ফেইসবুক স্টেটাসমালা ২
এক.
ভোরের বাতাসে উড়ে যাওয়া পাখিদের ডানা ঝাপটানোতে কেমন তাড়াহুড়ো; তাদের ডানায় যেনো ভয়। আরেকটা বৃষ্টিমূখর দিনে তাদের রুটিন যাবে ভেঙে। আরেকটা কাদায় মাখা দিনে তাদের উল্লাস যাবে থেমে। পাখিগুলো শুধু বুঝে নিচ্ছে, আজ বৃষ্টি এলে তারা লুকোবে কোথায়...
দুই.
বৃষ্টির গরাদে আটকে গেছি, ঝুলছি গা বাঁচিয়ে
বহুকষ্টে কমেছে জ্বরের আগ্রাসন। আজ আর শুয়ে
কাটাবো না বিছানায়, বলে তৈরী হয়ে আছি
বৃষ্টি ধরে এলেই বেরিয়ে পড়বো বাউলি কেটে পথে।
তিন.
যোগাযোগহীনতায় আমাদের সংসার ভেঙে চৌচিড়
অথবা যেহেতু ভেঙেছে সংসার অতএব আমাদের
ভাষা পাল্টে গেছে বলে টের পাই একদিন সকালে;
বর্ণমালা দেখে ভাবি রেখচিত্র আঁকতে চেয়েছিলো
কোনো একজন সফল চিত্রশিল্পী...যার
তুলির ডগায় ধ্বনিময়তা এসে ভর করেছে কেবল!
যোগাযোগহীনতায় আমরা বুঝতে শিখি, সময়ের সাথে
কখন যে কি পাল্টে যাবে তার ঠিক নাই, ঠিকানা অজ্ঞাত...
চার.
একজন হরিপদ কেরানীর মতো সংখ্যা লিখলেই ভালো ছিলো; শব্দ মানেই জাবেদা বহি-জমা ও খরচ। কতো গেলো আর এলোই বা কতোখানি। মাস শেষে হিসাবের সংখ্যায় গড়মিল মানে জীবনের সবটাই মিছে। এতো যে হিসেব মেনে চলা...তারো কি কখনো ডেবিট-ক্রেডিটের ঘর দুটো মিল রেখে চলে?
পাঁচ.
ঘুরে ঘুরে এর ওর ভুল শুধরে দেই,
আমার ভুলের ঝাপি ভরে গেছে দিনে দিনে
সেসব দেখার সময় কোথায়!
ছয়.
অংকের মতোন মিলে গিয়েছিলো আমার সমীকরণ
এমন জটিল ইক্যুয়েশানে ঘাবড়ে যাওয়া তাবৎ গণিত শিল্পীদের
তাক লাগিয়ে দেখালে সর্ষে ফুল...ভ্রমরের গুঞ্জন শোনালে
পুরোটা সময়; তাদের সকল পেরেশানি সম্পূর্ণ বিফলে চলে গেলো।
মূল্য ফেরতের কোনো অপশন ছিলো না বিধায়
অনেকেই ভেবে রাখলো ছেড়ে দেবে গণিত জীবন।
এতোসব ওলোটপালোট শুনে জাফর স্যারের তখন মাথায় হাত!
ভেস্তে গেলো বুঝি গাণিতিক প্রতিযোগ...
অথচ তোমার গণিতে ভয় ছিলো বলে অর্থনীতি শেখোনি কখনো।
সাত.
কতোদিন ঘুমাইনি তার হিসাব রাখার কথা মনে নাই;
না ঘুমোতে না ঘুমোতে আমি ভুলে যাই কতোটুকু
নিথর নীরব হলে তারে ঘুম বলে ডাকা যায়...
আট,
পাহাড়ের কাছে থাকার ব্যবস্থা হয়ে এলে চলে যাবো।
একেবারেই রোমান্টিকতা নয়, পাহাড়ের কাছে বলা হয়ে গেছে
খাওয়া-পড়া ও পরাটুকু নিশ্চয়তা পেলে আমিও নিশ্চিত;
খোঁজে আছে মং, পাহাড়ের পূত্র। সিরিয়াস! পেলেই জানিয়ে দেবে...
নয়.
পুতুল খেলাতে গল্পটা কে তৈরী করে?
পুতুল? অথবা
অবুঝ বালিকা?
অথবা কারো হাত নেই ছক পাল্টে দেয়াতে
কেবলি বিভ্রম...
দশ.
একরাতে সিলিং থেকে সেই মেয়েটাও নেমে আসে
সেও দেখি আমার মতোই জেন গুরুটারে ভালোবাসে;
তবে সেই মেয়েটার অসীমের প্রতি ঝোঁক
আমি আর জেন গুরু উভয়েই ধ্যানে থাকি
এই ঘরে যেনো সময় স্থবির হোক।
এগারো.
