ইউজার লগইন

হাতি নিয়ে মাতামাতি

বাংলাদেশ/নেদারল্যান্ড। নিশ্চিত বাংলাদেশ জিতবে। তবুও মনে ভয় কখন কি হয়। উইকেট পরা শুরু করলেতো তা মহামারী আকার ধারন করে। খেলা চলছে। এমন সময় আমার কাজের বুয়া এসে আমার মেজ মেয়েকে বললো '' হাতি দেখবে? মাঠে দাঁড়িয়ে আছে।" একথা শুনে আমার বাচ্চা তিনটা উঠে দৌড় ওদের পিছন পিছন আমি। বারান্দায় এসে দেখি হাতি চলে যাচ্ছে। বাচ্চারা ঘ্যান ঘ্যান শুরু কবলো --মা হাতিকে ডাকো, বাসায় আনো , আমি হাতির পিঠে চড়ব। বিরক্ত হয়ে বললাম ডাকতে।

বাগানে কাজ করছে মুন্না। তাকে চিৎকার করে বলল--- কাকু! কাকু! দৌড় দেন! হাতিকে ডাকেন। মুন্না আমাকে আর কিছু জিজ্ঞাসা না করে পিলপিল করে দৌড়। হাতি ততক্ষনে বেশ কিছু দূরে চলে গেছে। প্রায় মিনিট পাঁচেক পরে হাতির মাথা দেখা গেল। তার মানে হাতি আসছে। হাতি যখন দৃষ্টি সীমার মাঝে এল তখন দেখি হাতির পিছনে এক বিরাট মিছিল আর সবগুলি দাঁত বের করে হাতির পিঠে মাহুতের পিছনে বসে আছে মুন্না। গেট খুলবার সাথে সাথে হাতির আগে ঢুকলো পিচ্চি বাহিনী। আর দরজা বন্ধ করার পর উচ্চতা বেড়ে গেল বাউন্ডারী ওয়াল এর ।

হাতি মহা সমারহে হেলতে দুলতে পোর্চের সামনে এসে দাঁড়ালো। শুঁড় তুলে সালাম দিল। কেউ আর সাহস পায় না হাতির পিঠে উঠাতো দূরের কথা কাছে যেতে। তা আর কী করা, আমাদের কেউ হাতির পিঠে উঠছেনা দেখে পিচ্চিদের বললাম ---এই তোমরা কে কে চড়বে একবার করে চড়ো। দেখি ওদের সাহসের অভাব নেই। ওদের দেখাদেখি আমার ছেলেও অসীম সাহসে হাতির পিঠে চড়ল। হাতি চলতে শুরু করলো। হাতি হাঁটে আর পিচ্চিদের বিকশিত দাঁত বন্ধ হতে থাকে। হাতির পদক্ষেপের সাথে তাল মিলিয়ে মুখ থেকে আনন্দ বদলে যেয়ে ভয়ের ছাপ প্রকাশ পেতে থাকে। আট\দশ পদক্ষেপের পরই শুরু হয় আমার ছেলের চিৎকার --আমি নামব। আমি নামব। মা আমি নামবো। মা হাতি থামাও আমি নামবো। এখন সমবেত সংগীত শুরু হল নামব, নামব। হাতি থামালো এবং বসলো । এবার ওরা কেউ নামবে না শুধু আমার ছেলে নামলো। কেউ নামছে না দেখে সে বলে-- আমি চড়বো। আবার চড়ানো হল। চড়ে বলে --নামব। এভাবে কিছু সময় গেল। আমার যে মেয়েদের জেদে হাতি বাড়িতে আনা হল তারা চড়বে না।

তাদের অনেক করে সাহস দেবার পর আমার পিছন থেকে বের হয়ে মুন্নার হাত ধরে হাতির সামনে দিয়ে হাতির এপাশ থেকে ওপাশে গেল। ওদের সাহস দেবার জন্য আমি ও সাহসে ভর করে হাতির পিছন দিয়ে হাতির পিঠে উঠবার জন্য রওনা হলাম।

