নিত্য পুরাতন ও অন্যান্য
সময়ের সাথে সব বদলায় না মানুষ বদলায়। আমার মনে হয় সময় আর মানুষ পরপস্পরের সাথে বদলায়। গত কটা দিন ঘাপটি মেরে ফেসবুকে বসে থেকে আমার এ উপলব্ধি। এই যেমন আগে বন্ধুরা আপডেট দিত-বোরিং ক্লাস ঘুম আসে। কাল এক্সাম সব ভুলে গেছি...।পি কে স্যারের *******। আজ তাদের আপডেট অফিসে বসে ফেসবুক ঘাটছি বা কাল শুক্রবার কি শান্তি। আবার কাল এক বন্ধু দেখলাম এক ধাপ এগিয়ে আপডেট দিল কবে যে একটা বঊ পাব ইত্যাদি। আমার ও ভালোই চেঞ্জ হয়েছে। কোন ছবি ভাল লাগলে বা খুব বেশি কিছু না হলে আমার কোন স্ট্যাটাস থাকেনা। কি লিখব? আমার নতুন জীবনে কোন ঘটনাই নেই। একেবারে পোড়া বাড়ির ভাঙা পাতিলে জমে থাকা পানির মত-মাঝে মাঝে কোন মশা বা কিছু উড়ে এসে বসলে যা একটু ঢেউ হয়; না হলে নয়। আগের জীবনে প্রতিটা মহুর্ত ছিল ঘটনা ফ্রেমে বেধে রাখার মত। এখন আমার নিজেকে পলাতক মনে হয়। পালিয়ে বেড়াই । ছেলেবেলায় পড়েছিলাম এখন যা বর্তমান তা একটু পরে অতীত।তাই বর্তমানের নাম দেয়া যেতে পারে নিত্যপুরাতন।
আমার এ জীবনে নিত্যপুরাতন এই সময় থেকে পালিয়ে বাঁচতে গিয়ে কখন যেন সবার থেকে অনেক দূরে সরে গিয়েছি জানিনা। আমার শনি থেকে বৃহস্পতি কাটে ক্ষনে ক্ষণে ঘড়ির দিকে তাকাতে তাকাতে। কখন চারটা বাজবে কখন বন্ধ হবে শাটার? ব্যাংকে হাজার মানুষের মাঝে নিজেকে অসহায় মনে হয়। “ভাই আমার কার্ড বুথে আটকে গেছে- ভাই পিন ভুলে গেছি। --ভাই টাকা পাইনাই ডেবিট হয়ে গেছে।।ইত্যাদি ইত্যাদি”। কান পচে যায় এদের কথা শুনে। এখন তো অনেক সামলে নিয়েছি- প্রথমে এত মানুষ দেখে আমার এত ভয় লাগত যে কি বলব। পিন পাই না। কোন টার কি কোড কিছু জানিনা। এক দিন তো আর না পেরে বাথরুমে গিয়ে একেবারে কেঁদে দিয়েছি। এক ভদ্রমহিলা তো দেখে থ।পরে যখন এসে কার্ড ডিভিশনের টেবিলে বসলাম তখন ঐ মহিলাই সামনে-কার্ড এক্টিভ করার জন্য। আমার যে কি অবস্থা তা বলার মত না। আমার আজীবন ই মানব ভীতি আছে। যেখানে ভীড় বেশি সেটা আমি সযতনে পাশ কাটাই। পিকনিক পুনর্মিলনী এগুলাও খুব পরিচিত গোটা দশেক অন্তত না থাকলে যাই না। অসামাজিক বলতে পারেন কিন্তু আমি এমনই। এই তো সে দিন আমি রাসেল ভাইয়া কে ফোন করলাম। কিন্তু ফোন করে কিছু কথা বলার পর আমি আর কি বলব বুঝে পাচ্ছিলাম না। খুব বেশি হলে দেড় মিনিট আমি আর কথাই বলতে পারলাম না। আমার চরিত্রের মাঝে আবার একটা বৈপরীত্য ও আছে। এক বার কারো সাথে পরিচয় হয়ে গেলে বা বন্ধুত্ব হয়ে আমি যে কত কথা বলতে পারি মাশাল্লাহ। এই যেমন আমি এখন দায়িত্ব টার সাথে পরিচিত হয়ে ভালোই বন্ধুত্ব পাতিয়েছি ডাচ বাংলা ব্যাংক আগ্রাবাদ শাখার কার্ড ডিভিশনের সাথে। একেবারে সর্বেসর্বা। কার্ড ডিভিশনের ইনচার্জ!!!