ইউজার লগইন

জীবন বহে নদীর মতো

এক.
বসন্তকাল- চৈত্রের শেষভাগ, রোদের তেজ যথেষ্ট। সকালেই সূর্য পূর্ণ তেজে পৃথিবীকে উত্তপ্ত করে চলছে। গতকাল একচোট ঝড়বৃষ্টি হয়েগেছে। আজ অবশ্য আকাশ পরিষ্কার। আকাশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে কেবল তুলার মতো হালকা একখণ্ড মেঘ ভেসে আছে। শুভ্র মেঘের ফাঁক গলে নীল আকাশ দেখা যায়।
সকালে জমিতে হাল দিয়েছে সাদেক আলী। সাদেক আলীর বয়স আনুমানিক বিশ। তার নাম রাখা হয়েছিল সাদিক আহমেদ। জন্ম হয়েছিল সুবেহ-সাদিকের সময়; তাই ঢাকায় পড়ুয়া বড়বাড়ির মেয়ে তার নাম রেখেছিল সাদিক আহমেদ। বড়বাড়ির মেয়ের সেই সখের নাম অশিক্ষিত বাবামায়ের ঘরে ক্ষণকাল থেকে হাফিয়ে উঠল। সাদিক আহমেদ পরিবর্তিত হয়ে বাবা-মায়ের কাছে হলো সাদেক আলী আর পাড়া-প্রতিবেশীর কাছে হলো ‌'সাদেইক্যা'। সাদেক আলী ছোট সময় যদিও শ্যাম বর্ণের ছিল কিন্তু রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে এখন হয়েছে কৃষ্ণবর্ণের। খাটোমতো ছেলেটি। বুকের পাটা যথেষ্ট চেপ্টা, চওড়া কপাল, মাথাবর্তি লালচে-কালো চুল।
সাদেক আলীর খিধে পেয়েছে। সকালে যদিও বাসি ডাল আর পোড়া মরিচ দিয়ে এক বাসন পান্তাভাত গিলে এসেছে। তার আবার ‌'খাই খাই' স্বভাব আছে। সারাক্ষণ ক্ষিধে লেগেই থাকে। গম উঠিয়ে নিয়ে গমের জমিতে চাষ দিচ্ছে সাদেক আলী। গম কেঁটে নেয়ায় গোড়াগুলো রয়ে গেছে জমিতে। সাদেক আলী বলে 'গমের গোড়াগুলাইন অনেক সারের কাম দিব। সারের পয়সা হাসিব অইব।' সাদেক আলী প্রাইমারি স্কুল পাস করার পর আর পড়ালেখা শিখতে পড়ে নি। তার বাবা মারা গেছেন। বাবার মৃত্যুর পর বড় ভাই বিয়ে করল। বিয়ের কদিন পরই সাদেক আলী, ছাদেক আলীর মা এবং ছোট বোন আকলিমাকে রেখে ভিন্ন হয়ে যায় বড় ভাই। ভিন্ন হয়ে যাবার সময় সাদেক জিজ্ঞেস করেছিল,
মিয়া ভাই, বাজান নাই- আমাগো রাইখা আপনেও চইলা গেলে আমরা বাচুম কেমনে?
আমি কই যাইতাছি? আমি তো তগ লগেই আছি। আল্‌গিরস্থিরও তরেই দিলাম।
হেইলেতো আর আমার পড়ালেখা অইব না।
ভাইরে গরীবের লেইগ্যা পড়ন লেখন না; আল-গিরস্থি।
বড় ভাই ভিন্ন হওয়ার পর সংসারের সকল দায়-দায়িত্ব এসে পড়েছে কিশোর সাদেক আলীর উপর। সেই যে সাদেক আলী 'লাঙলের কুটই' ধরেছে, আজও তা ধরে আছে। জায়গা জমি ভাগে পেয়েছে সে পাঁচ বিঘা আর হালের গরু দু’টি, সাথে মা এবং ছোটবোনও যেন তাও ওয়ারিশ।