যেই আমি হাতির ঠিক পিছনে গেছি সেই মুহুর্তে হাতির লেজের নিচের চামরা কেঁপে উঠলো আর বিকট সুরে এক ভুভুজোলা বেজে উঠলো। আমি আর কোথায় থাকি?! ----- বাবারে, মারে বলে পাঁচিলের ফোকর গলে উঠি যেয়ে বারান্দায়। আমার পলায়নে হাতি বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ায় এবং আমার দিকে তার পশ্চাতদেশ প্রদর্শন পূর্বক মল ত্যাগ করে। সেই মলও দেখার বস্তু। হাতি তার কাজ শেষ করবার পর মনের আনন্দে উঠলেন গান গেয়ে। সেই বৃংহতী শুনে আমার দুই মেয়ে বাড়ির পিছন দিয়ে ঘুরে পিছনের দরজা দিয়ে এসে আবার আশ্রয় নিল আমার পিছনে। এখানে বলে রাখি আমার জানের জান জানু কিন্তু দোতলার পোর্চের উপর থেকে নামেননি। শুধু উপর থেকে হিহি করে হেসেই যাচ্ছেন।

হাতির ডাক শুনে বোকা হবার পর সেই ঘোর যেই কাটলো তখনই খেয়াল হল ছেলে কই? কই সৌহার্দ্য কই? উপর থেকে ওর বাবা বললো -- তোমার ছেলে হাতির ডাক শুনে এক দৌড়ে উপরে উঠে এসেছে। মাহুতের অনেক অনুরোধে আমি একটু হাতির গায়ে হাত বুলাতে রাজী হলাম। আবার হাতির পিছন দিয়ে যেয়ে যেই না ওর গায়ে হাত দিয়েছি অমনি সে তার লেজটি ফেললো আমার হাতের উপর। তা দেখে মাহুত বলল --ও মাছি তাড়াচ্ছে। আমি আর একটি লাফ দিয়ে আবার নিরাপদ দূরত্বে চলে এলাম। হাতির গা খুব খসখসে। ছাঁদ ঢালাইএর পর যেমন হয় অনেকটা তেমন আর লেজ লঞ্চ ঘাটে বাঁধবার জন্য যে পাটের দড়ি ব্যাবহার হয় তা শুকনা আবস্থায় যেমন হয় অনেকটা তেমন। ঠিক চাবুকের মত। হাতের লাল দাগ এখন কাল হয়ে এসেছে।

ছেলে ছাড়া আমার বাসার কেউ হাতির পিঠে চড়ছে না দেখে আমার বুয়ার খুব রাগ। মাহুত বার বার বলছে --কে উঠবেন, চড়েন চড়েন। আমি মুন্নাকে বললাম-- আপনি আবার উঠেন। মুন্না উত্তরে বললো --তা তো পারি আপা কিন্তু এখন যে আমার ও ভয় লাগতেছে।

আমার কাজের বুয়া বললো-- আমি উঠবো। আমি সাথে সাথে রাজি। --যাও, যাও উঠো। সে আমার মেয়ে দুটিকে ডাকলো --আস, আমি আছি, আমি থাকতে ভরসা কি?? চল উঠি। আমার মেয়েরা কিছুতেই রাজি হল না।

সে গজ গজ করতে লাগলো -- একপালা পাইসা নিবে এলা , কাইয়ো চড়িল না। এ হাতিওলা ঠিক করি মেলা সময় নিয়া বেড়াইবেন। তেড়িবেড়ি করবেন নন। টাকা কোনা নেবার সময় তো ঠিক গনি নেবেন? কায়ইয়ো চোড়িল না পয়সাগুলা এমনি যাবে।
তার একথা শুনে হাতি ও মহুত উভয়ে বেশ মাইন্ড করলো।

সে উঠলো হাতির পিঠে। হাতি চলতে শুরু করলো। এরপর শুরু হল--- ওরে বাবা, ওরে মা হাতি থাকি মুই কেংকা করি নামিম। ও আল্লা, মুই পননু , মুই পননু , হাতি মোক চেপ্টা করি দিলে, মোক মারি ফেলাইলে। ও খোদা, ও আল্লা। মুই একি গাধার কাম কচ্ছম, হাতি তো মোক ফেলে দেবার ফিকির কচ্ছে।

