ইউজার লগইন

পাপ-পুণ্য

জলি তার ছেলের বিয়ে নিয়ে ভীষন ব্যস্ত।। ছেলেরা বড় হবার পর জলির অনেক অবসর । ও একা হয়ে পড়েছে। তাকে দেবার মত সময় কারোরই নেই। এটা জলির অভিমানের কথা নয় এটা বাস্তবতা। জলির স্বামী রফিকুল ইসলাম ব্যাবসা নিয়ে ব্যস্ত। বড় ছেলে চলে গেছে নিউ ইয়র্ক এ পড়াশুনা করতে , ওখানেই থেকে যাবে । ফেরার কোন তাগিদ বা ইচ্ছে নেই। ছোট ছেলেটিও ভার্সিটিতে। তার জগৎ তৈরী হয়েছে আলাদা। সেখানে জলির কোন প্রবেশাধিকার নেই।

এত দিনে জলি কাজ পেয়েছে। তার ছেলে বিয়ে করবে বলে জানিয়েছে। মেয়ে সে নিজেই পছন্দ করেছে। একই ইউনিভার্সিটিতে পড়াশুনা করে। মেয়ের বাবা- মা সবাই নিউ ইয়র্কেই থাকে। তারা মেয়ের বিয়ে দিতে দেশে এসেছেন । সামনের শুক্রবারে মেয়েদের বাড়িতে যেয়ে ছেলের বাবা-মা ও মেয়ের বাবা-মা পরিচিত হবেন এবং বিয়ের দিনক্ষন ঠিক করা হবে। সম্ভবত সামনের মাসেই বিয়ের দিন ঠিক হবে।

জলির অনেক কাজ। সব কাজ তাকে এখাতেই সামলাতে হচ্ছে। ঘর বাড়ি পরিষ্কার করা, রঙ করা, আসবাবপত্র বানানো, ছেলে- ছেলেবউএর ঘর ঠিক করা, হোক না একমাসের জন্য তবুও। তার উপর প্রতিদিন স্বর্নের দোকানে যাওয়াটা নেশার মত হয়ে গেছে। না গেলেই মনে হয় কি যেন বাদ পরে গেল? কী যেন ঠিক যুগোপযোগী হল না ? শাড়ির সাথে মিলিয়ে মিলিয়ে অর্ডার দেয়, শাড়ির মার্কেট ঘুরে বেড়ায়, ক্যাটালগ দেখে শাড়ি তৈরী করতে দেয়। ছেলে ও ছেলের বাবা শুনে হাসে । এই শাড়ি কে পরবে? মেয়ের কি শাড়ি পরার সময় আছে? কিন্তু জলিকে দমানো যায় না। না পরুক তবু সে কিনবে, মেয়ে পক্ষকে দেখাতে হবে না?

শুক্রবার বেশ চিন্তিত কী শাড়ি পরে যাবে তাই নিয়ে। বার বার রফিককে এসে দেখায় কোনটা পরবে? মজা করে রফিক বলে --বিয়ে তো তোমার ছেলের , তোমার নয়? এই নিয়ে খুনটুসি বাঁধে। সন্ধ্যার ঠিক পর পরই জলি ও রফিক দম্পতি পৌঁছে গেলেন মেয়ের বাবা মুনির হোসেনের এর বাসায়। মুনির সাহেব এবং তার স্ত্রী রুমা দরজায় দাঁড়িয়ে তাদের অভ্যার্থনা জানালো। জলিকে দেখেই মুনির হাস্যমুখে উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো --আরে জলি তুমি কেমন আছো? অনেক দিন পর দেখা। তুমি তো সেই আগের মতই আছো, শুধু একটু ভারি হয়েছ। জলিও হেসে অনেক কথাই বলল। জলির ছেলের সাথে মুনিরের মেয়ের বিয়ে জলি-রফিক ও মুনির-রুমা দু’দম্পতিই বেশ খুশি। পুরানো বন্ধুত্ত থেকে একেবারে আত্মীয় এর চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে।

