ইউজার লগইন

কি লিখি তোমায়

তখন কচিং সেন্টার এইভাবে বিস্তার লাভ করেনি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই/বোনদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যপারে সাজেশন নেয়া এই ছিল কাজ। তখন পাখা গজিয়েছে। বাবা/মা বলেন--- ভাল করে বই পড় না হলে কোথাও চাঞ্চ পাবেনা। কিসের পড়াশুনা? পড়াশুনার নাম করে এই হল ঐ হল দল বেঁধে ঘুড়ে বেড়ান। কোন কোন ভাইয়া/আপা তাদের আদর্শের কথা বলে আমাদের বিমোহিত করে দিত। আমারা তখনই সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতাম এইখানে ভর্তি হলে এই ভাইয়া/আপা হবেন আমাদের আদর্শ। তবে এটা ঠিক কোন ভাবেই কেন যেন আমাদের মনে স্থান করে নিতে পারেনি জামাতের ভাইয়া/আপারা।

ঠিক কবে থেকে যে ই এম ই বিল্ডিং এর সামনে বসে আড্ডা দিতে শুরু করেছিলাম মনে নেই। সেই সময় প্রায়ই দেখতাম ভীষন শান্ত ভঙ্গীতে একটি ছেলে ই এম ই বল্ডিং থেকে বের হয়ে রশিদ হলের দিকে যেত একা। ছেলেটি হাঁটতো সোজা হয়ে কিন্তু দাঁড়াত এক পায়ের উপর ভর করে বাঁকা হয়ে। কখনই তাকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে দেখিনি। ছেলেটি ই এম ই বিল্ডিং থেকে বের হওয়া মাত্র আমরা নিজেদের মধ্যে ডাকতাম ‘দ’ । ছেলেটি নির্বিকার। কোনদিন ফিরেও দেখেনি। তাতে আমাদের আনন্দের এতটুকুও ভাঁটা পরেনি। উপরন্ত তার নাম হয়ে গেল ভোঁতা ‘দ’বা কালা ‘দ’।

কি কারনে জানি না নির্যাতন করার একটি মানুষ আমরা পেয়ে গেলাম। একদিন বাদাম নিয়ে বিক্রেতা ছোকরাকে পাঠালাম তার কাছে টাকা নেবার জন্য। ছেলেটি একবার মাত্র আমাদের দিকে তাকিয়ে টাকাটা দিয়ে দিল। প্রচন্ড আশাহত হলাম। এর তিন চারদিন পর আবার বাদামওয়ালাকে পাঠালাম তার কাছে। এবার সে এসে বলল---- “ কি চান আপনারা?”
---“আমরা তো কিছু চাই না।“
---“গেটের কাছে চাইলেই পারতেন দুই টাকা, বেচারা বাদামওয়ালাটাকে ভিক্ষা করা শিখাচ্ছেন কেন?” বলে বাদামওয়ালাকে দুই টাকা দিল, আর আমাদের দিকে দশ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে ধরে বলল ---আপনাদের পাঁচ দিনের বাদামের দাম অগ্রীম দিলাম ধরেন। আমরা কেউ হাত বাড়ালাম না দেখে টাকাটা বাদামওয়ালাকে দিয়ে বলল --“ওদের পাঁচ দিন বাদাম খাওয়াস।“ ততক্ষনে আমাদের হা হা হিহি সব শেষ। জীবণের সব আনন্দ ধূলিসাৎ। অপমানে জর্জরিত আমরা ছয়জন পরবর্তী কর্মসূচী স্থগীত রেখে বাড়ি অভিমুখে রওণা হলাম।

পরবর্তী কর্মসূচী ছিল তৌকির আহম্মেদকে টন্ট করা এবং সেখান থেকে বেরিয়ে ইডেন কলেজের সামনে এসে বুইড়া ডেন্টিস্ট অরূপ রতন চৌধুরীর হাসি মুখের দিকে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয়ে তা তা দেয়া।

