ইউজার লগইন

বাংলা ব্লগিংয়ের তকমাশিল্প বিষয়ে একটি চরম ব্যক্তিগত ব্লগপোস্ট...

সামহোয়্যার ইন আমলের শুরুর দিকে রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতির জটিলতায় তিনবারের বার একটা রিপ্লাই পাইছিলাম। পারমুটেশন-কম্বিনেশনের তৃতীয় পর্যায়ে যেই আইডিটা আমার হইলো সেইটা শুনতে বেশ খ্যাত লাগলেও মাইনা নিলাম ধৈর্য্যের অভাবে। সেইসময় জানতামই না যে নিকের চেহারা পাল্টাইতে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা যায়। মূলতঃ ব্রাত্য রাইসু'র প্ররোচনায় বাংলা ব্লগিঙের স্বরূপ দেখতে ২০০৬'এর মার্চের দিকে ব্লগের প্রথম পাতা দেখা হইছিলো। রাইসু তখন রাসেল ও তার বাহিনীর হাতে গালি খায় কথায় কথায়। রাইসু আমারে স্বাধীনচেতা বাঙালির এইরূপ দেখাইতেই আমন্ত্রণ জানাইছিলো সেই আসরে। সেইসময়ের সামহোয়্যার ইন ব্লগের প্রথম পাতা দেখতে ভীষণ ক্লামজি লাগাতে খুবেকটা আগ্রহ পাই নাই শুরুতে তখনো আমরা ইয়াহু গ্রুপেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করি বেশি। সেইখানে সাহিত্য আর সমাজনীতি কপচাই। গালাগালির ব্যবহারে সারাক্ষণ সচেতন থাকতে হয়, মডারেটররা ভীষণ কড়া ছিলেন সেইসব ইয়াহু গ্রুপে। প্রধানতঃ সক্রিয় ছিলাম কবিসভা-উত্তরাধিকার আর মৌনমূখর গ্রুপে এর বাইরে আমরা বন্ধুর ইয়াহু গ্রুপেও ছিলাম; তবে আমরা বন্ধু গ্রুপ নিতান্তই পোলাপাইনা গ্রুপ ছিলো তখন লেখার চাইতে আড্ডাটাই বেশি আগ্রহের ছিলো সেইখানে।

কবিসভায় মুহুর্মূহু গালি দিতাম আমরা। অধিকাংশ গালি ছিলো "মাস্টারী" "অভিভাবক" "এলিটিস্ট" এইরকম। চ্যুতমারানি গালি যে এমন কমিউনিটিতে দেয়া যায় সেইটা প্রথম দেখলাম সামহোয়্যার ইন ব্লগেই। তো যা'ই হোক, আমার লেখালেখি পুরাদমে শুরু করি জুলাই মাসে। ঐ সময়টায় আমরা কেবল পলাইছি বাড়ি থেইকা। পুলিশ আর অভিভাবকদের সমন মাথায় নিয়া ঘুরি। বন্ধু কিসলুর অফিস কাম বাসা আর মাঝে মাঝে অফিসে গেলে ব্লগিং করি। সাহিত্যালোচনায় না গিয়া মুক্তিযুদ্ধ-ধর্ম-সমাজতন্ত্র-পুঁজিবাদ এইসবেই বেশি সময় কাটাই ব্লগে। মাঝে মাঝে কবিতা লিখি। কিন্তু কোনো এক কারণে ব্লগে আমার জামাল ভাস্কর নিকটা পরিচিত হইয়া উঠলো বামপন্থী রাজনৈতিক পরিচয়েই। তর্কপ্রিয়তার এক বেমক্কা স্বভাব কেমনে যে পাইছিলাম তা জানি না, কিন্তু সামহোয়্যার ইন ব্লগেও চরিত্র পাল্টাইতে পারি নাই। যার তার সাথে যখন-তখন বিভিন্ন আলোচনায় গিয়া মতামত ঝারি তর্ক উস্কাইতে।

ত্রিভুজের সাথে হরতাল নিয়া তর্ক। আড্ডাবাজের সাথে শেখ হাসিনার সুবিধাবাদ নিয়া তর্ক। রাপু খাপাংয়ের সাথে পুঁজিতন্ত্র-সমাজতন্ত্র নিয়া তর্ক। রাগ ইমনের সাথে নারীবাদ নিয়া তর্ক। তর্ক আর আমার পিছ ছাড়ে না। এরমধ্যে ২০০৭ সাল চইলা আসলো। সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করলো জানুয়ারির ১১ তারিখ। ব্লগে সেনাশাসনের বিরুদ্ধে ব্লগিং শুরু করলাম ঐদিন থেইকাই। তখন বহুত মধ্যবিত্তরে সেইসময় সেনাবাহিনীর পক্ষে যাইতে দেখা গেলো। মানসিকতাটা আসছিলো আওয়ামি-বিএনপি বিরোধী অবস্থান বিবেচনায়। সেইসময়টায় বেশ গেছে সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক তর্কে। এরমধ্যে আবার ডঃ ইউনুসের নোবেল প্রাইজ পাওয়া নিয়া শুরু হইলো আরেক বিতর্ক। ডঃ ইউনুসরে তার নোবেল খ্যাতি ব্যবহার কইরা রাজনৈতিক আশ্রয় হিসাবেও বিবেচনা করতে শুরু করলো সেনাশাসকেরা। সেইখানেও সরব থাকা হয়। এতোসব ইতিহাস নিজের কীর্তিরে মহান কইরা তোলার উদ্দেশ্যে করতেছি না। এর একটা ভিন্ন উদ্দেশ্য আছে। তখন আমি প্রতিমাসেই একটা দুইটা কইরা কবিতা লিখতাম। আমার তখনকার কবিতার মান সামহোয়্যার ইন ব্লগে কবিতা প্রসব করা বাকীসকল কবিতার মানে ঠিকঠাকই ছিলো। অথচ দেড় বছরের ব্লগিঙে আমার পরিচিতি তৈরী হইলো রাজনৈতিক বক্তব্যধর্মী চিন্তক হিসাবে।

