ছোট গল্প ১
বৃষ্টির ছাট এসে গায়ে পরতে ঘুম ভেঙ্গে গেল রফিকের। মাথার কাছের জানালাটা খোলা। খুব গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিল, তাই কখন বৃষ্টি এসেছে টেরই পায়নি। উঠে জানালাটা বন্ধ করে দিল। ডাইনিং রুমের জানালা বন্ধ কিনা দেখবার জন্য ডাইনিং রুমে এল। রাস্তার ম্লান আলোতে দেখলো জানালা ধরে দাঁড়িয়ে আছে নিপা। বৃষ্টিতে ভিজছে দেখে ওকে ঘরে যেতে বললো। নিপা কিছু শুনতে পেল কিনা বোঝা গেল না। একেবারে পিছনে এসে কাঁধে হাতটা রাখলো। সাথে সাথে নিপা রফিকের গায়ে হেলান দিল। কিছুটা অবাক হয়েই রফিক মৃদু স্বরে বললো ----ঘরে যাও ঠান্ডা লাগবে। কেঁপে উঠলো নিপা, চমকে সোজা হয়ে দাঁড়ালো। কোন দিকে না তাকিয়ে চলে গেল ওর ঘরে। নিপা ওর গায়ে হেলান দিয়েছে বলেই কি রফিক তাকে ভাবী ঘরে যাও কথাটা বলতে পারলো না।
একটা চেয়ার টেনে নিয়ে রফিক টেবিলে দুইহাত রেখে বসলো। মাথায় বিলি কাটতে কাটতে ভাবতে লাগলো সে কি আর কখনও নিপাকে ভাবী ডাকবে? কেন এই ভাবনা?। শুধু এই গভীর রাতে নিপা ওর গায়ে হেলান দিয়েছিল বলেই নিপার সম্পর্কে তার সমস্ত চিন্তা ভাবনা বদলে গেল। রফিক বুঝেছে নীপা কেন হেলান দিয়েছিল, ও একটা ঘোরের মাঝে ছিল। বাস্তবে ফিরতেই সে তার ঘরে চলে গেছে একবারের জন্যও রফিকের দিকে তাকায়নি।
নিপার বাবা মা আজ এসেছিল নিপাকে নিয়ে যেতে। নিপার শ্বাশুরী রাহেলা বেগম গত দুই দিন থেকেই বলছে ---তোমার কী কি কোথায় আছে বের করে নাও। কখন কী লাগে। তুমি যখন খুশি চলে আসবে, আমাকে ডাকলেই আমি যাব। প্রতিদিন আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করবো। তোমার যেখানে ভাল লাগে সেখানেই থাকবে। নিপা কিছু বলছে না দেখে বললো--- কী কী নেবে আমাকে বলো আমি গুছিয়ে দেই। নিপা কিছুই বলেনি। শুধু চুপ করে বসে ছিল।রাহেলা বেগম যেখানে যা পেয়েছে গুছিয়ে দিয়েছে।
যাবার সময় নিপা তার বাবা মাকে বলেছে --আমি আজ যাব না, আমাকে নিতে আসতে হবে না, সারাজীবন তো একাই বাপের বাড়ি শ্বশুর বাড়ি করেছি তোমাদের নিতে আসতে হবে কেন? আমার যেদিন ইচ্ছে করবে সেদিন যাব। রাহেলা বেগম নিপাকে জড়িয়ে ধরে ডুকরে উঠেছে। ভেজা চোখে নিপার বাবা মা বিদায় নিয়েছে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে রাহেলা বেগম নিপার মাকে বললেন ---নিপা মা হতে চলেছে, এই সময় ও যেখানে থাকতে চায় সেখানেই থাক।
রফিকের খালাতো বোন শীলার বাসায় রফিক ও শফিক এসেছে নিপাকে দেখতে। শীলার মেয়ের স্কুল বান্ধবীর ফুপু নীপা। শীলাপা নিপাকে প্রায়ই দেখে। ভার্সিতিতে যাবার সময় ভাতিজিকে নামিয়ে দিয়ে যায়। একদিন নিপাকে শফিকের জন্য মনে মনে ঠিক করে শীলা। রাহেলা বেগমকে দেখাতে নিয়ে যায় সেই সাত সকালে স্কুলে। এরপর এই দুই ভাই এসেছে নিপার সাথে পরিচিত হতে।
নিপাকে দেখে রফিক বলল ---মেয়ের নাকের উপর দিয়ে তো ট্রেন চলে গেছে। সাথে সাথে শফিক বলেছে --তোর নাকটা আয়নায় আগে দেখে নে। শফিকের উত্তরে রফিকের সে কি হাসি শিলাপা দুলাভাইসহ। হয়ে গেল নিপা রফিকের ভাবী। প্রায় দুটি বছর নিপা এ বাড়ির বউ। নেভী অফিসার রফিকের পোস্টিং বিভিন্ন যায়গায়। তাই মাঝে মাঝে এসে থাকে আবার চলে যায়। গত তিনদিন আগে ও এসেছে সেই মংলা থেকে। চলে যাবে আর দুদিন পরে। পরিবারের সবাই রফিকের বিয়ের কথা বলাবলি করছে, এরই মাঝে এই ঝড়।
রফিককেই নিপা শফিক ভেবেছিল। প্রায় দুই মাস শফিক মারা গেছে রোড এ্যাক্সিডেন্টে, বৃষ্টির মাঝে তন্ময় নিপা ভেবেছিল শফিকই এসে দাঁড়িয়েছে তার পিছনে। কন্ঠস্বরে ঘোর কেটে যায় নিপার আর অন্য এক ঘোরের মাঝে ঢুকে যায় রফিক। সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয় রফিক, সেখান থেকে ফেরার তার আর কোন উপায় নেই।