এর পর দিন গেছে দিনের নিয়মে। আমাদের কাজ আমরা করে গেছি। তাই বলে ভদ্রলোক হয়েছিলাম ভাবার কোন কারন নেই। আমাদের ছয় জন এর মধ্য আমি ও রুমা ছিলাম একই খুরে মাথা কামানো। হেন অপরাধ নাই যা আমরা ছয়জন ছাড়া করি নাই তবে রুমা ও আমি ছিলাম একই গ্রুপে। আমাদের অপরাধের তালিকায় ছিল--- ছিনতাই, সিগারেট খাওয়া, গাঁজা টানা, ভিক্ষা করা, চুরি করা, টেলিফোনে বিরক্ত করা , পত্রমিতালীর ঠিকানা দেখে চিঠি লেখা, সবচেয়ে উল্লেখ্যযোগ্য পাত্রচাই বিজ্ঞাপণ দেখে সেখানে ইনিয়ে বিনিয়ে চিঠিলেখা। একবার এক পাত্র পক্ষতো বিদ্যুতদের বাড়িতে এসে হাজির। বিদ্যুতরা তিন ভাই কোন বোন নাই। বিদুত্যের বাবা/মা তো আমাদের দেখলেই হাসে। এরপর বাবা অবশ্য বলে দিয়েছিল --ঠিকানা দিলে আমার চেম্বারের ঠিকানা দিস। যাই করিনা কেন আমাদের অপরাধের শাস্তি শুধু মৃদু ভৎসনার উপর দিয়ে যেতো, কিন্তু ছেলেগুলির উপর দিয়ে মহা ঝড় বইতো। অপরাধের নাকি এই শুরু।

রুমা ছিল শ্যামলা, ওর ছিল পটল চেরা চোখ আর মেঘ কালো চুল। অপরুপ ঐ চোখের দিকে তাকিয়ে আমি মুগ্ধ হয়ে যেতাম। সবাই বলতো ওর চোখ নাকি কথা বলে। এখনও সাদিক ভাই ওর চোখ নিয়ে অখাদ্য কবিতা লেখে আর সুদূর কানাডা থেকে মধ্যরাতে ফোন করে ঘুম থেকে ডেকে তুলে সেই কবিতা শুনিয়ে বলে ---কেমন হয়েছে, বল। আমি হাই তুলতে তুলতে বলি -----সাদিক ভাই কবিতাটা মেইল করেন । আমি আমার নামে ব্লগে ছাপিয়ে দেব। রুমা কোন দিনও কবিতা শোনে না, কবিতা বলতে শুরু করলেই রুমা খুব নিরুত্তাপ গলায় বলে ---আমাকে বললেই হয় অন্য ঘরে যাও, কষ্ট করে কবিতা লেখার দরকার কি? হায় রুমা তুই প্রতিভার মূল্য দিলি না। আর আমার জানু গান লেখে সেই গানে তার প্রমিকা সব সময়ই মৃত। অর্থাৎ তার গান বিরহের। সে যে কাকে নিয়ে লেখে? আমাকে নিয়ে? আমি তো এখনও বেঁচে আছি। আমি মরার আগেই যদি তার দুঃখানুভূতি শেষ হয় তবে তো বিপদ।

একদিন আমরা মানুষ হলাম অর্থাৎ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একখানা সার্টিফিকেট পেলাম। বাব/মা তাদের কর্তব্য সম্পাদন করবার উদ্দ্যেশে আমার জন্য পাত্র খুঁজতে শুরু করল। পাত্র দেখতে গেলাম ইভাদির বাসায়। লম্বাটে মুখে গোল গোল বড় ফ্রেমের চশমা পরিহিত শুকনা পাত্র দেখে পছন্দ হবার কোন কারনই নেই। তা সেই পাত্রের পাত্রীর বাবা/মা কে অভিভুত করবার মত যতই কাগজপ্ত্র থাক না কেন? প্রথমেই ছেলেটাকে কেমন যেন পরিচিত পরিচিত মনে হল। খুঁজে পেলাম টেংরা মাছের সাথে তার চেহারার বড়ই মিল। বাসায় ফিরেই বাবাকে বললাম ------কে বলেছে ছেলে কম কথা বলে? কথা শুনতে শুনতে আমি যা বলব বলে ভেবে রেখেছিলাম তাই তো ভুলে গেছি।!