আধছেড়া মেটে রঙের জামাটি ঘামে ভিজে চ্যাপচ্যাপে হয়ে গেছে । সেদিকে খেয়াল নেই সাদেক আলীর, থাকার কথা ও না। তার পেটের মধ্যে একটা হাঙার কিলবিল করছে। কিছুক্ষণ পর আকলিমা না ভাত নিয়ে আসবে। তার আগেই দ্বিতীয় চাষ দিয়ে গরু দুটিকে জিরান দিতে হবে।
আকলিমার বয়স তের কী চৌদ্দ হবে। এরি মধ্যে তার শরীরে কৈশোর উত্তোরণের ছাপ অনেকাংশে লক্ষণীয়। সে একছাটা কামিজ পড়েছে। গত ঈদে অনেক কেঁদে-কেঁটে এটি সে পেয়েছে। তার মা বলেছে, 'মাইয়া মানুষ বড় অইছ, অহনও অমুন টিলিক-টিলিক কইরা গ্রাম দৌড়াইবা পরের ঘরে যাওন লাগব না, ঘরে খুটি দিমুতো!' তবু এ জামাটি সে সাদেক আলীর কাছে বায়না ধরে বানিয়ে নিয়েছেই। জামাটি গায়ে দিয়ে আসলেই সে 'টিলিক-টিলিক' করে ঘুরে বেড়ায়। আকলিমা লুঙ্গি দিয়ে ভাতের বল বেঁধে এনেছে। খেতের আইলের উপর রাখল ভাতের বলটা। তারপরে বলল, কুট্টিভাই ভাত আনছি, খাইয়া লও।
খাড়া আইতাছি। পানি আনছস্‌?
না।
তয় খাইমু কি দিয়া, হুগনা চাইংকা চাবাইমু?
জোবেদা পানি লইয়া আইতাছে।
ক্যা? তর আত কি কুমৈরে খাইছে নি?
জোবেদা কইল রান্দনের লেইগ্যা পানি নিতে গাঙ্গে আইবো। খালি কলস না আইন্যা তোমার লেইগ্যা কলের পানি লইয়া আইবো। ক্যান জোবেদা পানি আনলে তুমি খাইবা না?
না খাইমু না।
খাইবা আবার ভালাও কইবা... হি... হি... হি...
খাড়া বান্দরনি....
গরু ছেড়ে দিয়ে পাইচন নিয়ে তেড়ে আসে সাদেক আলী। আকলিমা ঠিক-ই বোঝে কুট্টিভাই তাকে মারবে না। কুট্টিভাইর চেয়ে বেশি আদার কেউ তাকে করে না। আর এ সুযোগে কথায় কথায় সে জোবেদাকে নিয়ে খেপায় সাদেক আলীকে।
জোবেদাদের বাড়ি সাদেক আলীদের বাড়ি থেকে অল্প দূরে। জোবেদা আকলিমার সই। সাদেক আলীদের সাথে বেশ উঠাবসা। জোবেদা বাসন্তী রঙের ছাপার শাড়ি পড়েছে। কাঁকে পানির কলস নিয়ে সাদেক আলীদের সামনে এসে দাড়ালো। চোখ-মুখে চটুলহাসি। গোলাকৃতির চেহারার থুতনির নিচে একটু ভারী। চোখ দুটি ভাসা ভাসা দীঘল-ঘনকালো চুলের বেনুনী পিঠ বেয়ে কোমড় ছড়িয়ে গেছে। জোবেদাকে সাদেক আলীর ভালোই লাগে। তারপরও বলল-
কিরে ঠোটে ওগুলান কী মাখছস্‌? দেহাতো যায় পেত্নীডার লাহান।
পেত্নী অইতেই মাখছি, জানি ভূতে আমারে চৌক্ষে দেহে।
এহেনে ভুত পাবি কই? চওয়া ক্ষেতে ভূত থাকে না।
তয় চওয়া ক্ষেতে পেত্নীও আহে না।
