ইউজার লগইন

আহসান হাবীব'এর ব্লগ

গ্ল্যাডিয়েটর

আমাকে যদি ধরতে চাও
এসো যেথা সাফারির বন
আকাশ পাতাল ঘুড়ে বেড়াই
শুন্যে যে মোর আসন।
অশোক হয়ে ফুটি আমি
সাথে হাজার সাথি
বাঘ ভাল্লুক সিংহ মামা
আছে নানান জাতের পাখি।
ভ্যাম্পায়ার ও শকুনেরাও
বন্ধু আমায় মানে
মুগ্ধ আমি তৃপ্ত আমি
তাদের সুর ও তানে
ভুজঙ্গ আমায় আদর করে
সর্ব অংগ দিয়ে
যতই বলি ছাড় আমায়
ততই থাকে জড়িয়ে।
লতা পাতা গুল্ম যত
থাকে পাহাড়ায়
কেউ যদি ধরতে আসে
তাড়ায় হিংস্র ইশারায়।
হেথায় আমি চরম সুখী
নেই তো প্রাণের ভয়।
সভ্য নামের সমাজ টাতেই
আমার প্রাণ সংশয়।
অবনির হেথায় থাকি বন্ধু
প্রাণে বড় ডর।
এখানে আমায় ধরতে হলে
তোমাকে হতে হবে গ্ল্যাডিয়েটর।
তাই ধরতে হলে চলে এসো
এই সাফারি বনে
বল সাত সমুদ্দুর পারি দিয়ে
আসবে কত ক্ষনে।
সিরাজগঞ্জ
অক্টোবর,২৭,২০১৩খ্রীঃ বাংলাদেশ

ঝড়ের পর ধুলি মুক্ত নির্মল আকাশ চাই না

এমনি ঈদের পর এখন পর্যন্ত সকল শ্রমিক কাজে যোগদান করেনি। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের পর আমাদের দেশে শ্রমিকরা কম পক্ষে ১০-১৫ দিন দেরি করে কাজে আসে। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিকরা। আমার এক বস এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন, আমাদের দেশের শ্রমিকরা প্রথমে কোরবানি গোস্ত খায়, তারপর হাড় খায়, তারপর পায়ের খোড়া খায়, সর্বশেষ পকেটের টাকা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজে আসে না। আজ আমি হাড়ে হাড়ে তা টের পাচ্ছি।

ত্রিকালদর্শী, দুর্গতী নাশিণী মা

গতকাল ১৪ই অক্টোবর ২০১৩ খ্রীঃ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ঢাকা থেকে দিনাজপুর এলাম ঈদের ছুটিতে। দুই ঈদে ঢাকা থেকে দেশের যে কোন যায়গায় যাওয়া যে কত কষ্টকর তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আজ ১৫ই অক্টোবর কখনও বৃষ্টি থেমেছে বলে মনে হয় না। অঝোর ও অবিরাম বৃষ্টি থামার কোন লক্ষণই দেখতে পাচ্ছি না।অনেকের বাড়ীর উঠোন এরই মাঝে বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। সবকিছুকে উপেক্ষা করে মা দূর্গাকে বিদায় দিচ্ছে ভক্তরা।মা তুমি কখন কোন বাহনে ধরাধামে তোমার চরণ রাখ আমি জানিনে তবে যতটুকু জানি তুমি সর্ব সময় অবনী-ভক্তের কাছে আস হাসি মুখে। কিন্তু ত্রিকাল দর্শী মা যাবার সময় ভক্তদের ভবিষ্যত সুখ দর্শণে হাস, দুঃখ দর্শণে কাঁদ। মাগো, তোমার বিদায়ে তোমার ভক্তরা অশ্রুসিক্ত হবে এটাই তো স্বাভাবিক, কিন্তু এবার ভক্তদের চেয়ে তোমার কান্না এত বেশি কেন মা? তবে কি ত্রিকালদর্শী মা তোমার ভক্তদের ভবিষ্যত অমঙ্গল দর্শণে অশ্রুসিক্ত হয়েছ ?
তাই যদি হয় তবে মাগো তোমার অশ্রু জলে ভেসে যাক সকল অকল্যাণ। ত্রিকালদর্শী, দুর্গতী নাশিণী মা তুমি তো জান কোন কর্মে বা কিভাবে সকল অশুভ দূর হয়, আর তাই তুমি করাও তোমার ভক্তদের দ্বারা।