বাহ্‌ , কি দারুন! আমি ছাড়াই আমার বিয়ের কথাবার্তা চলছে । বাবাকে যেয়ে বললাম -------বিয়ে তো আমি করব আমার ছেলে পছন্দ হয়েছে কিনা জিজ্ঞাসাও করছ না যে? তুমি কি ভেবেছ তোমার পছন্দের ছেলেকে আমি বিয়ে করব?
বাবা বলল ----তুই তো বাসায় ঢুকতে ঢুকতেই জোরে জোরে সবাইকে শুনিয়ে বললি যে তোর ছেলে পছন্দ হয়েছে। আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম ---মিথ্যুক, কখন বললাম!!??
----ঐ যে বললি না যে, কে বলেছে ছেলে কম কথা বলে? কথা শুনতে শুনতে আমি যা বলব বলে ভেবে রেখেছিলাম তাই তো ভুলে গেছি।! ওতেই তো মা আমি বুঝে গেছি ছেলে তোর পছন্দ হয়েছে।
লে হালুয়া। বললাম --বাবা, একটু ভাবতে দাও! বাবা বললেন,---- কাল ওরা আসুক এর পর ভাবিস। পরদিন পাত্রপক্ষ বাসায় এসে যত অঘটন ঘটায় তাতে আমি আর ভাববার সময়ই পেলাম না। একফাঁকে পাত্র আমাকে জিজ্ঞাসা করল ---আচ্ছা তোমার সেই গরু গরু চোখের বান্ধবীটা কই? পাত্রের প্রশ্ন শুনে আমার মাথা গরম । রুমার এত্ত সুন্দর চোখকে বলে কিনা গরুর চোখ? জীবনানন্দ দাস এই চোখকে বলেছে পাখির নীড়ের মত? আশ্চর্য! এই ছেলের সাথে সারাজীবন থাকা যাবে না। শূন্য মাথায় ভাবনা ঘুরতে শুরু করল রুমাকে এই টেংরা মাছ চেনে কিভাবে? মরার উপর খড়ার ঘা এর মত জয় এসে খবর দিল এই তো আমাদের সেই ‘দ’!
সব শেষে আবার ভাবনায় ডুবে গেলাম যখন রুমা বাবাকে বলল---- চাচা সারাজীবন সব কাজ এক সাথে করেছি, ওর যে বিয়ে হচ্ছে এখন আমার কী হবে? বাবা এক গাল হেসে বললেন --তোর ও হবে মা।
সেটা ছিল ২৪ এপ্রিল।

উঠ ছূড়ি তোর বিয়ে টাইপের বিয়ে হয়েছে আমার। যা আমার চেনা কিংবা কল্পনার জগতের সাথে মিলে না। তাই বর যখন আমাকে বলেছিল --শুনেছি তুমি খুব ভাল কবিতা আবৃত্তি করতে পার একটা কবিতা শোনাবে? আমি তখন তাকে শুনিয়েছিলাম --যত বার আলো জ্বলাতে চাই/নিভে যায় বারে বারে/------/উৎসবে তার আসে নাই কেহ/বাজে নাই বাসি সাজে নাই গেহ/----

২৫ এপ্রিল ,কাল আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। (রব্বি হাম হুমা কামা রব্বাইনা সাগীরা)। বাবাকে কখনই কষ্ট স্পর্শ করতো না। বাবা আমার সব আনন্দের সাথে মিশে আছে। আমি বাবাকে সবসময়ই আনন্দের সাথে স্মরণ করি। ভাল থাক বাবা।

শুভ জন্মদিন

মন

। তুমি আমার জীবনের আনন্দের কাব্য। সেই রাতে যে আলো জ্বেলেছি তা আলোকিত করে রেখেছে তোমার আমার ভুবন। তুমি আমার বাবার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।

পোস্টটি ২২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


রুনা আপু, আপনি যখন আপনার প্রেমের কাহিনীগুলো লিখেন তখন আমরা নবিশেরা কেবল সেসব হা করে গিলি। এত অসাধারণ হয়!

আর বাবার মৃত্যূবার্ষিকীর কথা জেনে কষ্ট হলো। আমার না দেখা দাদুর মৃত্যূবার্ষিকী ছিলো গতকাল (২৩ এপ্রিল)।

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাইয়া মন কেমন যেন আনন্দ বেদনার মাঝে আছে, বুকে হাহাকার আবার সেই সাথে সুখানুভূতী।

ভাল থাক ভাইয়া।

মীর's picture


আপনার মানসিক শক্তি অনেক বেশি। এইটা আগেও টের পাইসি। আমি মনে হয় বাবার মৃত্যূবার্ষিকী মনে হয় সহ্য করতে পারবো না কোনোদিন। কোনো আত্মীয়রটাই পারবো না। যে কারণে পরিবারের মধ্যে আমি নিজে সবার আগে মারা যেতে চাই।

