ইউজার লগইন

এক অসহায় মা সাহায্য চাই

আমি সাহায্য চাই। আমি আমার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সহজ ভাবে আমার সমস্যার কথা বলছি। আমার চৌদ্দ বছরের মেয়েকে নিয়ে সমস্যা। অত্যান্ত মেধাবী মেয়ে আমার। ক্লাশ ফাইবে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। তাই বলে ভাববার কোন অবকাশ নেই যে তাকে তার অভিভাবকেরা ফার্স্ট হবার জন্য শুধু পড়িয়েছে। সে জন্মগত ভাবেই মেধাবী এবং অত্যান্ত সুন্দর পারিবারিক পরিবেশে বসবাসকারী। এদেশের তথাকথিত শিক্ষিত হবার দৌড়ে তার বাবা মা পাল্লা দেন নি। এবারে ক্লাশ এইটের ছাত্রী। গত মার্চ মাস থেকে লক্ষ্য করছি তার প্রচন্ড রাগ, সে যা করতে চাইবে তাতে বাধা দিলেই সে রাগে কাঁপতে থাকে। কাউকে তোয়াক্কা করে না। সামান্য সম্মানটুকুও করেনা। যা বলা উচিত নয় তা নির্দ্বিধায় বলে ফেলে তার বাবা মা দাদী নানী যাকে খুশি তাকে এবং এই রাগ ততক্ষন পর্যন্ত চলে যতক্ষন পর্যন্ত সে সেই কাজটা না করতে পারে। আবার যখন এই কাজগুলি করতে দেয়া হয় তখন সে অত্যান্ত ভাল রেসপ্নসিবল লেখাপড়াও করছে। তার কাজগুলি এমন যে তাকে তা করতে দেয়া যায় না। যেমন ১। সে একা একা বাড়ির বাইরে যাবে ।
২। যখন খুশি ফার্স্ট ফুডের দোকানে নিয়ে যেতে হবে।
৩। যখন তখন যে কোন দ্ড্রেস বা মূল্যবাদ কিছু চাই।
৪। ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে কথা বলা। তাও আবার ছেলেদের সাথে।
৫। তার কোন মেয়ে ফ্রেন্ড নেই।
গত তিন মাস যাবত সে ফোনে যোগাযোগ করে জুটিয়েছে কিছু ছেলে বন্ধু তারা নাকি তার ফ্রেন্ড। কোন বাধাই মানছে না সে। এই সব ফ্রেন্ড এর বয়স কারোরই ২৭/ ২৮ এর কম নয়। সবাই আমার দৃষ্টিতে বখে যাওয়া। এদের সাথে আড্ডা দেবার জন্য সে স্কুল পালায়। লেখাপড়া মোটেই করেনা। এইসব কারনে তার হাত থেকে সকল ফোন দূরে রাখা হল , এতে সে হয়ে উঠলো দুর্দান্ত। সম্পুর্ন ভাবে লেখা পড়া বন্ধ করে দিল এবং স্কুল থেকে মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে সে পালায়। মা গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকে মেয়ে স্কুলে বাড়তি ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ছুটি সময় পালিয়ে যায়। স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়ে একজন মনচিকিৎসকের সরনাপন্ন হলাম। তিনি দিলেন অনেক ঔষধ। সে সারাদিন ঘুমায়। ধীরে ধীরে ঔষধ বডীতে এডজাস্ট করার কারনে তার ঘুম কমে গেল। সে ওয়াদা করলো আর কোন দিন কোন দুষ্টামী করবে না যা সে আগে করতো। এই তিন মাস তার মত ভদ্র শান্ত মেয়ে আর হয় না। আমি নিজে দেখি আর অবাক হই এত ভাল বাচ্চা।

