শিরোনাম জানি না
কত কথা মনের মাঝে ঘুরপাক খায়। কত কথা বলতে ইচ্ছা করে। কত কিছু বুঝতে ইচ্ছা করে। কতকিছু করতে ইচ্ছা করে।
মাঝেমাঝে মনে হয় আমি যদি মফস্বলের একটা ছেলে না হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে হয়ে জন্মাতাম, আমার জীবনটা কেমন হত? হিসাব মেলে না। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ছেলে কেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কীভাবে জীবনযাপন করে সেটাই তো আমি কোনওদিন বুঝতে পারব না। সেই জীবন অবশ্যই আর দশজনের জীবন না!
আবার যদি বেশ অবস্থাসম্পন্ন ভদ্র-সভ্য-স্বাভাবিক বাড়ির ছেলে না হয়ে আমি যদি কোন একটা ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তান হতাম। এমন যদি হতো আমার বাবা-মাকে কোন দিন কাছে থেকে দেখি নি। এমন যদি হত জীবনে কখনো কাউকে মা বলে ডাকতেই পারি নি, জানিও না মা কাকে বলে; তখন আমার জীবনটা কেমন হত? এমন যদি হত যে বাবা জন্মের পর পর ফেলে দিয়ে চলে গেছে কোথাও, বা আমার জন্ম যদি কোন বেশ্যামায়ের পেটে হতো?
কেমন লাগে একটি ছেলের যখন সে জানে না ডিভোর্স নিয়ে অন্য লোককে বিয়ে করে দশটা বছর বিদেশে কাটিয়ে মা যখন দেশে ফিরে, তখন সে কী করবে। অভিমান করে থাকবে? বুকের ভেতর জমিয়ে রাখা শতসাগর ভরা কান্না সেই নিষ্ঠুর মায়ের বুকে ঢেলে দেবে, না কী রাগ করে দেখাই করবে না। যখন তাদের দেখা হবে, তখন দুই জনের মনের মাঝে কী খেলা করবে? জানতে ইচ্ছে হয়। দেখতে ইচ্ছে হয়। জানতে ইচ্ছে হয় পৃথিবী কারো কারো জন্যে এত নির্দয় কেন।
দিন পেরিয়ে যাচ্ছে। সময় আমাদেরকে কোথায় যেন নিয়ে যাচ্ছে। বেশিদিন আগের কথা তো নয়। চরম হ্যাণ্ডসাম বাবা আমার কেমন যেন বুড়িয়ে গেছে। আগামী বছর তিনি রিটায়ার করবেন তাঁর চাকুরী থেকে। সংসারের নানা দিক সামলাতে সামলাতে আর ছেলে-মেয়ের কাছে চাওয়া খুঁটিনাটি বিষয়গুলো না পেয়ে পেয়ে আমার মা কেমন যেন রোবট হয়ে গেছেন। সেই দিনই জন্মালো আমার ছোট বোনটা, ও দেখি এইচ,এস,সি পরীক্ষা দেবে আগামী বছর। দিদাটা কেমন যেন হয়ে গেছে। নির্লিপ্ত, নিরাসক্ত।
হয়তো সেই দিন খুব দূরে না যেদিন সৃষ্টির অমোঘ সত্যকে সাক্ষী রেখে এই প্রিয় মুখগুলো একজন একজন করে আমার সামনে থেকে বিদায় নেবে। এই বিশাল পৃথিবী তে আমি একা হয়ে যাবো। তখন আমার কেমন লাগবে? কেমন লাগে তখন?
কেমন লাগে?
এই জ্বালা সহ্য করেও মানুষ বাঁচে, কীভাবে বাঁচে?
সময় আমাকে একদিন নিশ্চয়ই সব প্রশ্নের উত্তর বুঝিয়ে দেবে। কিন্তু আমার যে সাহস নেই।





যদি জন্মানো নিজেদের ইচ্ছায় হতো !!!!
আশা করি সময় একদিন আপনাকে সাহসীও করে তুলবে!
ভালো থাকবেন
লেখা ভালো লাগলো।
ধন্যবাদ আপু লেখা পছন্দ করার জন্যে।
এতো বেশি ভাববেন না। লাভের মধ্যে একটাই হবে, অসুস্থ হবেন। যখনকারটা তখন দেখে নিবেন।
চিয়ার আপ দাদাভাই
ঠিক! এক্কেবারেই ঠিক কথা!!
এত ভেবে লাভ কি!
আপু, আমরা সব সময়ই কী শুধু লাভের দিকটা ভাবি, বলেন?
এই লেখাটা ভালো হয়েছে।
ধন্যবাদ ভাইয়া!
তখন একাকিত্বের ভাগ নেয় অন্য কেউ। আর সাথে সাথে এগুলো সামলানোর যোগ্যতাও তৈরী হয় মানুষের। ডোন্ট ওরি ......
মন্তব্য করুন