আপনেও ভালো থাকবেন আপু। ছেলে-মেয়েদের খবর কি? আর দুলাভাইরে বইলেন, আমরা সঙ্গীতের ভালো সমঝদার আছি। তাই কিছু লিখলে সেগুলো চাইলে আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন উনি নির্বিঘ্নে। Smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ ভাই।
দুলাভাইকে বলেছি -- মীর তার গাড়িতে তোমার গানের সিডি রাখবে আর তার মোবাইলে ও গান রাখবে । শুধু লিংক পাঠানোর অপেক্ষা Wink

মীর's picture


আপনে শুধু তার অ্যালবামের গান + পেছনের কাহিনী নিয়ে একটা পোস্ট লেখেন। আর গানগুলো মিডিয়াফায়ার বা আর কোথাও আপ্লোড করে দেন। তার বাদবাকীটা আমার হাতে ছেড়ে দেন Big smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


Big smile :bigsmile: তথাস্থ।

নাঈম's picture


আপনার বাবার জন্য শ্রদ্ধা....

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনি ভাল থাকুন সব সময়।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


আপনার দুষ্টামির ইতিবৃত্ত বিস্তারিত জানতে চাই!
না জানলে শিখবো কেমন করে! Tongue

আপনার আব্বার জন্য দোয়া রইল।
আপনার মন সবসময় আপনার মন আলোকিত রাখুক, এই কামনাই রইল।

অনেক দিনের পর আপনার লেখা পেয়ে ভাল লাগল। ভাল থাকুন, আপু।

১০

সামছা আকিদা জাহান's picture


হা হা হা জানাব জানাব। Smile

১১

লীনা দিলরুবা's picture


কতদিন পর তোমার লেখা পেলাম এবিতে। সেজন্য প্রথমে Oups Big Hug

এবার জানাই শুভ বিবাহ বার্ষিকী।

লেখা সেরম হয়েছে।

আর আমার জানু গান লেখে সেই গানে তার প্রেমিকা সব সময়ই মৃত। অর্থাৎ তার গান বিরহের। সে যে কাকে নিয়ে লেখে? আমাকে নিয়ে? আমি তো এখনও বেঁচে আছি। আমি মরার আগেই যদি তার দুঃখানুভূতি শেষ হয় তবে তো বিপদ।

এই অংশ পড়ে হাসতে হাসতে মরে গেলাম।

১২

মীর's picture


লীনা আপু আপনের প্রথম ইমোটা কিসের?

১৩

সামছা আকিদা জাহান's picture


আমার না ঈমানে কইলাম।

১৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


লীনা কেমন আছ? আমি ব্লগে আসি মোবাইলে আর সেখান থেকে তো বাংলা লেখা যায় না তাই আর দেখা হয় না।
তোমার জন্য রইল একরাশ ভাল লাগ Smile

১৫

জ্যোতি's picture


২০ বছর পূর্তির শুভেচ্ছা, অভিনন্দন। রুনাপুকে দেখিনা কেন?
আরো বিস্তারিত লিখেন প্রথম দেখা হওয়া, গলায় দড়ি পড়ানোর কাহিনী।

১৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


গলায় দড়িতো পড়াই ছিল খালি আমার শ্বশুর আব্বা দড়ির খুঁটিটা আমার হাতে দিসে। Big smile

১৭

জ্যোতি's picture


আহারে বেচারা!

১৮

মীর's picture


আমি মরার আগেই যদি তার দুঃখানুভূতি শেষ হয় তবে তো বিপদ।

Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

১৯

সামছা আকিদা জাহান's picture


গাড়াগড়ি দিয়ে হাসছ।! এই বুকের মাঝে যে ব্যথা জাগে------------

২০

নিকোলাস's picture


বড় দুষ্ট আছিলেন তো!