নত শিরে

আমার ভালবাসার মাত্রা
আর কটটুকু হলে
তোমার ভালবাসাকে ছুতে পারব।
আর কত নদীর জল সমুদ্রে প্রবাহিত হলে
তোমায় ভালবাসায় সিক্ত করতে পারব।
আর কত ফুল বাগানে ফুটলে
তোমার ভালবাসার মালা গাথা হবে।
আর কতটি বিনিদ্র রজনী অপেক্ষার পর
ভোরের সূর্যের উদয় হবে।
সে ভোর শরত হেমন্ত, শীত, বসন্ত
বর্ষা, গ্রীষ্ম যাই হউক না কেন?
তাতে কি আসে যায়?
যদি শুনি তোমার ভালবাসা
আমার দ্বারপ্রান্তে,
তখন, তখন যে
সব কিছু ফিকে হয়ে
তা যে হবে ঐশ্বরীয়।
কি বললে! তোমার ভালবাসায়
কি এমন লাভ?
হা!হা! হা!......
কি পাগল হয়ে গেলে নাকি?
এমন কথা শুনলে কে না পাগল হয়?
ভালবাসা কি কেউ কখনো লাভ ক্ষতি
ভেবে করে।
আমি তোমাকে ভালবাসি
তোমাকে ভাল লাগে এটাই শুধু জানি।
বিশ্বাস কর এটাই শুধু জানি।
তাতে
আমার নিজের উপর আমার কোন
নিয়ন্ত্রন নেই। আমি কে? আমি কি?
আমার.........।
বিশ্বাস হয় না?
তোমার অনুমতিতে,
রক্ত হয়ে
যখন তোমার শিরা উপশিরায়
বয়ে বেড়াব, তুমি বুঝবে?
অক্সিজেন হয়ে
তোমার নিশ্বাসের সাথে মিশে
তনু তনু সঞ্চালিত হব, তুমি বুঝবে।
বাতাস হয়ে তোমার শরীর নামক
অবয়ব খানির শাখা প্রশাখা

পর্দার আড়ালে

আমার বন্ধু লতিফুল কবির লিটন আর এক বন্ধু ইকবালুর রহমান রোকন যাদের আপনারা প্রতিদিন একাধিক পোষ্টে ফেবু দেখতে পাবেন।প্রথমজন কানাডা প্রবাসী আর দ্বিতীয়জন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।তারা দুইজন বর্তমান দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থক/নেতা।দলে তাদের অবস্থান বা নেতৃত্বের উচ্চতা মাপা আমার উদ্দেশ্য নয়।তবে আমার বন্ধুদের মধ্যে অনেকে এবার সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হবেন এটা নিশ্চিত। সবাইকে বাদ দিয়ে আমি এই দুইজনকে কেন আমার লেখার প্রথমেই নিয়ে এলাম।আশা করি লেখনির পরিসমাপ্তি তে তার উত্তর পাব।

ইক্ষু চোর

সূর্যি মামা তার বোন
ভূ-বোনের বাড়ী থেকে
আধ ঘণ্টা আগে বিদায়
নিয়েছেন।
৭-৮ বছরের দুটি কিশোর
এবং তাদের চেয়ে এক দু
বছরের বড় দুটি কিশোরী
এক সাথে সরকারি ইক্ষু খামারে
আক্রমণ চালালো।
কড় কড় মড় মড় শব্দ।
তড়িত কাজ সমাধা করতে হবে।
তাই পাল্লা দিয়ে
একেক জনের
কড় কড় মড় মড় শব্দ,
গুলো যেন উচ্চ নিনাদে
প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
কে রে কে ?
কে কুশার ভাঙ্গে।
শব্দ গুলো কানে এসেছে
কি আসে নাই।
সাক্ষাত যম সম ওয়াচ ম্যানের
হাত আমার গর্দানে।
পাশ ফিরে দেখি
অভিজ্ঞ সঙ্গীরা সবাই পগার পার।
বাড়ী কোথায়?
বাবার নাম কি?
কে শুনে কার কথা।
কান্নার বাহানায় চিৎকার,
প্রশ্ন যত বাড়ে চিৎকারের জোর ও
তত বাড়ে।
হাটুরেরা হাট থেকে ফিরছে,
তাদের মধ্যে ভারত থেকে আগত
রিফিউজি আমাদের জমির বর্গা চাষি।
চিৎকার শুনে কাছে এসেই আমাকে
চিনতে পারে। বাবার নাম বলার সাথে সাথে
ওয়াচ ম্যান চিনতে পেরে ছেড়ে দিল।
না শুধু ছেড়েই দিল না
বাড়িতে পৌঁছে দিতে চাইল।
বড় ভাই শুনলে মারের চোটে
পিঠের চামড়া কোথায় যাবে,
নিজেও চিন্তা করতে পারছিলাম না।
তাই ওয়াচ ম্যানকে বললাম।
না বাড়ী যাব না।

………………মা……………….

