ইউজার লগইন

দবিরের বৈদেশ যাত্রা- দুই

বিমানে উঠলেই দবিরের এই সমস্যাটা হয়। এর আগেও দবির ৩ বার বিমানে উঠছে। সেইটা অবশ্য বৈদেশ যাত্রা ছিলো না। দেশের মধ্যেই। একবার ঢাকা থেকে যশোর, একবার সিলেট আর একবার চিটাগাং। তাও নিজের পয়সায় না। সেইটা ১২/১৩ বছর আগের ঘটনা। একটা নতুন দৈনিক পত্রিকা বাইর হৈবো। সেইজন্য দবিরের মতন কিছু মানুষ সেই পত্রিকার পক্ষে জনমত তৈরির লাইগা সারাদেশ ঘুরছিলো। লোকজনের লগে কতা কৈছিলো। সেই সব দিনের কতা মনে পড়লে দবিরের নিজের কাছেই শর্মিন্দা মনে হয়। এখন দবিরের মনে হয়, সেইটা ছিলো সেই পত্রিকার পক্ষে একরকম দালালি করা। যদিও তখনকার দবিরের মতন মানুষগুলির উদ্দেশ্য সৎ ছিলো। ভালোবাসা ছিলো। স্বপ্ন ছিলো। মনে মনে লজ্জিত হাসি নিয়া দবির ভাবতে লাগলো, প্রতিবার বিমানে উঠলে তার এই অবস্থা হয় ক্যান ?

বিমান চলতে শুরু করলে প্রথমে ভালোই লাগে। এরপর আস্তে আস্তে বিমান স্পিড বাড়ায়। তাতেও কোনো সমস্যা হয়না। সমস্যা হয় যখন বিমান মাটি ছাইড়া হঠাৎ শূণ্যে উড়াল মারে তখন। পেটের নিচে মানে নাভির ঠিক উপরে একটা মোচড় দেয় দবিরের। আমাশা হৈলে যেইরকম হয়, ঠিক সেই রকম অনুভূতি। এই কতাটা শরমে কাউরে জিগাইতে পারে নাই কোনোদিন। তার মত কি অন্যদেরও একই অনুভূতি হয় ? নাকী শুধু তারই হয় ! মনে হয় মহাশূণ্যে ভাসতেছে সে। যেই কোনো সময় বিমান নিচে পড়বো। আর একবার পড়লে আর রক্ষা নাই। তো, প্রথমবার যশোর যাওনের সময়ও তার একই ভাবনা হৈছিলো। সেই ভাবনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় নাই। ভাবতে ভাবতেই যশোর বিমানবন্দর আইসা পড়ছে। এইবারের বিষয়টা আলাদা। ৪/৫ ঘন্টার জার্ণি। পেটের নিচের দিকে সেই মোচড়টা এইবারও দিলো দবিরের। একসময় ভয়ে ভয়ে তাকাইয়া দেখলো ঢাকার বাড়ি ঘর আর সবকিছুই কেমন জানি ছোট ছোট লাগতেছে। দবিরের কপালে ঘাম। বুঝতে পারতেছেনা, বিমানে কি এসি চলে না চলেনা ? হাত ঘড়ির দিকে তাকাইয়া দবিরের বেকুব মনে হৈলো নিজেরে। বিমান ছাড়ার পর মাত্র ২২ মিনিট গেছে। পকেট থেকে রুমাল বাইর কৈরা কপালের ঘাম মুছলো দবির। হোস্টেস দবিরের কাছে আইসা বললো,
স্যার, কোনো সমস্যা ?
স্মার্টলি দবির কৈলো, নো থ্যাংকস...।

