের পক্ষে দাঁড়ায় ধীরে ধীরে। এরই মধ্যে একদিন খবর আসে রাজুর বাবা মৃত্যু পথযাত্রী। এর আগে অপমানিত র‌্যাঞ্চো’ই রাজুকে নিয়ে তার বাড়িতে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। যাওয়ার পথে তারা পায় প্রিন্সিপাল কন্যা পিয়াকে। তার মোটর বাইক প্রায় জোর করে নিয়ে তারা রওনা হয় রাজুর বাড়িতে। বাড়িতে পৌছে তারা জানতে পারে সে মুহুর্তে যদি রাজুর বাবাকে হাসপাতালে না নেয়া হয় তাহলে তার বাঁচবার আর কোন আশা নেই। র‌্যাঞ্চো’র বুদ্ধিতে সে যাত্রা মোটর বাইকে করে তাকে হাসপাতালে পৌছে দেয়া হয়। কিন্তু উত্তেজনায় তারা ভুলে যায় যে পরদিন তাদের পরীক্ষা শুরু। পিয়া যদিও তাদের মনে করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে একটা সময়, তখন আসলে তিন বন্ধুর হোস্টেলে ফিরে যাওয়ার কোন অর্থ নেই। সকালে তারা হাসপাতাল থেকেই পরীক্ষার হলে পৌছায়। সেখানেও নানা কান্ড করে তারা পরীক্ষা শেষ করে। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায় র‌্যাঞ্চো প্রথম স্থান পেয়েছে, চতুর দিনমান পড়ালেখার পরেও দ্বিতীয়। রাজু আর ফারহান আছে সবার শেষে।

এমন ঘটনার পর র‌্যাঞ্চো তার বাকী দুই ইডিয়ট নিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত অনুধাবনে বসে। সাথে এক বোতল মদ। আবেগময় পরিস্থিতিতে আলোকচিত্র প্রেমী ফারহানকে ফটোগ্রাফিতেই মনোনিবেশ করতে বলে র‌্যাঞ্চো। আর রাজু'র জন্য চাকরীটা’ই বেশী প্রয়োজন বলে তারা বুঝতে পারে। কারণ তাদের অনিশ্চিত আয়ের পরিবারে সে’ই একমাত্র উপার্জনক্ষম। আর র‌্যাঞ্চো নিজে হতে চায় একজন বিজ্ঞানী। যে দেশের প্রান্তীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু একটা করতে চায়। এক পর্যায়ে আবেগাহ্নিত মাতাল তিন ইডিয়ট চলে প্রিন্সিপাল ভীরুর বাড়িতে। সেখানে তারা দেয়াল টপকে ঢুকে পড়ে ভীরু কন্যা পিয়ার ঘরে। ঢোকার সময় কোন বাধা না পেলেও বেরোবার সময় প্রিন্সিপাল তার বাড়িতে অনাকাঙ্খিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি বুঝতে পারে। তিনি বেড়িয়ে এসে কেবল মাতাল রাজুকে চিনতে পারেন এবং রাজুকে এর জন্য শাস্তি দেবার পরিকল্পণা শুরু করেন।

এই ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রীতেই রাজুর পরিবারের নিশ্চিন্তি সম্ভব। এ অবস্থায় রাজু’র বিরুদ্ধে অভিযোগ এলে রাজু আত্মহত্যার চেষ্টা করে। কিন্তু রাজুকে বাঁচিয়ে তোলে র‌্যাঞ্চো’র ভালোবাসা। এভাবেই সিনেমার গল্প এগোয়। কোন এক ঝড়-জলের রাতে র‌্যাঞ্চোর কারিশমায় বিপদাপন্ন প্রিন্সিপালের অন্তসত্ত্বা বড় মেয়ের সন্তানও ভূমিষ্ঠ হয়।