কোন আকাশে, কোন সমুদ্দুর
কোন তেপান্তরের পারে
কোথায় আছ কেমন আছ
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো-
জানতে ইচ্ছা করে।।

তোমায় যখন কবরে রাখি
কি করে বলি আমি
ঐশী রূপে সেজেছিল
কেউ তো দেখেনি
মাগো-
কেউ তো দেখেনি।
উত্তর শিয়ান পশ্চিম কাতে
যখন শোয়াই তোমাকে
এ কোন রূপে দেখলাম মাগো
সদাই মনে পড়ে,
কোন আকাশে, কোন সমুদ্দুর
কোন তেপান্তরের পারে
কোথায় আছ কেমন আছ
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো-
জানতে ইচ্ছা করে।।

যত হুকুম করেছেন খোদা
পালন করতে চেয়েছ তুমি
গভীর রাতে ঘুম ভাংলে দেখতাম
নামজ নয়ত কোরান পড়ছ তুমি
যার ধ্যানে, যার আহবানে
সকলকে গেলে ছাড়ি
কেমন আছ তাঁর কাছে
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো
জানতে ইচ্ছা করে

কোন আকাশে, কোন সমুদ্দুর
কোন তেপান্তরের পারে
কোথায় আছ কেমন আছ
জানতে ইচ্ছা করে
মাগো-
জানতে ইচ্ছা করে।।
সেপ্টেম্বর,২৯,২০১৩
সিরাজগঞ্জ

কবে যাব বন্ধুর বাড়ি

বন্ধুর বাড়িত ঢোলক বাজে
বন্ধুর বোনের বিয়া
আমার বিয়া কবে হবে
যাব টিকলি মাথায় দিয়া।
বন্ধু টিকলি মাথায় দিয়া।

রং বেরংগের গেট সাজাইছে
খাবার নাকছে ধুম
উচা স্বরে গান বাজাইচ্ছে
কাইরা নিছে ঘূম,
হায়রে কাইরা নিছে ঘূম।
বন্ধু আমার মন কাড়িছে
কি জনি কি কি দিয়া।
কবে যাব বন্ধুর বাড়ী
টিকলি মাথায় দিয়া।

বন্ধু হামার কলেজ যায় গো
সাইকেলত চড়িয়া
আমিও স্কুলে যাই গো
রিক্সা ভ্যান করিয়া
হায়রে রিক্সা ভ্যান করিয়া
সাই সাই করি সাইকেল খানা
যায় যে ভ্যানক ছাড়ি।
কেন জানি বন্ধু আবার
আইসে বার বার ঘুড়ি
হায়রে, আইসে বার বার ঘুড়ি
এইনা দেইখ্যা হজ্ঞলে মোক
খেপায় খোটা দিয়া
কবে যাব বন্ধুর বাড়ি
টিকলি মাথায় দিয়া।
বন্ধু টিকলি মাথায় দিয়া।
২৪/০৯/২০১৩
সিরাজগঞ্জ
বাংলাদেশ

শিয়ালেক সাজা দেও।

মধ্যি রাইতে বন্ধুর বাড়ির
মুরগা করছে চেও।
কোনঠে গেলেন বাহে সগাই
শিয়ালেক তাড়া দেও।
তোমরা শিয়ালেক সাজা দেও।

মুরগা সেতো চেও করেনি,
এযে মোর মনের ভূল
বন্ধুর চিন্তায় সদায় দেখ
চোখত শইর্ষা ফুল।
দেখ চোখত শইর্ষা ফুল।
জানলার খুলি, বেড়ার ফাঁকত
সদাই বন্ধুক দেখবার চাও।
কোনঠে গেলেন বাহে সগাই
শিয়ালেক তাড়া দেও।
তোমরা শিয়ালেক সাজা দেও।