ঠোটে লিপিস্টিক পড়ায় জোবেদাকে সাদেক আলীর খারাপ লাগছে না বরং ভালোই লাগছে। কিন্তু ভালো লাগার কথাটি খুব সহজে সহজ করে বলতে পারে না সে। তার চেয়ে খারাপ লাগার কথাটা অনেক সহজে বলা যায়। সাদেক আলীর মুখ থেকে তাই উল্টো করে বেরিয়ে এসেছে জোবেদার সৌন্দর্য- সাদেক আলীর ভালো লাগা। মাঝে মাঝে সে মনে মনে ভাবে 'জোবেদাকে যদি বউ কইরা ঘরে আনবার পারতাম তয় আমি অইতাম এই দুনিয়ার হগগ্‌ল মাইনসের তন সুখী মানুষ।' কিন্তু এই সহজ সত্য কথাটুকু কাউকে বলা যে কত কঠিন তা কেবল সাদেক আলীই অনুভব করে; জোবেদার মুখোমুখি একা দেখা হয়ে গেলে তার লজ্জার শেষ থাকে না। সাদেক আলীর ঐকানিত্মক মুহূর্তে জোবেদা কেবল একটু হাসে তারপরে নিচ দিকে তাকিয়ে আপন মনে চলে গেলেও মন যেন রেখে আসে সাদেক আলীর কাছেই। সাদেক আলী ভিন্ন একটা যন্ত্রণায় কুকড়ে ওঠে। বুকের মধ্যে কী যেন একটা মোচর দিয়ে ওঠে, মুহূর্তেই বুকের ভেতরটা শূন্য হয়ে যায়, তীব্র একটা কষ্ট, একটা জমাটবদ্ধ ব্যাথা অনুভব করে বুকের বাম পাশটায়। ততক্ষণে জোবেদা চলে যায়। সাদেক আলী আর কিছু বুঝতে পারে না । হাঁটতে থাকলে হাঁটার গতি বেড়ে যায়, বসা থাকলে হঠাৎ দাড়িয়ে যায়, কিছুক্ষণ পরে আপন কাজে মন দেয়। কিন্তু কে যেন ভেতর থেকে অর্হনিশ ছটফট করতে থাকে; যার বহিঃপ্রকাশ অস্থিরতা। সাদেক আলরি মা অবশ্য ছেলের এ ব্যাপারটার বোঝে। কয়েকদিন আগে কথা প্রসঙ্গে বলেছেন, 'মাইয়াডা দেখতে দেখতে কদুর ডগার লাহান ডাঙ্গর অইয়া উঠছে, ঢকে-পদে ভালো, সংসারীও। যেই বাড়ি যাইব হেই বাড়ির লক্ষ্মী ফির‍্যা আইব।' সাদেক আলী মায়ের কথায় কোনো সাড়া-শব্দ করে নি, করবেই বা কী?
গত পরশু রাতে সাদেক আলী চমৎকার একটি স্বপ্ন দেখেছে। সাদেক স্বপ্নকে বলে খোয়াব । দেখে ছোট্ট একটি ঘর, চাটাইয়ের বেড়া, তা ভেদ করে চাঁদের আলো ঘরের অনেক কিছু আলোকিত করে তুলেছে। আবছা আলো আঁধারে জোবেদা সাদেক আলীর মাথার কাছে বসে চুলে বিলি কাটছে। সে জোবেদার একটি হাত নিজের বুকের উপর টেনে নিল। জোবেদা তার মুখের সামনে আর একটু ঝুকে এলো। সাদেক আলী জোবেদার চোখে চোখ রাখল। দু’জনের চোখের দূরত্ব কমে আসছে ধীরে ধীরে। সে দূরত্ব কীভাবে কমছে, তারা কেউ জানে না, জানার ফুসরৎ কখন। তারপর সুখের সাগরে ভাসল তারা।
কি ভাবতাছো কুট্টিভাই?
কোনহানে কী ভাবতাছি? ওই সব ভাবাভাবির সময় আমার নাই।

