ইউজার লগইন

কনফেশন্স

এক.
পার্টটাইম মাস্টারী করতেছি একটা বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে। মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন বিভাগে। বিজ্ঞাপনি সংস্থায় চাকরীর অভিজ্ঞতায় অনার্সে ফাইনাল সেমিস্টারের পোলাপাইনগো রেডিওতে বিজ্ঞাপনি ব্যবসা বা ব্যবসার বিজ্ঞাপন সম্পর্কীত জ্ঞান দিতেছি। কোনো জীবনেই আমার মাস্টার হওনের অ্যাম্বিশন ছিলো না। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষভাগে পেশাদার বিপ্লবী হওয়ার অ্যাম্বিশনটা বাদে আমি চিরজীবনই অ্যাম্বিশনলেস মানুষ। কেবল অ্যাম্বিশনলেস কইলেও কম বলা হয়, আমার রীতিমতো অ্যাম্বিশন ভীতি আছে। নিজের উদ্যোগে আমি কোনোদিন কোনো সিঁড়ির গোড়ায় গিয়াও দাঁড়াই নাই। আমার খুব কাছের বন্ধুরাও অবশ্য এইটা ধরতে পারে নাই। মাস্টার্স ক্লাসে উইঠা যখন ক্যাম্পাসের সিনিয়র মোস্ট ব্যাচ হইলাম, সেইসময়কার জুনিয়র মোস্ট ব্যাচের একটা ছেলের সাথে পরিচয় হইলো। সজীব নামের এই ছেলেটারে বামপন্থী আন্দোলনে যুক্ত করনের চেষ্টা করতাম আর তার দায়িত্ব ছিলো আমার সব কথায় সায় দিয়া সাংগঠনিক রাজনীতি না করার সংকল্প জানানো। এই মেধাবী ছেলেটাও সম্ভবতঃ আমার সাথে আড্ডা দিয়া মজা পাইতো...মধ্যরাইতে ১০টা সিগারেট কিনা সে আমার রুমে চইলা আসতো আড্ডা দিতে। তারে নিয়াই হয়তো আমি বিভিন্নজনের সাথে সাংগঠনিক কথাবার্তা কইতেছি...কিন্তু এই ছেলে তবুও সংগঠনে আটকাইতে ভয় পাইতো। আমি ক্যাম্পাস ছাড়নের আগেই অবশ্য এই জেদি সংকল্প থেইকা সইরা আসছিলো সে। ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনমূখর সময়টাতে সে নিজের উদ্যোগেই যুক্ত হইছিলো। এই সজীব পরিচয়ের মাসখানেকের মধ্যেই আমার এমন আড়াল কইরা রাখা চরিত্রটারে বুইঝা ফেললো। তার কাছ থেইকা আমার মাঝে মাঝেই শুনতে হইতো, "ভাস্কর ভাই, আপনে মানুষটা একেবারেই ডিসিপ্লিন্ড না...নিয়মে চলতে গেলে আপনের অন্যের হেল্প লাগে। এমন হইলে তো কোনোদিন কিছু করতে পারবেন না...বস, অ্যাম্বিশন তৈরী করেন, অ্যাম্বিশন ছাড়া মানুষ সারাজীবন একই জায়গায় পইড়া থাকে। ধীরে ধীরে সবার থেইকা পিছাইয়া পড়বেন যেইদিন, সেইদিন মনে কইরেন আমার কথা..."।