ঠিক যেমন কইরা ইসলামপন্থীদের ছাগু, মুক্তিযুদ্ধপন্থীদের আওয়ামী অথবা ভাদা, মানবতাবাদীদের পাকি চোদা বলা হয় এখনো ঠিক সেইভাবেই আমার ব্লগিঙের গায়ে তকমা লাগলো রাজনৈতিক বিশ্লেষক। বামপন্থায় অনুরাগটা বেশ পুরানা ছিলো। ভাববাদ আর বস্তুবাদ নিয়া বালকসূলভ তর্ক করার আগ্রহ তৈরী হইছিলো বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের লাইব্রেরী থেইকা। ছাত্র রাজনীতির অভিজ্ঞতায় শিবির বিরোধীতার মতোন অধ্যায় থাকাতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষণেও তার প্রভাব থাকাতে ট্যাগটা আরো স্পেসিফিক কইরা কইলে ছিলো বামপন্থী রাজনৈতিক বিশ্লেষণে আগ্রহী একজন ব্লগার। এই মহীরুহ ট্যাগের চাপে আমার কবিতাসমূহে ভরপুর প্রেমময়তা থাকলেও অধিকাংশ ব্লগারের চোখ এড়াইয়া গেলো সেইসব।

২০০৮'এর দিকে ক্যানো জানি আমার কবি খ্যাতি পাওনের একটা উদগ্র বাসনা তৈরী হইলো। প্রায় প্রতিদিন আমি কেবল কবিতা লিখছি। তারমধ্যে অনেক কবিতাই কাব্যমানে ভালোই ছিলো। কিন্তু পাঠকের মনোযোগ আকর্ষণ করলো একটা উদ্দেশ্যমূখীন কবিতা। মুহাম্মদের যৌনাকাঙ্খা বিষয়ে প্রশ্ন কইরা যেই লেখাটা মূলতঃ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই লিখছিলাম। তা যথাযথভাবেই সাফল্য লাভ করলো। কবিতার সংখ্যা আর নিয়মিত বাস্তবতায় কয়েকজন পাঠকও তৈরী হইলো আমার। তবে কবি পরিচিতি পাইলাম না। সেই পরিচিতি মিললো ২০০৯'এর শুরুতে। যখন আমি ব্যক্তিগত জীবনের কিছু বালখিল্য সময় কাটাইতেছিলাম। তখন কেবল ডাইরী লিখতাম। প্রতিদিন নিজের অনেক না বলা অভিজ্ঞতালব্ধ উপলব্ধিরে রূপক ও প্রতীকি উপস্থাপণ দিয়া ছদ্মবেশ পরাইতাম। আবার এইসব ছদ্মবেশের মধ্যে ইন্টেনশনাল ফাকফোকড়ও থাকতো যাতে কেউ কেউ এইসব বুঝতে পারে। দুঃখের কথা হলো এই যে এইসব ইন্টেনশনাল দুঃখবোধের পাঁচালীতে আমার কবি পরিচিতি তৈরী হইতে শুরু করলো। অথচ সারাজীবন ভাবছি কবিরা হয় সত্যদ্রষ্টা...তারা ভিশনারি দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের প্রান্তরেখা দেখতে পায়।

এই সময়টায় আমি কোনোরকম রাজনৈতিক বোধের কথা লিখতাম না। আর তাই যারা আমারে রাজনীতির বিশ্লেষক হিসাবে চিনতো তারাও ভুলতে শুরু করলো আমার আদি তকমা। তকমাপ্রিয় ব্লগের পাঠকগোষ্ঠী। আজকে হঠাৎ সবাইরেই বেশ মনে করতে পারতেছি। মনে করতে পারতেছি কিভাবে একজন নাম না জানা উটকো লোক থেইকা ভিন্নধর্মী তার্কিক হিসাবে পরিচিতি দাঁড় করাইছিলাম। উদ্দেশ্যপূর্ণ ছিলো এইসময়কার অনেক পরিচিতি, লেখার বিষয়, শব্দের চয়ন, বাক্যের রূঢ়তা। কিন্তু আসলে সফলকাম হইছিলাম এই ভ্রষ্ট জাতির তকমাপ্রিয়তার কারনেই। জাজমেন্টাল হওয়া ছাড়া কোনো মানুষের মূল্যায়ণ যেনো সম্ভবই না। আমারে সবার চিনতে হইবো সুনির্দিষ্ট শব্দে-শব্দবন্ধনীতে। প্রত্যেকেই যার যার মতো্ কইরা আমারে পাঠ করে আর ধইরা নেয় আমি এইরকম। তারপর শুরু হয় লেখাটার মান যাচাইয়ের প্রচেষ্টা।

২০০৯-২০১০'এর শুরু পর্যন্ত একবছর আমার লেখনীতে দুঃখবিলাস ছিলো। এই দুঃখবিলাসে আকূতি ছিলো। আমার পাঠকরা আমারে প্রেমময় ভাবতে শুরু করলেন। দুঃখবোধ যখন কিছুটা অপসৃয়মান তখন তাদের চোখে পড়লো আমার রূঢ়তা। আমি রূঢ় মানুষ। আমার রূঢ়তা মানুষের কোমল হৃদয়ে শেলের মতোন বিধে। রূঢ়তারে যারা তকমা দিলো তারা আমার প্রেমময়তারে ভুললো। আর যারা প্রেমময়তারে খুবেকটা ভালো পায় নাই কবিতা প্রীতি না থাকাতে তারা ভাবলো আমি দুঃখবোধ থেইকাই রূঢ়।