র‌্যাঞ্চো’র উদ্দীপনায় ফারহান পরিবারের সম্মতি নিয়েই দেশের বাইরে চলে যায়। রাজু তার চাকরীতে মনোনিবেশ করে। আর র‌্যাঞ্চো!? ১০ বছর পর হারিয়ে যাওয়া র‌্যাঞ্চোকে খুঁজতে চতুরকে নিয়ে বেড়োয় ফারহান আর রাজু। তারা সিমলা পৌছে জানতে পারে এক নতুন সত্য। র‌্যাঞ্চোদাস আসলে ভিন্ন একজন ব্যক্তি। যাদের বাড়ির মালিপূত্র তার জন্য টাকার বিনিময়ে একটা ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রী এনে দিয়েছিলো। এখন সেই মালি পূত্র তিব্বত সীমান্তবর্তী শহর লাদাখে একটি স্কুল প্রতিষ্টা করেছে। আবারো তারা বেড়োয় নকল র‌্যাঞ্চোর খোঁজে। পথিমধ্যে তারা পিয়ার খবর নিতে গেলে দেখতে পায় তার বিয়ের প্রস্তুতি চলছে। বিয়ে হচ্ছে সেই নাক উচু পানি প্রার্থী যুবকের সাথেই। ফারহান আর রাজু মিলে তাকে বের করে নিয়ে আসে বিয়ের আসর থেকে। তারা সবাই মিলে শেষ পর্যন্ত লাদাখ পৌছায় সকল র‌্যাঞ্চোর স্কুলে। সেখানে গিয়ে তারা বুঝতে পারে র‌্যাঞ্চো ঠিক গড়পড়তা কোন স্কুল তৈরী করে নি। সে তার স্বপ্নপূরণের পথেই এগোচ্ছে।

চতুর হঠাৎ সেখানে একটি কাগজ বের করে। যেখানে লেখা আছে চতুরের নিকট অবশেষে র‌্যাঞ্চো পরাজিত হয়েছে। র‌্যাঞ্চো নির্দ্বিধায় স্বাক্ষর করে দ্যায় সেই কাগজে। শিশুসুলভ আনন্দে যখন চতুর তার গাড়ির দিকে দৌড়ে যাচ্ছে তখন নকল র‌্যাঞ্চো তার মোবাইল ফোন বের করে চতুরকে ফোন করে। চতুরের ফোনে বেজে ওঠে বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ফুনসুখ ওয়াংদুর নাম্বার, যার সাথে চতুরের কোম্পানী একটি বড় ব্যবসায়িক চূক্তি করতে যাচ্ছে। চতুর বুঝতে পারে জীবনে আরেকবার সে পরাজিত হলো র‌্যাঞ্চোদাসের কাছে।

থ্রি ইডিয়টস সিনেমাটি নিঃসন্দেহে একটি উপভোগ্য উপস্থাপণা। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই সিনেমা হয়তো একটি নতুন ধারা শুরু করতে অনুপ্রেরণাময় হয়ে উঠবে। এমন সামাজিক-রাজনৈতিক স্যাটায়ার হয়তো ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এই প্রথম নির্মিত হলো। কিন্তু এই সিনেমার পেছনের যেই গল্প সেটা একটু অন্যরকম প্রতিক্রিয়া তৈরী করে। রাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সমালোচনা করেও তার পরিবর্তনে যেই সংগবদ্ধ উপলব্ধি প্রয়োজন তার কোন উপস্থিতি আমরা দেখি না। ব্যক্তি র‌্যাঞ্চোদাসের মাধ্যমে প্রচলিত যেই ইন্ডিভিজ্যুয়ালিজমের গল্প চলচ্চিত্রকার বলতে চেয়েছেন তা অনেক সময় খানিকটা বিব্রতকরই ঠেকে। এই সিনেমার যেই মোরালটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ইতোমধ্যেই, সেটাও একটি ব্যক্তিকেন্দ্রীক উপলব্ধি। রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়ে, ব্যক্তির নিজের অবস্থান কিভাবে তৈরী সম্ভব, তার পক্ষে তেমন কোন জোরালো যৌক্তিক ধারণার উপস্থিতি দেখা যায়নি থ্রি ইডিয়টসে। এটি তাই চিরাচরিত ভারতীয় সিনেমার গল্পের মধ্যেই পর্যবসিত হয়। সুপার হিরো আসলে অনেক দূরের মানুষ। একাকীত্বেই তাদের মূল মনোনিবেশ। এইরকম একটি ধারণা গড়ে উঠবারও একটা অবকাশ থেকে যায় এই সিনেমার দৃশ্যায়নে।
একজন ফুনসুখ ওয়াংদু আসলে উইল হান্টিংয়ের মতোই একটি প্রতিভা। ইচ্ছার দৌরাত্মেই এই সব প্রতিভা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে যেতে পারে। হয়ে উঠতে পারে সমাজের জন্য প্রয়োজনীয়। কিন্তু বাস্তবতাকে অস্বীকার করে সুপার হিরো বানিয়ে দেওয়ার যেই চেষ্টা বাণিজ্যিক এইসব চলচ্চিত্রের মূল উদ্দেশ্য, তার কোন ইতিবাচকতা নাই। মনে হয় নেতিবাচকতাও থাকে না। কেবলই দর্শক মনোরঞ্জনের চেষ্টা বড় হয়ে উঠে। যার মাধ্যমে ছবি ব্যবসায়িক সাফল্য পাবে। তৈরী হবে এইরকম আরো অসংখ্য ব্যর্থ বাণিজ্যিক স্যাটায়ার ধর্মী চলচ্চিত্র। হয়তো ভবিষ্যতই জানিয়ে দেবে এই ধরণের চলচ্চিত্র কতোটা কার্যকরী। যদিও ইতিহাসের শিক্ষা থেকে জানি এভাবে কোন সামাজিক উপলব্ধির পরিবর্তন ঘটে না। বরং আরেকটি প্রতিবন্ধক পথে যাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরী হয় নতুন প্রাবল্যে।