আমার আজকে হঠাৎ সজীবের কথা মনে পড়লো পোলাপাইনরে পড়াইয়া ক্যাম্পাস থেইকা বের হইয়া আসার সময়। ক্লাসে পোলাপাইনগুলিরে মোটিভেইট করতে হয়। তাদের অ্যাম্বিশন তৈরীর উপদেশ দেই। ডেসটিনি ঠিক করতে বলি। এইসব শুইনা তারা উদ্দীপ্ত হয়। কিন্তু বলার সময় আমার মনে হয় কিছু মানুষরে আমি ব্যক্তিসত্ত্বা হারানোর পরামর্শ দিতেছি। হিপোক্রিসি! আজকে ক্লাস করাইতে করাইতে সময় একটু বেশি নিয়া ফেলছিলাম। পোলাপাইন কিছু না বলাতে আমারো ঘড়ির দিকে তাকানো হয় নাই। হঠাৎ পরের ক্লাস নেওনের টিচার আইসা দরজা খুইলা ঢুইকা পড়নের পর আমার সম্বিত ফিরছে। তাড়াতাড়ি ক্লাস শেষ কইরা বের হইয়া আসার সময় মনে হইলো...হিপোক্রিসি শিখাইতে আমি এতো মগ্ন হইয়া গেলাম! কিন্তু এই মগ্নতায় তো কোনো অ্যাম্বিশন নাই। আমি কোনো বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে পারমানেন্টলি পড়াইতে পারুম না, এই বিষয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত। সজীব ছেলেটার সাথে আমার দেখা হইছিলো পরে...সে নিজেও তার মেধা নিয়া খুব বেশিদূর যাইতে পারে নাই। একটা ফোন কোম্পানীর কাস্টোমার সার্ভিসে চাকরী করতেছিলো সেইসময়। সেও প্রায় চার/সাড়ে চার বছর আগের কথা...সজীবের সাথে আবার কথা কওনের সাহস আমার নষ্ট হইয়া গেছে এই সময়টায়। কারণ খুব সামান্য, সে আমারে ছবির মতোন পড়তে পারছিলো। সে আমার মুখোশের আড়ালে থাকা গন্তব্যহীন মানুষটারে চিনা ফেলছিলো...

দুই.
মুখোশটা আমি যে খুব শখ কইরা পরছি এমন না। ছোটোবেলার একটা সমস্যার কারণে আমার স্পষ্ট উচ্চারণে কথা বলার শুরুটা বেশ দেরী কইরা হইছিলো। মনস্তত্ত্বের ভাষায় আমি ছিলাম ডিসলেক্সিয়ায় আক্রান্ত শিশু। অনেক ওলোটপালোট ছিলো আমার কোনো কিছু বুইঝা ওঠার অর্ডারে। নিয়ম কইরা পড়ালেখা শেখা এমনটা সম্ভব হইতো না আমার পক্ষে, ধারাবাহিকতার সমস্যায় পড়তাম। এখন অবশ্য বেশ ভাব নিয়া কই, পৃথিবীর বহু বিখ্যাত মানুষ তাদের শৈশব কাটাইছে ডিসলেক্টিক অবস্থায়। আমার অন্যতম প্রিয় গায়ক অজি অসবোর্ন, অন্যতম প্রিয় অভিনেতা আমির খান...

ডিসলেক্সিয়ার কারণে মা অনেক ভয় পাইতো। সেই যূগে তো আর আজকালকার মতোন হরেদরে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ পাওয়া যাইতো না। মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত একটা দেশ তখনো ঘুইরা দাঁড়ানোর সংগ্রামে ছিলো। যেই কারণে আমার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিলো অন্য বাচ্চাদের সাথে মেশামিশির ব্যাপারে। প্রায় সময়েই একলা একলা থাকতাম। অন্যদের কথা কইতে দেখলে আমার হিংসা হইতো। এই হিংসা নিবারণ করতে আমার নিজের একটা দুনিয়া গইড়া তুলতে হইছিলো। সেই দুনিয়ার আমি ভীষণ বকবক করতাম। সেই দুনিয়ায় আমি ছিলাম মধ্যমনি।

এক বিদেশী মহিলা চাইল্ড সাইকোলজিস্ট আর মায়ের দৌলতে আমারে খুব বেশিদিন এই যন্ত্রণা নিয়া কাটাইতে হয় নাই। কিভাবে অর্ডারে গুণতে হয়-পড়তে হয় সেইসব শিখছিলাম বেশ তাড়াতাড়ি; তবে একটা ক্ষতি হইছিলো, বাংলা বর্ণ লেখার বিষয়টা আমি শুরুতে ধ্বনি নির্ভর না শিখা ইমেজ হিসাবে শিখছিলাম। ঐটা ডিসলেক্সিয়া থেইকা মুক্তির একটা ট্রিক। আজো আমি বর্ণমালারে যতোটা না ধ্বনির, বানানের তারচাইতে অনেক বেশি ইমেজ হিসাবে দেখতে পাই। যেই কারণে শুদ্ধ বানান শেখা হইলো না আমার।