২০১২ তে আমি যখন আবারো টালমাতাল তখন আবারো অনেকের কাছে আমি প্রেমিক-ব্যর্থ প্রেমিক...প্রেমের সরলতায় আমার হৃদয়-প্রাণ-মন বান্ধানো। আমার লেখা দিয়া আমারে কিম্বা আমারে দিয়া আমার লেখার পাঠোদ্ধারের কি আগ্রাসী চেষ্টা! এর বাইরে পরিচিতরা ভাবতে পারে কীনা এই প্রশ্নটাও করছে অনেকে। কিন্তু তাদের অধিকাংশের সহযোগিতায় আমি সেইসময় টালমাতাল সেতু পার হইতেছি বিধায় মনে ব্যথা না দিয়া বিষয়টারে পাশ কাটাইয়া গেছি। কিন্তু আমি জানতাম তারা আমারে জাজ করতেছিলো সেইসময়। আমি ঐরকম প্রেমময় চরিত্র। যেই চরিত্রের মধ্যে কেবলি না পাওয়ার আর্তি কাজ করে। যার মধ্যে ব্যর্থতা আর বিষাদ খেলা করে। ফেইসবুকের দেয়ালে বিচ্ছেদের গান শেয়ার করলে তার দ্ব্যর্থবোধকতা খোঁজাখুঁজি চলে। অথচ আমি মানুষরে বুঝাইতে পারি না বাঙালি জাতির ইতিহাসে বিচ্ছেদের প্রকাশই জ্ঞান চর্চার এক্সপ্রেশন হিসাবে বিবেচিত হইছে সবসময়।

বিচ্ছেদ মানে ব্যর্থতা এমন সরলরৈখিক ইউরোপিয়ান চিন্তায় আটকানো ছিলো না কখনো বাংলার সংস্কৃতি। ঢাকের দমকে অর্চনা সঙ্গীত রচিত হইলেও সেইখানে একীভূত হওনের আর্তি থাকে। বাংলা ভূখণ্ডের মানুষ নিজেরে সবসময় প্রকৃতির অংশ ভাবছে, আবার এই প্রকৃতিতেই বিলীন হওয়ার বাসনায় সে আরতি নির্মাণ করছে। বাংলার মানুষের প্রেমগাঁথা যেই কারণে ছলনার গল্পে ভরপুর হইলেও বিচ্ছেদের বেদনা সেইখানে উপস্থিত। বাঙালি জীবনে বিচ্ছেদচিন্তাই সর্বেসর্বা থাকে। এইখানে নবান্নের সঙ্গীতেও বিচ্ছেদের মাহাত্ম বর্ণিত হয়। আমাদের প্রেমগানে গুটিকয় বিপ্লব ঘটলেও প্রায় সবতাতেই বিচ্ছেদের বয়ান নাইলে সমর্পণ।

বাংলার দোষ দিয়া নিজেরে জায়েজ করার চেষ্টায় এই ব্লগপোস্ট লিখতে বসি নাই। আসল বিবেচ্য তকমা লাগানোর বিরোধীতা নিয়া কিছু বলার চেষ্টা। আমি আমার মতোন একজন মানুষ, ঠিক যেমন কইরা অন্য আরেকজন তারমতোন। এইখানে আমি কিরকম তার মান ঠিক কইরা দিয়া আমারে বুঝতে চাওয়াটা বিপজ্জনক উভয়পক্ষের জন্যই। তকমাশিল্প থেইকা অব্যাহতি চাই; এইটার জন্য যদি কৃষ্ণের মতোন সকলের কাছে মাথানত করতে হয় তাইলে তাই সই। যখন যা বলতে ইচ্ছা করবো তাই বলতে চাই; যখন যা করতে ইচ্ছা করবো তাই করতে চাই...কারো যদি তাতে মান-অভিমান-অপমানের ইচ্ছা হয় তারা সেইমতো জানাইবারও অধিকার রাখেন। তবু তকমা দিয়েন না প্লিজ!

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


মানুষতো কারো লেখা পড়ে একধরণের জাজম্যান্টে যায়-ই। তার নানান কথা মাথায় আসবে-সে বলবে। বিষয়টা আপনি পছন্দ করেন নাই। তাহলে লেখা পড়ে বাড়তি কথা বলবো না, বললাম পড়ে গেলুম Smile

জেবীন's picture


সামু'তে না গেলে আসলেই জানতাম না, এমনি করে ওপেন ফোরামে গালাগালি করা যায়!

তকমা কিন্তু লোকে কারুর লেখা পড়েই দেয়, আর সেটা কেবল একজনে দেয়ার মধ্যেই রয়ে যায় না, অন্যান্যরাও যখন একই ধরন দেখতে পায়, তবেই কিন্তু সেটা স্বীকৃত হয়ে উঠে।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


তকমা লাগানোর পুরাই বিরোধীতা করি। তবে, বাস্তবে সবক্ষেত্রেই "সত্যের" চেয়ে "ধারণা"ই মানুষের মনে কার্যকর হয় বেশি।

যখন যা ইচ্ছা বলার আর করার অধিকার পুরাই নিয়ে রাখছে দুই শ্রেনীর মানুষ - রাজনীতিক আর পাগল...

~

ভাস্কর's picture


জেবীন এবং লীনা,

লেখা পড়ে লেখা নিয়ে কথা বলাটাই ভালো, লেখকের চারিত্রিক বিশ্লেষণ করতে যাওয়াটা হলো জাজমেন্ট। লেখার বিশ্লেষণ বা লেখার চারিত্রিক বিশ্লেষণটাকে সম্ভবতঃ অ্যানালিসিস বললেই ভালো শোনায় বা টু দ্য পয়েন্ট হয়। লেখার মুহুর্তে লেখকের মানসিক অবস্থা বা চিন্তার ছাপ হয়তো পড়ে লেখার কনটেন্ট বা স্ট্রাকচারে, কিন্তু সেটাকে ব্যবহার করে পাঠ পদ্ধতি কখনো আনন্দ দিতে পারে বলে আমার জানা নাই।

ধরা যাক আমরা জানি কাজী নজরুল ইসলাম সিফিলিস নামের একটি যৌনব্যাধিতে আক্রান্ত ছিলেন। আমরা কি তার বিদ্রোহী কবিতা পাঠের সময় এই তথ্য গোনাগুনতিতে রাখি? বা কাজী নজরুল ইসলাম পলিগ্যামাস ছিলেন। এখন তার একটি গান,

"মোর প্রিয়া হবে এসো রানী
দেবো খোঁপায় তারার ফুল..."

শোনার সময় কি তার চরিত্রের বিশেষ বৈশিষ্ঠ্যকে মাথায় রাখাটা কোনোরকম কাজে দেয়?

একইভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বেলাতেও এমন হাজারো প্রশ্ন উত্থাপন করা যায়।

এখন একজন সামান্য কবি হিসেবে তো একই পদ্ধতির পঠন আমি প্রত্যাশা করতেই পারি নাকি? হয়তো আমার বুঝিয়ে না বলতে পারার অক্ষমতা কাজ করেছে আপনাদের অভিমানসূচক মন্তব্যে। তবে আপনাদের সেই অধিকার আছে। ভালো থাকবেন Smile

লীনা দিলরুবা's picture


একবার আমি একটা প্রেমের কবিতা লিখেছিলাম।

আমার ছিল হৃদয় শুধু অন্য কিছু নয়
তোমার মতো শূণ্য খাঁচায় থাকতে পারিনিতো
রুক্ষ হাওয়ায় ঝুলছে দ্যাখো ব্যর্থ প্রেমের গান
শূণ্যে নাচে হরকরা সব নিঃস্ব প্রজাপতি
এককথাতেই নাকচ হলো আমার সুপারিশ
বাগান গুলোয় ফুটলো নাকি বসন্তে বিজন
বনের ছায়ায় উপল হাওয়ায় হাঁটছে মুসাফির
উল্টোরথের ফাঁদে পড়ে জ্বলছে আমার মন
তোমার কাছে এক রাত্তির চেয়ে ছিলাম শুধু
হংসমিথুন ছিলাম না ঠিক। তোমার কাছে গিয়ে
ফিরে এসেছিলাম কারণ হৃদয়ে সংশয়
আমার ছিল হৃদয় শুধু অন্য কিছু নয়।

আপনি কমেন্ট করেছিলেন,

কবে ছ্যাক খাইলেন! আপনে না পুলিশের লগেই প্রেম করছেন খালি?

এবার বলেন, এইটা কি?

জেবীন's picture


ভাস্কর'দা, ভুল বুঝলেন! আমি কিন্তু অভিমান থেকে মন্তব্য করিনাই!
আমার রাগ-অভিমান হলে হয় একদমই দূরে সরে যাই! সেইলোকের সাতেপাচেঁও আমি থাকি না, যতই জুতের কান্ড করুক না, আমার মনে থাকে "দুরে গিয়া মর" ভাব। আর আমার কাছের কেউ হলে তারে কথা আমি ডিরেক্টই বলবো তা মোটেই খুচাঁনি দিয়া নয়! আপ্নারে কিছু জানাতে হলে এইভাবে ঠারেঠুরে কিছু বলতাম না।

আর আপ্নে ভালো লেখেনি ভালো, সে বিতর্কে কি কবিতা অথবা আপ্নের দারুন ডাইরীতেই বলেন না কেন। আমি আপনার লেখার খুঁত ধরার মতোন জ্ঞান রাখিনা, এটা কিন্তু বিনয় করে নয় সত্যই বলছি। তাই আপ্নে যখন তকমা ব্যাপারটা নিয়ে কথা বললেন আমার মনে যেটা লাগল তাই বললাম। কবি নজরুল নিয়েই দেখেন না, উনি এত্তো হরেক রকম লেখা লিখলেন, আমরা উনার সাথে তকমা লাগাইলাম "বিদ্রোহী কবি নজরুল"!
কারো মন্তব্য কিবা খুচানি ভালো না লাগ্লে সরাসরি জানাই, আগেও জানিয়েছিলাম সেই যে মডু সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে, মনে আছে আশা করি। সবচেয়ে বড় কথা, আমি একখানকার ঝামেলা সবখানে বয়ে বেড়াই না।

ভাস্কর's picture


Big smile

কবে ছ্যাক খাইলেন! আপনে না পুলিশের লগেই প্রেম করছেন খালি?

এই কমেন্ট পড়ে কি আমরা আপনার চারিত্রিক বিশ্লেষণ পাই? অথবা এই কমেন্টে আপনার ঠিক সেই মুহুর্তের মানসিক কন্ডিশন বিবেচনার উপাত্ত হিসাবে ধরা হয়েছে? বা সবচে বড় কথা এইখানে আপনাকে কি কোনো তকমা লাগানোর চেষ্টা হয়েছে বলে আপনার মনে হয়?

এই কমেন্টটা অহেতুক হতে পারে, সার্কাস্টিক হতে পারে, ফানি হতে পারে; কিন্তু এখানে উপরের তিন প্রসঙ্গের উপস্থিতি দেখতে পাচ্ছি না আমি। আপনার যদি মনে হয় এই কমেন্টে আমার পোস্টে উল্লেখিত বিষয়গুলির প্রেজেন্স আছে তাহলে সেটা বিস্তারিত বললেই ভালো হয়।

শওকত মাসুম's picture


আপনারে আমার কবি হিসেবেই বেশি ভাল লাগে। আর লেখা দেখে লেখক চেনা সম্ভবই না।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


লেখা আর লেখকের মানবিক বিষয়াদির মাঝে মিল খুজতে যাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু না।

১০

অতিথি's picture


"২০০৯-২০১০'এর শুরু পর্যন্ত একবছর আমার লেখনীতে দুঃখবিলাস ছিলো। এই দুঃখবিলাসে আকূতি ছিলো। আমার পাঠকরা আমারে প্রেমময় ভাবতে শুরু করলেন। দুঃখবোধ যখন কিছুটা অপসৃয়মান তখন তাদের চোখে পড়লো আমার রূঢ়তা। আমি রূঢ় মানুষ। আমার রূঢ়তা মানুষের কোমল হৃদয়ে শেলের মতোন বিধে। রূঢ়তারে যারা তকমা দিলো তারা আমার প্রেমময়তারে ভুললো। আর যারা প্রেমময়তারে খুবেকটা ভালো পায় নাই কবিতা প্রীতি না থাকাতে তারা ভাবলো আমি দুঃখবোধ থেইকাই রূঢ়। "
বেশ কবিতা কবিতা লাগল যে......