বাড়ির দরজায় মুনিরকে দেখেই জলি চুপসে গেছে। যথাসাধ্য চেষ্টা করছে ব্যাপারটা কাউকে বুঝতে না দেবার। মুনির ও রুমা অত্যন্ত আন্তরিক। তবুও জলি যেন স্বাভাবিক হতে পারলো না। তার ভিতরের কাঁপুনি এবং দম আটকানো ভাবটা বেড়েই চললো। ফেরার পথে গাড়িতে হতাশ জলির হাত ধরে রফিক জিজ্ঞাসা করলো --কি হয়েছে জলি?
 --কিছু না। খুব ক্লান্ত লাগছে। কতদিন ধরে ছুটাছুটি করছি। রফিক হাসতে হাসতে বললো--- ছেলের বিয়ের আগেই ছোটা ছুটি করে ক্লান্ত হয়ে পড়লে বিয়ে দেবে কিভাবে? তোমার পরিচিত আগে বলনি তো?
 --দেখার পরতো চিনলাম। কত মুনির আছে আমি কি জানি এই মুনির আমার পরিচিত? রফিক খুব খুশি।

ছেলে আপেক্ষায় আছে। বাসায় ফিরে ফোনে ছেলের সাথে কথা বললো জলি । অনেক কথার পর খুব ভয়ে ভয়ে একবার জিজ্ঞাস করেই ফেললো --তোমরা কি বিয়ে করে ফেলেছো?
--না মা করিনি। ওটুকু তোমাদের জন্য রেখেছি। ছেলে হাসছে,কি প্রান খোলা হাসি। তুমি ভয় পাচ্ছ কেন? তোমাদের জীবনের চাইতে আমরা একটু ফাস্ট এই যা। তা না হলে আমি তোমারই ছেলে।
হ্যাঁ তুমি আমারই ছেলে। তা না হলে এই ভাবে হাসি দিয়ে তুমি আমাকে ভোলাও। এই হাসি সেই হাসি যা দেখে আমি একদিন সব ভুলে গিয়েছিলাম।

পরদিন রফিক অফিসে চলে যাবার পর পরই জলি মুনিরকে ফোন করে বলে তার সাথে দেখা করতে। একঘন্টা পরে জলি আর মুনির মুখোমুখি। একদিনেই জলির বয়স যেন দশ বছর বেড়ে গেছে। জলি জিজ্ঞাসা করলো--- কেমন আছো ?
---ভাল ছিলাম। তুমি ত কাল থেকে আর ভাল নেই।
--হ্যাঁ।
--জাবির তোমার প্রথম সন্তান।
--হ্যাঁ।
--ফার্স্ট ইস্যু।
কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায় জলির। মাথা উপর নিচ করে জানায় --হ্যাঁ।
দুই হাতে কপাল চেপে ধরে মুনির।
ডুবন্ত মানুষ যেমন খড়-কূটা আকড়ে ধরে বাঁচতে চায় ঠিক তেমনি করে মুনির আবার আকূল হয়ে জানতে চায় --আমি যে ইস্যুর কথা শুনেছিলাম জাবির কী সেই বেবী।
জলি টিস্যু হাতে চোখে মুছতে মুছতে আবারও মাথা উপর নিচ করে জানায়-- হ্যাঁ।

মনির সামনে মাঠের দিকে তাকায় কি উজ্জ্বল রোদ চারদিকে। শুধু সে যেখানে বসে আছে সেই জায়গাটা অন্ধকার। এত অন্ধকার যে কিছুই দেখা যায় না। মুনির ভয় পায়। আবার ও সামনে তাকায়।