সময় যাচ্ছে। আস্তে আস্তে দবিরের শারীরিক অস্বস্তিও কাটা শুরু করলো। জানলা দিয়া বাইরে তাকাইয়া দেখলো, কী সোন্দর আকাশ ! মেঘেরা ভাসতেছে...। তার মাঝখান দিয়া বিমান যাইতেছে। ক্ষণিকের মধ্যেই আবার দবিরের মনে হৈলো, আইচ্ছা- বিমানটা যদি কোনো কারণে হঠাৎ নিচের দিকে পড়া শুরু করে ? পড়লেও অবশ্য তার কিছু করনের নাই। চুপচাপ বইসা রইলো নিজের সিটে। এরমধ্যে হোস্টেস আইসা খাওন দিয়া গেলো। এক প্যাকেট খাওনের লগে একটা ম্যাংগো জুস আর মিনারেল ওয়াটার। বোতল খুইলা পানি খাইলো আগে। তার কিছুক্ষণ পরে খাওনের প্যাকেট খুললো। খুইল্যা এট্টু বেকুবই হৈলো সে। এক্কেবারে দুপুরের খাওন (ফ্রাইড রাইস, চিকেন, ভেজিটেবল, সালাদ)...। এই সন্ধ্যার সময় দুপুরের খাওন ক্যান ? মনে মনে ভাবলো দবির। হঠাৎ তার মনে হৈলো- আরে তাইতো ! বিমানতো ছাড়নের কতা আছিলো- ২ টা ৫০ মিনিটে। যদিও ছাড়ছে ৬ টায়...। সেই কারণেই দুপুরের খাওন দিছে... মনে মনে হাসলো দবির। তার মনে পড়লো, মানুষ খালি কয় ৯ টার ট্রেন কয়টায় ছাড়বো ? বিমানও যে দেরিতে ছাড়তে পারে- এইটা সচরাচর কেউ ভাবেনা....। আপাতত এক পিস মোরগ খাইয়া প্যাকেটটা বন্ধ কৈরা রাখলো। এরপর এইটা সেইটা ভাবতে ভাবতে কখন জানি ঘুমাইয়া পড়ছে দবির। ঘুম ভাঙ্গার পর দেখলো রাইত ৯ টারও বেশি বাজে। তারমানে আর ঘন্টা খানিকের ম্ইধ্যে পৌঁছাইয়া যাইবো। সামনের সিটের পিছনের নেটে রাখা খাওনের প্যাকেট বাইর করলো। তারপর ঠান্ডা খাওনটাই খাইলো। পানি খাইলো, জুসও খাইলো। ইস, এইবার একটা বিড়ি ধরাইতে পারলে বেশ হৈতো, মনে মনে ভাবলো দবির। কিন্তু সেই উপায় নাই। আবার চুপচাপ বৈসা রইলো। কিছুক্ষণের মধ্যে মাইকে- অ্যাটেনশন প্লিজ, লেডিজ অ্যান্ড জেন্টেলম্যান.... ইত্যাদি কওয়া শুরু করলো হোস্টেস। জানা গেলো আগামী ১৫ মিনিটের মধ্যেই মালয়েশিয়ার এয়ারপোর্টে বিমান নামবে। জানলা দিয়া বাইরে তাকাইয়া দবির অবাক হৈলো। হাজার হাজার বাতি দেখা যাইতেছে। সব কিছু দিনের আলোর মতন পরিস্কার। বিমান আস্তে আস্তে ঘোরা শুরু করছে... ধীরে ধীরে নিচের দিকেও নামতেছে। একসময় মাটির খুব কাছাকাছি আইসা গেলো বিমান। সবাই যার যার সিটবেল্ট বাঁইধা নিলো। একসময় বিমানের চাকা মাটি স্পর্শ করলো। তারো মিনিট দশেক পরে বিমানের দরজা খুললো। অন্য সবার মতন দবিরও নাইমা আসলো বিমন থেকে। কাঁধে ছোট একটা ব্যাগ। যার ভিতর ক্যামেরা, পাসপোর্টসহ টুকটাক জিনিস আছে।