বন্ধুর ভাল হামার ভাল
বন্ধুর সুখে সুখী-২
মা বাপেরে বুঝাতে নারি
সদাই শুনি ঝাড়ি
হামি সদাই শুনি ঝাড়ি
ঝাড়ি ঝুড়ির খেতা পুড়ি-২
বন্ধু তোমাক শুধু চাও
হামি তোমাক চাও।
কোনঠে গেলেন বাহে সগাই
শিয়ালেক তাড়া দেও।
তোমরা শিয়ালেক সাজা দেও।
২৪/০৯/২০১৩ খ্রীঃ
সিরাজগঞ্জ, ২২৫ মে, ওয়াট পাঃ প্লান্ট।

মুক্তি চাই, মুক্তি

শত কষ্ট বুকে নিয়ে মানুষ বেঁচে থাকে,বেঁচে থাকতে হয়। জ্ঞান হবার পর থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অসীম শ্রম দিয়ে নিজেকে তৈরী করে প্রকৃতি সমাজ, সংসারের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য। এটা মানুষ প্রথমিক অবস্থায় নিজের জন্যই করে। একসময় নিজের সংসার ছেলেমেয়ের জন্য করে। কারো কারো হয়ত সামর্থের সীমা এখানেই থেমে যায়। কেউ আবার একধাপ উপরে অর্থাৎ মানুষের সেবা করার জন্য আপনা প্রয়োজন শেষে নিজের সামর্থ মত করে থাকে। কেউ আবার নিজের জীবনটা পুরোপুরি মানুষের জন্যই বিলিয়ে দেয়। আমি এমন নিঃস্বার্থ মানুষ কত খুজেছি, আজও খুজছি। কিন্তু পেয়েছি কি?
আমি ফুল হয়ে মানুষের ভিতরের ফুলের সুবাস নেবার চেষ্টা করেছি। ফুলকে দূর থেকে দেখলে তার রূপ ও গন্ধে সকলেই মুগ্ধ ও বিমোহিত হয়, কিন্তু একটি ফূল বৃন্তচ্যুত হলে ক্ষনিক সময়ের ব্যবধানে সৌন্দর্য হারায়। আমি মানুষের কাছ থেকে আরও যত কাছে গিয়েছি ততই তাকে বৃন্তচ্যুত ফুলের মত শ্রীহীন হতে দেখেছি।

কোথায় গেলে রাখাল বন্ধু

আকাশ জোরে রাও করিছে
বারিষ আসবে ভারী।
কোথায় গেলে রাখাল বন্ধু
জলদী গরুক আনেন বাড়ি।।

ধানের ক্ষেতে ব্যাঙ ডাকে,
গাছের পাতাও নড়ে
পাখ পাখালি ফিরে চলে
আপন আপন ঘরে।
মোর সোয়ামি বিদেশ গেইছে
জোয়ান বউখান ছাড়ি।
পাষান বন্ধু কওনা কবে
ফিইরা আইবা বাড়ি।।
কোথায় গেলে রাখাল বন্ধু
জলদী গরুক আনেন বাড়ি।।

ফুল বাগানে ফুলের উপর
ভ্রমর আইসা পড়ে
তাইনা দেখে মোর পরাণে
আনচান আনচান করে।
রাইতে আমার ঘুম আসে না
দিনেও ছটফট করি
জানলা দিয়া বন বাদার ও
আকাশ দেইখা ফিরি।
মোর সোয়ামি বিদেশ গেইছ
জোয়ান বউখান ছাড়ি।
পাষান বন্ধু কওনা কবে
ফিইরা আইবা বাড়ি।।
কোথায় গেলে রাখাল বন্ধু
জলদী গরুক আনেন বাড়ি।।

কে তুমি প্রাণ হরা

কে তুমি প্রাণ হরা
টেলিফোনে দিলে ধরা
হরিলে আমার প্রাণরে।।
আমি মরিতে নারি
বাঁচিতেও না পরি
সদা মরি ছট ফটাইয়ারে।

মোবাইলে কথা কইয়া
সাড়া রাত পার করিয়া
পাগল বানাইয়া গেলা ছাইড়ারে
এখন ভুয়া মিস কল এলে
ধাক্কা মারে দিলে
এই বুঝি প্রাণ সখা আইলোরে।