কেউ যদি ঢুকেন তবে হাতের ডান পাশে যে টাকলু মিয়াকে দেখবেন সেই আমি। বিশাল ভাব নিয়ে বসি। অল্প বয়সে গেছে চুল (সব না) আর হয়েছে ভুড়ি। প্রথমে মানুষ আসলে তাদের আমি কি যে ভয় পেয়ে পেয়ে কথা বলতাম বলার না। আর এখন কারো কার্ড এক্টিভ হয়নাই- পিন নিসে সাত দিন। হতেই পারে। বলি, “ঢাকা কার্ড ডিভিশন যে কি করে বুঝিনা ভাই- আচ্ছা আমি আজকেই আবার আপনার কার্ড নাম্বার পাঠাচ্ছি। পরশু এক্টিভ হবে মাস্ট।” চারটা পর্যন্ত এভাবে কমসে কম আমি যে কত মানুষের চেহারা দেখি আর কথা বলি এখন যারেই দেখি চেনা চেনা লাগে।মানব ভীতি এখন নাই বললেই চলে। খারাপ লাগেনা এখন। আর আমার কাজ কারবার ভয়াবহ। যেমন একবার একটা চেক ক্যান্সেল করালাম ডাচ বাংলাকে ডাশ লেখার অপরাধে।পরে ওই লোক আবার চেক আনল আর আমাকে দেখায়, “স্যার ঠিক আছে?”আবার আরেক বার জনতা ব্যাংকের একটা চেকে কোন শাখা বোঝা যাচ্ছেনা শুধু অনুস্বার আর বিবারিয়া দেখা যায়। আমি সাথে সাথে ফোন দিলাম জনতা ব্যাংকের ম্যানেজার সাহেবের কাছে। আমি ওনাকে সাআলাম টালাম দিয়ে বললাম স্যার এই অবস্থা। আপনাদের ব্রাম্মনবাড়িয়াতে যে ব্রানচের নামের শেষে অনুস্বার আছে বলেন উনি যাস্ট আমাকে বললেন “বাবারে আপনাদের সারা বাংলাদেশে যতটা ব্রাঞ্চ আছে আমাদের বিবাড়িয়াতে তার চেয়ে কয়েকটা কম আছে।” আমি বলি স্যার শুধু অনুস্বার ওয়ালাগুলা বললেই হবে। বেচারা পরে আমাকে প্রায় ২০ তা ব্রাঞ্চের নাম বলার পর আমি পেলাম ভুলাচং ব্রাঞ্চ। ইউরেকাআআআআআআআআআআআআ।নিত্যপুরাতন সময় তাই আজকাল খুব খারাপ যায় না। লেখাতেও কি বৈপরীত্য তাই না। প্রথমে বললাম ভাল না পালাই-এখন বলছি ভালই চালাই।আমরা তো আসলে সবাই ই এমন ই নিজেরই ঠিকানা পাবে কিনা পাখি তা নিজেই জানেনা টাইপের। আমার এই লেখাটা এবি তে কোন কিছু যোগ করা বা ভাল কিছু লেখার উদ্দেশ্যে নয়। যাস্ট এমনিই লেখা একটা আওয়াজ দিয়ে যাওয়া যেমন আমরা মাঝে মাঝে ক্লাসে গিয়ে জানাতাম স্যার পড়ালেখা একে বারে ছেড়ে দেইনাই। আছি এখনও।
সে যাই হোক ভাবছিলাম গিয়ানের কথা বলব কিছু বলা হলোনা। উলটা জ্ঞান বানান ভুল। চিটাগাং এ এখন সেরাম অবস্থা বিশ্বকাপ হইবেক তাই চলিছে স্টেডিয়াম যাবার রুটের আশে পাশের বাড়ি ঘরে রঙ দেয়া। টাইগার পাশে আছে টাইগার। ভাঙা রাস্তা ভাঙা থাকলেও নয়া রাস্তায় নতুন করে কার্পেটিং হইয়াছে। শুনিতেছি কিছু বাস কমাইয়া বিদেশীদের সামনে দেশের ঈজ্জত ও বাড়ানো হবে। ইন টোটাল যা কিছু ই হবে আমার মত কুল ম্যাংগোপিপুলরা বাম্বু খাবে। ভিখারীদের কে ১৫০ টাকা করিয়া দেয়া হবে যেন বিদেশীদের সামনে মাথা নত না করে!!!