বিমান বন্দরে নাইমা দেখলো, এলাহি কাজ কারবার। মনে হৈলো বিশাল একটা মাঠের মধ্যে তারা। একটা বাস আইসা দাঁড়াইলো সামনে। লাফ দিয়া বাসে উঠলো। সামান্যটুক আসার পর বাস থেকে নাইমা ট্রেনে উঠলো। ৩/৪ বগির ট্রেন। ৫/৭ মিনিট চলার পর একসময় ট্রেনও থামলো। এরপর সবার সাথে হাঁটা শুরু করলো দবির। মনে হৈলো অনন্তকাল ধৈরা হাঁটতেছে। সবাই আইসা এক জায়গায় থামলো। সেখান থেকে তার ব্যাগ নিলো। এরপর কাস্টমস আর ইমিগ্রেশন পার হৈয়া এয়ারপোর্টের বাইরে যখন আইলো, তখন স্থানীয় সময় রাইত বারেটারও বেশি। বাংলাদেশ সময় ১০ টা। বাইরে আইসা জানতে পারলো কুয়ালালামপুর যাওনের আইজকা আর কোনো ট্রেন নাই। এখন যাইতে হৈবো টেক্সিতে কৈরা। বাইরের টেক্সি নিলে ভাড়া পড়বো- ৮০ টাকা। এত সস্তা ! এট্টু পরে মনে হৈলো- আরে লোকাল ৮০ টাকা মানেতো ১৬০০ টাকা। সব্বোনাষ ! এত ভাড়া। এক মালে অফিসারের সাহায্য চাইলো। সে বুদ্ধি দিলো- যদি রুম বুকিং করা না থাকে, তাইলে এয়ারপোর্টে থেকে যাও। সকালে ট্রেনে করে চলে যেও। ১০ টাকার মত লাগবে। আর যদি রুম বুকিং দেয়া থাকে তাইলে টেক্সিতে চলে যাও। তবে যেহেতু একা, তাই বাইরের টেক্সিতে না গিয়া এয়ারেপোর্টের টেক্সিতে চলে যাও। ১০০ টাকা নিবে। তবে একদম নিরাপদ। টেনশনে পড়ে গেলো দবির মিয়া। হোটেল বুকিং দেয়া আছে। সুতরাং যাওয়াই ভালো। তাই বইলা ১০০ টাকা মানে ২০০০ টাকা ভাড়া দিয়া ? আইচ্ছা এয়ারপোর্ট থেকে কুয়ালালামপুর কত কিলো হৈবো ? একজনরে জিগাইলো। কৈলো প্রায় ৮০ কিলো... । কী আর করা, শেষমেষ একটা এয়ারেপোর্টের টেক্সি ভাড়া করে রওয়ানা হৈলো দবির। টেক্সি ছুটছে কুয়ালালামপুরের দিকে...

পোস্টটি ৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

লীনা দিলরুবা's picture


পড়তে দারুণ লাগলো, সাবলীল...চলুক...।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


Big smile Laughing out loud

কামরুল হাসান রাজন's picture


পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম Smile

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সবুরে মেওয়া ফলে Big smile

ফিরোজ শাহরিয়ার's picture


ভালোই লোভনীয় লাগছে গল্পটা।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


থ্যাংকু স্যার Smile

গৌতম's picture


আচ্ছা, এই দবির সাহেব কি হলুদ ফতুয়া গায় দেন? তাঁর মোবাইলের কালার কি হলুদ? তাঁর মোটর সাইকেলে কি ছোঁয়া আপা চিরকুট রেখে যান?

একজন মায়াবতী's picture


সে কি হলুদ রঙের প্লেনে করে বৈদেশ যায়?!!

মেসবাহ য়াযাদ's picture


দবিরের রেইন কোটটা হলুদ, হেলমেট হলুদ, টি-শার্ট হলুদ, শার্ট হলুদ, কলম হলুদ... Smile

১০

মিতুল's picture


পড়ছি আর ভাবছি.....................Laughing out loud

১১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


দবিরও ভাবছে... Wink

১২

মীর's picture


চলুক পুরোদমে। এরকম সবাই মিলে একসঙ্গে লিখা-লিখি না করলে আসলে ভাল্লাগে না। Smile

১৩

মেসবাহ য়াযাদ's picture


হ, হ ঠিক কৈছেন...
থ্যাংকু থ্যাংকু.... লিখতে থাকেন দুই হাতে ব্রাদার Big smile

১৪

টুটুল's picture


Big smile

১৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


Smile Smile

১৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


পেট মোচ্রানী শুধু প্লেন ঊঠতে শুরু করলে নয়রে ভাই নামতে গেলোও হয়।(শরমের কথা কাউকে বলি নাই আগে) সব থিম পার্কের বিভিন্ন রাইডেও আমার একই দশা এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে? তবে ভাই আপনার দবিরতো বেশ স্মাট তার কানে তো তালা লাগে না।

দবিরের যাত্রা শুভ হোক, ফি আমানিল্লাহ্‌।

১৭

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ফি আমানিল্লাহ Big smile

১৮

লিজা's picture


কি একখান নাম! দবির!!
Puzzled

১৯

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ক্যানরে বইন, কোনো সমস্যা ? নামটা পছন্দ হয় নাই ? Tongue

২০

হরে হরে রাম's picture


ছবি চাই। ছবি দিয়া দবিরকে প্রমান করতে হবে সে গেছিলো!