দুই.
ভাদ্র মাস চারিদিকে থৈ থৈ জল। এই ভরা বর্ষায় গত বছর জোবেদার বিয়ে হয়েছে ইউনুস ফকিরের ছেলে শরবত ফকিরের সাথে। শরবত বিড়ির ফেক্টরীতে কাজ করতো। কিছু টাকা-পয়সাও করেছিল। সেই ভরসায় জোবেদার বাবা জোবেদাকে বিয়ে দিয়েছে শহরে থাকা চাকুরে ছেলের কাছে। মেয়ে সুখে-শান্তিকত থাকবে। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সদ্য যৌবনা জোবেদা স্বামীর ঘর ছেড়ে বিধবা হয়ে ফিরে এলো বাপের বাড়ি। এ দিকে বাপও পরলোকগত হয়েছেন- মাস ছ' হলো । জোবেদাদের বাড়িতে কান্নার রোল পরে গেছে। জোবেদার গলা দিয়ে এখন আর জোড়ে কান্না বেড় হচ্ছে না; ফ্যাসফ্যাসে গলায় হুটুপুটি খেয়ে কাঁদছে সে। চোখের অশ্রূ না গড়াক, স্বামীর বিয়োগ ব্যাথা ক্রমে ঘুচে যাক তাতেই কি কান্না থেমে যাবে? এখন যে কান্না তা হয়তো স্বামী হারানোর বেদনার কান্না নয়; আগামী দিনের অন্ন বস্ত্রের চিৎকার; ফুলে ঢোল হয়ে উঠা পেটের মধ্যে আকুলি-বিকুলি করা অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনার চিৎকার। জোবেদার মা মেয়ের দুঃখে ইনিয়ে-বিনিয়ে কাঁদছে। শরবত ফকিরের যক্ষ্মা হয়েছিল। মাস কয়েক যক্ষায় ভুগে জোবেদার জন্য বিধবার সম্বল পেটের মধ্যে একটা 'কেউটে সাপ' রেখে পরম নিশ্চিন্তে— দেহত্যাগ করেছে। জোবেদার মায়ের চিন্তা এখন ভিন্ন ধারায় বহমান। জামাই মরেছে; 'আল্লারডা আল্লায় নিছে' কিন্তু জবেদার পেটে যে বাচ্চা তা না হলে আবারও নতুন করে বিয়ে দেয়া যেত। ক'দিন আর বয়স!
বাড়ির আঙ্গিনায় বসে আছে সাদেক আলী। যতদূর চোখ যায় কেবল পানি আর পানি। তার উপর ভেসে আছে কোথাও কোথাও আমোন ধানের দল। অনেক দূরে একটি গ্রাম। চোখের সীমানা ওখানেই সমাপ্ত হলেও ওসবের কিছুই দেখছে না। সাদেক আলীর চোখের সামনে ভেসে ওঠেছে জোবেদার করুণ অবস্থা। বাপ নেই, ভাইয়েরা যে যার মতো আলাদা। শরীরে যে সুদের বীজ সে বপন করে এনেছে তা থেকে নিস্তার নেই জোবেদার। বাঙালী সমাজে এক বিয়ে হলে মেয়েরা 'সেকেন্ড হ্যান্ড' হয় আর একটি বাচ্চা হলে সে 'থার্ড হ্যান্ড' ড্রাইভ দিয়ে ফোর্থ ক্লাস অর্থাৎ চতুর্থ শ্রেণীতে গিয়ে পৌঁছে। ফোর্থ ক্লাস একটি বস্তুকে গলগ্রহ করতে কার এমন ঠেকেছে। এ সমাজে মেয়েদের চেহারা আর অনাঘ্রাত যৌবনেরই যতোটুকু মূল্য ! জোবেদার বাকি জীবনটা কাটবে কোনো ঘা-পার দেয়া স্বামীর সংসারে তাও হতে পারে আর একজন মহিলার সাথে শেয়ার করে অথবা বাকি জীবন কাটবে নিঃসঙ্গেতায়। কত পূর্ণিমার রাত আসবে পৃথিবী তার আলোয় ভাসবে- জোবেদার শরীরে জোয়ার আসবে, কূল ছাপিয়ে জল গড়াবে চারিদিকে। কেউ টের পাবার আগেই সে স্রোতে ভাটি আসবে। হয়তো বা কোনো জোয়ারে নিষিদ্ধ আভিসারে পাল উড়াবে জোবেদা, কখনো বা নিকষ রাত্রিতে জগদ্দল পাথর হয়ে বুকে চেপে বসবে অপ্রাপ্তির কষ্টগুলো। দহনের পিপাসায় কাতরাবে কত রাত। দিন আসবে দিন যাবে, ধীরে ধীরে ক্ষয় হবে জোবেদা। বসন্ত-বিলাশের পরিবর্তে দু’মুঠো ভাতের জন্য বাড়ি বাড়ি কাজ করবে, শুধু কী কাজ ! কত লাঞ্চনা, কত গঞ্জনা প্রয়োজনে আরো কিছু।
জোবেদার বর্তমানের সাথে ভবিষ্যতের সূতা জোড়া দিতে গিয়ে বুকের ভেতরে আগের সেই কষ্টটা আবার টের পায় সাদেক আলী।
এমন একদিন ছিল যেদিন জোবেদার জন্য তার নিদহীন কাটতো তমসার রাত্রি। জোবেদা ছিলো তার ধ্যান-জ্ঞান আরাধ্য- এই পরম সত্যটুকু প্রকাশের পূর্বেই ঝড় উঠেছিলো স্বপ্নবাসরে। প্রচণ্ড সে ঝড়ে ভেঙে চুড়মার করে দিয়েছে সব। ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে বারবার। ধীরে ধীরে সে ক্ষত যখন শুকালো তখনি আবার কেন সে ভাঙ্গাবাসর তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে। জোবেদার জন্য এখনো কেন তার মন-প্রাণ কাঁদে সারাদিনমান করুণ সুরে বাজিয়ে বাঁশি।
হঠাৎ জোবেদার প্রচণ্ড চিৎকারে সাদেক আলীর অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ দর্শনে বাধা পরে। চিন্তার স্রোত থেকে বাস্তবে ফিরে আসে। অস্পষ্ট কণ্ঠে বলতে থাকে- 'আল্লার কোন পদের লীলা-খেলা এইডা!' তারপর মনের অজান্তেই এক সময় জোবেদাদের বাড়ির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে সাদেক আলী।

