ইউজার লগইন

অনার্য'এর ব্লগ

হাল আমলের কবি এবং একজন মূর্খ

[আমার এক কবিবন্ধুর লেখা থেকে যে নিজেকে কবি/ লেখক বলে মানতে চান না । নিজেকে একজন পাঠক ছাড়া অন্য কিছু মনে করেন না । যে কারণে লেখকের নামটা দেয়া গেল না ।]

আমার কবি বন্ধু নুরুল ইসলাম ঠাকুর নুরু। রবি ঠাকুরের পর আর এক ঠাকুর- ভিষণ কবি; জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার কাব্যিক মহিমা। ডেকে বললেন- ওরে অর্বাচিন! কিছু তো শিখলি নে- যা ছিলি তাই রইলি- মূর্খ।

দেহজ প্রেম

দেহজ প্রেমকে তুমি
ভালোবাসা থেকে পৃথক কর না
প্রাণী মাত্রই তারই ফসল
এই পৃথিবীর গতি সঞ্চারিত হয়
কামে-প্রেমে-মোহে!
ধর্ষণেও সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে
কারণ-
তোমার শরীর সৃষ্টির
রহস্যময় এক আধার
আইনস্টাইন কি রবি ঠাকুর
সক্রেটিস প্লেটো বা মার্কস লেনিন
চে-গুয়েভারা অথবা মাওসেতুং
বুদ্ধ রাম মোহাম্মদ অথবা যীশু
সবার জন্ম প্রক্রিয়া একি বৃন্তে আবর্তিত
মোনালিসার দেহজ সৌন্দর্যই
কোটি কোটি মানুষের মনের খোরাক
তাই তো আমি তোমার শরীরের পুজারী
এ সত্য প্রকাশ করতে পেরে আমি ভার মুক্ত
যারা সভ্যতার খোলস পরে
এ সত্যকে নগ্ন বলছে-
নগ্নতা তাদের মনেই বাসা বেঁধেছে।
আমি মনকে শরীর থেকে আলাদা করছি না
শরীর আর মনের মিথস্ক্রিয়ায়
এ সভ্যতার জন্ম- শুধু তাই বলছি।

জীবন বহে নদীর মতো

এক.
বসন্তকাল- চৈত্রের শেষভাগ, রোদের তেজ যথেষ্ট। সকালেই সূর্য পূর্ণ তেজে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে চলছে। গতকাল একচোট ঝড়বৃষ্টি হয়েগেছে। আজ অবশ্য আকাশ পরিষ্কার। আকাশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে কেবল তুলার মতো হালকা একখণ্ড মেঘ ভেসে আছে। শুভ্র মেঘের ফাঁক গলে নীল আকাশ দেখা যায়।
সকালে জমিতে হাল দিয়েছে সাদেক আলী। সাদেক আলীর বয়স আনুমানিক বিশ। তার নাম রাখা হয়েছিল সাদিক আহমেদ। জন্ম হয়েছিল সুবেহ-সাদিকের সময়; তাই ঢাকায় পড়ুয়া বড়বাড়ির মেয়ে তার নাম রেখেছিল সাদিক আহমেদ। বড়বাড়ির মেয়ের সেই সখের নাম অশিক্ষিত বাবামায়ের ঘরে ক্ষণকাল থেকে হাফিয়ে উঠল। সাদিক আহমেদ পরিবর্তিত হয়ে বাবা-মায়ের কাছে হলো সাদেক আলী আর পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে হলো ‌'সাদেইক্যা'। সাদেক আলী ছোট সময় যদিও শ্যাম বর্ণের ছিল কিন্তু রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এখন হয়েছে কৃষ্ণবর্ণের। খাটোমতো ছেলেটি। বুকের পাটা যথেষ্ট চেপ্টা, চওড়া কপাল, মাথাবর্তি লালচে-কালো চুল।

স্বরূপ

জলে জোসনার প্রতিবিম্ব দেখে
শ্লেষে হেসে ওঠে হুতুম পেঁচা
পুকুরের এপার থেকে ওপার
ওপার থেকে এপার, তারপর
একটি ডালের ওপর বসে ।
জলে নিজের প্রতিবিম্ব দেখতে পায় নি বলে
ভীষণ ক্ষেপেছে সে
এবার উড়ে গিয়ে বসে
জলের উপরের একটি ডালে
ভেসে ওঠে জলে অবয়ব নিজের
অজান্তেই বলে পেঁচা
ওই কুৎসিত চেহারাটা কার !