২১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


ছবির ব্যাপারে ভালো কৈতে পারবো দবিরের অফিশিয়াল ফটোগ্রাফার আশরাফ হোসেন রাসেল। উনি বলেছেন, প্রতি লেখায় কমপক্ষে একটা কৈরা ছবি দেবে... Wink
আইজকা মনে অয় ব্যস্ত আছে। আইজকা তার হেপি বাড্ডে... Party

২২

মীর's picture


মনে হচ্ছে আপনে ওইদিন ডাকাডাকি করতে গিয়ে নিজেই হারিয়ে গেছেন? Wink

২৩

মেসবাহ য়াযাদ's picture


কারে কৈলেন, আমারে ? Sad

২৪

মীর's picture


হ আপনারেই কইসি। তিনদিন ধইরা ব্লগে দেখতেসিলাম না তাই।
যাউক্গা আইজকা দেখা-পুস্ট-কমেন্ট রিপ্লাই সবই দিসেন Smile তাই খুশি
এবং কথা এইটা উইথড্র কর্লাম।

২৫

মেসবাহ য়াযাদ's picture


Smile Laughing out loud Big smile Wink

২৬

তানবীরা's picture


দবিরকে বলবেন এর পরে হোটেলের সাথে যেন ট্যাক্সিও বুকিং দেয় Laughing out loud

২৭

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আইচ্ছা কমুনে Big smile

২৮

মীর's picture


মেসবাহ ভাই কেমন আছেন?

২৯

মেসবাহ য়াযাদ's picture


আছি। বেঁচে বর্তে Big smile

৩০

মীর's picture


হ্যাঁ, বেঁচে থাকাই জিন্দাবাদ।

৩১

একজন মায়াবতী's picture


দবির কই গেলো?? Shock Shock

৩২

মীর's picture


কই কই কই???

৩৩

প্রিয়'s picture


কই কই কই ??? Sad( Sad( Sad(

৩৪

মীর's picture


আপনে কি জানতে পারছেন আপনে কোথায়? আমরাও তো সেটা জানার অপেক্ষায় আছি।
ভালো থাকেন আর তাড়াতাড়ি আমাদের মাঝে ফিরে আসেন। ওয়েটিং ফর ইয়' ব্রাদার। ওয়েটিং ইগার্লি।

৩৫

জেবীন's picture


আগস্টের ১তারিখে শেষ হাজির হইছিলেন, ২মাস পার হয়ে ৩মাস পুরা হৈতেছে .... আপনে কই?
ব্যাকগ্রাউন্ডে গান শুনা যাচ্ছে, কৈ গেলেন, কৈ গেলেন, কৈ গেলেন রেএএএএ, আমাদের ছাড়িয়া মেসবাহভাই কৈ গেলেন রেএএএএএএএ....

৩৬

একজন মায়াবতী's picture


মেসবাহ ভাই বলছিলেন বড় হইলে আপ্নে মীর হইতে চান। দেখেন সবাই কি হারে আপ্নারে মিস করতিসে আর ডাকাডাকি করতিসে। এখনও কি আপ্নে বড় হন নাই?? Shock

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মেসবাহ য়াযাদ's picture

নিজের সম্পর্কে

মানুষকে বিশ্বাস করে ঠকার সম্ভাবনা আছে জেনেও
আমি মানুষকে বিশ্বাস করি এবং ঠকি। গড় অনুপাতে
আমি একজন ভাল মানুষ বলেই নিজেকে দাবী করি।
কারো দ্বিমত থাকলে সেটা তার সমস্যা।
কন্যা রাশির জাতক। আমার ভুমিষ্ঠ দিন হচ্ছে
১৬ সেপ্টেম্বর। নারীদের সাথে আমার সখ্যতা
বেশি। এতে অনেকেই হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরে।
মরুকগে। আমার কিসস্যু যায় আসে না।
দেশটাকে ভালবাসি আমি। ভালবাসি, স্ত্রী
আর দুই রাজপুত্রকে। আর সবচেয়ে বেশি
ভালবাসি নিজেকে।