ভাস্কর'এর ব্লগ
আলো আর অন্ধকারে থাকি...
উবু হয়ে আকাশ দেখার চেষ্টা করি...
ঘাসমাতা তবে এবার অথবা
আবার সুযোগ করে দাও।
আমি ঠিক বেরিয়ে চলেছি
সেই ঘোর অন্ধকার থেকে।
অন্ধকারে ডুবে থেকে আমি
আসক্ত ছিলাম হাতড়ে বেড়ানোতে,
আঁধার দেখতেই রহস্য মনে হতো।
আসলে আঁধার আসলেই অন্ধকার,
সেখানে কেবল আলোর অভাব।
হাজারো জ্ঞানের ভিড়ে
আমি চিনতে শিখি নাই অন্ধকার,
সে অপরাধে যতোটা শাস্তি ছিলো,
তার থেকে তবে মুক্ত হলাম এবার।
আর অন্ধকার তবে অন্ধকারই রয়ে গেছে...
পাগলের দিনলিপি (আঠারো)
আজ রাতে নিজেকে নদীর মতো লাগে
জলে জলে জ্বলছি চলছি একই দিকে
দূরে কোথাও সমুদ্র আছে ভিন গাঁয়ে।
আঙুল ডুবিয়ে স্রোত আঁকি নিজ গায়ে
ঢেউয়ে ঢেউয়ে বয়ে যায় আমাদের
ইতিউতি বহু বয়সী বৃক্ষের মতো ইতিহাস।
আমার শরীরে সব একই জল
ঘুরেফিরে আবদ্ধ জলেরাই খেলে
স্রোতধারা কিম্বা মৌনতায় আমৃত্যু চলেছে।
একই জলে আমার অবগাহন চলেছে আমৃত্যু...
পাগলের দিনলিপি (সতর)
তারপর হাটলাম বহুকাল যেনো,
হাটতে হাটতে ঘুরতে ঘুরতে
যেই না পেরিয়ে গেলাম নিয়নের আওতা
দেখি তুমি সেইখানে নিরতিশয় বালিকা
আঁধারে কেরোসিন কুঁপি নিয়ে
লুকোচুরি খেলো। তোমার অচেনা
নামটা ধরে ডাকতেই তাকালে ফিরে;
আমি জেনে গেলাম পৃথিবী জুড়ে সব শিশুদের ডাকনাম।
তোমার আঙুল ছুঁতেই আমাকে তুমি
নিয়ে গেলে ঠিক যেখান যাবার কথা ছিলো
আঁল ভেঙে আমরা যখন পৌছলাম সেই খানে
তখন চাঁদের শরীর বাড়ানো হাতে ছুঁয়ে দেয়া
যাচ্ছিলো, ঈর্ষায় জ্বলছিলো জোনাকীরা...
তুমি আলোটাকে ছুড়ে ফেলে দিতে গিয়ে
খেলনা আগুনটাকেও ছড়িয়ে দিলে চারপাশে,
হতভম্ভ হয়ে অবশ শরীরে তাকিয়ে তাকিয়ে
দেখলাম আমি-তুমি-চাঁদ-জোনাকীরা
কি করে আগুনে পুড়ে ছাই হলো।
তোমার অজানা নাম ধরে ডাকতেও কোনো সাড়া
না পেয়ে পোড়া ঘ্রাণ মুছতে মুছতে আমি পাশ ফিরে
ঘুমিয়ে পড়লাম...
মৃত্যু বিষয়ক একটা কথোপকথন দৃশ্য
বন্ধুরে জিগাই, "তুই মারা যাবি কবে?"
বন্ধু কয়, " একদিন হঠাৎ..."
মৃত্যু বিষয়ে আমার খুব একটা ফেটিশ ছিলো না,
আমি কই, "সেরম তো আমার প্রয়াত ঠাকুরদারো
হইছিলো হঠাৎ কইরা একদিন সে বিছানায় কাইত...
বয়স হইলে এমনটাই হয়..." তারপর উদ্বিগ্ন চোখে
চোখ রাইখা কই, " তর কেমনে মরতে শখ জাগে?"
বন্ধু আমার দৃষ্টিতে ধরা দিতে চায় না
সে চোখ বন্ধ কইরা রাখে
অনেক্ষণ চোখ বুইজা রাখে চুপচাপ।
একসময় হঠাৎ চোখ খুইলা কয়,
" ঠিক যেমনে আমার পরদাদীরে মরতে হইছিলো..."
আমি বন্ধুর বংশের গল্প জানি না, জানি না তার
পর দাদী কেমনে মরছিলো...কিন্তু তার মৃত্যুর রহস্য জানতেও আগ্রহ
হয়না আর।
তয় আমার পরদাদি মরছিলো জীবন্ত...
