আনন্দলোকে -আমি
খুব আনন্দ নিয়ে আজ পোস্ট লিখছি।
আমার আনন্দ ভাগ করে নেবার জন্যই বন্ধুদের কাছে লিখছি।
দরিদ্র ডট কম থেকে ডাউনলোড করেছি গেরিলা সিনেমাটি। ডাউনলোড করতে সময় লেগেছে মোট পাঁচদিন। গত২১-১০ তারিখে সকাল ১১টায় প্রথম দেখলাম সিনেমাটা। বাচ্চাগুলি ছুটির দিন দেখে বাইরে হুটোপুটি করছিল। কিছুতেই দেখবেনা তারা সিনেমা। ওদের বাবার অসীম ধৈর্য। বাচ্চাগুলিকে ধরে ধরে আনলো। আমি একটু বিরক্ত। কারন এই সিনেমা ৮/৬ বছরের বাচ্চারা দেখবেনা। আর ওরা ঘরে থাকলে আমিও মন দিয়ে দেখতে পারব না। ওদের ফরমায়েশ খাটতেই সময় যাবে।
মাঝে মাঝে বাচ্চাদের মুক্তিযুদ্ধের কথা বলতাম, রাত ১২টায় শহীদ মিনারে নিয়ে যাই-২৬ মার্চ /১৬ই ডিসেম্বরের বিভিন্ন অনিষ্ঠানে ওরা যায় আনন্দ করে নাচে, খেলে, গান গায়। তাই মুক্তিযুদ্ধ কি কেন কিছু হয়ত জানে বা বোঝেও।
ওরা সিনেমা দেখা শুরু করলো। শুরুতে পাঁচ /সাত মিনিট গেল পানি খাব, গা চুলকায়, এই সিনেমায় কি আছে?, গরিলা কই, এটা কি কিংকর এর মত ,কার্টুন দেখব, খেলতে যাব, ফালতু সিনেমা, -----
কিন্তু এর পর আমার ঘরে পিনপতন নিস্তব্ধতা। শুধু সিনেমার ডায়লগ ও সংগীত। মন্ত্র মুগ্ধের মত বাচ্চাদুটি সিনেমা দেখে গেল। সিনেমা শেষ। ওদের প্রশ্ন শুরু। বিকেলে আবার গেরিলা দাও দেখব। পরদিন স্কুল থেকে এসেই গেরিলা দেখব। দুপুরে বাড়ির কাজ শেষে গেরিলা দেখব, রাতে পড়া শেষে গেরিলা দেখব। এ ভাবেই যাচ্ছে এই দশ দিন। কোন কার্টুন নয়, কোন হিন্দী, বাংলা, ইংরেজী সিনেমা নয় শুধু গেরিলা। আর প্রশ্ন একের পর এক।
কামরুল ইসলামের আঁকা ইয়াহিয়ার ছবি ( এই জানোয়ার কে রুখতে হবে) দেখে এটা কে? এই ছবিটা কার? ইয়াহিয়া এমন কেন দেখতে? ও কি রাক্ষস? ও কি রক্ত খায়? কেন প্রফেসরের হাতের আঙ্গুল কেটে দিল? কেন ওরা আমাদের দেশে আসলো? কেন ওদের দেশে মানুষ নাই? কেন গুলি করলো? কেন ওদের দেশে কি ওদের থাকার জায়গা নেই যে আমাদের জায়গা নিতে চায়? মুক্তি যোদ্ধাদের কেন আর্মির মত ড্রেস নাই। সবার হাতে গ্রনেড থাকলে তো এত মানুষ মারতে পারতো না? কেন ওরা আমাদের গান গাইতে দেবে না? কেন কথা বলতে দেবে না? কেন ইয়াহিয়া রাক্ষস হল? কেন মেয়েটাকে ট্রেন থেকে নামায় দিল? কেন শেখ মুজিবর রহমানের কথা শুনলো না? যারা বেশি ভোট পাবে তার কথা তো শুনতে হবে? বীর মানে কী? বল বীর কেন? শির মানে কী? উন্নত মম শির মানে কি? আলতাফ মাহমুদের চোখ কেন তুলে নেয়(এটা সিনেমার দৃশ্য নয় আমি বলেছি) আমার ভাইয়ে রক্তে রাঙ্গানো গানটা তো খুব সুন্দর তবে কেন ওরা পছন্দ করলো না? কেন ?কেন? কেন? উত্তর দিতে দিতে মুখ ব্যথা। তার উপর কিছু প্রশ্নের উত্তর দিতে --"কথা থেমে যায় মুখে, এই দুনিয়ার যত ভাষা আছে কেঁদে ফিরে যায় দুঃখে। "
আজ সকালে ওদের প্রশ্ন-- ওরা ওদের দেশে থাকলেই পারে, আমাদের দেশে কেন আসবে? বল মা কেন আসবে আমাদের সব কিছু কেড়ে নিতে ? ওদের নাই ওরা তৈরি করবে?
