ভাস্কর'এর ব্লগ
ব্লগানি
শব্দের চে' ভালো নীরবতা
অক্ষরের চে' শূন্যতা অধীর হয়েছে পাতা জুড়ে...
এক.
বহুদিন ব্লগে লেখা হয় নাই। বহুদিন ব্লগ লেখা হয় নাই। ব্লগাঞ্চলে লেখালেখি মানেই যেনো অনেক সময় সাপেক্ষ উপলক্ষ্য। এমন এক আরোপিত আচরণে আটকা পড়ে আছি। সময়ের যে খুব টানাটানি তা কিন্তু নয়! তাও কিছু লেখা হয় না। লেখার আগেই মনে হয়, হয়তো এইখানে লেখার মতোন মানসিক অবস্থা আমার নাই। এর চে' ভালো হয়তো অনলাইন নিউজে ডুবে থাকা। আপনমনে হাসাহাসি। দেশ ও দশের অবস্থার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন নিয়ে চোখ বুজে স্বপ্ন দেখা কখনো; কখনো বা সবকিছু ভুলে গিয়ে মনহীনতার স্তরে ঘোরাঘুরি।
ফেইসবুক স্টেটাসমালা ৩
১.
যে ঘুড়িটা উড়তে উড়তে দৃষ্টি সীমানার শেষপ্রান্তে থাকে,
তার নাম প্রত্যাশা...
দূরে গেলে সব রং পাল্টে যায়,
দূরবর্তী সব রেখারেই শুধু কালো মনে হয়।
অতএব, প্রত্যাশা নামের ঘুড়িটাও কালো বিন্দু হয়ে উড়ে,
সাদা কিম্বা কালো মেঘের বন্ধুত্ব খুঁজতে খুঁজতে ক্লান্ত ঘুড়ি -
গোত্তা খেয়ে পড়ে আছে অজানায়...
২.
বর্ষার উন্মেষ কালে প্রতারিত কালো মেঘ
সাদা মেঘের নিকটে মেলে দিয়েছিলো তার
উদোম শরীর; তারপর উদ্যানে কতোদিন গেলো...
শরতের কাশফুল দুলে দুলে দুলে তাহারে জানালো
অসহায় রঙধনু অপেক্ষায় রয়েছে নিজের গুহায়
নিমেষ দেখাবে তার ঝলসানো রূপের খোলস, তারপর...
আবার লুকাবে এমন কোথাও, যার ঠিকানা কখনো
জানে নাই মানুষেরা কিম্বা বিপন্ন মেঘেরা।
৩.
হিমযূগ এলে ঢুকে যাবো নিজের গুহায়; অপেক্ষায় আছি...
সরীসৃপ হৃদয়ের উত্তাপ কখনো বোঝাতে পারিনি তাহাদের,
যারা মেঘ আর মননের সংশয়ে রয়েছে - সাদাকালো কলিকালে।
৪.
কিছুদূর হাটলাম তোমার সাথে, তারপর হঠাৎ কী যে হোলো...
যাদুময়তার পৃথিবীতে বিড়বিড় করে কেউ মন্ত্র জপলো
"হোকাস, ফোকাস! অ্যাবরাকাড্যাবরা!"
অদৃশ্য আমাকে দেখার সুযোগ পেলে না তুমিও...
৫.
ফেইসবুক স্টেটাসমালা ২
এক.
ভোরের বাতাসে উড়ে যাওয়া পাখিদের ডানা ঝাপটানোতে কেমন তাড়াহুড়ো; তাদের ডানায় যেনো ভয়। আরেকটা বৃষ্টিমূখর দিনে তাদের রুটিন যাবে ভেঙে। আরেকটা কাদায় মাখা দিনে তাদের উল্লাস যাবে থেমে। পাখিগুলো শুধু বুঝে নিচ্ছে, আজ বৃষ্টি এলে তারা লুকোবে কোথায়...
দুই.
বৃষ্টির গরাদে আটকে গেছি, ঝুলছি গা বাঁচিয়ে
বহুকষ্টে কমেছে জ্বরের আগ্রাসন। আজ আর শুয়ে
কাটাবো না বিছানায়, বলে তৈরী হয়ে আছি
বৃষ্টি ধরে এলেই বেরিয়ে পড়বো বাউলি কেটে পথে।
তিন.