উজ্জ্বল রোদে একটা মেয়ে হেঁটে আসছে। রেজিস্ট্রার বিল্ডিং থেকে হেঁটে হেঁটে কলা ভবনের দিকে আসছে। হাঁটার মধ্যেই একটা ছন্দ আছে। মুনির দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওর হাঁটা দেখে।
প্রায়ই দেখা হয় জলির সাথে। ক্লাশ শুরুর আগে পরে এক বিল্ডিং থেকে অন্য বিল্ডিং এ যখন তখন। বড় ভাই থেকে কখন যেন বন্ধু হয়ে যায়। সেখান থেকে আরও কাছাকাছি চলে আসে ওরা। তখন এরশাদ হটাও আন্দলন। মুনিরও সক্রিয় ভাবে জড়িত। একবার মুনির উধাও। অর্থাৎ মাথায় হুলিয়া নিয়ে মুনির পালিয়ে যায়। একবছর ও বিভিন্ন জায়গায় পালিয়ে ছিল। ফিরে এসে দেখে জলির বিয়ে হয়ে গেছে। মুনির বেশ কষ্ট পায়। কষ্ট জলিও পায়, কিন্তু যখন মুনিরকে জলির খুব দরকার ছিল তখন জলি মুনিরকে কোথাও খুঁজে পায়নি। কেউ ওর কোন খবর বলতে পারেনি। মুনির একেবারে ভেঙ্গে পরে। আবার ও জলি মুনিরের হাত ধরে বন্ধুর মত। মুনির ও জলি আবারও কাছাকাছি আসে। জলির অনুপ্রেরনায় মুনির আবার নিজেকে তৈরী করে। অ্যামেরিকা যাবার জন্য প্রস্তুত হয় মুনির।
একবার রফিক জাপানে যায় অফিসিয়াল কাজে। তখন মুনিরের অ্যামেরিকা যাবার টিকিট পর্যন্ত হয়ে গেছে। সেই কদিন মুনির আর জলি দিনের বেশিরভাগ সময়ই একসাথে থাকতো। সেই সময় কোন এক আবেগের মুহুর্তে তারা খুব কাছে চলে এসেছিল। সেই কাছে আসা আর থেমে থাকেনি। মুনির চলে যাওয়া পর্যন্ত ছিল। যাবার আগে আগে জলি বলেছিল --মনে হচ্ছে তোমার কাছ থেকে আমি এক অমূল্য উপহার পাব। মুনির ও খুশি হয়ে বলেছিল --আমার উপহার তোমার কাছে খুব যত্নেই থাকবে আমি জানি। উপহার কিভাবে রাখে তার খোঁজ কেউ নেয় না আমিও নিব না, আমি জানি তা অনেক অনেক বেশী ভাল থাকবে।

জলি মরিয়া হয়ে বলে উঠে-- এ বিয়ে হবে না। এটা তুমি বন্ধ কর।
--আমি জানি না কিভাবে হবে এর সমাধান?
--যেভাবে পার বন্ধ কর?
--কি লাভ হবে জলি?
--কেন? এতো ধর্মে নিষিদ্ধ? অনেক্ষন মাথা নিচু করে চুপ করে থাকে মুনির।
--আমাদের যুগেই আমরা ধর্ম মানি নি আর এই যুগে ওরা কি এখনও বসে আছে ? এখন বিয়ে তো শুধু মাত্র সন্তানের বৈধতার জন্য। ও দেশে তার ও দরকার নেই। পাপ, পুণ্য যদি থাকে তবে দায়ী আমরা। কিন্তু কোনটা পাপ? তোমাকে ভালবাসা পাপ? যাকে ভালবাসি তাকে কাছে পাওয়া পাপ? ভালবাসা থেকে জন্ম নেয়া সন্তান কি পাপ? ধর্মতো একটা সামাজিক সীমারেখা টেনে দিতে পারে কিন্ত পারে কি মনের সীমারেখা টানতে? যে ঘটনা একা একা ঘটে যাচ্ছে তা রুখবার সাধ্য আমাদের নেই, কিছুই করার নেই। উপর ওয়ালা খেলায় মেতেছে তাকে খেলতে দাও। তারই তৈরী পাপ পুণ্য। তারই তৈরী নাটকের পাত্র পাত্রী আমরা। তার পাপ-পুণ্যের বিচার সেই করুক আমরা মানুষতো নাচার।

হতাশায় ভেঙ্গে পরা দুজন নর-নারী মাথা নিচু করে বসে আছে জড় বস্তুর মত। তাদের পিঠে বিরাট বোঝা যা বইবার ক্ষমতা তাদের নেই।