একদিন পার্কে এলে
চটপটি ফুচকা খেলে
মিষ্টি মিষ্টি হাসি দিলে
পাদলুন জড়ালে গলায়রে,
আমি কি তখন আমি আছি
যেন মরিয়াই গেছি,
কেমনে বাঁচব কইন্যা কওনারে।

জেনেও করি, না জেনেও করি-পাপ

আমার থাকতে জনম পাপের
আঁধার ঘুচবে কি মনে
জেনেও করি, না জেনেও করি
পাপ...
করি ক্ষনে ক্ষনে।।

তোমার নিয়ামত ভোগ করি খোদা
সকাল দুপুর রাতে,
তোমার সৃষ্টি দেখে নয়ন জুড়াই
সন্ধা সুপ্রভাতে।
তবু শোকর করি না আমি-২
ভাবি না তো খোদা , এসবি তোমার দানে।
জেনেও করি,না জেনেও করি
পাপ...
করি ক্ষনে ক্ষনে।।

তোমার হুকুম তরফ করি সদা সর্বদা।
তবু তোমার করুণা দিয়া
বাঁচাও হে খোদা।
বিনে পয়সায়,বিনা মুল্যে দিলে,
বাতাস পানি নিদ্রা সর্বজনে।
জেনেও করি না জেনেও করি
পাপ...
করি ক্ষনে ক্ষনে।।

আমি কি আমার উপর অর্পিত গুরু দায়িত্ব পালন করব।

আজ ১ সেম্পেম্বর।গত ২০ আগষ্টের পর থেকে আমার সকল বন্ধুদের থেকে একেবারে বিছিন্ন। এটা যে কত পীড়াদায়ক তা আমি ও আমার সৃষ্টি কর্তা ছাড়া কাউকে বুঝাতে পারব না। বিভিন্ন ব্লগে যখন আমি আমার বন্ধুদের লেখায় উপস্থিতি দেখি আমার তখন নিজেকে অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে থাকা রুগির মত মনে হয়। আমার যতদুর মনে পড়ে আল্‌ কোরআনের কোন এক জায়গায় পড়েছিলাম (ভুল হলে আল্লাহ্‌ মাফ করো), আমি মানুষকে অত্যন্ত ত্বরা করে সৃষ্টি করেছি। আমার মনে হয় আমার মধ্যে এ বদগুনটা অনেক বেশি। আমার মস্তিস্ক অনেক বেশি অস্থির। একে তো অস্থির মস্তিকের তদুপরি আজ আমার নিজকে অনেক বেশী অর্থ লোভী একজন মানুষ মনে হয়। যে অর্থ লোভী মানুষকে আমি অন্য নজরে দেখতাম, আজ আমি নিজেই তা। তাই তো আমি আমার প্রিয় বন্ধুদের হারাতে বসেছি।
মাস চারেক আগে আমার এক কলিগ বলল, স্যার আজ ভাল একটা চাকরির বিজ্ঞাপন আছে। আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেন। উনি নিজেই বিডি জব্‌স এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত বিজ্ঞাপনটি দেখাল। আমি নামীদামি কোম্পানির আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দেখে, অর্থ ও অন্যান্য সুবিধা প্রাপ্তির লোভ সংবরণ করতে না পেরে তখনই মেইলে জীবন বৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলাম।

গুরু ভজি গুরু সেবি

গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে
কতজন যে সফরে গেল
ভোমা মন মনরে আমার...।
অচিন পুরের অচিন ধামে।

আমি এক পড়ুয়া কামলা।
বন্ধুরা বড় বড় আমলা
আমলা কামলা মুন্সি মোল্লা
ছুটিতে গেলে ফেরেনা কামে।।
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে।।

বাবা দাদা চাচা জেঠা
গেল সবাই বাকি কেঠা।
ভোলামন মনরে আমার...।
ফুপা ফুপুর আদর ভূলতে
আঁখি জলে লেটাপেটা।
তবু আমার হুস হয়না
সময় হয় না সংসার কামে।
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে ।।

গুরু তোমায় সন্ধান করি
কত দেশ বিদেশে ঘুড়ি।
দেশে দেশে ঘুরে ঘুরে
আসলাম আবার ঘরে ফিরি।
ভোলামন মনরে আমার...।
নিজের মাঝে খুজে দেখলে
পৌঁছবো নাকি গুরুর ধামে।।
গুরু ভজি গুরু সেবি
সময় হয় না সংসার কামে ।।