অবশেষে রফিক নিপাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিলো এবং তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগলো...
ইয়ে, আপনার বাগানের লিচুর কী খবর ? আছে না শেষ !
লিচু আছে। আর দিন দশেক পর পারতে হবে । আম পারছি ।
এবি'র লোকজনতো সৈয়দপুর যেতে পারবে না মনে হয়। পাঠিয়ে দেবেন নাকি ? আমরা সবাই মিলে একদিন খেয়ে নেব...
খুব বেশি না, হাজার দুয়েক পাঠালেই হবে...
ঠিকানা দেব ?
আবশ্যই। ঠিকানা দেন আমি কুরিয়ার এ পাঠিয়ে দেব।
সিরিয়াস হলে মেইল দিবেন।
m_aajad@yahoo.com
এই অফার কি সকলের জন্য প্রযোজ্য?
অবশ্যই না !

তবে এই খাবার সবার জন্য প্রযোজ্য...
দুইবার পড়েও মর্মদ্ধার করতে পারলাম না
ভুতের গল্প লিখলা নাকী!
ছোট গল্প-১? আবার ডুব মেরো না, পরের গুলো দিয়ে দাও।
এটা একটি সম্পুর্ন ছোট গল্প। রফিক এর পর নিপাকে বিয়ে করবে আমরা তা ধরে নিতে পারি। ডুবতো মারি কাজের চাপে। ভাল থাক বন্ধু।
ভালো লাগলো। এটা কি ধারাবাহিক?
ছোট গল্প নিয়ে রবীন্দ্রনাথের একটা কবিতা আছে--- ছোট প্রান, ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা
নিতান্তই সহজ সরল-----আর পরের লাইনগুলি মনে করতে পারছি না। এটা এখানেই শেষ। এর পর যেতা লিখব তা অন্য গল্প। ধন্যবাদ।
আমার গল্পেতো হ্যাপী এন্ডিং তবে আপনার মন খারাপ কেন???
উনার তো মন খারাপ হবেই রুনা'পু
গল্পের নায়িকা যে চলে গেল পরের হাত ধরে...
কেন???? সুমন ভাইয়ের তো পোস্ট খালি নাই।
গহীনের শব্দ শোনা যায়।
ভালোবাসার উদার অথচ সংকীর্ন পথের অপরাজেয় আশার অসংখ্য কাঁচের চুড়ি, নিঃশব্দে হঠাৎ ই ভেঙ্গে যায়।
যায় কি ?
কঠিন মন্তব্য। হাইপোথেটিকাল। ভাল থাকুন।
গায়ে হেলান দেওয়া হইতে সাবধান।
১০০ দাত দূরে থাকুন।
আজকে ভাল ভাল গল্প পড়ছি!
ভালো লাগছে ছোটগল্প।
গল্প গল্পই।
এইসব থেকে আবার কিছু শিখতে চাইও না
শিক্ষার কিছু নেই দেখে মনটা বড় খারাপ হলো।
ভাল লাগার জন্য ধন্যবাদ।
তবে গল্প দারুণ হয়েছে। আপনাকে আরেকটু ঘন ঘন লেখার অনুরোধ করছি।
চেষ্টতো করি। একটা জব, একটা বর আর তিনটা পিচ্চি সামলাইয়া এর চেয়ে দ্রুত আর হয় না রে ভাই ----- বড় পরিবারের জ্বালা আগে বুঝিনাই (কান্নার ইম হবে)।
গল্পের এন্ডিংটাতো পুরোই পরিস্কার। অসাধারণ

মহিলা রবি ঠাকুর আপনার পরের গল্পের অপেক্ষায়
আসিতেছে আসিতেছে পেটের ভিতর কল কল করিতেছে কিন্তু কী বর্ডে বসিতেছে না।
লিচু শেষ হবার পথে !
মেইল দিলেন্না !
ঠিকানা নিলেন্না !
আফসুস !!
মন্তব্য করুন