"বিচ্ছেদ মানে ব্যর্থতা এমন সরলরৈখিক ইউরোপিয়ান চিন্তায় আটকানো ছিলো না কখনো বাংলার সংস্কৃতি। ঢাকের দমকে অর্চনা সঙ্গীত রচিত হইলেও সেইখানে একীভূত হওনের আর্তি থাকে। বাংলা ভূখণ্ডের মানুষ নিজেরে সবসময় প্রকৃতির অংশ ভাবছে, আবার এই প্রকৃতিতেই বিলীন হওয়ার বাসনায় সে আরতি নির্মাণ করছে। বাংলার মানুষের প্রেমগাঁথা যেই কারণে ছলনার গল্পে ভরপুর হইলেও বিচ্ছেদের বেদনা সেইখানে উপস্থিত। বাঙালি জীবনে বিচ্ছেদচিন্তাই সর্বেসর্বা থাকে। এইখানে নবান্নের সঙ্গীতেও বিচ্ছেদের মাহাত্ম বর্ণিত হয়। আমাদের প্রেমগানে গুটিকয় বিপ্লব ঘটলেও প্রায় সবতাতেই বিচ্ছেদের বয়ান নাইলে সমর্পণ। "
সত্য ভাষণ।

(সারমর্ম) আরে যে যাই বলেন নিজের জাজমেন্ট নিজে ই করব.......দেখেন আপনারা কে কতটা বুজছেন.....

১১

ভাস্কর's picture


১. কোওট করা প্রথম প্যারাটারে আপনের কবিতা কবিতা লাগলো!

২. সত্য-মিথ্যা ভাষণের জাজমেন্টটা দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এইখানে সত্য-মিথ্যা নির্ধারনের চে' জরুরী প্রোপোজিশনগুলির যৌক্তিকতা নির্ধারণ। যারে ঠিক-বেঠিকের জায়গায় ফেলা যাইতে পারে হয়তো কিছুক্ষেত্রে জাজমেন্ট ক্যাটেগরীতেও সত্য-মিথ্যা নির্ধারনের ইস্যুটা বিপজ্জনকতম।

৩. নিজের বেলায় যখন জাজমেন্ট টোনে কিছু বলা হয় তারে জাজমেন্ট বলা যায় কীনা সেইটা নিয়া আলোচনা প্রয়োজন। নিজের বেলায় আমরা সাধারণতঃ কনফেস করি বইলাই মনে হয়। এপোলজি জানাই।

১২

রাসেল's picture


ভাস্কার দা ট্যাগিং প্রবনতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আপনিও অবচেতনে এই প্রক্রিয়ার বাইরে যেতে পারেন নি। রাসেল ও তার বাহিনীর হাতে রাইসুর গালি খাওয়া বিষয়টা বেশ মজাদার একটা সংযোজন- যখন আমি বাহিনী প্রধান তখন আমার স্যাঙ্গাতও আছে এমনটাই প্রতীয়মান হয় উপস্থাপনে।

রাইসুর শিশ্নমুখী শিল্পকর্মের সমঝদার আমি ছিলাম না, তবে রাইসু বিষয়ে আমার দুটো আলাদা বিরক্তি ছিলো- প্রথমটা লেখকের স্বাধীনতা বিষয়ে রাইসুর অবস্থান- সেটা আমার পছন্দ হয় নি। মাসুদা ভাট্টির তরবারীর ছায়াতলে উপন্যাসের প্রথম দুটো পর্ব সামহোয়ারে যখন প্রকাশিত হলো সে সময়ের পরে সেটা ব্যান করা হয়েছিলো- রাইসুর সাথে অন্যান্য লেখককূলের সম্পর্ক-বৈরিতা-অসম্পর্ক নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা তখনও ছিলো না , এখনও নেই- মডারেশনের নামে চিন্তার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রাইসুকে অবস্থান নিতে দেখে তার প্রতি বিরুপতা ছিলো- সেটা লুকানোর প্রয়োজনও মনে করি নি। এখনও সে অবস্থানের পরিবর্তন হয় নি। রাইসুর সাথে পরিচিত হওয়ার পরও তাকে এমন অবস্থান নিতে দেখলে পুনরায় গালি দিবো।

দ্বিতীয়টা লেখকের ভাষা ব্যবহার নিয়ে রাইসুর অবস্থান- সে বিষয়ে রাইসুর বক্তব্যের পর রাইসুর সাথে আমার তেমন কোনো মতপার্থক্য নেই- লেখকের ভাষা ব্যবহারের স্বাধীনতা এবং লেখকের চিন্তার স্বাধীনতা ইস্যুতে রাইসুর সাথে আমার ব্যক্তিগত এক ধরণের মতবিরোধ ছিলো- রাইসুকে নিয়ে আমি বেশ কয়েকটা প্যারোডীও লিখেছি- কিন্তু যুথবদ্ধ হয়ে রাইসুর বিরোধিতা করার জন্য কিংবা তাকে গালি দেওয়ার জন্য কাউকে প্ররোচিত করেছি এমনটা মনে পরছে না।

অন্য যাদের সাথে রাইসুর এমন গালাগালির প্রেমের সম্পর্ক ছিলো তারা নিজের নিজের জায়গা থেকে বলতে পারবে বিষয়গুলো- আমি শুধুমাত্র এই রাসেল ও তার দলের গালাগালি বিষয়ক ট্যাগিং এর বিরোধিতা করলাম।