আস্তে আস্তে আমার ডিসলেক্টিক জটিলতা কাটলো। মূলতঃ হাত ভাঙ্গার পর থেইকা আমি কনফিডেন্ট হইতে শিখতে শুরু করলাম। ইন্ট্রোভার্ট থেইকা এক্সট্রোভার্ট হইলাম। পরিচিত বাড়তে থাকলো। পড়ার আর লেখার হ্যাবিট, ক্রিকেট আর ফুটবল খেলায় মোটামুটি মানের দক্ষতা আর পালাইয়া যাওয়ার অভ্যাসে কিছু বন্ধু-বান্ধবের মধ্যে তখন পাগল শিরোনাম পাইলেও উড়াইয়া দিতো না। আধুনিক মানুষরা পাগল অর্থাৎ নিয়ম না জানা বা মানা মানুষরে বিশ্বাস করতে পারে না একেবারেই। বিশ্বাস-বিশ্বাসের দোলাচলে তাই নিয়মানুবর্তীতা একটা বড় বিষয়। নিয়ম মানেন তো বহুদূর যাবেন! কারণ নিয়ম মানা মানুষ প্রেডিক্টেবল। প্রেডিক্টেবল মানুষ নিরাপদ এই হইলো যুক্তির পরম্পরা।

ছোটোবেলায় একেবারেই চুপ কইরা থাকা অথবা এলোমেলো অর্ডারে কথা বলার চেষ্টা করা ছেলেটা কৈশোর পার হইতে হইতেই বাচালও হইয়া উঠলো। অনিয়ন্ত্রিত কথা শুরু হইলো। মাঝখানে বছর পাঁচেক রাজনীতি করছিলাম বইলা এখন যা বলি সেইটুক পরিবর্তন ঘটছে। নাইলে কথা বলতে বলতেই আমি একা হইতাম আরো। আমার ধারেকাছে মানুষ ঘেষতো না একেবারেই। এখনতো তাও কিছু মানুষ অবস্থাটারে সহনীয় মনে করে!

তিন.

রাজনীতির প্রতি আগ্রহ মূলতঃ দীর্ঘ্য নয় বছরের এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়া তৈরী হইছিলো। প্রথম যেই মিছিলে গেছিলাম সেইটা অবশ্য স্কুল পালানোর সুযোগ তৈরী করছিলো বইলা স্মৃতিময়। আমি গভঃ ল্যাবরেটরী স্কুলে পড়ি তখন। ঢাকা কলেজ থেইকা সেইসময়কার ছাত্র আন্দোলনের নেতারা আসতো মিছিলে স্কুলের ছাত্রদের নিয়া যাইতে। স্কুল টিচাররা কলেজের ছাত্রদের ভয়ই পাইতেন। আমরা স্কুল ভাইঙ্গা মিছিলে যাইতাম। মিছিল শেষে আইসক্রীম খাইতাম। ঐ আমলে অবশ্য নেতারা খাওয়াইতো না, ছাত্রদল-ছাত্রলীগের নেতারাও। স্কুল পালানির মিছিলে গিয়া সমাবেশে ছাত্র আন্দোলনের গৌরবময়তার ইতিহাস জানতাম। মানুষের আত্মত্যাগের মহত্মের কাহিনী শুনতাম।