পোস্টটি ১৬ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

হাসান রায়হান's picture


দারুন।

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

মেসবাহ য়াযাদ's picture


দারুন চমক দেখালেন Big smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


ভাল লাগলো আপনাকে চমকাতে পেরে। ধন্যবাদ।

জ্যোতি's picture


দারুণ। টিপ সই

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

রাসেল আশরাফ's picture


লেখাটা ভালো লাগছে কিন্তু চমকটা ভালো লাগে নাই। Smile

সামছা আকিদা জাহান's picture


চমকটা আমারও ভাল লাগে নাই।

রশীদা আফরোজ's picture


Smile

১০

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

১১

মাহবুব সুমন's picture


ভাই - বোনের বিয়েটা ব্যপারটা শুধু ধর্মই না , নৈতিকতা বা প্রচলিত সংস্কারেও বাধা। পাপ পুন্যতো পরের কথা।
জলির বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক একদমই ভালো লাগলো না, গুলি করতে ইচ্ছে করছে।

১২

সামছা আকিদা জাহান's picture


বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আমি নিজেও পছন্দ করি না। চারিদিকে সামাজিক প্রতিশ্রুতিগুলির ভঙ্গুর দশা থেকেই আমি এই গল্পটি লিখেছি। এ ধরনের ঘটনা কি ঘটতে পারে না ? অবশ্যই পারে। যত্র তত্র অবৈধ শিশু জন্ম নিচ্ছে। সেই শিশু চলে যাচ্ছে অন্যের কোলে। বেশীর ভাগ শিশুই পিতৃ পরিচয়হীন। তাদের সাথে যে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই কে বলবে। এখানে জলি এবং মুনিরই বিষয়টি জানছে তারা আর কাউকে জানাতে সাহস পাচ্ছেনা। সমাজ, সংসার , ধর্ম, কোন ভাবেই তারা কোথাও ঠাঁই পাবে না।যখন বিষয়টি সকলের নিকট অজ্ঞাত তখন কে তাদের গুলি করবে বা পাথর ছুড়ে মারবে? কিন্তু আমরা তো পারছি না সামাজিক বা ধর্মীয় প্রতিশ্রুতিগুলি ধরে রাখতে।

১৩

অনার্য's picture


একটি হজমী বড়ি দরকার ।

১৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


তাড়াতাড়ি হজমি খেয়ে নিন। কিন্তু হজম করলে তো চলবে না। আমাদের সচেতন হতে হবে।

১৫

অনার্য's picture


সফোক্লিসের ইডিপাস আমার পড়া আছে । তার পরিণতিও আমি জানি । হজমি বড়ি দরকার হয়েছে তখন যখন লেখক গল্পের গলায় লাগাম লাগিয়ে নিজের মতামত নিয়ে সেচ্ছাচারিতা করেন-
গল্প থেকে:
# (............আমাদের যুগেই আমরা ধর্ম মানি নি আর এই যুগে ওরা কি এখনও বসে আছে ? এখন বিয়ে তো শুধু মাত্র সন্তানের বৈধতার জন্য। ও দেশে তার ও দরকার নেই। পাপ, পুণ্য যদি থাকে তবে দায়ী আমরা। কিন্তু কোনটা পাপ? তোমাকে ভালবাসা পাপ? যাকে ভালবাসি তাকে কাছে পাওয়া পাপ? ভালবাসা থেকে জন্ম নেয়া সন্তান কি পাপ? ধর্মতো একটা সামাজিক সীমারেখা টেনে দিতে পারে কিন্ত পারে কি মনের সীমারেখা টানতে? যে ঘটনা একা একা ঘটে যাচ্ছে তা রুখবার সাধ্য আমাদের নেই, কিছুই করার নেই। উপর ওয়ালা খেলায় মেতেছে তাকে খেলতে দাও। তারই তৈরী পাপ পুণ্য। তারই তৈরী নাটকের পাত্র পাত্রী আমরা। তার পাপ-পুণ্যের বিচার সেই করুক আমরা মানুষতো নাচার।)
মন্তব্য থেকে :
# বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক আমি নিজেও পছন্দ করি না। চারিদিকে সামাজিক প্রতিশ্রুতিগুলির ভঙ্গুর দশা থেকেই আমি এই গল্পটি লিখেছি। এ ধরনের ঘটনা কি ঘটতে পারে না ? অবশ্যই পারে। যত্র তত্র অবৈধ শিশু জন্ম নিচ্ছে। সেই শিশু চলে যাচ্ছে অন্যের কোলে। বেশীর ভাগ শিশুই পিতৃ পরিচয়হীন। তাদের সাথে যে আমার রক্তের সম্পর্ক নেই কে বলবে।