কিন্তু স্কুল শুরু করার সাথে সাথে আবারও সে শুরু করল সেই কাজ। এবারে সে প্রথমে চুরি করলো ক্লাশমেটের মোবাইল। সেটা সে কিছুতেই স্বীকার করে নি। তাকে মোবাইল চোর বলা হয়েছে বলে সে কাপড় চোপড় স্কুল ব্যাগে নিয়ে বাড়ি থেকে পালালো। যে ছেলের কাছে গিয়েছে সে তাকে রাখতে রাজি না তাই সে ওখান থেকে অন্য ছেলেদের মোবাইলে যোগাযোগ করেছে সেই সব ছেলেরা যেন তাকে রাখে। যেহেতু অত্যান্ত সজাগ অভিভাবক তারা মেয়ে পালানোর পর থেকে মেয়ের খাতা আগে ওর দাদী বাবা মার মোবাইল থেকে যাদের যাদের সাথে যোগাযোগ করতো সেই সব নাম্বারে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে করতে পাওয়া যায় মেয়েকে । তাকে বাড়িতে আনা হয়। তার মধ্যে এবারে দেখা যায় দিগ্ববিজয়ী ভাব। কোন প্রকার অপরাধ বোধ রা লজ্জা বোধ তার মাঝে নেই।

যে ছেলের কাছে সে গিয়েছিল তাকে জিগাসা করে জানা যায় সে তাকে বলেছে সে ঐ বাড়িতে আর ফিরবে না কারন তার মা তাকে মারে বাবা দেখতে পারে না বাড়ির কেউ তাকে ভালবাসে না। আর তাদের বাড়ির কেউ যদি জিজ্ঞাসা করে তবে যেন সে বলে মোবাইলটা সে তাকে গিফট করেছে।

মোবাইলটা পরদিন মোবাইলের আসল মালিকের কাছে ফেরত দিতে গেলাম। লজ্জায় মুখ তুলে তাদের দিকে তাকাতে পারছি না। তারা যথেষ্ঠ ভদ্রলোক এমন আচরন করলেন যেন আমরা কতদিনের পরিচিত একে অপরের। আর আমার মেয়ের মধ্যে কোন লজ্জা বোধ নেই সে যেন এমন কিছুই করেনি।

মনোচিকিৎসক আবার ও ঔষধ দিয়েছে। একজন কাউন্সিলরের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। কাউন্সিলর বলছেন মাত্র ১৪ বছরের একটা বাচ্চা এত রিজিট কেন হবে। তার মনজগতে প্রবেশ করাই যাচ্ছেনা। মনে হচ্ছে এ যেন খুব বয়স্ক একজন ব্যাক্তি। তার মন জগত এখন ভাল মন্দের উর্ধ্বে। সে ভাল মন্দ বোধ শূন্য। সে তার জীবনকে নিয়ে যা খুশি তাই করতে পারে । সাবধানে থাকতে হবে । সে সুজোগ পেলেই পালাবে কিন্তু কোথায় তা সে নিজে জানে না।

বাড়িতে সে থাকে সারাদিন কোন বই পড়ে না কম্পিউটার ধরে না না কোন পত্রিকা না ম্যাগাজিন এমন কি টিভিও দেখে না। যে মেয়ে খবরের কাগজ মুখস্থ করতো একসময় বিশ্বের সাথে সমন তালে বিশ্বের খবর রাখতো সে এখন শুধু সুজোগ খুঁজে বাড়ির বাইরে যাবার। মা বাবা কারও কোন কষ্টই তাকে স্পর্শ করছে না। সে নিজেকে ধংসে কাজে লিপ্ত হয়ে আছে।

চারিদিকে একটি মেয়ের জন্য কত বিপদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তাকে এত বোঝানো হচ্ছে সে খুব ভদ্র ভাবে শুনে কিন্তু যা তার মনে আছে তা সে করবেই।
আমি কি করতে পারি?

পোস্টটি ২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


তার আগে বলেন, যা বললেন সব গল্প, রাইট?

বকলম's picture


ভাল কোনো বোর্ডিং স্কুলে পাঠিয়ে দিন। ভারতেশ্বরী হোমস কেমন হবে খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। তার যে কিছু মানসিক সমস্যা আছে সেটা বলা বাহুল্য। কিন্তু সেটা সারিয়ে তোলার জন্য ডায়াগনোসিসটা জরুরী। বোর্ডিং স্কুল তাকে অনাকাংখিত দুর্ঘটনা থেকে নিরাপত্তা দেবে মাত্র। কিন্তু এছাড়া আর উপায় দেখছি না। আজকাল কাল অনেক ছেলেমেয়ের মধ্যে এমনটা দেখা যায়। এর জন্য অভিভাবকদের প্রথমে উদাসীনতা এবং পরে অতি নজরদারিও দায়ী। শাসনে একবা ঢিল দিলে পরে কঠোর হলেও তা কাজ করে না। খোদা আপনার সহায় হোন।