বস্তুবাদ প্রথম পড়ি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের জাভিক কার্যক্রমে গিয়া। ঐ বয়সে স্কুলে আমরা কয়েকজন নাস্তিক হিসাবে পরিচিত ছিলাম। বেশ ভাব নিয়া তখন ঝাড়তাম নজরুলের কবিতার লাইন, "সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।" বন্ধু কচি বহুত চেষ্টার পর শেষ পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষার পর আমারে তার পার্টি অফিসে নিতে পারলো। প্রথম দিন পার্টি অফিসে গিয়া মূগ্ধ হইলাম রাজেকুজ্জামান রতন লোকটারে দেইখা। সময়টা দূর্দান্ত ছিলো। বন্ধুবান্ধব মিল্লা তখন আমরা মুক্তিযোদ্ধা ছাত্র কমান্ড করি। সংশপ্তক বাহিনীতে না লেখাই। গণআদালতের স্বপ্ন দেখি। ভর্তি হইলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেইখানে তিনবছর পার্টটাইমার পার্টিজান হইয়া কাটাইলাম। ফুলটাইম ছিলাম নেশাখোর। সেকেন্ড ইয়ার থেইকা অনার্স পর্যন্ত একদিনও ক্লাস করি নাই। কিছুই করতাম না তখন। সারাদিন গাঁজা টানতাম নাইলে ট্যাবলেট খাইতাম, অথবা মদ খাইতাম...কিম্বা হেরোইন।

অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার আগ দিয়া মাথা আউলাইয়া গেলো। রিয়েলিটি-ড্রিম এক হইয়া গেলো। হেল্যুসিনেশন হইতে শুরু করলো ঘনঘন। তখন কবিতা লেইখা বেচাবিক্রী করি। নেশার খরচ জুটে। হেল্যুসিনেশন যখন পলকে পলকে ঘটতে থাকলো, তখন আর সহ্য করতে না পাইরা মায়ের কাছে অনুরোধ করলাম শাসনের। আবারো আমার মা আর ছাত্র সংগঠনের নেতাদের ইন্সপিরেশনে ফিরলাম সুস্থ্ হইয়া। সংগঠন তিন মাসের মাথায় বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির জেনারেল সেক্রেটারী বানাইয়া দিলো। সেইটাই ছিলো আমার প্রথম কোনো রেসপন্সিবিলিটি। এর আগে নিজের দায়িত্ব ছাড়া আর কারো ব্যাপারে ভাবি নাই। বাড়ি থেইকা টাকা না নিলেও টাকা দেওয়ার কথা অন্ততঃ কোনোদিন ভাবি নাই। সাংগঠনিক রাজনীতির দায়িত্বশীলতায় উৎড়াইয়া, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বেও চইলা গেছি...আচরণে গাম্ভীর্য আনছি। চোখে কনফিডেন্স। কথা বলায় আস্থাশীলতা, প্রতিশ্রুতি। কিন্তু নিজেতো ভেতরে ভেতরে জানতাম এই দায়িত্বশীলতা আমি কোনোদিন চাই নাই।

রেসপন্সিবিলিটির অভিনয় ভালোই চালাইছি হয়তো...এক সেই সজীব বাদে অন্য কেউ আমার অভিনয়টারে তখন ধরতে পারে নাই। আমি মানুষের বিবিধ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিতে শিখছি। সব ছিলো সেই শৈশবের ট্রেনিং। সেই বিদেশী মনোবিদের শিখাইয়া দেয়া প্রক্রিয়ায় সমাধানের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা। তাতে হৃদয়ের অভাব ছিলো নিশ্চিত। তখন বুঝি নাই আমি নিজেও। মনে হইতো অমন রোবটের মতোন আচরনেই বিপ্লবী হওয়া যায়। বাস্তবতা বিবর্জিত ছিলাম।

রোবট মানুষ হইলেও সেই প্রথম আমি কিছু একটা হইতে চাইছি। পার্টির প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গেছি, সংগঠন বিকাশে অল্পসল্প হইলেও কাজ করতে পারছি। কিন্তু যতো কেন্দ্র ছাইড়া দূরের এলাকায় গেছি, আমার কেন্দ্রের প্রতি আমার টান ততোটাই কমতে শুরু করছে। শহরের সাথে দূরের গ্রামের মূল্যবোধ-সংস্কৃতির পার্থক্য টের পাইছি। মধ্যবিত্তের নৈতিকতা লালনের চেষ্টায় ফাইসা যাওয়া এই দেশীয় প্রাগমাটিক বামপন্থী বা পাঁতি বুর্জোয়া দলগুলির প্রতি দিনে দিনে আস্থা হারাইছি। আস্থার সাথে সাথে পুরানো সেই বিশ্বস্ততা অথবা সমর্পিত হওয়ার আকাঙ্খাটারেও হারাইতে শুরু করছি।