২১

সামছা আকিদা জাহান's picture


বাবা/ মার চোখের আড়ালে গেলে সবাই একটু দুষ্টামি করে। আর নির্দোষ দুষ্টামির জন্য কখনই কেউ তেমন বকা দেয়নি।

২২

এ টি এম কাদের's picture


এত চালু ছিলেন আপনারা ? আমদের কালে মেয়েরা কিন্তু এমন চালু ছিলনা । ক্লাসে ছিলাম বয়সে সবারচে ছোট । সবাইকে আপা, দিদি বা দাদা ডাকতাম । আদর ও পেতাম সবার কাছে । আদুরে চেহারা ছিল । কিন্তু সব কিছুকে চাপিয়ে উঠেছিল আমার উজ্জ্বল চোখ জোড়া । তাহমিনা আপা [ইংরেজি-স্যার, ছদ্ম নাম] একবার বলেছিলেন,"তোমার চোখ এত তীক্ষ্ণ কেন ! তাকানো যায়না -- মনে হয় কলজে ছেদ করবে" ! আমি লজ্জা পেয়েছিলাম ।

তো একবার এক কান্ড হয়ে গেল । পিকনিকে গেলাম সবাই, কাপ্তাই । হৈ হুল্লোর, গান-বাজনা, ছবি তোলা, তাস আড্ডা চলছে । সবাই মশগুল । মায়াদি [সহপাঠি- ছদ্ম নাম] এসে আমার হাত ধরে টেনে তুলে "তোমার এত লজ্জা কেন ! আস আমার সাথে" বলে ছোট একটা ঝোপের পাশে যেখানে মেয়েদের আড্ডা চলছিল সেখানে নিয়ে গেল । তারপর বলল, " ইশরত [ক্লাশের সবচে সুন্দরী মেয়েটি] তোমার চোখ চুমু খেতে চায় " । আমি কিছু বুঝে উঠার আগে যা ঘটার ঘটে গেল । কোন মতে ছুটে বাঁচলাম আমি । পরে জেনেছিলাম দিদি ৫০ টাকার বাজি ধরেছিল আর ইশরত সেটা লুফে নিয়েছিল ।

আমার চোখের সে উজ্জলতা কিন্তু আর নাই । এখন এ বৃ্দ্ধ বেবুনটির প্রতি কারো আগ্রহ থাকার কথা না ।

আপনার "প্রেম কাহানী" উপভোগ করলাম আর নিজের 'হৃদয় খুঁড়ে বেদনা জাগাতে' লেগে গেলাম । ধন্যবাদ ।

২৩

সামছা আকিদা জাহান's picture


কোন কালের মেয়েরাই চালু ছিল না এখন ও নাই। সব পুতু পুতু। চোখের পানি যেন রেডি থাকে। আমাদের পরিবেশটাই আমাদের মানুষ হিসাবে বাঁচবার জন্য সাহায্য করেছে । কোন দিন শুনিনি তুমি মেয়ে বলে এটা করা যাবে না। বরং জ্বর হলেও শুনেছি ইয়াং ম্যান সামান্য জ্বরে শুয়ে আছ বাইরে দেখ কি সুন্দর আকাশ। সময় চলে গেলে আর ফিরবে না। ধন্যবাদ।

২৪

উচ্ছল's picture


দারুন মজা পেলাম আপু..... আরোও চাই... Big smile

২৫

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনাদের মজা দেখে আমারও মজা লাগছে। Big smile

২৬

অতিথিMizanur Rahman jewel's picture


ছাত্রজীবন কত সুন্দর ছিল.!!!!!
সহজ ভাষায় লেখাটা দারুন হয়েছে.।.।।।
ইডেন কলেজের সামনে এক সুন্দরী আমাকে ল্যাং মেরেছিল, সে ঘটনা মনে করিয়ে দিল.।.। :Cool
ধন্যবাদ আপু

২৭

সামছা আকিদা জাহান's picture


আমি কিন্তু ল্যাং মারিনাই ভাই কাউকে। Shock আগেই নিজেকে সেভ করলাম। কিন্তু কথা হইল
১। আপনে সেখানে কেন গিছলেন?
২।কি করেছিলেন? Tongue
৩। ল্যাং মারছিল কেন?
৪। ল্যাং এর পর গন পিটুনি ছিল নাকি ছিল না?
৫। সুন্দরী কী এখন ও আপনাকে ল্যাং মারে? Wink

২৮

রায়েহাত শুভ's picture


আপ্নেরে এন্ড আপ্নের জানুরে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। আংকেলের জন্য শ্রদ্ধা...