কন্সপিরেসীর বিবিধ রকম দেখতেছি গতো বেশ কয়েকবছর ধরেই তবে এইবারেরটা সবচে বেশি ইন্টারেস্টিং লাগতেছে। শুরুতে সিলেট জাতীয়তাবাদকে সামনে এনে সাগর-রুনী হত্যাকাণ্ডকে আড়াল করে দেয়ার চেষ্টা করা হলো। তারপর যখন কয়েকজন নীতিনির্ধারক বুঝতে পারলো সরকারের ব্যর্থতা অথবা সংশ্লিষ্টতার(?) দায় মাহফুজুর রহমানের কাঁধে চাপিয়ে দেয়া যায় তখন থেকে শুরু হলো নতুন প্রচেষ্টা। সাংবাদিক সমাজ মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলো। কোন সাংবাদিক সমাজ? যারা প্রতিনিয়তঃ রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের বা পক্ষাবলম্বনের দায়ে দুষ্ট। বিএনপি আর আওয়ামী লীগ দুই দলের সাংবাদিকরাই আজ জোট বেঁধে রাস্তায়। তারা বিচার কার্য শুরু করার আগেই রাজপথে মাইকে বলে দিয়েছে সাগর-রুনী হত্যায় মাহফুজুর রহমানের যুক্ত থাকার খবর। কিন্তু কোনো পত্রিকায়ই এখনো এই বিষয়ে কোনো অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয় নাই। ফেইসবুকে কিছু ভাইরালে মাহফুজুর রহমান আর তার ছোটো ভাইয়ের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ হয়েছিলো প্রথম দিকে। সেই ভাইরালে বর্তমান বিমান মন্ত্রী তৎকালীন বাণিজ্য মন্ত্রী আর তার ভাইয়ের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা ছিলো, তার উল্লেখ করতেছে না কেউ। পুরা ব্যাপারটাই বেশ হাস্যকর লাগতেছে...অচিরেই সাংবাদিকরা চুপ মারবেন সেই সম্ভাবনা দেখতেছি মানসচক্ষে। অপেক্ষায় আছি নতুন কোনো ডাকাত সর্দারের গ্রেফতার সংবাদ পাওয়ার আশায়...কন্সপীরেসিগুলি বেশ নতুন হলেও একেবারেই প্রেডিক্টেবল এখন পর্যন্ত।
বারো.
যমূনার খরস্রোতা জলে ভেঙে যাওয়া তীরের মতোই
ক্ষয়ে যাবো...ক্ষয়ে ক্ষয়ে হবো আরো ক্ষুরধার স্কেলিটন...
ফিরে এলে নিজের আশ্রয়ে বেশ জমে যাবে, গেলোবার
ঝুলে পড়া মেয়েটার সাথে; ভুতের চে' কঙ্কালে বেশি
ভয় পেতে হবে বলে শিখেছে আরবান মানুষেরা।
তেরো.
ফিরে তাকিয়ে তোমার ছায়া খুঁজে ফিরি
মুখোশ আড়ালে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে পারো অনায়াসে
তবু ছায়া থেকে যায় আগের মতোই
ছায়া পাল্টে গেলে জেনো ওলোট পালোট
হয়ে যাবে পৃথিবীর সবকিছু; অতোটা নিয়ম ভেঙে
দেয়ার ক্ষমতা ঈশ্বর কখনো নিজেকেও দেয়নি...
চৌদ্দ.
ঘূনে খেয়ে যায় দরজার চৌকাঠ
দিন নেই রাত নেই
খুড়ে যায়-খুড়ে চলে আমাদের প্রবেশ সীমানা
ঘূনপোকা দরজার অন্তর চিবিয়ে খেলেইবা কী হয়!
দরজার খোলসে তো সীমানা অটুট আরো কিছু দিন...
পনর.
চলো একটা পথ বানাই, অন্ততঃ দলে দিয়ে অসহায় দূর্বা ঘাস
একটা ইতিহাস রেখা তৈরী হয়ে যাক আমার ও তোমার জগতে।
পায়ে পায়ে সোদা মাটি কোমলতা হারালেও দাঁড়াবার শক্ত
পাটাতনে আমাদের থির মুহুর্তগুলো নির্মিত হবে ধীরে, অনিয়ত কাল ধরে...





কবিতাগুলো ভাল লেগেছে। শুভেচ্ছা।
না ঘুমোতে না ঘুমোতে আমি ভুলে যাই কতোটুকু
নিথর নীরব হলে তারে ঘুম বলে ডাকা যায়...
এগারো।
সবগুলোই ভাল লেগেছে। তবে তিন নম্বরটা অসাধারণ লেগেছে।
মন্তব্য করুন