আমরা পাব স্বাস্থকর জাতির সম্মান কারণ বাস না থাকলে হেঁটে যাওয়া ছাড়া ছাপোষা মানুষের গতি কই? বাঙালী জাতি বড়ই কৌতুকপ্রিয় জাতি। আমাদের সংস্কৃতিকে উপরে তুলে ধরার জন্য আর অবিরাম ইভা না থুক্কু বাংলার মুখ দেখার প্রত্যয়ে আসবে কাট্রিনা কাইফ। নাচিবে কাট্রিনা কাঈফ ঊঁচিবে আমাদের সংস্কৃতি। সত্য না মিথ্যা জানিনা যা কিছু ব্যাবসার জন্য ভাল তার সাথে যারা থাকে তারা দখি এ শিহরিত নিউজ ও দে্য বিনুদুনের পাতায়। মানে বিশ্বকাপ উদবোধনের কারণে ওনেক মুল্য দিয়ে হলেও যদি কিছু মানুষের বোধের উদবোধন হত তবে বেশ হত। আশা করি গন্ডারসম চামড়া হইলেও আমরা গন্ডার না মানুষ।এক না এক পর্যায়ে খোঁচা লাগার ই কথা।
হইসে আজকের ক্লাস এইখানেই খতম। আজ আর নয়। যাও বাসায় যাও। ক্লাস শেষ করার আগে ধিক্কার জানাই শখত মামাকে যিনি শেয়ার নিয়ে মানুষের আবেগ কে পুজি করে সাদা কালো গল্প ফাঁদেন। বাংলার মানুষের কাছে দাবি জলদি সবাই যত পারেন এই বই কিনে ফেলেন যেন বাজারে না থাকে। তবে শুভ কামনা রইল শিপন ভাইয়ের জন্য।
টা টা বাই বাই।





পরেরদিনের কথা কইলা না ভাইজান?? ফোন দিলাম চিন্তে পারলা ম্যালাক্ষন পর।তারপর কইলা পরে ফোন দিমু আর তো দিলা না।আসলে সেদিন তোমারে ফোন দিসিলাম থ্যাঙ্কু কওয়ার জন্য।
তোমার অবস্থা আমারো হয়ছিলো এক সময়।রাতে ঘুমালেও দেখতাম ঐ ডিপোতে এমোডিস কম গেছে এলাকার লোকজন আমাশয়ে মরে ভুত হয়ে যাচ্ছে, আরেক ডিপোতে সেকলো নাই তাই এলাকার লোকের পেটের গ্যাস রান্নার কাজে ব্যবহার হচ্ছে।
কেটে যাবে সব অন্ধকার সহসাই।

ভাইয়া ধইন্যা। কিন্তু আপনারে নিয়া বড় চিন্তায় আছি। দেশে আসার আগে কত ফাল পাড়লেন আইসা এইডা করুম ঐডা করুম মাগার কিছুই করলেন না। একদিন কইলাম চিটাং আসেন। বিপুল ভাব নিয়া কইলেন
কিন্তু কিছু না করেই তো যান গা মনে লয়।বড়ই চিন্তিত আপনারে নিয়া আমরা সবাই।
অ:ট: আচ্ছা ভাইয়া যে সব মেয়ের আক্কেল দাঁত থাকে তাদের হাসি নাকি খুব সুন্দর হয়? আবারও ধৈন্যা
আমি নিজে যে বিষয় নিয়া ফাল পারছিলাম তা সবই করছি।কিন্তু তোমরা যা নিয়া ফাল পারছো মানে আমার বিয়া,সেটা তোমরাই দিতে পারো নি। খালি চিন্তা না কইরা চিন্তামুক্ত হওয়ার উপায় বের করো।
আর অট বুঝি নাই।বুঝায় দাও।কারন আমার নিজেরও সব আক্কেল দাঁত উঠে নাই।
আমিও
আরে আশফাক যে! চমৎকার লেখা, দোয়া করি পোড়া বাড়ির ভাঙা পাতিল যেন বিয়ে বাড়ির বিশাল তামার পাতিলে পরিণত হয় (প্রতিদিনই কাজে লাগে, প্রতিদিনই লেখা আসে)
শুভ চাকর্জীবন