বাচ্চা দুটি স্কুল থেকে ফিরে আবার গেরিলা নিয়ে বসেছে। প্রতিটি ডায়ালগ মুখস্ত করছে।





লেখাটা পড়ে মন ভাল হয়ে গেল।পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে এই উপলদ্ধি জাগিয়ে তুলতে হবে আমাদেরই,এর কোন বিকল্প নেই।ধন্যবাদ, শেয়ারিং এর জন্য।
ভাল থাকুন। অনেক ভাল, সবসময়।
আপনি ও ভাল থাকুন। অনেক ভাল, সবসময়।
ধৈর্য্য বটে! পাঁচ দিনে ডাউন লোড!!! গেরিলা মুভিটা সবাই দেখলো-আমিই বাদ গেলাম
আমার কাছে ডাউনলোড কপি আছে... দিমুনে
দিয়েন টুটুল ভাই --ও খুব মন খারাপ করছে
(
(
সকল প্রশংসা আমাদের বাড়ির উনির
।
সত্যি সত্যি মন ভাল করে দেওয়া একটি লেখা।
ধন্যবাদ তোমাকে।
তোমার বাচ্চাদের জন্য অনেক অনেক অনেক শুভকামনা।
ধন্যবাদ আপা। আপনি ভাল থাকুন সব সময়।
আমার কাছে ভায়োলেনস অনেক মনে হয়েছে, বাচচারা নিতে পারছে !!!!???
আমি জানিনা তোমার প্রশ্নের জবাব টা কি ভাবে দেব? মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথেই ভায়োলেন্স টা জড়িত। আমি সেটা এভাবে খেয়াল করিনি। তবে ওরা জয় যাত্রা , মাটির ময়না, মুক্তির গান এই সব সিনেমাও দেখেছে। ভায়োলেন্স ওদের এভাবে স্পর্শ করেছে কিনা জানি না। তবে তারা রাজাকারদের ঘৃনা করতে শিখেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের ভালবাসতে শিখছে , মুক্তিযোদ্ধারা ওদের কাছে হিরো হয়ে উপস্থিত হয়েছে। এই কাহিনীতে একক নায়ক বা নায়িকা নেই সব মুক্তিযোদ্ধাই নায়ক। দুধ বিক্রেতা, মিষ্টি বিক্রেতা তাদের চেহারা যাই হোক ওরা ওদের সপ্নের নায়ক। ধন্যবাদ তানবীরা।
রুনা, আমার মেয়েও বাসায় আমাদের আলোচনা শুনে নিজেই জেনে গেছে, পাকিস্তান আর বাংলাদেশের যুদ্ধ হয়েছিল, পাকিস্তান হেরেছে, বাংলাদেশ জিতেছে। এখনো অফিসিয়ালি ব্রিফ করিনি।
আমাদের সন্তানদের মাঝেই জাগ্রত থাকবে আমাদের ইতিহাস।
খুব ভালো একটা কাজ করছেন আপু।
ওদের মনে মুক্তিযুদ্ধের অনুভূতি না জাগিয়ে তুলতে পারলে আমি আমার ঝান্ডা কার হাতে দিয়ে যাব, --ভাল থাকুন মায়াবতী।
ভালো লাগলো অনুভূতিটা।
পাঁচ দিনে ডাউনলোড! ধৈর্য বটে!
ভালো লাগলো লেখাটা!
ভালো থাকবেন আপু।
সকল প্রশংসা আমাদের বাড়ির উনির
(
বাচ্চাদের জন্য অনেক আদর । অনুভূিত শেয়ারের জন্য ধন্যবাদ।।
ধন্যবাদ। ভাল থাকুন ।
ধন্যবাদ
সকল প্রশংসা আমাদের বাড়ির উনির
প্রায় তিন মাস আগে গেরিলা আমার নেট প্রভাইডারের সার্ভার থেইকা ১০ মিনিটে নামাইয়া দেখছি। তানবিরার কথার সূত্রে বলছি, আমার বাসার বাচ্চাগুলা 'ভায়োলেন্স' দৃশ্যগুলো ইজি ভাবে নিতে পারে নাই। বিশেষ করে গেরিলা নেতা খোকন আর এটিএম শামসুজ্জামানকে জবাই করার দৃশ্য দেখার মানসিক শক্তি ওদের ছিল না, তাই সব গুলা পলাইছে। পরে আর একটাকেও ধরে আনতে পারি নাই। তবে গেরিলা হলো আমার দেখা মুক্তিযুদ্ধের শ্রেষ্ঠ ছবি । বিশ পঁচিশবার দেখা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ঘনিষ্ঠ এই ছবিটি এক কথায় অসাধারন। যারা দেখেন নাই, তারা মিসাইছেন। কেউ ডাউনলোড করতে চাইলে এখান থেকে এবং এখান থেকে করেন।
গরামইন ের মোদএম ব্যবহার করি। এটাই এই অঞ্চলের সর্বাধিক গতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস।
আমরা বন্ধু ব্লগ খুলতেই তো আমার সময় লাগে দশ মিনিট
। আমি ব্লগ ওপেন করতে দিয়ে বসে বসে তাস খেলি। 
১০ মিনিটর ডাউনলোড করলা, রবিবার দেখবো , ঈদের দিনে
আপনাকে চরম হিংসা
।
লেখা ভালো লাগছে।
খুশিতে আমি নির্বাক। একটা লম্বা থ্যাঙ্কিউ নেন, আপু। বাচ্চাগুলোর জন্যে অনেক শুভকামনা রইলো।
মন্তব্য করুন