একসময় রাজনীতির সাথে আর তাল না মিলাইতে পাইরা ব্যক্তিজীবনে প্রবেশ। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনেও আমি আশঙ্কাগ্রস্ত'ই থাকলাম আজীবন। রেসপন্সিবল ছদ্মবেশে সব কিছু থেইকা বিযুক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছি। স্বপ্ন দেখছি নৌকা চালাইয়া সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার। স্বপ্ন দেখছি মঃস্যজীবীতার। সব যেনো অনিশ্চয়তার অভিমুখে যাত্রারম্ভ। কোনোটাতেই কোনো অ্যাম্বিশন ছিলো না কোনোদিন। মানুষ আমারে সিঁড়িতে তুলছে কোমড়ে দড়ি বাইন্ধা। ঐভাবে কি হয়! কলিজায় দপ দপ না করলে কি আর কর্পোরেট তন্ত্রের মন্ত্র শিখা যায়!?

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


কি লিখলেন! মোহমুগ্ধের মতো পড়লাম...

ক্লাসে যেসব লেকচার দেন সেগুলো এখানেও দেন, পড়ি।

মামুন ম. আজিজ's picture


ভালো বক্তা এবং ভালো বায়োগ্রাফী লেখার ক্ষমতা এ লেখার পাঠক মাত্রই অনুধাবন করবেন যে আপনার মাঝে নিরন্তরভাবে চেপে বসেছে। ....
মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। আমি ওত জ্ঞানী না। তবে আপনি এই যে এত কিছু করেছেন সেটা একেবারে এম্বিশেনলেস একটা ধারনা থেকে কিন্তু সম্ভব না। সমাজ পরিবর্তন করার মানসিকতা ছিল বলেই বাম রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। এই যে সমাজ পরিবর্তনের একটা লক্ষ্য , সে লক্ষ্যে একটা বিশ্বাসকে পুঁজি করে সংগ্রামে সশরীরে লেগে পড়া , সেই লক্ষ্যটাকে কি আপনি এম্বিশন বলবেন না। এবং আপনি সেটা এখনও ধারন করেন বলেই মনে হয়।

রায়েহাত শুভ's picture


ভাস্করদা কইলাম লেখার ভিতরেই কইছেন ...

আসলে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষভাগে পেশাদার বিপ্লবী হওয়ার অ্যাম্বিশনটা বাদে আমি চিরজীবনই অ্যাম্বিশনলেস মানুষ।

সো, সক্রিয় রাজনীতিতে জড়াইয়া পড়াটারে আপনি অ্যাম্বিশন ছাড়া বলতে পারেন না...

বিষাক্ত মানুষ's picture


পড়লাম

রাসেল আশরাফ's picture


এক নিঃশ্বাসে পড়ছি।এই টাইপের লেখা আরো চাই আপনার কাছ থেকে।

মীর's picture


এ্যম্বিশন কি কর্পোরেট তন্ত্রের মন্ত্রই শুধু? আজকে যে আমি আগামীকাল বাঁচার প্রস্তুতি নেই, এইটা কি? কিংবা মাসশেষে বেতন পাওয়ার জন্য মাসভর অফিসে কামলা দেই, এইটা? আমার তো মনে হইলো, আপনের মধ্যে লুম্পেন মানসিকতাটা নাই। যেইটারে এ্যম্বিশনের একটা ভুল ব্যাখ্যা হিসাবে পোলাপাইনরে বিবিএ'র ক্লাসে গেলানো হয়।
আর লেখাটা চমৎকার হইসে। আপনে কনফেশন্স অফ আ ডেঞ্জারাস মাইন্ড মুভিটা দেখছিলেন?

শওগাত আলী সাগর's picture


খুবই ভালো লাগলো লেখাটা ধন্যবাদ।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


টিপ সই

তানবীরা's picture


কিছু বলতে ইচ্ছে করছে না। পড়েছি জানিয়ে গেলাম

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...