নুশেরা's picture


বোর্ডিং স্কুলের পরিবেশ মোটেই অনুকূল হবে বলে মনে হয় না। উপেক্ষা ও নিরাপত্তাহীনতার বোধ থেকে বাড়তি মানসিক সমস্যা যোগ হতে পারে (অবসেসিভ কমপালসিভ ডিজঅর্ডার)। আলটিমেটলি যেটা তার নিজের ও সহপাঠী-সহবোর্ডারদের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের বেশী সময় দেয়ার বিকল্প কিছু হতে পারে না। শুধু পড়াশোনা না, ঘরের কাজে বড়রা তার সাহায্য নিতে পারে। সে নিজেকে প্রয়োজনীয় ভাবতে পারে এমন পরিবেশ তৈরির জন্য সবার সঙ্গে তার সক্রিয় ইন্টারঅ্যাকশন, পার্টিসিপেশন জরুরি।

তানবীরা's picture


কিছু কিছু ছেলে মেয়ে এ জগতে জন্মায়, গ্রহ নক্ষত্রের দোষেই হোক আর যেকারনেই হোক, অকারনেই তারা ধ্বংসান্বেষী। তারা নিজদের সাথে বাবা মায়ের সব কিছু ধ্বংস করতে উদ্যত। যেদিন হয়তো অনুভব করবে সেদিন আর কিছুই করার থাকবে না। আপাতত বকলম ভাইয়ের পরামর্শ মানলে এড়ানো যেতে পারে কিছু সংঘর্ষ। তবে যে পালাতে চায় তাকে বেঁধে রাখা কঠিন।

শাপলা's picture


ধরে নিচছি এটা গলপ। তবে যাই বলুন, গলপটা সবাইকে টাচ করেছে।
আর যদি গলপ না হয়, তবে অনেক কথাই বলার আছে। মেয়েটা মাদকাসকত কিনা, সেটা েকবারো বলোনি। ধরে নিচছি সেটা নয়---------
সত্যি হলে এ নি্যে পরে কঠা বলা যাবে।

লীনা দিলরুবা's picture


ঘটণাতো খুবই ভয়াবহ। মাদকে আসক্ত হবার সম্ভাবনাই সবচে বেশী।
তোমার মেয়ে?
আর একটু খুলে বলো।

শাপলা's picture


আমি নুশেরার সাথে একমত। এ বাঙলাদেশের টিন এইজ মেয়েদের জন্য একটা বিরাট সমস্যা।
এই জাতী্য ঘটনা ঘটলে, অনেক বাচচা মেয়ে আছে কাউকে কিছু বলতে পারে না কিনতু মানসিক ভাবে অসুসথ হয়ে পড়ে।
মাদকাসকত হলেও মুড ডিসওরডার হ্য়। আরও অ নেক কারণেরকম হতে পারে।
অনেক সময় এনটি ডিপরেশন ডরাগ ও বাচচাদের খতি করে।
ডিটেইল না জানলে সমাধান দেযা খুব মুসকিল।

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


কিছু প্রশ্নের উত্তর জানা দরকার ।

১) আপনি বলছেন মার্চ মাস থেকে লক্ষ্য করছেন । আসলেই কি মাত্র এ কয়দিনের ই কথা , না অনেক আগে থেকেই চলছে , খেয়াল করা হয়নি ?

২) তার কি নিজের কম্পিউটার আছে ? ইন্টারনেট ইউজ করে ?

৩) এই ছেলেদের সাথে তার পরিচয় কিভাবে ? কতদিনের ?