ও যত চেঁচায় মাহুত হাসে আর হাতি তত জোরে হাঁটে।

সেই সাথে ওর চিৎকারও জোরে হয়--- ও হাতিওলা ভাই তোরা মোর ধর্মের ভাই হন। মোক নামে দেও, মুই তোমার পায়োত পরম। ও হাতিওলা ভাই, তোমার দুইখান ঠ্যাং ধরম----

পোর্চের উপর থেকে হাতিকে টাকা দেবার সময় আমার চোখ পড়ে গেল হাতির চোখে। আমি মুহুর্তেই বুঝে গেলাম ও কোন মতলব আঁটছে। তাই চালাকি করলাম। হাতির বুদ্ধি কি আমার চেয়ে বেশি? আমি হাত থেকে আগেই টাকাটা ফেলে দিলাম। হাতি শূন্য থেকেই শুঁড় দিয়ে টাকাটা ধরে ফেলল এবং শুঁড় উঁচিয়ে টাকা মাহুতকে দিল ।
আমাদের এক পা তুলে, শুঁড় তুলে সালাম জানিয়ে হাতি হেলতে দুলতে বিদায় নিল।
মনে হল হাতি যেন যাবার সময় আমার দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসতে হাসতে চলে গেল।

ঘরে ফিরে দেখি বাংলাদেশের মোট চার উইকেট গেছে এবং তখনও জিতবার জন্য ছয় রান বাকি। জানু আমাকে তার মোবাইলটি দিয়ে বলল--দেখ, দেখি --ওখানে আমার হাতির পিছন থেকে পালানোর দৃশ্যটি যা সে দোতলার বারান্দা থেকে ভিডিও করেছে।

পোস্টটি ৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

একলব্যের পুনর্জন্ম's picture


হাহাহাহা !! Smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল আছেন নিশ্চই। ধন্যবাদ ।

লিজা's picture


বুয়ার অংশটা দারুণ Rolling On The Floor । কোন অঞ্চলের ভাষা ওইটা? হাসতে হাসতে শেষ ।
আমিও হাতির পিঠে চড়ছি, অনেক পিচ্চিকালে । তেমন ভয় লাগেনি ।

রাসেল আশরাফ's picture


এটা রংপুরের ভাষা।

সামছা আকিদা জাহান's picture


এটা রংপুর অঞ্চলের ভাষা। ভাল থাকুন।

সামছা আকিদা জাহান's picture


এটা রংপুর অঞ্চলের ভাষা। ছোটকালে অনেক কিছুতেই ভয় বলে কিছু থাকে না আবার অনেক কিছুতে ভয়। এখন বাস্তব জিনিসে বেশী ভয়।

লীনা দিলরুবা's picture


Smile

জানু আমাকে তার মোবাইলটি দিয়ে বলল--দেখ, দেখি --ওখানে আমার হাতির পিছন থেকে পালানোর দৃশ্যটি যা সে দোতলার বারান্দা থেকে ভিডিও করেছে।

এই ভিডিও আপলোডিত হোক! অবশ্য এবি'তে ভিডিও আসার সমস্যা হলে ছবি আসুক। তোমার জানু আর তিন বাচ্চার ছবি দাও।

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল থাকো বন্ধু।

হাসান রায়হান's picture


ভিডিও দেখতে চাই।

১০

সামছা আকিদা জাহান's picture


হা হা হা । ভাল থাকুন।

১১

নজরুল ইসলাম's picture


এত কথা না বলে ভিডিওটা আপলোড করে দিলেই তো চলতো Wink
দেখতে চাই Smile

১২

সামছা আকিদা জাহান's picture


আগে বুঝি নাই ভাই। বুঝলে আর কষ্ট করে লিখতাম না। ধন্যবাদ।

১৩

টুটুল's picture


ভিডিও কই?

