হাল আমলের কবি এবং একজন মূর্খ
[আমার এক কবিবন্ধুর লেখা থেকে যে নিজেকে কবি/ লেখক বলে মানতে চান না । নিজেকে একজন পাঠক ছাড়া অন্য কিছু মনে করেন না । যে কারণে লেখকের নামটা দেয়া গেল না ।]
আমার কবি বন্ধু নুরুল ইসলাম ঠাকুর নুরু। রবি ঠাকুরের পর আর এক ঠাকুর- ভিষণ কবি; জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তার কাব্যিক মহিমা। ডেকে বললেন- ওরে অর্বাচিন! কিছু তো শিখলি নে- যা ছিলি তাই রইলি- মূর্খ।
আমি অর্বাচিন শব্দের আভিধানিক অর্থ জানি না, মুর্খ যে একটা গালাগাল তা বুঝি। অভিধান নামক অমন ঢাউস সাইজের বইটি দেখলেই আমি ভয় পেয়ে যাই। বুঝি ওটা মান্যিগন্যি লোকের কেতাব লক্ষ লক্ষ শব্দ ওর মধ্যে ঘাপটি মেরে আছে- সেসব শব্দ দিয়ে নিজের ভেতরের জ্ঞান জাহির করতে হয়। ইদানিংকালের কবিরা তা করেন। তারা অভিধান ঘেটে শব্দ নির্বাচন করে শব্দের পর শব্দ সাজান, উইপোকার মতো চষে ফেলেন ডিকশনারি, তারপর একটি মহৎ কবিতার জন্ম দেন। সে কবিতা আমার মতো মূর্খ বোঝে না! সে কবিতার পাঠক আলাদা- যারা শব্দের জাহাজ বিদ্যার গুরু। আসলে কবিদের কথাই আলাদা। তাদের প্রতিভা "গড গিফটেড"। শব্দগুলো অভিধানে গুমড়ে কাঁদে- কবি যখন তাদের যথেচ্ছ ব্যবহার করেন তখন তারা প্রাণ পায়। কবির চোখ আলাদা তাইতো তারা নারীদের ব্যবচ্ছেদ করে তার ভেতরের সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারেন। তারা ভালোবাসার কথা বলেন ইনিয়ে-বিনিয়ে। কবি যখন বলেন- কাঁদিব তব তরে জনম জনম ভর ; তখন মুর্খ বলে- “আই তরে কত্ত ভালো পাইরে সখিনা।” কবি আর মূর্খের ফারাক এখানে। কবি নারীর মাথার সিঁথি থেকে উরুসন্ধির সিঁথির দৈর্ঘ্য মেপে বলেন- যোজন যোজন দূরুত্ব। মাঝে পাহাড় পর্বত জঙ্গল আছে যত শত। আর মূর্খ জাতির ঘাড়ে আর একটি মূর্খের চাপ বাড়ায় সর্বোচ্চ।
উৎসর্গ
কবি নুরুল ইসলাম ঠাকুরকে





ভাল লাগলো
কবিতা কেবল পুরুষদের জিনিস আর নারী এর অপরূপ এক মশলা পড়ে মজা লাগলো।
এটা কি বন্ধুর ওপর প্রতিশোধ নেয়া হলো? বুঝলাম না
মন্তব্য করুন