৪) অযথা গায়ে হাত তুলেছিলেন কি না বুঝিয়ে প্রথমেই ?
--------------------------------------------------------
আমি বকলম ভাই এর সাথে একেবারেই একমত না । একটা বাচ্চা মেয়ে -- অসুস্থ -- তার সামনে সারা জীবন পড়ে আছে , সে এমনিতেই আজ মনে করছে তার মা-বাবা তার পাশে নেই ; দূরে পাঠিয়ে দিয়ে তার এই ভাবনাকে সত্য প্রমাণ করে বাকি সর্বানশ টুকুও করা হবে কেবল ।

আপনি ঐ ছেলেদের বাসায় ডেকে এনে আপনার মেয়ে , কাউন্সেলর বা আর যার যার সাহায্য নিচ্ছেন -- সবার সামনে আলোচনা করতে পারেন । ওদের যে কারণেই হোক সে বন্ধু ভাবছে - তাই ওদের সামনে ওর ফ্রি হওয়ার চান্স আছে । ওর ক্লাসে ওর আশেপাশে যেসব মেয়ে বসে , তাদের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন , কবে থেকে আসলে ওর মধ্যে তারা পরিবর্তন দেখছে ? আপনাদের বাসায় কি ছেলেদের সাথে কথা বলা যাবে না এই প্রেসার টা খুব বেশি বলবৎ ছিলো ? অনেক সময় এর বেশি প্রয়োগে ক্ষতি হয় ।

আমি ঠিক জানি না কি করলে আপনার মেয়ের ভালো হবে , তবে এমনিতেই মানসিক ভাবে যে সন্তান বিধ্বস্ত , যার সাহায্য প্রয়োজন ; তাকে কিছুর ভয়েই নিজের কাছে থেকে সরিয়ে দেবেন না ।

যা সে পছন্দ করে - এমন কিছু - যেমন , গান , গিটার বাজানো , রিসাইটেশন - এসবে ব্যস্ত করার জন্য কাজ করতে পারেন ।

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


আপনারা পুরো পরিবার এক মাসের জন্য কোথাও ঘুরে আসতে পারেন । একসাথে - এতে কাজের সমস্যা হবে জানি । কিন্তু সন্তানের চেয়ে কাজ তো আর বড় না । তাকে যেভাবেই হোক , বিপদ - আপদের সম্ভাবনা পরে বুঝানো যাবে , আগে এটুকু আশ্বস্ত করুন তার বাবা মা তাকে ভালোবাসে , যে কোনো মূল্যেই ভালবাসে , শ্রদ্ধা করে । তার অস্তিত্বকে সম্মানের চোখে দেখে । এটুকু তাকে বুঝাতে পারলে সেও নিজেকে সম্মান করবে , অন্যদের সম্মান করতে শিখবে । কেবল এটা কোরো না - এই এই সমস্যা হবে - এসব কথা তার বোঝার মত আপ[তত শক্তি নাই ।

১০

নুশেরা's picture


আমি অত্যন্ত আতঙ্কিত একারণে যে একই ধরণের উদাহরণ চেনাজানা গণ্ডীতে ঘটতে দেখেছি। মেয়েটি আত্মীয়স্বজনের মধ্যেই কারো দ্বারা শারীরিকভাবে নিগৃহীত হয়েছিলো; বলা বাহুল্য মানসিকভাবেও। সে আশা করেছিলো ব্যাপারটা অন্যরা বুঝতে পারবে, পারেনি। বোঝাতে গেলেও কেউ না বুঝে উল্টো তাকে শাসন করেছে। তখন সে সবার ওপর বিরূপ হয়ে যায়। ট্রমা থেকে শুরু হয়ে শেষ পর্যন্ত হরমোনাল ইমব্যালেন্স। যেসব কাজ করে তার সঙ্গে তোমার কাহিনীর মিল আছে।

আকিদা, মেয়েটি কার, জানা জরুরি না। তুমি যদি তাকে চেনো, জরুরি ভিত্তিতে সাইকিয়াট্রিস্ট দেখাও। কাউন্সেলারের কাছে নিয়ে যাও, যিনি মহিলা হলে ভালো হয়। পরিবারের সবার কাছে তার গুরুত্ব আছে, এই নিরাপত্তার বোধটুকু তাকে পেতে দাও। প্লিজ মনে রেখো, চৌদ্দ এমন কোন পরিপক্বতার বয়স না।