আপনার লেখা পড়ে মনে হলো আপনি কবি হিসেবে পরিচিত হতে চেয়েছেন- বিপ্লবী হিসেবে পরিচিত হতে চান নি,কিন্তু ট্যাগিং সংস্কৃতির কারণেই আপনার কবিতার কদর হলো না।

আপনার কবিতা আপনার ব্যক্তিগত জীবনের আলেখ্য হিসেবে পঠিত হয়েছে সব সময় এমন একটা মৃত আক্ষেপও প্রকাশিত হয়েছে সেখান। আপনারক কবিতার কদর কেনো হলো না, কেনো আপনি আপনার লেখার মেরিটের চেয়ে আপনার কবিতা আপনার ব্যক্তিগত জীবনযাপনের উত্থানপতনের আলোচনায় পর্যবসিত হলো সেসব যারা এই সংবাদগুলো রাখেন তাদের সাথে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্কের খতিয়ানের ত্রুটি।

১৩

ভাস্কর's picture


তোমার ও তোমার দল এইভাবে বলাটা ট্যাগিং মানে তোমার সাথে আরো অনেকরে ট্যাগ করছি। এই দলটা আদতে এক্সিস্ট করতো কীনা সেইটা নিয়া প্রশ্ন উঠতেই পারে। কিন্তু পাঠক হিসাবে যখন দেখতাম তুমি চুদির ভাই গালি দিলে কৌশিক আইসা তোমারে ওস্তাদ বা বস ডাইকা নিয়া তারপর "চুত" উপসর্গ ওয়ালা আরো বেশকিছু গালি দিয়া যাইতো। আর বেনামী নিকগুলি আইসা তোমারে বাহবা দিতেই ব্যস্ত থাকতো সেইটারে একটা দলের মতোই লাগতো দেখতে। কৌশিক একবার তোমার ব্যবহৃত গালির একটা সংকলন করার উদ্যোগ নিছিলো...সেইটা মনে আছে? মানে সে গালির শব্দকোষ টাইপ কীজানি একটা বানাইতে চাইছিলো কিন্তু সেইখানে স্থান পাওয়া ১২১টা গালির মধ্যে তোমার ইনোভেশনই ছিলো সিংহভাগ।

আমি তোমারে চিনবোনা ভাইবা নিয়া রাইসুর সাথে সহমত হওনে তুমি আমারেও চাটাচাটি টাইপের কিছু একটা গালি দিয়া পোস্ট দিছিলা। সেইটার জবাবে আমার পোস্টে রীতিমতোন আরো ১৫জনের গালি খাইছিলাম মনে করতে পারি। ঐসময়টায় তোমার সাথে মৌসুমের কথা হইতো এইটা জানতাম। আমি তোমারে শুরুতেই চিনতে পারছিলাম..তোমারে জাজমেন্টে ফেললে কিন্তু সেইসময় সুশীল সুবোধ হিসাবেই দেখার কথা ছিলো আমার। আমি কখনোই তোমার বা অন্যদের গালিরে খারাপ-ভালো এইরকম তকমা দিতে চাই নাই, এখনো চাই না। বরং গালি দেওনের স্বাধীন প্রকাশটারে নিয়া রাইসুর সাথে অনেক গল্প হইতো।

আর বিষয়টা এইখানে আমার কবি স্বীকৃতির সাথে আপাতঃ সম্পর্কীত মনে হইলেও আসলে এই লেখার উপলক্ষ্য তুমিও। মানে এই যে তোমারে একসময় গালিবাজ; একসময় ভ্রমণ কাহিনী লেখক, একসময় পাকিচোদা, তারপর মানবতাবাদী এইরম বহুত তকমা লাগানো হইছে তাতে তোমার অনেক কিছু্ই ঠিকভাবে পঠিত না হওয়ারও সম্ভাবনা তৈরী হইছে বা হয়।

আর ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিবেচনা কইরা তোমার সাথে অন্ততঃ সেই লুকোছাপা আমলেই মুরুব্বীগীরি ফলাইতে পারতাম, তা না কইরা তর্কেই গেছি। যৌক্তিকতায়ই থাকতে চাইছি। তোমার প্রায় সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য মৌসুম মারফত পাইলেও সেইসব দিয়া তোমার এক্সপ্রেশন জাজ কইরা তর্ক করছি এমন উদাহরণ্‌ও দিতে পারবানা। সুতরাং তর্ক কিম্বা রসাস্বাদনে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ত্রুটিরে সামনে আনাটা ঠিক জুৎসই লাগে না।

১৪

রাসেল's picture


আমার সামহোয়্যারের কোনো পোষ্ট আমি সচেতনভাবে মুছে ফেলি নি, সুতরাং আপনাকে গালি দেওয়ার বিষয়টা স্মরণে আসছে না। গালি বিষয়ে এখনও পূর্বের অভিমতই ধারণ করি আমি, গালি খাওয়ার মতো পরিস্থিতি উদ্ভব হইলে পাবলিক গালি দিবেই- রাজনীতির নিয়মে বিভিন্ন পক্ষপাতিত্বে হয়তো একদল গালি দিবে আরেক দল চুম্মা দিবে কিন্তু গালি প্রাপ্য হইলে গালি খাইতেই হবে।