সর্বশেষ ধর্ম প্রচারিত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার বছর অগে । তার অনেক আগেই ইডিপাসের জন্ম । সাহিত্যে নৈতিকতার বিষয়টি নতুন নয় । জলি ধর্ম মানে না আবার উপরে ওয়ালার দোহাই দেয় । আবার অপনার মন্তব্য প্রতিবেদনে আপনি বলেন- যত্র তত্র অবৈধ শিশু জন্ম নিচ্ছে।.... বেশীর ভাগ শিশুই পিতৃ পরিচয়হীন । তাহলে বিষটি কী দাঁড়াল ?
সর্বপরি বিবাহ বর্হিভূত প্রেম, শারীরিক সম্পর্ক, অবৈধ সন্তান ইত্যাদি ইত্যাদি..... আর জেনে শুনে উপরে ওয়ালার দোহাই দিয়ে ভাই-বোনকে বিয়ে দেয়ার চেষ্টা সম্পূর্ণ আলাদা । এ নিয়ে অনন্তকাল আলোচনা করা যাবে তাই ক্ষান্ত দিলাম । তবে কী যে বিষয় নিয়ে লিখব সে বিষয়ে যথেষ্ট পড়াশোন না থাকলে সচেতন না হয়ে লিখতে গেলে ওমন সন্তান বারবার জন্ম নেয় ।
দুঃখিত.........( মন্তব্যের জন্য) .....আপনার আরও ভালো ভালো লেখা পড়ার অপেক্ষায় রইলাম ।

১৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


সফোক্লিসের ইডিপাস আমার ও পড়া আছে । তার পরিণতি ও আমি জানি ।

হজমি বড়ি দরকার হয়েছে তখন যখন লেখক গল্পের গলায় লাগাম লাগিয়ে নিজের মতামত নিয়ে সেচ্ছাচারিতা করেন----- লেখক তার কলম নিয়ে স্বেচ্চাচারিতা করতেই পারেন। লেখক লেখার ক্ষেত্রে স্বাধীন। এখানে তাকে কোন কিছু তে বাধ্য করা যায় না বা যাবে না। গল্প লেখক লেখেন পাঠক তার নিজের মত করে গ্রহন করেন। এখানে লেখকের কিছুই করার নেই। পাঠক পছন্দ হলে পড়বে অতৃপ্ত থাকলে থাকবে , সে নিজের মত তার সমাধান দেবে। লেখকের সমাধান পাঠককে গ্রহন করতেই হবে এমন কোন বাধ্য বাধকতা নেই। কলম যখন লেখকের হাতে সে তখন স্বেচ্ছাচারিতা করবেই ।

গপ্ল থেকে যে লাইন তুলে দেয়া হয়েছে সেখানে --- পাত্র-পাত্রীর অসহায়ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। ছেলে মেয়ে জানে না তারা ভাই বোন এবং জানাতেও চায় না আমাদের পাত্র পাত্রী, জানলে জটিলতাই বাড়বে কারন তাদের বিয়েটা এখন শুধু আইনগত বা ধর্মীয় স্বীকৃতির জন্যই দরকার।নচেত তারা বিবাহিত জীবনই যাপন করছে। এখানে ভাই-বনের বিয়ে দেবার কেউ চেষ্টা করছে না। যা হয়ে গেছে তা থেকে আর ফেরার পথ নেই সেটাই বলা হয়েছে।