গল্পে ব্যাহৃত কিছু আঞ্চলিক শব্দের আভিধানিক রূপ :

টিলিক-টিলিক = অশোভনভাবে চলাফেরা
আইলের = জমির সীমা নির্দেশক বাঁধ
কুট্টিভাই = ছোট ভাই
হুগনা চাইংকা = শুকনো মাটির ঢেলা
আত = হাত
কুমৈরে = কুমির
রান্দনের লেইগ্যা = রান্নার জন্য
আইবো = আসবে
পাইচন = হাল চাষ করার সময় গরু তাড়াবার কাজে ব্যবহৃত লাঠি বিশেষ
ওগুলান = ওগুলো
ঠোডে = ঠোঁটে , ওষ্ঠে
অইতেই = হওয়ার জন্য
চৌক্ষে দেহে = চোখে দেখে
চওয়া খেতে = চাষ করা জমি
হগগ্‌ল মাইনসের তন = সকল মানুষের চেয়ে
মাইয়াডা = মেয়েটা
কদুর = লাউ
লাহান = মতো
ডাঙ্গর = বড়
ফির‍্যা = ফিরে

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অতিথি : রাজন's picture


ভালোই লেগেছে । একটু সেকেলে । আবু ইসহাকের প্রভাব আছে বলে মনে হলো । তা থাকতেই পারে । আর একটা কথা - জোবেদাকে আবহমান বাংলার সদ্য বিধবা নারীর মডেল মনে হয়েছে ।

অনার্য's picture


আবু ইসহাকের বিখ্যাত উপন্যাস সূর্য দীঘল বাড়ী এবং বিখ্যাত গল্প জোঁক সহ আরও বেশ কয়েকটি গল্পের প্লট যেখান থেকে নেয়া জীবন বহে নদীর মতো গল্পের প্লটও সেখান থেকে নেয়া । আমি আনন্দিত যে- আবু ইসহাকের মতো একজন মহান লেখকের প্রভাব আমার লেখায় আছে । ধন্যবাদ ...........

তানবীরা's picture


হয়েগেছে মানে কি হয়ে গেছে? ভাঙ্গাবাসর মানে কি ভাঙ্গা বাসর? সারাদিনমান মানে কি সারা দিনমান?

টাইপোগুলো ঠিক করে দিলে পড়তে আরাম হবে

সখের
হাফিয়ে
চেপ্টা
মাথাবর্তি
খিধে
ছাদেক আলীর
আদার
কাঁকে
বেনুনী
ফেক্টরীতে
শান্তিকত
জোড়ে
বেড়
হুটুপুটি
অশ্রূ
জবেদার
আমোন
লাঞ্চনা

বাঙালী সমাজে এক বিয়ে হলে মেয়েরা 'সেকেন্ড হ্যান্ড' হয় আর একটি বাচ্চা হলে সে 'থার্ড হ্যান্ড' ড্রাইভ দিয়ে ফোর্থ ক্লাস অর্থাৎ চতুর্থ শ্রেণীতে গিয়ে পৌঁছে।

গল্পটা পড়তে গিয়ে এই লাইনটা আমার কাছে চরম আপত্তিকর লেগেছে। যাকে বলে অশ্লীল। শারীরিক পরিবর্তন দিয়ে শ্রেণীতে ফেলা?

অনার্য's picture


আমি কোনো শ্রেণি বা পেশার মানুষকে আক্রমণ করতে চাই নি । তবে গ্রামবাংলার বাল্য বিধবা / অল্প বয়েসে বিধবা হয়েছে - এমন অনেককে দেখেছি , তাদের করুণ পরিণতিটা আমার জানা । সমাজ তাদের কোন চোখে দেখে আমি কেবল তাই প্রকাশ করেছি ।
আর একটা কথা আমি অনেক কষ্টে অনেক সময় নিয়ে সামান্য কিছু টাইপ করতে পারি । তাছাড়া আমি যে কাজ করি তাতে নিজে টাইপ করার সময় পাই না । লেখার ক্ষেত্রে কম্পোজের কাজটা আমার কম্পোজার করে দেয় । ফলে ত্রুটি থেকেই যায় । তবে আমি জানি - আমার জবাবটা আসলে দায় এড়ানোর জন্য হতে পারে ।
আমার সচেতন হওয়া উচিত ।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

অনার্য's picture

নিজের সম্পর্কে

অনার্য বলতে যা বোঝায় আমি ঠিক তাই
দর্শন : নিজের সঙ্গে নিজের বোঝাপড়া
সাস্কৃকিত কর্মকাণ্ড :
১. নাট্যকর্মী , বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী ।
২. গল্প, কবিতা , উপন্যাস , শিশু সাহিত্য নিয়ে কাজ করি
৩. দপ্তর সম্পাদক : বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘ
৪. প্রকাশিত গ্রন্থ : ১০ টি
তাছাড়া অনার্য নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা নিয়ে কাজ করছি ।
পেশা : কলম বেচা ( বিক্রি অর্থে)
জন্ম : আসমানের নিচে জমিনের উপরে কোনো এক চৈত্রের ঠিক দুপুরে (২২ মার্চ)