অন্য সবার ব্যক্তিগত বিষয়কে ব্যক্তিগত হিসেবে রাখাটাই দস্তুর- এখানে আপনার ব্যক্তিগত কোনো ঘটনাকে কিংবা আপনার ব্যক্তিগত জীবন বিষয়ে কোনো অভিমত আমি প্রকাশ করি নি- আপনার ব্যক্তিগত জীবন বিষয়ে অহেতুক উৎসুক্য কিংবা আগ্রহ আমার নেই। আপনার কবিতা আপনার ব্যক্তিগত জীবনালেখ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এটা ছিলো আপনার আক্ষেপ। যারা আপনার ব্যক্তিগত জীবনযাপন সম্পর্কে অবগত এবং সেটার ছাপ যারা কবিতায় খুঁজছে তাদের সাথে আপনার ব্যক্তিগত যোগাযোগ না থাকলে এই সম্পর্কিত করতে চাওয়ার বিষয়টা ঘটতো না। তারা প্রকাশ্য মন্তব্যে কিংবা ব্যক্তিগত আলাপনে আপনাকে এইসব প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে- সে পাত্র-পাত্রীদের নাম-ঠিকানা বিষয়েও আমার আগ্রহ শূণ্যের চেয়েও নীচে। আমি শুধু বলতে চেয়েছি তারা আপনার সাথে সম্পর্কিত থাকায় আপনার কবিতায় যেসব বিষয়ের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছে সেটার বাইরে আপনার কবিত্বকে তারা আমলে আনতে ব্যর্থ হয়েছে- সেটা ব্যক্তিগত সম্পর্কের বাইরে গিয়ে বিবেচনা করতে না পারার ব্যর্থতা- ব্যক্তিগত সম্পর্কগুলো আপনার প্রেমময় সম্পর্কের দিকে কোনো আঙ্গুল উত্তোলন করছে মনে করলে বিষয়টা এক ধরণের ভ্রান্ত পাঠ হবে। আপনার সাথে আমার পরিচয়ও এক ধরণের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয়- সামাজিক সম্পর্ক মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই- বাঙ্গালী ভাইবেরাদারের বাইরে ব্যক্তিগত যোগাযোগের জায়গা থেকেই সেই সম্পর্কের উদ্ভব।

আমার বিভিন্ন রকম তকমা জুটেছে- সামষ্টিক রাজনীতিতে এই ধরণের প্রবণতা আছে- রাজনীতির মধু খাওয়া- সুবিধা দেওয়া ও পাওয়ার বিভিন্ন রকম কায়দা কানুনে যেকোনো বিরোধী অবস্থান পয়সা খাওয়া এক্টিভিজম মনে হতে পারে- অনেকেই তেমনটা মনে করেন- প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান প্রকাশের সময় এই ঘটনা ঘটবে এমন সম্ভবনা মাথায় ছিলো- এক ধরণের ধারাবাহিকতা মেনেই এই অবস্থানগুলো পরিবর্তিত হবে এমন বিশ্বাস আমার এখনও আছে-

ট্যাগিং এক ধরণের বাছাই প্রক্রিয়া যে প্রক্রিয়ায় বক্তব্য গৃহীত হবে কি হবে না সেটা পূর্ব নির্ধারিত হয়ে যায়। যেহেতু বাজার দখলের লড়াইয়ে ছিলাম না তাই এত জনপ্রিয় মতামতগুলোকে সম্মান করে কথা বলবার প্রয়োজনটা বোধ করি নি। জনপ্রিয় মতামতের গ্রহনযোগ্যতা বেশী কেন না সেসব বিশ্বাস মানুষকে এক ধরণের স্বস্তি দে্য। সেই স্বস্তিমূলক অবস্থানগুলোতে খোঁচা লাগলে মানুষ তকমা লাগাবে- এই রাজনৈতিক তকমাগুলোর বাইরে অন্য যেসব তকমা সেসব ভ্রান্তিমূলক তকমার বলি অনেকেই হয়েছেন
নির্জনতার কবি, নাগরিক কবি , গ্রাম্য কবি তকমাগুলো সমালোচকদের কল্যানে জুটেছে অনেকের কপালে, বিরহের কবি, নাকিকাঁদুনে কবি তকমাগুলো এখনও সমালোচকদের ভাত পায় নি।

১৫

ভাস্কর's picture


তোমার লেখাটার কথা মনে নাই আমার তবে আমার জবাবটা মাথায় ছিলো। এইটা পড়লেও বুঝতে পারবা আলোচনাটা কীসের উপর হইছিলো।

লেখাটারে সারফেসে পড়লে আমার ব্যক্তিগত ক্ষোভের প্রকাশ মনে হইতেই পারে, তাতে পাল্টা ক্ষোভ প্রকাশের কোনো অধিকার আমি পাই না। কিন্তু আমি যেই বিষয়টা বলতে চাইছি সেইখানে কেবল ব্যক্তিজীবনের উল্লেখটারেই তোমার চোখে পড়াতে মনে হইতেছে আরেকবার তকমা শিল্পেরই শিকার হইলাম। কারণ এই লেখার শুরু হইছে আমারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক তকমার উল্লেখ কইরা আর সেইসময়ের কবিতায় কেবল বিরহ-বিচ্ছেদ ছিলো না, আনন্দের উপলক্ষ্যও ছিলো বেশ। আর যেই সময়ের কথা কইতেছি তখনো ব্লগের ব্যক্তিগত সম্পর্কের চর্চা কোনো লেভেলেই যায় নাই। ঐটা নিপাট তকমা লাগানের সময় হিসাবেই গেছে।

আমার আগের মন্তব্যে কিন্তু আমি একটা বিষয় বলছি যে মৌসুম মারফত সেইসময় তোমার অনেক তথ্যই কিন্তু সেইসময় পাইতাম। বাজার দখলের লড়াইয়ে ছিলা কিনা জানি না, তবে তখন যে একটা গ্রুপ বোধ কাজ করতো...কাওকে আক্রমণের আগে যে সুমন তুমি অরূপ ব্লা ব্লা ব্লা অনেকেই যে আলোচনা আর পরিকল্পণা করতা সেইসব কনভার্সেশন কিন্তু পড়ছি আমিও। এখন সেইখানে অনেক সময় মজা থাকছে অনেক সময় সিরিয়াসনেস থাকছে...এই কারনে এই অবস্থানরে কোনো সুনির্দিষ্ট তকমা দিতে আমি আগ্রহী না।

আর শেষ যেই মন্তব্যটা করলা সেইটারে আমার উদ্দেশ্যপূর্ণই লাগে। বিরহের কবি বিষয়টা কিন্তু বাংলা সাহিত্যে তকমায়িত হইছে...সেই কারনেই নাকিকাঁদুনে কবি তকমাটা হাজির করতে এইটার আমদানী করলা বইলা মনে হইলো। যাইহোক একটা তকমা না পাইতে চাওয়া পোস্টে আরো কয়েকটা তকমা পাইয়া যাওয়াতে শংকিতই হইতেছি। বাঙালির জাতীয় সংস্কৃতি হিসাবেই কি তবে দাঁড়াইয়া যাইতেছে এই তকমা শিল্প...জাজমেন্ট ছাড়া বাঙালি লেখক-পাঠকেরা কি কোনো বক্তব্য দিতে পারে না?