২৯

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল থাক কবি।

৩০

মাহবুব সুমন's picture


আমগো সিনিয়র চোদ্রি ছাব কিন্তু দারুন হ্যান্ডসাম মানুষ Cool শুভকামনা। তয় আমি ভাবি ক্যামনে চোদ্রি ছাব ২০ টা বছর পার করলো, উনার জন্য কস্টে বুক্টা ফাইট্টা যাচ্ছে Sad( । আমিতো ৬ বছরেই কাহিল Sad(

৩১

তানবীরা's picture


সুমন ভাই সহ্য হয়ে গেলেই অভ্যাস হয়ে যাবে Tongue

৩২

সামছা আকিদা জাহান's picture


তারে সিদা করতে যেয়ে আমিই বাঁকা হয়ে গেলাম। Cool সত্যিই সেলুকাস-----

৩৩

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাই সুমন ৬ বছরতো গেছে ছয় সেকেন্ডে সেই হিসাব আর নাইবা নিলাম আর একযুগ পড়ে ভাবীকে বলবেন --কিভাবে দিনগুলি চলে গেল এই তো সেদিন ডান্ডাবেড়ী নিয়া শুরু করলা। Big smile

৩৪

তানবীরা's picture


শুভ কামনা আরো বিশ বছরের জন্য। তারপর বাকি বিশ বছরেরটা জানাবো Big smile

৩৫

সামছা আকিদা জাহান's picture


সর্বনাশ তোমার হিসাব শুনে তো আমি পুরাই Puzzled Cool

৩৬

আহমাদ মোস্তফা কামাল's picture


দারুণ লেখা। আপনাদের দুষ্টুমি-বাঁদরামির ইতিহাস পড়ে বিমোহিত হলাম! ইয়ে, এই বিশ বছরেও ওই দশ টাকার সুরাহা করেন নাই? এ বিষয়ে তো কিছু লিখলেন না!

শেষের দিকে এসে লেখাটায় এমন এক মোচড় দিলেন! অভাবনীয়! আপনার বাবার আত্না শান্তিতে থাকুক।

৩৭

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনার মন্তব্য খুব ভাল লাগল । লিখব ভাই হয়তো একদিন। আপনি ভাল থাকুন ধন্যবাদ।

৩৮

বিষাক্ত মানুষ's picture


লেখাটা অসাধারন লাগলো রুনাপা Smile

৩৯

দূরতম গর্জন's picture


সময়ের থেকে এগিয়ে বলা যায়

৪০

আহসান হাবীব's picture


২৫ এপ্রিল ,কাল আমার বাবার মৃত্যুবার্ষিকী। (রব্বি হাম হুমা কামা রব্বাইনা সাগীরা)। বাবাকে কখনই কষ্ট স্পর্শ করতো না। বাবা আমার সব আনন্দের সাথে মিশে আছে। আমি বাবাকে সবসময়ই আনন্দের সাথে স্মরণ করি। ভাল থাক বাবা।

শুভ জন্মদিন

মন
। তুমি আমার জীবনের আনন্দের কাব্য। সেই রাতে যে আলো জ্বেলেছি তা আলোকিত করে রেখেছে তোমার আমার ভুবন। তুমি আমার বাবার দেয়া শ্রেষ্ঠ উপহার।

আপনি এত সুন্দর লেখেন, অথচ আপনার লেখার সংখ্যা অনেক কম। কেন? আমি প্রায় প্রতিটি লেখায় আপনার কিছু না কিছু মন্তব্য থাকে যা আমাকে এত ব্যস্ততার মাঝেও লেখায় ফিরিয়ে আনে। আপনার বাবার জন্য দোয়া করলাম, আল্লাহ্‌ উনাকে যেন বেহেশ্ত নসীব করেন।

৪১

দূরতম গর্জন's picture


নতুন লেখা কি লেখা হবে না আর?

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সামছা আকিদা জাহান's picture

নিজের সম্পর্কে

যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারেবারে,
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর আন্ধকারে।
যে লতাটি আছে শুকায়েছে মূল
কূড়ি ধরে শুধু নাহি ফোটে ফুল
আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে।
পূজা গৌরব পূর্ন বিভব কিছু নাহি নাহি লেশ
কে তুমি পূজারী পরিয়া এসেছ লজ্জার দীনবেশ।
উৎসবে তার আসে নাই কেহ
বাজে নাই বাঁশি সাজে নাই গেহ
কাঁদিয়া তোমারে এনেছে ডাকিয়া ভাঙ্গা মন্দির দ্বারে।
যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারে বারে।