যোগাযোগহীনতায় আমাদের সংসার ভেঙে চৌচিড়
অথবা যেহেতু ভেঙেছে সংসার অতএব আমাদের
ভাষা পাল্টে গেছে বলে টের পাই একদিন সকালে;
বর্ণমালা দেখে ভাবি রেখচিত্র আঁকতে চেয়েছিলো
কোনো একজন সফল চিত্রশিল্পী...যার
তুলির ডগায় ধ্বনিময়তা এসে ভর করেছে কেবল!
যোগাযোগহীনতায় আমরা বুঝতে শিখি, সময়ের সাথে
কখন যে কি পাল্টে যাবে তার ঠিক নাই, ঠিকানা অজ্ঞাত...
চার.
ফেইসবুক স্টেটাসমালা,,,
এক.
হাত বাড়িয়ে তোমার নাকের উপর জমে থাকা স্বেদবিন্দু মুছে দিতে পারি; পারি অগোছালো চুলের এলোমেলোপনায় ছুটে আসা ভ্রমরটাকে দূরে সরাতে, আমার প্রয়োজন দু্টো মন্ত্র আর একটা ফু। ভুল করে পথ ভুলে যদি মাছিরাও ঘিরে ফেলে কখনো তোমাকে, একটা হুংকার ছড়িয়ে দেবো দিকদিগন্তে। আর পিপীলিকা গা বেয়ে উঠতে চাইলে ছড়াটা শোনাবো তাদের কানের কাছাকাছি। এতোটাই যেনো কাছে সরে গেছি...
তবে দূরত্বের মাপকাঠি যদি ফুটকাঠিতেই হতো, এ মুহুর্তে আমি টেবিল চেয়ার ক্লীবলিঙ্গ ভালোবেসে একলা বসে আছি নিথর অফিসে; বলে দেয়া যেতো নিঃসংশয়ে...
দুই.
জাদুবলে নিজেকে পাল্টাতে হলে, সবচেয়ে ভালো সময় আঁধার
কেউ দেখবে না কোত্থেকে বেরিয়ে এসেছে কোলা ব্যাঙ; কালো কুকুরের
উত্থান কোথায় হলো আচমকা, কেবল গলিপথে রোজ লেজ উচিয়ে অপেক্ষারত
স্থানীয় নেড়ি কুকুরটা খানিক্ষণ জায়গার দখল গেলো বুঝি বলে চেচামেচি
করতে করতে থেমে যাবে একসময়। অন্ধকারে কোলাব্যাঙ আর কালো
কুকুরের নৈশব্দে তোমার রেখাপাত ভুলে যাও, নিম্ন বর্গের পুরুষ
চাহনীর মোহ মদিরতা ছাড়াও আঙুল ছুঁয়ে জাগিয়ে তুলেছে নারী;
আমি এখন ঝলকে বাতাসের সাথে উড়ে যাবো তোমার বাড়িতে
খোয়াবনামা...
খুব অসহায় বোধ করতেছি কয়েকদিন ধরে। তার উপর গতোকাল থেকে একটা দুঃস্বপ্ন আতঙ্কের মতো ঘিরে ধরেছে। নিজের ঘরের দৈর্ঘ্য না জেনে আহ্বান করেছি হাজার মানুষ তারপর দেয়াল সব ভেঙে পড়ছে, মানুষগুলো এমন অবুঝ যে তারা দেয়ালগুলো টেনে এনে আবার সীমানায় গেঁথে দেয়ার চেষ্টা করছে। সবার ধাক্কায়-নিস্পেষণে আহত আমি কোনোমতে ঠেলেঠুলে গিয়ে দেয়ালটাকে আরেকটু ঘরের দিকে পিছিয়ে আনতে বলে দেখি ঘরের কোনো অস্তিত্ব নেই। ঘরে আমার সান্তনা দেয়ার মতো কেউ নেই। কোত্থেকে একদল লোক "হা রে রে রে রে..." বল্লম হাতে, মাথায় লাল পট্টি বেঁধে উড়ে এলো। তারা এসেই এলোপাতারি বল্লম ঘুরাতে ঘুরাতে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেই প্রথম আসা মানুষগুলি তাদের প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে বের করলো সব অতিকায় মেশিনগান। তন্দ্রার ভেতরেই আমি এরপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। এখন লিখতে গিয়ে ভীষণ হাসি পেলেও যখন আধোঘুমে এই স্বপ্নের মতো ঘটনাটা ঘটছিলো তখন আমি ভয় পাচ্ছিলাম, ভীষণ ভয়!
