ইউজার লগইন

ব্লগানি

শব্দের চে' ভালো নীরবতা
অক্ষরের চে' শূন্যতা অধীর হয়েছে পাতা জুড়ে...

এক.
বহুদিন ব্লগে লেখা হয় নাই। বহুদিন ব্লগ লেখা হয় নাই। ব্লগাঞ্চলে লেখালেখি মানেই যেনো অনেক সময় সাপেক্ষ উপলক্ষ্য। এমন এক আরোপিত আচরণে আটকা পড়ে আছি। সময়ের যে খুব টানাটানি তা কিন্তু নয়! তাও কিছু লেখা হয় না। লেখার আগেই মনে হয়, হয়তো এইখানে লেখার মতোন মানসিক অবস্থা আমার নাই। এর চে' ভালো হয়তো অনলাইন নিউজে ডুবে থাকা। আপনমনে হাসাহাসি। দেশ ও দশের অবস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে চোখ বুজে স্বপ্ন দেখা কখনো; কখনো বা সবকিছু ভুলে গিয়ে মনহীনতার স্তরে ঘোরাঘুরি।

ব্যক্তিগত টানাপোড়েনের গল্পে অবশ্য তেমন রোমাঞ্চ নাই। বৃদ্ধ বাবার কিডনী নামক শরীর যন্ত্রখান নিষ্ক্রীয় হইয়া পড়ছে। তারে কৃত্রিমভাবে উজ্জীবিত করতে বিজ্ঞানের অবদানরে স্বীকার করে নেয়া। সপ্তাহে দুইদিন হেমোডায়ালিসিস। এক ব্যাগ "ও" পজিটিভ রক্ত। আর গোটাদুই বিদেশী ইঞ্জেকশনের যন্ত্রণা দিতে হয়। এরমধ্যেও প্রায় অনিশ্চিত জীবন তার। ঈদ উৎসবের দুইদিন আগে তিনি মৌনি বাবা হইয়া গেলেন। সকাল থেকে দুপুর পেরিয়ে বিকালে গিয়া মনে হইলো তিনি আসলে আমাদের কাউরেই চিনতে পারতেছেন না। সে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা। আমরা চাই সে আমাদের চিনেটিনেই মৃত্যুবরণ করুক। যেহেতু কিডনী সম্পর্কীত সমস্যা, তাই তারে নিয়ে যাওয়া হইলো বাড়ির কাছাকাছি পপ্যুলার হাসপাতালে। সেইখানে একজন প্রথিতযশা নেফ্রোলজিস্ট সন্ধ্যা লাগলে দেখা দেন।

বড় বোন নিজেই প্রায় শয্যাশায়ী। তাই মা আর আমার ঘাড়েই সওয়ার হইলেন বাবা। কিম্বা আমরাই তার ঘাড়ে সওয়ার হইলাম। এমনিতে বহুকাল ধইরাই ঈদের দিনে ধর্মভিত্তিক জীবনধারণ করা হয় না। কিন্তু এইবার ঈদের দিনে মা'রে বাসায় পাঠাইয়া দিয়া নিজেরে কেমন বঞ্চিত মনে হইতে লাগলো। হাসপাতালে অবশ্য কক্সবাজারের নামী হোটেলের মতোন বন্দোবস্ত। তবু...

ঈদ পার কইরা গেলো সোমবারে বাপরে বাসায় ফেরত নিয়া আসলাম। সে স্ট্রেচারে কইরা হাসপাতালে গেছিলো, ফেরার সময় অবশ্য নিজের পায়ে হাটলো। সেই হিসাবে আরোগ্য লাভ। কিন্তু তার কিডনী যন্ত্রখান দিনে দিনে ছোট হয়ে আসছে পৃথিবীর মতোন। এই হিসাবে হেমোডায়ালিসিস থেকে তার মুক্তি নাই। সপ্তাহে সেই দুইদিন। ক্লিনিকালি ডেড মানুষরে যেমন কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে বাঁচাইয়া রাখা হয়। আমার বাবা হয়তো আগামী আরো কিছুদিন বাঁচবে রক্তের কৃত্রিম সংশ্লেষণে। বিজ্ঞানের অবদানে।

দুই.
এরই মাঝে স্যান্ডি ঝড়ের তান্ডব। আমেরিকার দেড়শো বছরের ইতিহাসে আবারো কিছু রোমাঞ্চকর ঘটনা। দুইদিন শেয়ার বাজার বন্ধ। তিনদিন বিদ্যুতবিহীন বিনিদ্র রাত। চারদিন শহরের পথঘাট জলে জলে সয়লাব। সরকারী হিসাবে দুইহাজার কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি। জানি না সরকারী হিসাব কেনো জনসমক্ষে সবসময় কম হয়! তবুও খারাপ লাগে। আবার মনে হয় এইবার তারা চোখ খুলবো। পরিবেশ সংরক্ষণে তারাও বাকীবিশ্বের মতোন সোচ্চার হইবো। যুদ্ধবাজীর নামে অস্ত্র ব্যবসা আর তেলের দখলদারীতে নজরটা একটু কম দিবে। চিন্তার এমন প্যারাডক্স নিয়াই সময় কাটাই।