সূর্যের সমুদ্র স্নান

বিকেলের ডাকে আসাদের চিঠি এসেছে। চিঠির মুল বক্তব্য : "ইদানিং কালের অবিবাহিত মুসলিম বাঙালি মেয়েদের বোরকা প্রিয়তা এতই বেড়েছে যে, উপলক্ষ্য লক্ষ্যকে ছাড়িয়ে গেছে। যাতে মূখ্য হয়ে উঠেছে গৌণ আর গৌণ হয়ে গেছে মূখ্য। বোরকা মূলতঃ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে তৈরি মেয়েদের জন্য এক প্রকার বিশেষ পোশাক। যা পরিধানের উদ্দেশ্যে নারীকে আচ্ছাদিত রাখা, সহজ কথায় নারীদের পরপুরুষের চোখের আড়াল রাখা। এটি হচ্ছে তাদের স্টাইল। আবহমান কাল ধরে ধর্মভীরু মুসলিম নারীরা নিজেদের একটু অবরোধ করে রাখতে পছন্দ করে আসছেন এবং এখনও করেন। তাই তারা এই বোরকার অভ্রুতে নিজেদের মুড়িয়ে রেখে বেশ সাচ্ছন্দ বোধ করেন। কিন্তু বর্তমান কালের অবিবাহিত বাঙালি মুসলিম নারীগোষ্ঠী বোরকাকে ফ্যাশন হিসেবেই গ্রহণ করেছে। তাদের পর্দা প্রথা মেনে চলা লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের আর একটু কামনাময়ী করে তোলা। মেয়েদের চোখের আর্ট সর্বদাই চমৎকার। কুৎসিৎ

সূর্যের সমুদ্র স্নান

নিরন্তর জীবন

একটা পালতোলা নৌকো নিঃশব্দে হারিয়ে যায়
দূরে আরও দূরে যেখানে নদীটাও হারায়
কিংবা কিছুই হারায় না সব আড়াল হয়ে যায়

স্মৃতি বিসৃত হয় অনেক চেষ্টায়ও পড়ে না মনে আর
উদাস মনটাকে বিক্ষিপ্ত ভাবনায় পেয়ে বসে
যা মনে করতে পারছি না তা যেন মনে করা কতটা দরকার
নয়তো জীবনের বড় একটা ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়
কিন্তু মন!
নিয়ন্ত্রণহীন!!
সে মনে করতে পারে না
তারও অনেক দিন পর একদিন স্বপ্নের ঘোরে অতীত স্মৃতি হানা দেয়
আমি বুঝতে পারি-
খুব অপ্রয়োজনীয় কিছু হারিয়েছিল যা না পেলেও চলত।
পাল তোলা নৌকার হারিয়ে যাওয়া
নদীর বয়ে যাওয়া
শীতের রিক্ততায় গাছদের পাতাঝড়া বা বসন্তে সজীব হওয়া
বর্ষা টুপ-টাপ জল পড়া
এমন সহজ বিষয়গুলো মন থেকে আড়াল হয়
কিন্তু হারিয়ে যায় না
হারায় না হাটু পর্যন্ত নগ্ন পায়ের মেয়েটি
যার পায়ে কাদার জুতো ছিল যে বলেছিল
শাপলা ফুল তার পছন্দ না- শাপলা রাতে ফোটা ফুল

বিদিকে পথ চলা

অনন্তকাল ধরে আমি হেটে চলছি শত শত অলোকবর্ষ দূরের অনন্ত নক্ষত্রের মায়াভরা পথে
আমার চলার পথ আঁধারের নিষ্ঠুরতায় মোড়ানো- কিন্তু আমি চলছি আলোর পথে
নক্ষত্রের রূপালি রাত , শিশিরের কোমল স্পর্শ , মৃদুমন্দ বাতাস আমার ক্লান্তিকে শুষে নেয়- আমি জড়া-মৃত্যুহীন অনন্ত যৌবনা ২২ বছরের তরুণ যুবক। আমার জন্ম হয়েছে সেই সে আদিম যুগে । পৃথিবীর বয়স আমার বয়স সমান । আমার পথের কোনো শেষ নেই - আমি পথ দিয়ে চলি না ; আমার পায়ের তলায় পথের জন্ম হয় ।
নক্ষত্রের মায়াভরা রাত সুদূরে জ্বলছে সপ্তর্ষিমণ্ডল , পৃথিবীর তাবৎ বৃক্ষ উর্ধ্বপানে আপন গতিতে চলছে , নিরবিচ্ছিন্ন গতির মায়ায় অনন্তের পথে ওদের অবিরাম ছুটে চলা ।
পরিব্রাজকের পথ চলা আর আমার পথ চলায় পার্থক্য যোজন যোজন; আবিষ্কারের নেশা আমাকে কখনও টানে না- আমি বেখেয়ালে চলি বিদিকে ।