দাদা মরনের পর একলগে কবরে যাইতে হইছিলো তারে,
সতীত্বের পরীক্ষা দেওনের লেইগা...
পাগলের দিনলিপি (ষোল)
দিকভ্রান্ত হয়ে যে পথিক চলেছে কোথাও
তার সাথে কথা হলে মনে হয়
বাস্তবতঃ দিকে কোনো ভ্রান্তি নাই
দিনে দিনে কেবল নতুন সত্য তৈরী হতে থাকে।
কেবল বিশ্বাসী বকেরা অভ্যাসে উড়ে যায়
অবিশ্বাসে তাদের বিপত্তি আসবে বলে ভেবে নিয়ে।
পথ ভালোবেসে পথের সৌরভে
পৌছবার তাড়া অথবা আলসেমি ভুলে যেতে হয়
পথ কখনো প্রতারণার গোলকধাঁধাঁ আঁকে নাই
তার শরীরে রয়েছে সহজ স্বচ্ছতা...
আমি সেই ট্রাক চালকের বন্ধুত্ব বরণ করি
যে বোঝে না উদ্বেগের দেহরেখা,
যার কখনো ফেরার তাড়া নাই...
পথে নেমে পথের বিভ্রান্তি ভুলের বিলক্ষণ মন্ত্র
তার শেখা আছে...
পাগলের দিনলিপি (পনর)
মাঝরাত চলে যায়, আঁধার ক্রমশঃ ফিকে হতে শুরু করে
আলো জ্বলে উঠে জানালায় জানালায়
গম পেষা আটার খামিরে জল ছিটানোর পর
কেউ কেউ চোখে লেগে থাকা ঘুমের সাথেও
জল জল...বৈরীতার খেলা খেলে।
এদিকে আমার উঠোনে চলেছে রাধিকার মান অভিমান।
অবতার কৃষ্ণ যথারীতি অনুনয়ে অভিনয়ে তার পায়ে
তার মনেই থাকে না পায়ের চে' হৃদয়ের সীমানা পেরোতে হয় আগে।
আমি মিস করতে শুরু করি রাতের চা'আলা,
অচেনা যুবক, বহুদূর থেকে মাটি নিয়ে আসা
বিরক্ত ট্রাকের চাকা কিম্বা শাহানাকে...
গলির মোড়টারে খালি রেখে আজ তারা কেউ
আসেনি আমারে সঙ্গ দিতে।
এই সুবেহ সাদিক ভোরে তবে আমিও উঠেছি ফুসে
অভিমানে...রাত আর বাকী সব নাঘুমানো মানুষের 'পর।
পাগলের দিনলিপি (চৌদ্দ)
আজ রাত আমার অসুখ,
অসুখের চাদরে শরীর ঢেকে শুয়ে থাকি
ঘরময় অসুখের ঘ্রাণ বাতাসে ছড়ায়
মেঝেময় অসুখের পদচিহ্ন হাটে।
মাঝরাতে প্রতারিত একজন যুবকের কণ্ঠে
যখন, "কাজল নদীর জলে..." বেজে উঠে
তখন বিভ্রান্ত অসুখের চাদর সরিয়ে রেখে
বারান্দার মলিন ধূসর গ্রীলে চাঁদের আলোর সাথে
রস-কষ-সিঙ্গারা-বুলবুলি খেলবো বলে
আলগোছে তুলেছি ছায়ার শরীর...
যুবক তখন জ্যোছনাময় পথটাকে নদী ভেবে
সোনার বরণ মেয়েটারে খুঁজে ফেরে ইতিউতি...
নগর প্রহরী দল ঘুষ আর মদিরার আহ্বানে
ছুটেছে কোথাও...
তাদের বেসুরো হর্নে ভালোবাসাময় প্রতারিত
যুবকের সম্বিত ফিরেছে; এইবারে নদীটাকে ছুড়ে ফেলে
প্রাণ খুলে হাক দেয় যেনো পৃথিবীর সকল ঘুমন্ত মানুষের
সাথে তার শত্রু-মিত্র সম্পর্কের দায় থাকে।
যদিও যুবক এখনো শহুরে গলি ঘুপচির গোলকধাঁধাঁরে
কোনো সমাধান দিতে পারে নাই...
আর তাই আমি গ্রীল ধরে ঝুলতে ঝুলতে
তারে সমবেদনা জানাই।
পাগলের দিনলিপি (তেরো)
লিখতে মন না চাইলে দিনটাকে ডাস্টার দিয়ে মুছে ফেলি।
খালি হয়ে যাওয়া স্লেট তখন তাকিয়ে থাকে বুভূক্ষের মতো
তাকে প্রবোধ দেয়ার ভাষা জানা থাকে না বলেই আমি
রাতের ভেতর ডুব দিয়ে আঁধার হয়েছি...