পোস্টটি ১৫ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

বিষাক্ত মানুষ's picture


লাইক্কর্লামInnocent

ভাস্কর's picture


ধন্যবাদ বিমা...কাইলকা আমি হাটছি মহাখালি পর্যন্ত...

নুশেরা's picture


শেষ প্যারাটাই আসল! দারুণ বিশ্লেষণ। 

ভাস্কর's picture


লেখাটা তৈরী করতেছিলাম কালের কন্ঠ পত্রিকার লেইগা। যেই কারণে লিখনের গঠন কিম্বা ভাষা কোনটাই নিজের মতোন হয় নাই, তাগো নিজেগো চাহিদা আছে। তাই শেষ প্যারা গুরুত্বপূর্ণ হইলেও এক কোনায় রাখতে হয়।

নুশেরা's picture


আমার মনে হচ্ছিলো, কাহিনীর বিবরণটা ফরমায়েশি হতে পারে।

এই মুভিটা আমি থেকে থেকে যেটুকু দেখেছি, তাতে মনে হলো, সার্টিফিকেটধারী হওয়া নিয়ে (ধনীপুত্র যে রাঞ্চোর সার্টিফিকেট বাঁধিয়ে রেখেছে) স্যাটায়ার করার সুযোগ ছিলো। সে রাস্তায় না গিয়ে ভাঁড়ামি দিয়ে ওই অংশটা শেষ করা হয়েছে।

ভাস্কর's picture


গল্পে আসলে সেইফ থাকছে চরিচালক অনেক জায়গাতেই...বাজার মাথায় রাইখা বানানো ছবিতে এর বাইরে কিছু আশাও করি না। কিন্তু গ্যাঞ্জামটা লাগে যখন আমরা এইসব বাণিজ্যিক উপাদান থেইকা শিক্ষামূলক কিছু খুঁজি...

টুটুল's picture


নুশেরা আপাই বইলা দিছে...

রিভিউ তো ভাইলই লিখলেন... আরো লিখবেন নাকি? টাঙ্গুয়ার হাওরের কি অবস্থা?

ভাস্কর's picture


আমরা বন্ধুর নিয়ম মতো প্রথম পাতায় এক পোস্ট দিছি। শখ থাকলেও কবে আরেকটা লেখা দিতে পারুম, সেইটা বুঝতে পারতেছি না। Sad

টুটুল's picture


নীতিমালা একটা ভ্রাম্ত ধারমা

"চ. নীড়পাতায় একসঙ্গে এক বন্ধুর ২টির বেশি পোস্ট দেওয়া যাবে না। "

আপ্নেতো একটা দিছেন Smile

১০

ভাস্কর's picture


আপনের ভরসায় আরেকটা পোস্ট দিয়া দিলাম...

১১

টুটুল's picture


আরে আমি কি ভরষায় জব করি নাকি?