ইডিপাসের জন্ম ধর্ম আবিষ্কারের অনেক আগে। খুব পরিচিত একটি নাম ক্লিওপেট্রা। সেই ক্লিওপেট্রার সময় ও কিন্ত আমরা দেখি ভাই বোনের বিবাহ সিদ্ধ ছিল।--ইতিহাসটা একটু পড়ে দেখবেন।

ধর্ম নিয়ে এসেছে মুনির জলি তাদের এই পরিনত বয়সে। যখন অপরাধ করেছে তখন তাদের মাঝে এই বোধ ছিল না। বয়সের সাথে সাথে মানুষ পরিবর্তিত হয় । আমি নিজেই আজ থেকে ২০ বছর আগে যা চিন্তা করতাম বা ভাবতাম তা কি এখন ভাবি। ২০ বছর আগে আমি ছিলাম মেয়ে বা ছেলে এখন আমি মা বা বাবা।

এ নিয়ে অনন্তকাল আলোচনা করা যাবে তাই ক্ষান্ত দিলাম ।

তবে কী বিষয় নিয়ে লিখব সে বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন করা আমার পক্ষে সম্ভব কখনই নয় আমি সল্প শিক্ষিত মানুষ। ব্লগে বসি মনের আনন্দের খোরাক জোগাড় করতে যা লিখি তা কোন থিসিস পেপার নয়। বা তা আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় প্রফেসরদের সামনে প্রজেন্টেশন করতেও হবে না।আমার সল্প বিদ্যায় সল্প বুদ্ধিতে যে চিন্তা এসেছে যে চেতনা কাজ করেছে তাই লিখেছি এবং লিখব।

যে বিষয় নিয়ে লিখব সে বিষয়ে যথেষ্ট পড়াশোন না থাকলে সচেতন না হয়ে লিখতে গেলে ওমন সন্তান বারবার জন্ম নেয় ---- কেমন সন্তানের কথা বলছেন? জারজ সন্তানের কথা? দুঃখিত মানতে পারলামনা। না পড়েও ভাল লেখার জন্ম দেবার চেষ্টা করি তা দুর্বল হতে পারে বুদ্ধিহীন হতে পারে কিন্তু জারজ নয়।
আপনার সুন্দর মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

১৭

অনার্য's picture


আপনার পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ, ইতিহাসটা আমি পুনরায় পড়ব। মেঘে মেঘে বেলা তো আর কম হলো না - তবে কী আমরা তসীলমা নাসরীনকে দেখেছি রবীন্দ্রনাথকেও দেখেছি - একজন সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিলেন অপরজন পাঠকের কাছে সমাজের কাছে, দেশের কাছে সর্বপরি পৃথিবীর সকল মানুষের কাছে দায়বদ্ধ ছিলেন । কখনই স্বেচ্ছাচারিতা করেন নি । লেখক কেন লিখেন সেই প্রশ্নের উত্তরের সঙ্গে লেখকের দায়বদ্ধতা সরাসরি সর্ম্পিকত । আর যে লেখক সে দায় স্বীকার করেন না তার লেখা পাঠকের কাছে যেন না আসে সেই ব্যাবস্থা লেখকের নিজগুণে করতে হয় । লেখকের দর্শন তাঁর লেখায় প্রকাশ পায় - আপনি সভ্য সমাজে জন্মগ্রহণ করে ভাই-বোনের বিয়েকে সাপোর্ট করেছেন । একজন লেখকের সেই অধিকার নেই । কারণ পাঠক লেখকের লেখা থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করে । আপনার সঙ্গে গত দুদিনে লেখাটি নিয়ে যত কথা হয়েছে তাতে আমি নিশ্চিত এর পরে আর কথা বাড়তে দেয়া ঠিক হবে না । আমি চেষ্টা করেছি যতটুকু না বললেই নয় অতটুকু বলতে । আমি আশা করছি একদিন বাংলা সাহিত্য আপনার লেখায় ‌ঋদ্ধ হবে সেদিন আপনি এই লেখাটির জন্য পাঠকের কাছে ক্ষমা চাইবেন ।
আমি জানি এই মন্তব্য আপনার মাথাটা গরম করে দেবে তখন আপনি পুনঃ পুনঃ স্বেচ্ছাচারিতা করবেন তাই আপনার ব্লগ থেকে বিদায় .......
ভালো থাকবেন ।
আবার বলছি- আপনার ভালো লেখা পড়ার প্রত্যাশায় রইলাম ।