১৬

রাসেল's picture


ভাস্কর দা আপনার বেশ কিছু পূর্বাণুমান আছে এবং সেসবের ভিত্তিতে আপনার কিছু উপসংহারও আছে। সেসব উপসংহার আপনার কাছে অনেক বেশী যৌক্তিক এবং গ্রহনযোগ্য- আমি তেমনটা বোধ করছি না।

আপনি শিশ্নাগ্রের মতো সংবেদনশীল হয়ে আছেন- সবকিছুকেই নিজের উপরে টেনে নিচ্ছেন। আপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে আক্রমণ করার কোনো কামনা-বাসনা-আগ্রহ আমার নেই। ব্লগিং এর সুবাদে অনেকের সাথে আমার গত কয়েক বছরে পরিচয় হয়েছে, তাদের অনেকের সাথে আমার অন লাইনে দীর্ঘ সময় আড্ডা হয়েছে-

আমি কাউকে গালি দেওয়ার ক্ষেত্রে সব সময় নিজের অনুভবকেই প্রাধান্য দিয়েছি- অনেক ক্ষেত্রেই আমার এক ধরণের নৈতিক কঠোর অবস্থান আছে- সে অবস্থানটুকু আমি সবসময় প্রতিরক্ষা করেছি- অনেক ক্ষেত্রেই আমার বিষয়বস্তু উপস্থাপনের শব্দচয়ন এবং উপমা নির্ধারণ অনেকের আপত্তিকর মনে হয়েছে- তারা ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন- সে ভিন্নমতকে গ্রহনযোগ্য মনে হলে সেটা নিয়ে বাড়তি বক্তব্য প্রদান করি নি। যদি সে ভিন্নমতে আপত্তিকর কিছু অনুভব করেছি- সেটারও প্রতিবাদ হয়েছে। কিন্তু উপমা-শব্দচয়ন-পরিস্থিতি উপস্থাপনে ব্যবহৃত সকল শব্দের দায়ভার আমি নিজেই বহন করি- সেটার জন্য আমার একটা সম্মিলিত দলীয় ছায়ার প্রয়োজন হয় না।

১৭

ভাস্কর's picture


আমার পূর্বানুমান আছে সেটা অস্বীকার করছি না; তবে পূর্বানুমানকৃত তথ্যগুলি পূর্বের ঘটনার জন্যই...সেইসবে বর্তমানের কোনো ব্যবচ্ছেদ হচ্ছে না। আর আমি তো তকমার বাইরে কোনোরকম সিদ্ধান্ত বা উপসংহারে যাওয়ার আগ্রহই বোধ করছি না এই পোস্টে আপাততঃ। তোমার ক্ষেত্রেও সেই পূর্বের তোমার ব্যাপারে আমার কিছু ঘটনা মনে পড়ে। পূর্বের সময়ে তুমি শব্দচয়ন বা গালিতে বা যেকোনো ধরনের প্রকাশে অন্যের শব্দ ধার করেছো কি করি নাই সেই বিষয়ে আমি আদৌ সন্দিহান না। তোমার নিজস্ব শব্দ ব্যবহার এবং তার প্রক্ষেপণ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতেও চাইনা কারণ তা প্রাসঙ্গিক মনে হয় না আমার কাছে। তবে কোন বিষয়কে আক্রমণ করতে হবে কোন বিষয়কে ছেড়ে দিতে হবে, কোন বিষয়কে হাস্য রসাত্মক করে তুলতে হবে সেটা নিয়ে অনেক বয়ানই আমার জানা আছে। তোমার নামের সাথে "ও তার দল" উল্লেখ করার পেছনে যেই মানসিকতা কাজ করেছিলো তা হলো কিছু মানুষের নাম আমি সরাসরি উল্লেখ করতে চাই না; এটা আমার সীমাবদ্ধতা ধরে নিতে পারো।

আমার কিছু বাক্যের সাথেও পরিচিতি আছে। তুমি যেগুলো অতীতে ব্যবহার করেছিলে বিভিন্ন আলোচনায়। এমনকি যেই পোস্টের লিংক আগের কমেন্টে যুক্ত করেছি সেটা পড়লেও ধারণা করতে পারি যে তুমি কিছু শব্দ যে পূর্বানুমান দ্বারা জাজমেন্টাল হয়েই ব্যবহার করেছো। নইলে আমার শিবির বিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা নিয়ে তোমার কোনো ধরনের প্রশ্ন উত্থাপন করার কথা ছিলো না। বা তেল গ্যাস সম্পদ বিষয়ে সেই ৯৮/৯৯ সালে দেয়া বক্তব্যের উল্লেখটাও তুমি খুব সচেতনভাবে করেছিলে বলেও আমার মনে হয়নি কখনোই;

আমার জবাবের কোন জায়গাগুলি পূর্বানুমান সেটা ধরিয়ে দিলে ভালো হয়...

১৮

তানবীরা's picture


উদরাজীর মতো যদি লিখি চুপচাপ পড়ে গেলাম তাহলেই ঠিক হয়।

অনেকবার আমি লিখেছি, কোন একটা লেখা, বা কথা দিয়ে একজন মানুষকে জাজ করার জিনিষটা চরম ভুল তারপরও এটাই ট্রেন্ড বোঝা যায়
যেকোন লেখাই কারো অটোবায়োগ্রাফী নয়।

আমি আর কি বলবো। নিজেই চরম ট্যাগের শিকার Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...