আমাদের জীবনতো আসলে প্যারাডক্সেই সমর্পিত। আমরা যা চাই তা পাই না, যদিও পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ষোলআনা। আবার না পাওয়ারও তাই। বিষয়টা আবার ৫০-৫০'ও নহে। প্যারাডক্সে প্যারাডক্সে আমরা ক্রমশঃ অক্সিমরনেই নিপতিত হইতে থাকি। আমাদের জীবনের নিয়ন্ত্রণ হয়তো কোনো এক খেলুড়ে ঈশ্বরের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে; যার বুদ্ধিশুদ্ধি কম অথবা এতোটাই বেশি যে তার ব্যবহার তিনি একেবারেই জানেন না।

তিন.
তবু সুখের ঠিকানা ঠিক করতে থাকি। "তবু" নিয়েই বেঁচে থাকার উপপাদ্য আর উপলক্ষ্য তৈরী করতে সচেষ্ট হই। সেই ছোটোবেলায় সুকুমার বাবু'রে মেনে নেই সবচে' চিন্তাশীল মানুষ। যিনি আসলে জীবনের দিকনির্দেশনা দিয়ে গেছেন সেই কোনকালে!

পঞ্চম । আমার নাম 'তবু', তোমরা কেউ কি আমায় চেনো ?
দেখ্‌তে ছোট তবু আমার সাহস আছে জেনো ।
এতটুকু মানুষ তবু দ্বিধা নাইকো মনে,
যে কাজেতেই লাগি আমি খাটি প্রাণপণে ।
এমনি আমার জেদ, যখন অঙ্ক নিয়ে বসি,
একুশ বারে না হয় যদি, বাইশ বারে কষি ।
হাজার আসুক বাধা তবু উৎসাহ না কমে,
হাজার লোকে চোখ রাঙালে তবু না যাই দ'মে ।

সকলে । নিষ্কম্মারা গেল কোথা, পালাল কোন দেশে ?
কাজের মানুষ কারে বলে দেখুন এখন এসে ।
হেসে খেলে, শুয়ে বসে কত সময় যায়,
সময়টা যে কাজে লাগায়, চালাক বলে তায় ।

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


আপনারে বহুদিন পরে ব্লগাতে দেখে ভাল লাগলো...

~

অনিমেষ রহমান's picture


ভালো লেগেছে লেখা।

টুটুল's picture


লেখালেখিটা আবার শুরু করেন...

অকিঞ্চনের বৃথা আস্ফালন's picture


লেখা ভাল লেগেছে। তবে নীচের কবিতা পড়ে মন খারাপ হল

হেসে খেলে, শুয়ে বসে কত সময় যায়,
সময়টা যে কাজে লাগায়, চালাক বলে তায় ।

কারন এই কবিতানুসারে আমি বোকা Sad

তানবীরা's picture


আবার মনে হয় এইবার তারা চোখ খুলবো। পরিবেশ সংরক্ষণে তারাও বাকীবিশ্বের মতোন সোচ্চার হইবো। যুদ্ধবাজীর নামে অস্ত্র ব্যবসা আর তেলের দখলদারীতে নজরটা একটু কম দিবে। চিন্তার এমন প্যারাডক্স নিয়াই সময় কাটাই।

ঝড়ের পর থেকে এটাই সবাইকে বলছি। বাংলাদেশকে শুধু হাতে টাকা ধরিয়ে দেয়। দেখি এখন নিজেদের বেলায় কি করে Sad(

সাঈদ's picture


Sad

আসমা খান's picture


লেখাটি খুব ভালো লাগল। Smile

ভাস্কর's picture


সবাইকে ধন্যবাদ...

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


প্রথম পাতায় এরকম কয়েকটা লেখা দেখলে মনটাই ভাল হয়ে যায়।

ভাল থাকেন( দোয়া রইল),
খারাপ থাকলেও মাঝে মাঝে জানাইয়া যাইয়েন।

এবি তে আপনার কবিতা মিস করি খুব।

১০

মীর's picture


আপনারে দেইখা ভাল্লাগলো। লেখা পড়লাম। আংকেলের কি অবস্থা এখন?

সুকুমারের রায়ের এই কবিতাটায় সমস্যা আছে।

১১

শওকত মাসুম's picture


আপনার লেখা বরাবরই ভাল লাগে, এবারও

১২

জ্যোতি's picture


Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

ভাস্কর's picture

নিজের সম্পর্কে

মনে প্রাণে আমিও হয়েছি ইকারুস, সূর্য তপ্ত দিনে গলে যায় আমার হৃদয়...