একটা সাইকেল আমাকে ভেদ করে চলে যায় বছিলা সড়কে
আরেকটা ট্রাক চাপা দিয়ে চলে যায় পথের বিড়ালটাকে
মিউ মিউ করে আর অনর্গল সাইরেন বাজবে না এশহরে।
আমি আঁধার হতেই এবাড়ি-ওবাড়ি-সেবাড়িতে আলো জ্বলে
তারা হয়তো আমাকেই খুঁজছিলো ভেবে খানিক্ষণ
পাগলের মতো হেসে চুপ মেরে যাই...আঁধারের হাসতে বারণ।
নিয়মের বাইরে অনেক কিছুই করছি আজকাল
প্লাস্টিক চিবিয়ে নৌকার পাল কিম্বা রোদ্দুরের সোনারঙ
গিলে ফেলে আগুন হয়েছি দমকল গাড়ি আসবে ভেবে।
পাগলের দিনলিপি (বারো)
আমি সুঁইয়ের গাদায় আমার হারানো সুঁইয়ের খোঁজ করি।
এরমধ্যে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে, জলে ভিজে সুঁই খুঁজতে গিয়ে
আমি জলস্রোতে ভেসে যাই, আহা সুঁই! তোর সাথে আর
বোধহয় কখনো দেখা হবে না একালে...মনে প্রাণে আমি
বাঙালি তখন, পরজন্মে জমে গেছে অগাধ বিশ্বাস যেনো।
জলস্রোতে ভেসে যেতে আমার ভীষণ ভালো লাগে,
এতোকাল শুকনো জামায় থেকেছি অসুখের বাড়ি।
জলস্রোত আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় স্মৃতিময়
পুরোন শানদার বন্ধুর নিকটে...সেখানে ঝলসে উঠেছে
কাঁচা লোহা, ধাতব মৃত্যুর মতো।
জলস্রোত নিয়ে গেছে বুড়িগাঙে, সেখানে জল আর ডাঙা
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ছোঁয়াছুঁয়ি খেলে যায় সারাবেলা-সারারাত।
আমি ভেসে যেতে দেখি মায়ের অবৈধ সন্তান, হারিয়ে
যাওয়া শাড়ির আঁচল, দুধের ইস্পাত বাটি...
জলে ভেসেই কাটিয়ে দিতে চাই বাকীটা জীবন।
পাগলের দিনলিপি (এগারো)
ছেলেটা রক্তের মতো লাল
আর মেয়েটাকে দেখি বেদনার মতো
নীল।
তারা দুজনে মিলেছে সাদা মেঘ আর
বিষণ্ন হলুদ ঝরে যাওয়া
শুকনো পাতার সম্মিলনে।
সব রং তারপর সোনালী রোদে চড়ে
ভেসে গেলো আবেগী আকাশে।
প্রবহমান বাতাসে শোনা গেলো মেয়েটার আর্ত
অথচ মলিন-ম্রিয়মান
উদাসী চিৎকার।
পাগলের দিনলিপি (দশ)
দূরে একটা পাহাড় ভয়ে কাঁপছিলো
বললাম, "পাহাড়টা আমার।"
দূরে একটা ঘুড়ি উড়ছিলো বিষণ্ন
বললাম, "ঘুড়িটা আমার ছিলো আগে।"
যেদিন আমিও উড়তে শিখেছি আকাশে
তারপর থেকেই ঘুড়ি উড়ানোর চাইতে
ভেসে যেতে ভালো লাগে এদিক-ওদিক
পাহাড় চূড়ায়, ঘুম নদী ঘেষে,
সমুদ্রের রোদেলা ফসফরাস ঢেউ ছুঁয়ে...