১২

টুটুল's picture


আলিজয়েল Smile

১৩

নুরুজ্জামান মানিক's picture


"নুশেরা আপাই বইলা দিছে..."

হ ।

১৪

অপরিচিত_আবির's picture


ছবিটা দেখেছিলাম একটা বিদেশী চলচ্চিত্র দেখার আশায়, কিন্তু তিন ঘন্টা শেষে বুঝলাম শেষমেশ একটা হিন্দী ছবিই দেখা হল!

১৫

ভাস্কর's picture


এই দিক থেইকা আমি আপনের চাইতে ভালো অবস্থায় থাকি। ভারতে নির্মিত ছবি দেখতে বইসা আমি ইউরোপ আশা করি না। তয় আজকাল হলিউডেও যেই হারে cliche fantasy চর্চা বাড়ছে তাতে এইটারে সেইখান থেইকা খুব বেশী দূরের কিছু মনে হয় নাই...

১৬

মুকুল's picture


ছবিটা দেখুম দেখুম কৈরাও এখনো দেখা হয় নাই। রিভিউটা ভাল্লাগছে। Smile

১৭

ভাস্কর's picture


দেইখা ফেলেন...আনন্দ পাওন যায় হুমায়ুন আহমেদের বইয়ের মতোন ২ ঘন্টার আনন্দ...

১৮

শাতিল's picture


বিনোদনের জন্য দেখছি ছবিটা। ছবি, ডকুমেন্টরি, আর্ট ফিল্মে অনেক ম্যাসেজ দেওয়া হয় কিন্তু ব্যক্তি জীবনে কেউ না বদলাইলে এইসবের কোন মানে নাই, আশা করি না কেউ এইসব দেইখা বদলাইবো। হুদাই শো অফ।

১৯

মাহবুব সুমন's picture


ফিল গুড টাইপের , টাইম পাসের জন্য পারফেক্তো মুভি।
ম্যাসেজতো কতোই দেয়া হয় কিন্তু প্রয়োগতো খুব কম

২০

শাওন৩৫০৪'s picture


লেখাটা পড়তে পড়তে শেষ প্যারাটার মত কিছু কওয়ার কথা ভাবতেছিলাম যখনই, তখনই দেখি শেষ প্যারাট লেইখা ফেলাইছেন...আমি আর গুরুগম্ভীর কমেন্ট করতে পার্লাম্না...।

 

আপনের  সাথে সহমত জানাইয়া চৈলা গেলাম..

২১

আহমেদ রাকিব's picture


শেষ প্যারাডা চরম হইছে। পাব্লিক কি বুইঝা যে এইডারে ক্যারিয়ার চয়েসের হাদিস বানানোর মতন হাস্যকর কাম করে ঠিক মাথায় ঢুকে না।

২২

মুক্ত বয়ান's picture


শ্যাষ প্যারাই তো সবকথার সার কথা বলে দেয়।
++ Smile

২৩

নীড় _হারা_পাখি's picture


আমি আর কি বলবো।।?আর বলার মত কিছু খুঁজেও  পাচ্ছিনা...সবাই  সব কিছু বইলা ফালাইছে...আমি লাইক করলাম...আর গুরু গম্ভীর কিছু আমি তো ভাবনার মধ্যেও আনি না...মাথা ঘুরে...তাই ওই কথা গুলো মনে হইলো মাথার মধ্যে ঠাস কইরা একটা বারি দিয়া তব্ধা বানাই ফেলছে...মুভি তো দেখি আনন্দ পাওয়ার জন্য...এত কিছু ভাবি না...তবে তুমি যে বেশি পন্ডীত তা বুঝতে পারছি...আর বই ও পড় অনেক...তুমি আমার লিখায় যে মন্তব্য করছো...আমার জন্য...আমি ধন্য ...আমার  অনেক কিছু শিখার আছে ...কিছুই  শিখি নি...সময় দাও...ধিরে ধিরে হবে...ভালো থাকো...

২৪

তানবীরা's picture


কেবলই দর্শক মনোরঞ্জনের চেষ্টা বড় হয়ে উঠে। যার মাধ্যমে ছবি ব্যবসায়িক
সাফল্য পাবে।

সব সিনেমাওয়ালাদের এটাই মূল মন্ত্র, বাকি সব ভূঁয়া

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...