১১

সামছা আকিদা জাহান's picture


নুশেরা মেয়েটি অসুস্থ্য। সে মাদকাসক্ত নয়। এ ব্যাপারে তোমাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি। তার একমাত্র দুর্বল স্থান তার বাবা। তার বাবাকে তুমি জানো। আমি সামুতে একটি পোস্টে তার বাবার কথা লিখেছি। সে তার বাবার ব্যাপারে কথা বলবার সময়ই কাউন্সিলরের সামনে একটু দুর্বল হয়েছিল।

সে কার ও সাথে প্রেম করে না। সে অনেকের সাথে ফোনে কথা বলতো। যেহেতু বাইরে যেতে পারতো না। পরে একদিন দুইদিন বেরিয়ে তার সাহস বেড়ে গেছে। আগে গাড়ি ছাড়া এক পা যেত না এখন পায়ে হেঁটেই বেড়িয়ে যেতে পারে। তার নিজস্ব কোন মোবাইল নেই দেয়া হয়নি। সে যেন নিজেকে ধ্বংস করতে প্রস্তুত হচ্ছে।
আমি জানি ১৪ বছর বয়সের মানুষ একটি বাচ্চাই সে বাচ্চা। তাকে আমাদের বাঁচাতেই হবে তাকে আমাদের সুস্থ্য করতেই হবে। তাকে সুন্দর জগতে ফিরিয়ে আনতেই হবে যে কোন কিছুর বিনিময়ে।

সে প্রতিটি কথা আমাদের কাছে মিথ্যে বলে সাথে সাথে আমরা বুঝিয়ে দেই তুমি মিথ্যে বলছো সে ওয়াদা করে আর মিথ্যে বলবে না কিন্তু তার কথা বিশ্বাস করা মানেই ভুল করা।

ধন্যবাদ।

১২

রায়েহাত শুভ's picture


নুশেরান্টির সাথে একমত...

১৩

লীনা দিলরুবা's picture


মাহতাব খানমের সাথে যোগাযোগ করতে পারো, তিনি এই বিষয়ে ভালো সমাধান দিতে পারবেন বলে আশাকরি।
http://www.eprothomalo.com/index.php?opt=view&page=34&date=2010-07-10

১৪

লীনা দিলরুবা's picture


*ড. মেহতাব খানম হবে

১৫

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ লীনা । আমি ডাঃ এর সাথে যোগাযোগ করছি।

১৬

সাহাদাত উদরাজী's picture


বোন সামছা আকিদা জাহান,
আপনার জন্য সমবেদনা থাকলো। কিছু কথা না বলে নয়। আমাদের সমাজে আপনার মেয়ের ঘটনা নুতন নয় আজকাল।

আম দীর্ঘদিন ধরে বেইলী রোড়ে আড্ডা মারি। সন্ধ্যার পর (কিছু দিন আগে দিনও যেতাম) একটু আড্ডা দেওয়ার সুবাদে আপনার মেয়ের মত অনেক ছেলে/মেয়েদের দেখে আসছি। আমার বয়স হয়েছে, বলতে গেলে বুড়াদের দলে চলে গেছি।

মাঝে মাঝে আমি নিজেও অবাক হয়ে যাই। এত কম বয়সে ওরা এসব কি করছে। ভিকারুন্নেচ্ছা, সিদেস্বরী সহ নানান স্কুলের মেয়েরা এত খোলামেলা পোষাক (আনেক মেয়ে স্কুলের ড্রেস বদল করে মার্কেটের ওয়াসরুমে) কি করে পরে! হাতে দামি মোবাইল, সারাক্ষন কথা বলা - এসব দেখে আমরাও ভাবি।

কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধুর ১৫ বছর বয়সি ছেলেকে আমার অফিস এর কাছে প্রেমিকা সহ দেখেছি/ধরেছি। ওদের আমার অফিসে নিয়ে এসেছিলাম, বিশ্বাস করুন, মেয়েটির বয়স ছিলো ১৩।

কি বলবো বুঝতে পারছি না - মাথাটা এলোমেলো। আমার ও সন্তান বেড়ে উঠছে!