দুঃস্বপ্নটাকে বিশ্লেষণ করতে সময় লাগলো মিনিট দুয়েক। না, আরো কম সময়। খোয়াবনামা বুঝে উঠতে শুরু করতেই
আরো কিছু ফেইসবুক স্টেটাস...
ক)
আমার ল্যাপটপের নাম দিলাম তবে "ঘুম"। বিছানার নাম "স্বপ্ন"। ঘরটার নাম "ভালো বাসা"। আর যে মেয়েটা সিলিং ফ্যানে ওড়না বেঁধে ঝুলে পড়েছিলো বলে বাড়িটার নাম হয়েছে ভুতের বাড়ি; তাকে "পড়শী" বললে, খারাপ শোনায় না...
খ)
বহুদিন আকাশের মাঠে মেঘের রহস্য নেই,
বহুদিন পথের খরখরে গায়ে জলের আচড় নেই।
বহুদিন নাচে নাই উলুখড়-কাশফুল, টোকাই শিশুরা।
বহুদিন প্রাণের অভাবে ভুগে বেহুদা নিথর রহমান।
বহুদিন চা'র কাপে চামচ প্রলয় তুলে
তিতকুটে পাণীয় দিতে ভুলে গেছে মুকিম-বাশার।
আর তাই, আমার ক্যামেরা পড়ে আছে অগোছালো
যত্নহীন, তার গায়ে জমেছে ধুলোর দানা, দুষ্টুমিতে
যারে বলি শহরের ঘাম। সয়ে যায় সকল উপেক্ষা আমার নিকন;
বহুদিন...
গ)
দিক ভুলে শহরের গোলক ধাঁধাঁয় ঘুরতে ঘুরতে
জেনে গেছি এ শহরে কারা কারা লুকিয়ে চুরিয়ে
ললিপপ চোষে, কারা কারা ক্যানাবিস চাষ করে
পেছনের বারান্দায়, সুর্যের আলোকে কার চামড়া
পুড়ে দগদগে ঘা থেকে অবিরল পুঁজ ঝরে; কারা
বায়না ধরেছিলো "লাল জুতো কবে কিনে দেবে বাবা?"
এতোকিছু জেনে ফেলে কেমন অপরাধের বোধ
ছেয়ে গেছে শরীরে শরীরে, আঙুল শীর্ষেই যদি
পথের নিশানা ধরা না দিলো, তাহলে বলো আর কীসে
২০টা ফেইসবুক স্টেটাস...
১.
নেমে এলো তবে ঝড়
উড়ে গেলো শহরের আঁধার আচল
উন্মুক্ত মাতাল শহরে ধুলো ওড়ে
উড়ে যায় ঘামে জবজব যুবকের
পোষা কাঁদাখোচা...বিনে পয়সার পাখি।
২.
জলে ভেসে তবে এসেছি নগরে
সম্বিত ফেরার পর ছবি দেখে চিনে নেয়া যাবে
এই ভেবে মুখ গুজে রেখেছি আঁধারে
কখন ধাতস্থ হবো নাগরিক চালাকিতে
কখন শিখে নেবো শহুরে বাবুয়ানা
সব বলে পথ নির্দেশনা দেবে বিদেশী ইন্সট্রাক্টর।
ওরা নাকি আমাদের চেয়ে পথ ঘাট ভালো চিনে
আর তাই সম্বিত বিষয়ে যেসব ধারণা ছিলো
ভুলে গেছি... মাটিতে বিছানো অন্ধকারে চোখ রেখে
ভাবি, পীচ ঢালা পথ আর পাথরে বিশ্বাস রাখতে জানলে
আমিও নগর বাউলের সাজে, নিয়নের তীর দেখে
পৌছে যেতে পারতাম লক্ষ্যের কাছাকাছি...