ডাশ বাংলা লেখায় চেক রিফিউজ করা-- মাশাল্লা! তুমি বিসিএস দাও। তোমাকেই খুঁজছে আমলাতন্ত্র
জাকির হোসেন রোডে পরশু সন্ধ্যায় রাস্তা পার হচ্ছি, লক্কড়-ঝক্কড় এক বাস দাঁড়ানো থেকে সবে একটু গতি নিয়েছে-- তার সামনের কাঁচ পুরোটা খসে পড়লো। আমার পিছনের জনের গোড়ালি কেটে রক্তারক্তি। ঐ রাস্তা দিয়ে পেনিনসুলা থেকে স্টেডিয়াম যাবে পিলেয়াররা। কাল সন্ধ্যায় কানাডার প্লেয়াররা আসছে, সাইরেন বাজায় পুলিশের গাড়ি এসকর্ট করে নিয়ে আসতেছে, বাকী রাস্তার সবাই স্থবির।
আপা যাই বলেন কাজটা ভাল করসিনা?বিসিএস দেয়ার একটা প্লান আছে। এই টা তো কিছুই না এক লোকের ছহোবি মিলসে কিন্টু সাইন মিলেনা এর লাইগা তারে দিয়া আমি ২৩ টা সাইন নিয়া প্রাকটিস করাইয়া আসল সাইন বাইর করসি। বুঝলেন আপা "Being Suspicious is the sign of good administrator " ভাইবেন না আমারে মানুষ ডরায়? আমার কিন্তু ভালই সুনাম হইতেসে। আইসেন একদিন অফিসে।
অনেকদিন পরে, মনে হয় চাকরীর পরে এটাই প্রথম পোস্ট । নতুন নতুন অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হবার এইতো সময় । শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ । মাঝে মাঝে ব্লগে এসে লেখার চর্চাটা রাখলে পরে কাজে আসবে, আমরাও সুন্দর লেখা পড়ে আনন্দিত হব ।
অনেক দিন পর নাজমুল ভাইয়ের দেখা পেলাম। ধন্যবাদ। কেমন আছেন? আপনারে দেখিনা ইদানিং বেশি- কি ব্যাপার।
সুন্দর ভাবনা। চুপচাপ পড়ে গেলাম।
কেউ যদি ঢুকেন তবে হাতের ডান পাশে যে টাকলু মিয়াকে দেখবেন সেই আমি। বিশাল ভাব নিয়ে বসি। অল্প বয়সে গেছে চুল (সব না) আর হয়েছে ভুড়ি।..............।
==========================
তাইলে আপনারে তো দেখছি মনে হয়, আমি ওই ব্রাঞ্চের গ্রাহক, মাসে দুয়েকবার তো যাওয়া লাগে। আপনি ডানদিকে গেটের পাশের ডেস্কে বসেন? গতকালকেও তো গেছিলাম। পরের বার গেলে টাকলু ক্লোজ আপে দেখে ঢুকবো।
নীড় দা আপনি আমাকে দেখছেন। এবার আসলে প্লিজ আমার সাথে দেখা করে যাবেন প্লিজ..খুব ভাল লাগবে.।অনেক খুশি হব
হয় নাই হয় নাই, আমার বইয়ে শেয়ার বাজার নিয়া কিছু নাই
শুনেছি, আসন্ন বিশ্বকাপ ক্রিকেট উপলক্ষ্যে, বাড়ি-রাস্তা-গাছ থেকে শুরু করে ভাঙাভুঙা গাড়ি/বাসকেও রঙ্গিলা করা হচ্ছে..দেশের বির্বণ আর ভাঙাচুরা মুখের মানুষগুলো নিয়ে কী পরিকল্পনা সে কথা তো শুনিনা..তারা সবাই কি করপে? এমনি জানতে ইচ্ছে করলো গো ভাই....শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন! নতুন চাকুরীজীবন উপভোগ করুন ধুমাইয়া। ভালো থাকা হোক।
বাতি দা মানুষ ভাঙাচোড়া বলেই রং দানবের তান্ডব ভাই।
মন্তব্য করুন