আল্লাহ আপনার সহায় হউন।

১৭

জ্বিনের বাদশা's picture


সম্ভবতঃ ব্যাপারটা প্রেম-ভালোবাসা কেন্দ্রিক। ড্রাগ হবার চান্স নেই, কারণ তিনমাস সে লক্ষ্মী হয়ে ছিলো। আমার মনে হয়না এখানে তেমন কিছু করার আছে বা করা উচিত।

বোর্ডিংয়ে দেয়া, আত্মীয়স্বজন ডেকে এনে বোঝানো বা কাউন্সেলিং -- সবই বাচ্চাটিকে আরো বেশী বিরক্ত এবং প্রতিবাদী করে তুলবে। ঘুমের ওষুধ দিয়ে নির্জীব করে রাখা আরো বেশী বিপজ্জনক (এটাই বরং তার এ্যাবিলিটির বিকাশকে সবচেয়ে বেশী বাঁধা দেবে)।

ইন ফ্যাক্ট, এখানে তার কোন মানসিক সমস্যা আমি দেখছিনা, সে পড়ালেখায় ভালো ছিলো তাই বলে এটা ধরে নেয়া ঠিক না যে পড়াশোনা করতে তার সবসময় ভালো লাগবে।

এই বয়েসে ছেলে-মেয়েরা প্রতিবাদী হবেই, সব কিছুর বিরোধিতা করাটাই বরং স্বাভাবিক।

১৮

মীর's picture


যদি এটা গল্প না হয়, তাহলে আমি জ্বিনদা'র সঙ্গে একেবারে একমত। বয়ঃসন্ধিতে ছেলেদের এরকম হওয়া খুবই স্বাভাবিক। মেয়েদেরও যদি এমন হওয়া শুরু হয়, তাহলে কিন্তু সেটা অনেক বড় সমস্যা। তাই খুব সাবধানে অগ্রসর হওয়া দরকার।

শুভকামনা।

১৯

শাপলা's picture


কয়েকটি বড় কারণে এসব হতে পারে,
১. পরিবারের ঘনিষ্ট কারো থেকে নিগৃহীত হওয়া
২. প্রেমঘটিত ব্যপার
৩. মাদকাসক্ত
৪. পিউবার্টি মানে শারিরিক পরিবর্তন
এছাড়াও আরেকটা কারণ হতে পারে সেটা হল, এডিএইচডি.
মানে যে কোন দু একটা কারণ মিলিয়ে মেয়েটার মনে একটা জগাখিচুড়ি অবস্থা।
আমি জ্বিনের বাদশার সাথে একমত এই কারণে যেল এত তাড়াতাড়ি কাউন্সেলিং, বোর্ডিং স্কুল বা এন্টিডিপ্রেশন ড্রাগ হিতে বিপরীত হতে পারে।
বেশী এ্যাটেনশনও এসময় ক্ষতির কারণ হতে পারে। খুব সাবধানে হ্রান্ডল করা উচিত। এ সমস্যা বেশীদিন থাকার কথা না, যত্ন নিলে। মেয়েটি যদি বুঝতে পারে যে, তাকে অতিরিক্ত এ্যাটেনশন দেওয়া হচ্ছে, সে নতুন নতুন সমস্যা তৈরী করতে পারে।
এ ক্ষেত্রে মা সব চেয়ে বেশী সাহায্য তরতে পারেন।

২০

অতিথি's picture


হঠাৎ করে কেন এমন হলো, আপনি সম্ভব হলে তাহার ভাল বন্দু বান্দব যারা রয়েছে তাদের কাছে থেকে সাহায্য নিতে পারেন।

২১

বোহেমিয়ান's picture


Sad

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সামছা আকিদা জাহান's picture

নিজের সম্পর্কে

যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারেবারে,
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর আন্ধকারে।
যে লতাটি আছে শুকায়েছে মূল
কূড়ি ধরে শুধু নাহি ফোটে ফুল
আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে।
পূজা গৌরব পূর্ন বিভব কিছু নাহি নাহি লেশ
কে তুমি পূজারী পরিয়া এসেছ লজ্জার দীনবেশ।
উৎসবে তার আসে নাই কেহ
বাজে নাই বাঁশি সাজে নাই গেহ
কাঁদিয়া তোমারে এনেছে ডাকিয়া ভাঙ্গা মন্দির দ্বারে।
যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারে বারে।