১৮

লীনা দিলরুবা's picture


অনার্য@
লোকে ঘটনার জন্ম দেয়। ঘটনা আকাশ থেকে নাযেল হয় না।গল্প তো জীবনের প্রতিচ্ছবি। গল্পের কাহিনি জীবন থেকেই আসে। মানুষের সম্পর্কের জটিল আর গভীর দিকগুলো অনেকসময় লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। অজানা আর অচেনা পৃথিবীর কতখানি আমরা জানি! এই গল্পের কাহিনিও ব্যতিক্রম নয়। গল্পকার তার ভাবনার, তার কল্পনার তুলির আঁচড় কতখানি টানবেন সেটি কী অডিয়েন্স ঠিক করে দেবে? না কি দেয়া উচিত?

আর কার সাথে কার তুলনা করলেন! রবীন্দ্রনাথ আর তসলিমার তুলনা চলে? অবশ্য এই তুলনায় বুঝতে পারলাম, কেন, আপনার পুরুষবাদীতার কাছে এই গল্প মাফ পেলো না!

১৯

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ লীনা।

২০

রাসেল আশরাফ's picture


এক হজমী থেকে শুরু করে কত রাস্তাঘাট দেখায় নিয়ে আসলেন!!আজ অনেক জ্ঞান বাড়লো। Glasses Glasses

২১

সামছা আকিদা জাহান's picture


আমিও শিখলাম । আমার লেখার কারনে এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তসলিমা নাসরিন কে একই পাল্লায় মাপা হচ্ছে। এই অপরাধের জন্য আমিইইইই দায়ী।। ধন্যবাদ রাসেল।

২২

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ অনার্য মন্তব্য করবার জন্য এবং অসংখ্য ধন্যবাদ রবীন্দ্রনাথ এবং তসলিমাকে আমার লেখায় উপস্থিত করার জন্য। আপনার মহানুভবতার প্রশংসা না করাটা আমার হীনমন্যতারই পরিচয় হবে।
রবীন্দ্রনাথ কিন্তু তার সমসাময়ীক লেখকদের রোষানলে পরেছিলেন ভিন্নধারার লেখনির কারনে। যাই হোক আমি একদিন বোদ্ধা লেখক হব আপনার এই আশাবাদ আমাকে আকাশ চুম্বী অনুপ্রেরনা দিচ্ছে।

আপনার অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে লেখাটিতে ভাই বনের বিয়েকে সাপোর্ট করা হয় নি যেটা তুলে ধরা হয়েছে তা হচ্ছে আমরা যদি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক কারো সাথে স্থাপন করি তবে একদিন এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারি।তাই সাধু সময় থাকতে সাবধান। আপনার আশা করি মগজ খুলবে।

মেঘে মেঘে আপনার বেলা অনেক হয়েছে জেনে খুশি হলাম কিন্তু ভাই অভিজ্ঞতার ঝুলি আপনার আমার চেয়ে বেশি নয় এই নিশ্চয়তা আমি আপনাকে লিখে দিলাম। মানুষের মন ও মনন নিয়ে নাড়াচাড়া আমার আপনার চেয়ে অনেক অনেক বেশী ।

২৩

একজন মায়াবতী's picture


Shock Shock

২৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

২৫

মাফরুহা অদ্বিতী's picture


দারুন লিখেছেন। , ধন্যবাদ। ।

২৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ।

২৭

কামরুল হাসান রাজন's picture


আগে মুনিরদের সংখ্যা বেশি ছিল, এখন জলিদের সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে

২৮

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনার মন্তব্য ঠিক বুঝলাম না। আগে মুনিরদের সংখ্যা বেশী ছিল । তবে মুনিররা কাদের সাথে বিবাহ বহির্ভুত সম্পর্ক তৈরী করতো। এখন জলিদের সংখ্যা সমান হারে বাড়ছে ? তবে কি মুনিররা কমছে, জলিরা তবে কাদের সাথে মিশছে?

