ডাইরী ৯২
এক.
যে ছেলেটার আশ্রয়ে আমি এক রাতে মরে পড়েছিলাম আয়েশে তার বিছানা দখল করে, তার সাথে দেখা হোলো আজ। কাকতালীয় ভাবেই আমার স্মৃতিরা ফিরে আসছে ঝাকে ঝাকে। যার ঘরে আমি; মৃত আমি বসে নিজের বিদীর্ন দেহটাকে দেখছিলাম আড়চোখে...সে ছেলেটা আজ আমার পাশেই লোক হয়ে বসে, বিস্ময়ে দেখছিলো আমারে, আমার অস্তিত্ত্বরে। দেখতে দেখতে আচমকা সে প্রশ্ন করেছে আমারে সুনসান নীরবতা ভেঙে,
: তোমার...আর মরে যেতে ইচ্ছে করে না ভাস্কর?
আমি সাথে সাথে ঠোটের আগায় ঝুলে থাকা উত্তরটারে মেলে ধরি।
: আমার মাঝে মাঝে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে ইদানিং।
দুই.
টানা আমি চোখ খুলে রয়েছি ছত্রিশ ঘন্টা। চোখের পলক পড়ে হয়তো। অমন নিমেষ বোঝার ক্ষমতা শরীরের স্নায়ুতন্ত্রে আর অবশিষ্ট নাই। মৃতবৎ আমি চোখ মেলে অঙ্কের দুনিয়া ঘুরি। সংখ্যাগুলো মিলেমিশে তোমার শরীর গড়ে। আমি সংখ্যায় ডুবে থেকে ঘামের ছোবল থেকে বাঁচি।
তিন.
আমি যখন লিখছিলাম...তখন চারপাশে ঘুরছিলো, খেলছিলো, নাচছিলো তার ছায়া। সোমত্থ শরীর ঠিক যতোটুকু ছায়া তৈরী করে...অতোটাই।
আব্দুল মালেক তার ত্রয়োদশী মেয়েরে বিকাই দিছে মুন্সী বাড়ির আঙিনায়। ঘর অব্দি তার পৌছনো হয়নাই...তার আগেই শরীরে সন্তানের বীজ বুনে দ্যায় লোলুপ কৃষক।





জোশ...
তার আগেই শরীরে সন্তানের বীজ বুনে দ্যায় লোলুপ কৃষক।
.....................
চমৎকার এক শব্দবয়ন।
কী খাইয়া মর্ছিলেন?
ঐবার হেলুজিনেশনে ছিলাম। টানা মাল্টিড্রাগে ডোপ করতে করতে মাথা পুরা আউট হইয়া গেছিলো। তো রাইতের বেলা শেষ করছি ঢাকা মেডিকেলের রক্তদান কেন্দ্রে গিয়া...বন্ধু সাঈফ আর আমি ঐদিন ব্লাড ডোপ করলাম। শরীর থেইকা একই নিডলে রক্ত বাইর কইরা আবার খানিক্ষণ পর আবার ঐ রক্তই শরীরে ঢুকাইছি। এক কণা অক্সিজেন ঢুকাইয়া দেওয়া রক্তের লগে।
যাউগ্গা এই অধ্যায় মানুষ যতো কম জানে ভালো। তো ঐ হেলুজিনেশনে আমি মইরা পইড়া আছিলাম রাব্বী ভাইয়ের রুমে। তার লগে দেখা গতোকাল ফাহিম ভাইয়ের ঐখানে গিয়া।
সব পুরানা মানুষগুলি ফিরা আসতেছে আমার জীবনে...উদ্ভট! অদ্ভুত সব স্মৃতি।
হুমমমম
জীবনকে কতভাবে দেখছেন?
আমি নিজেতো একভাবেই দেখতে চাইছি আজীবন...
: আমার মাঝে মাঝে বেঁচে থাকতে ইচ্ছে করে ইদানিং।
কীসের আলামত!!!!
মন্তব্য করুন