ঘুড়িটাও উড়ছিলো একলা, আমি তার পাশাপাশি
উড়ে দেখি পৃথিবীর সব ছোটলোকদের।
তারা পিপড়ার মতো ছোটাছুটি করে
ঘুড়িকে ঘিরেই তাদের ব্যস্ততা, লোভ
আর সুলভে নিজের করে নেয়ার চক্রান্ত।
ঘুড়িটা বিনয়ী চাহনীতে তাকায় আমার পানে
আমি এড়িয়ে যাওয়ার ভান করে তাকে ছেড়ে
চলে যাই সমুখে কোথাও, ঘুড়িরা তখনো
এতোদূর যেতে অনুমতি পায়নি আমাদের।
দূরের পাহাড়টা যেনো কাঁদছিলো
বললাম, "আমিও আগে সুযোগ পেলেই
কান্নাকাটি শুরু করে দিয়েছি হামেশা।"
ঘুড়িটা আবেগহীন যেতে থাকে
তার পিছু নেয় নিয়মের সুতা, মাঞ্জা দেয়া।
বললাম, "ঘুড়িটা আগে সুতোর বাঁধনে
পাগলের দিনলিপি (নয়)
মানুষেরা থমকে গেলে কি থাকে! আঁধার থাকে
টগবগিয়ে বল্কানো সুর বাতাসে দুন্দুভি থাকে,
আলোকের তেজে পোড়া চোখ আর ব্যথাতুর দৃষ্টি থাকে।
নিঙরানো প্রাণে ক্লান্ত শ্রান্ত নগ্ন বাঁধার পাহাড় থাকে।
মানুষেরা থমকে গেলে কি থাকে! প্রতিশোধের
ইচ্ছাগুলো জটলা বাঁধে, তাদের নীরব ভিড় থাকে;
অস্থিরতায় নিমগ্ন এক পশুজাত অমানুষ থাকে;
শুকনো ঠোটে স্তব্ধতা নয় অবোধ্য বিড়বিড় থাকে।
পাগলের দিনলিপি (আট)
আমি হাতের মুঠোয় কিছু অন্ধকার নিলে
একটা জোনাকীও ঢুকে যায় অসহায়।
অন্ধকার গুলো গিলে ফেলতেই জোনাকী
সেই অসহায় জোনাকী চিৎকার করে
নিভে গেলো।
জোনাকী বিহনে অন্ধকার নীরব নিথর পড়ে থাকে
আমার একাকী বারান্দায়। দরজা খুলতেই সুরসুর
করে, সেও ঘরে চলে আসে।
আর সাথে সাথেই আমাকে ছেড়ে চলে যায়
আমার অবুঝ ছায়া; ছায়ার সাথে অন্ধকারের আজন্ম শত্রুতা।
অন্ধকার এবার ভীষণ খুশী,
তার জোনাকীর বদলে আমার ছায়ার প্রস্থানে...
সে ভুলে গিয়েছে, জোনাকীটা আমার উদরে
এখন টালমাটাল ভাসে রক্তের সাগরে।
পাগলের দিনলিপি (সাত)
যাদুর পেন্সিল খুঁজে তছনছ করতে সাধ হয় পৃথিবীরে,
আহা! যাদুর পেন্সিল...তাতে যা আঁকা যায় যদি সত্যি হতো
হাতের মুঠোয় পেতাম রে ভাই বিশ্বনিখিল!
মাঝরাতে ক্ষুধার্ত আমার সাধ মেটানোতে মন নেই কারো।
সবাই কেবল সিরিয়াল দেখে সময় কাটায়
আর আমি বসে বসে আঁকাআঁকি শিখি।
যদি কোনোদিন মিলে যায় দয়াবান কারো কাছে
একটা যাদুর পেন্সিল, নিখুঁত রেখায় আমি আঁকতাম
হারিয়ে যাওয়ার পর যা কিছু কখনো খুঁজে পাইনি আমি,
সব!
মাঝরাত পেরিয়ে যাবার পর কয়েকজন মুসল্লি
কাছের পবিত্র মসজিদে যেতে পা বাড়ায়।
শাহানা'র আজ ইনকাম ভালো বলে রিকসা থেমেছে
তখন গলির মোড়ে; মুসল্লিরা তার জামা খুলে নিয়ে
নগ্ন শরীরের বাঁকে বাঁকে ঘোরে,
হয়ে গেলে মসজিদের রাস্তায় দ্রুত হেটে চলে যায়...
অজু সেরে নিয়ে তাদের পবিত্র হতে হয়
নামাজের আগে।
এই সময়ে শাহানা পলকহীন তাকিয়ে থাকে
বার্ধক্যের দিকে; অসহায় এ ক'জন বৃদ্ধের নয়নে
পাগলের দিনলিপি (ছয়)
আজ বিষ্যুদবার ইশকুল খোলা
ইউনিফর্মেরা জেগে উঠে ভোরে
জলে ডুবেও ঘুমায় অবোধ শিশুরা
শহুরে শিশুরা স্বপ্ন দেখে সুপার ম্যানের
শীতের ছুটিতে গ্রাম ঘুরে আসা
শিশুরা দেখেছে খেজুরের রস, গুড়ের বাতাসা।
ইউনিফর্ম দল আর পোশাক শ্রমিক,
একসাথে পথ ঢেকে দেয় পায়ে পায়ে।
এক পা এগোলে সুর্যটা যেনো এক হাত মেপে
উপরে উঠেছে...আগুনে আগুনে।
আগুনে পুড়েছে কাঠকয়লা, ইটের ভাটা
ইশকুল ভেঙে শিশুরা ছড়ায় মাঠে
হুইসেল হাকতেই লাইনে লাইনে সোজা
"আমার সোনার বাংলা..." সামনে রেখে
সিরামিক লাল রঙে রাঙানো দালান।
চোখে জল জ্বলজ্বল করে বাষ্পীভূত হলে
জ্বালাপোড়া করে...শুকনো ঠোটে অপরাধমালা।