২৯

প্রিয়'s picture


গল্পের কাহিনীটা আসলেই অন্যরকম। পড়ে খুব ভাল লাগলো।

৩০

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ। আমার ব্লগে সুস্বাগতম।

৩১

লীনা দিলরুবা's picture


কমেন্ট এ লাইক দেবার অপশন মিস করছি।
গল্প টা অন্যরকম। তোমার গল্পে সবসময় বৈচিত্র্য থাকে। চালিয়ে যাও বন্ধু।

৩২

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ বন্ধু। তোমার অনুপ্রেরনা আমার খুব ভাল লাগে।

৩৩

জেবীন's picture


অনেক আগে একটা সিরিয়াল দেখেছিলাম যে, বিয়ের আগে ছেলেমেয়ে উড়োখবরে জানতে পারে তারা ভাইবোন, নাটক চলতে থাকে তাদের কষ্ট আর সত্যানুসন্ধানের মধ্য দিয়ে! শেষ পরিনতি দেখিনি ওটার

৩৪

সামছা আকিদা জাহান's picture


জ়ানি না বন্ধু আমি দেখিনি। তবে পরকিয়া নিয়ে অনেক সিনেমা , নাটক দেখেছি। ধন্যবাদ।

৩৫

মেঘের দেশে's picture


পুরাই গুল্লি

৩৬

সামছা আকিদা জাহান's picture


সন্ত্রাসী হামলার --------মনব বন্ধন দাবি করছি।

৩৭

তানবীরা's picture


অনেক কিছু মেনে নিতে আমাদের রক্ষনশীল মন প্রস্তুত থাকে না। অনার্য এর মন্তব্য বোধহয় তারই প্রকাশ। পরিবর্তনের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারাও একটা বিরাট ব্যাপার

৩৮

সামছা আকিদা জাহান's picture


ধন্যবাদ তানবীরা। অনার্য মেনে নতে যা পারেনি তা আমি বলিনি। সে যা বলছে তা তার বোঝার ভুল থেকে বলছে। অবশ্য তার প্রতিটি মন্তব্যেই তার পরিপক্কতার অভাব সুস্পষ্ট। তা না হলে ইডিপাসের সাথে আমার গল্পের তুলনা করতেন না। আবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে তসলিমা নাসরিনের তুলনা বেদনাদায়ক। সে বার বার বলছে ভাই বোনের বিয়েকে সমর্থন করছি গল্পের মাধ্যমে। আমার গল্পটা বুঝতে পারলে এই কথা তিনি বলতেন না। যাই হোক এটা তার বুঝবার ভুল ।

৩৯

অনার্য's picture


দু-তিন দিন পর নেটে বসলাম । তানবীরা এবং আপনার আলোচনায় আমি মুগ্ধ । আমার অপরিপক্ক জ্ঞান আপনার মহান সৃষ্টিকে বুঝতে পারে নি - এজন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি ।

৪০

সামছা আকিদা জাহান's picture


আপনার অপরিপক্ক জ্ঞান আমার সৃষ্টিকে মহান বলেছে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সেই জ্ঞানকে। ভাল থাকুন বন্ধু।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

সামছা আকিদা জাহান's picture

নিজের সম্পর্কে

যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারেবারে,
আমার জীবনে তোমার আসন গভীর আন্ধকারে।
যে লতাটি আছে শুকায়েছে মূল
কূড়ি ধরে শুধু নাহি ফোটে ফুল
আমার জীবনে তব সেবা তাই বেদনার উপহারে।
পূজা গৌরব পূর্ন বিভব কিছু নাহি নাহি লেশ
কে তুমি পূজারী পরিয়া এসেছ লজ্জার দীনবেশ।
উৎসবে তার আসে নাই কেহ
বাজে নাই বাঁশি সাজে নাই গেহ
কাঁদিয়া তোমারে এনেছে ডাকিয়া ভাঙ্গা মন্দির দ্বারে।
যতবার আলো জ্বালাতে চাই নিভে যায় বারে বারে।