ওরে বাবা, ওরে মা হাতি থাকি মুই কেংকা করি নামিম। ও আল্লা, মুই পননু , মুই পননু , হাতি মোক চেপ্টা করি দিলে, মোক মারি ফেলাইলে। ও খোদা, ও আল্লা। মুই একি গাধার কাম কচ্ছম, হাতি তো মোক ফেলে দেবার ফিকির কচ্ছে।

হাহাপেফা

১৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল থাকুন। ধন্যবাদ।

১৫

শওকত মাসুম's picture


ভিডিও চাই. দেতে হবে দেতে হবে

১৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


দেতে পারলাম না বলে দু;খিত ভাই।

১৭

ভাস্কর's picture


এই সিজনে ঐটারে হাতি না কইয়া স্টাম্পি বলা উচিত...

১৮

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল বলেছেন ধন্যবাদ ভাই।

১৯

রাসেল আশরাফ's picture


ও হাতিওলা ভাই তোরা মোর ধর্মের ভাই হন। মোক নামে দেও, মুই তোমার পায়োত পরম। ও হাতিওলা ভাই, তোমার দুইখান ঠ্যাং ধরম----

Rolling On The Floor Rolling On The Floor Rolling On The Floor

২০

সামছা আকিদা জাহান's picture


পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২১

সাঈদ's picture


বিশাল কাহিনী

২২

সামছা আকিদা জাহান's picture


আসলেই বিশাল কাহিনী। ধন্যবাদ।

২৩

মাহবুব সুমন's picture


ভিডু দেক্তে চাই

২৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


দাবী গেরানটেড। ইমো যেখানে আজ পর্যন্ত দিতে পারলাম না সেখানে ভিডু দেই কিভাবে? মন খারাপের ইমো হবে।

২৫

নাজমুল হুদা's picture


হাহাপেফা

২৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

২৭

মীর's picture


হাতিকাহিনী ভালো লেগেছে। এরকম লেখা আরো চাই। এটার মতো জমজমাট বিষয়বস্তু না থাকলেও চলবে। আপনার লেখার হাত দারুণ তো, যাই লিখবেন কৃতজ্ঞমনে পড়ে নেবো। Smile

২৮

সামছা আকিদা জাহান's picture


প্রসংশা বেশী হয়ে যাচ্ছে ভাই। লজ্জা পাচ্ছি।

২৯

জ্যোতি's picture


ওরে বাবা, ওরে মা হাতি থাকি মুই কেংকা করি নামিম। ও আল্লা, মুই পননু , মুই পননু , হাতি মোক চেপ্টা করি দিলে, মোক মারি ফেলাইলে। ও খোদা, ও আল্লা। মুই একি গাধার কাম কচ্ছম, হাতি তো মোক ফেলে দেবার ফিকির কচ্ছে।

সেই সাথে ওর চিৎকারও জোরে হয়--- ও হাতিওলা ভাই তোরা মোর ধর্মের ভাই হন। মোক নামে দেও, মুই তোমার পায়োত পরম। ও হাতিওলা ভাই, তোমার দুইখান ঠ্যাং ধরম----

হাহাপেফা

৩০

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ জয়িতা।

৩১

তানবীরা's picture


জানের জানুর ছবিওতো দিলেন না, আপনার ভিড্যুটাই নাহয় দেন। নইলে হাতি কাহিনী বিশ্বাস করলাম না কিন্তু Wink

৩২

সামছা আকিদা জাহান's picture


জানের জান জানুর ছবি তো রসগোল্লার মত। ভয়ে দিলাম না।

৩৩

নাজ's picture


বুয়া রক্স Crazy

৩৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


http://amrabondhu.com/sites/all/modules/smileys/packs/Roving/wink.png ধন্যবাদ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সামছা আকিদা জাহান's picture

নিজের সম্পর্কে

যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারেবারে,
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর আন্ধকারে।
যে লতাটি আছে শুকায়েছে মূল
কূড়ি ধরে শুধু নাহি ফোটে ফুল
আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে।
পূজা গৌরব পূর্ন বিভব কিছু নাহি নাহি লেশ
কে তুমি পূজারী পরিয়া এসেছ লজ্জার দীনবেশ।
উৎসবে তার আসে নাই কেহ
বাজে নাই বাঁশি সাজে নাই গেহ
কাঁদিয়া তোমারে এনেছে ডাকিয়া ভাঙ্গা মন্দির দ্বারে।
যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারে বারে।