৩.
রুপালী জ্যোছনা বিভ্রান্তি ছড়ায়, অযত্নের অসমান পথ
আমাদের পাতি রসায়নে যেনো মসৃণতা হয়ে ধরা দেয়
হোচট খেয়েছি যতোবার, ততোবার বিলা খাই পথে,
কখনো বা চাঁদের উপর...শহুরে হুংকারে শাপশাপান্ত করেছি
তাহাদের, নিজেদের চোখ অথবা মনন নিরাপদ হেফাজতে রেখে।
৪.
অপেক্ষার সময়টাতে অনেক গাছপালা মেলে দেই,
কল্পনার সীমানা পেরিয়ে ঢুকে যাই অনধিকারে,
তাই বলে ভেবে বসো না যে সেসব আমার
পুলিশ পাঁচালী...
বিলাত থেকে ব্যারিস্টারি পাস করে বাড়ি ফিরেছেন কেবল। আত্মীয়স্বজনেরা দেখতে আসছে, আশীর্বাদ করছে, "আরো বড় হও বাবা, জীবনে বহুদূর যাও।" সবার এমন আগ্রহী চোখ এড়িয়ে তিনি ছুটে গেলেন ঠাকুমার কাছে। যার কাছে কিচ্ছা শুনতে শুনতেই তার রাজকুমার হওয়ার স্বপ্ন ভিড় করেছে সেই কৈশোরে! যার পথ ধরেই তার সাত সমুদ্দুর তেরো নদী পাড়ি দিয়ে বিলাতে ব্যারিস্টারি পড়তে যাওয়া। ঠাকুমার পা ছুঁয়ে প্রণাম করতেই উঠে গেলেন তিনি। তারপর কনুইয়ের উপর ভর করে কোনোরকমে বৃদ্ধা ঠাকুমা আধশোয়া ভঙ্গীতে উঠে বসার চেষ্টা করতে তিনি এগিয়ে গেলেন আরো খানিকটা কাছে। একেবারে সত্যজিতের পথের পাঁচালীর ইন্দির ঠাকরুনের মতোন চেহারার ঠাকুমা খনখনে কণ্ঠস্বরে ফোকলা দাঁতে তাকে আশীর্বাদ করলেন। প্রথমবার তিনি ঠিক বুঝে উঠতে পারলেন না ঠাকুমার আধো আধো কথাগুলো। কয়েক মুহুর্ত পর তিনি পুরো কথাটার মানে বের করতে পেরে ঢোক গিললেন যেনো। শৈশবের স্বপ্ন দেখানো ঠাকুমার কথাগুলো যেনো তার বুকে শেল হয়ে বিঁধলো। তার কানে স্পষ্ট স্বরে শৈশবের সেই দৃপ্ত কণ্ঠস্বরে এখনকার কথাগুলো বাজতে থাকলো ভাঙা রেকর্ডের মতোন, "সবার মুখ উজ্জ্বল করে দিস দীনু, কিনু দারোগার মতো ক্ষমতা তোর হাতের মুঠোয়!"
আমাদের কি কিচ্ছু করার নেই! কিচ্ছু বলার নেই!
মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পরের বছর আমার জন্ম। শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়ে ওঠার কারণে দেশের সামাজিক অস্থিরতা কিংবা রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কোনো বিষয় তেমন একটা প্রভাব ফেলেনি ছোটবেলায়। তবে একটা সময় গেছে যখন নির্বাচনের আবহ মানুষের প্রাণে সাড়া ফেলতো। ইলেকশন ডে মানে বাড়িতে রীতিমতো উৎসবের মহড়া। সেদিন ভালো খাবার দাবার হতো, বাংলাদেশ টেলিভিশনে শুরু থেকেই প্রচারিত হতো ক্লাসিক ইংলিশ ম্যুভি, হলিউডি ব্যাশ আর একটা প্রোগ্রাম সলিড গোল্ড যেখানে কন্টেম্পরারি পপ্যুলার ইংলিশ নাম্বারের অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিওগুলো দেখানো হতো। আমার নিজের মিউজিক টেইস্ট তৈরী হয়েছিলো সেইসব ইলেকশন ডে'র সময় দেখা মিউজিক ভিডিও দেখতে দেখতেই। আরেকটা মজার ঘটনা ছিলো সেই সময়টায় আমরা ভোট-ভোট খেলতাম। প্রতীক পাল্টে পাল্টে আমরা ইলেকটোরাল ক্যাম্পেইনের মক করতাম। তখনো আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজনের বোধ অতোটা প্রবল আর জরুরী হয়ে উঠেনি। তবে ৫২'এর ভাষা আন্দোলন, ৬২'এর শিক্ষার অধিকার রক্ষায় প্রতিরোধ, ৬৯'এর গণ অভ্যূত্থানের পথ ধরে ১৯৭১'এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশের মানুষ সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে রক্ত ঝরা ছাত্র-গণ অভ্যূত্থানের মধ্য দিয়ে এক
তিনটা ফেইসবুক স্টেটাস...
..........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
১.
একদিন একসাথে কফি খেতে পারি...
বরফে আর কোনো নতুন ফ্লেভারে
প্রেম ও অপ্রেমের ডিকন্সট্রাকটেড ব্যভিচার
..............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
যদি সত্যি হতো সব
আমি দু আঙুল বিপ্রতীপ রেখে
তোমার উঠোনে গিয়ে গ্যাট মেরে
বসে বিড়ি ধরাতাম...অনেক প্রস্তুতি নিয়ে;
বলা তো যায়না কদিন ওভাবেই কেটে যেতো
ঘামে ঘামে তারা ক্রমে মে দিবস হয়ে উঠে
...............................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
শ্রমিকের মজুরীতে যারা ভাগ বসায় নিয়তঃ
সমুদ্র-অশ্রু আর ঘামের কবিতা
...................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
সব নোনা জল রোমান্টিক নয়
অংক মিলে যায়, তবুও অপেক্ষা থাকে
তারপর মিলে গেলো অংক,
ফাঁস হয়ে গেলো সকল সংখ্যার জারিজুরি।
আমরাও তাকাই ফিরে সবুজ বনের দিকে,
তার পাজর জুড়ে থাকা কাঠবিড়ালীরা
ক্রমশঃ কেমন ঘোলা চোখে
তাকিয়ে সুরুৎ করে গর্তে ঢুকে যায়
যেন নেউলের বাচ্চা! আর শীত ঘুম থেকে
উঠে আসা সাপগুলো ফোশ করে
ফনা তুলে মনিটাকে খুঁজতে বেরোয়।
অংকটা যেহেতু মিলে গেছে তাই
সবকিছু ওলোট-পালোট হলেও যেনোবা
কারো কিছু আসবে অথবা যাবে না।
বিকেলের রাতজাগা চোখে ধুলো দিয়ে
চলে গেছে রোদ্দুর ও তাহার দল
সময়ের আগেই নেমেছে সন্ধ্যা,
রান্না থামিয়ে উঠোনে নেমে আসে মা, শিঙায় মুখ
রেখে উলুধ্বনি! গর্ত থেকে সাপ আর নেউলেরা উঁকি দেয়
তাদের দুপাশে রেখে মাঝখানে জাকিয়ে বসেছে অসুখি অ্যালিস...
বিস্ময় জগতে ভ্রমণ তখনো শেষ হয়নি!
আসলে ধারণা ছিলো অংক মিলে গেলে
কারো কোনো কাজ থাকবে না আর
সবাই অলস বসে থাকবে মৃত্যুর আশায়
সবকিছু চুরি করে এনে কপালে সাজিয়ে রাখা যায়
সমুদ্র আর আমি আসলে একইজন...
.........................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................................
সমুদ্র নিয়েছে কেড়ে পুরোন চশমা,
স্মৃতির টংকার, দৃষ্টি সীমানা অথবা
যতোটুকু দেখে নেয়ার সামর্থ্য ছিলো
তার অধিকার। সমুদ্রকে গালি দিতে গিয়ে