যুদ্ধাপরাধের বিচার
যুদ্ধাপরাধের বিচার ।
- অবশ্যই হওয়া উচিৎ । শুধু যুদ্ধাপরাধের নয়, তাবত মানবতা বিরোধী অপরাধের । গত চল্লিশ বছর ধরে ধক ধকে এই ক্ষতটি জাতি তার হৃদপিন্ডে বয়ে বেড়াচ্ছে । শহীদদের স্বজনরা দেশের সব কটি সরকারের কাছে বিচার দাবি করে আসছে । কেউ তেমন গা করেনি । ১৫ অগাষ্ট ’৭৫ পর্যন্ত কিছু ছিঁচকে অপরাধীর সাজা হয়েছিল বলে জানা যায় । সবুর খান সহ কিছু বড় অপরাধী জনকের বদান্যতায় ক্ষমা পেয়ে গেছিল । চিহ্নিত অপরাধীদের অনেকে বিদেশে পালিয়ে গেছিল । নব্য প্রভাবশালীদের আশ্রয়ে বেঁচেছিল কেউ কেউ । জালে যারা আটকা পড়েছিল তাদের বেশির ভাগই চুনোপুঁটি । তাদের বিচার ও সাজা মওকুফ হয়ে গেল জিয়ার আমলে । আইনটি ও বাতিল হয়ে গেল । বিজয়ের অব্যবহিত পর থেকে কিন্তু শুরু হয়ে গেছিল নিত্য নূতন মানবতা বিরোধী অপরাধ, যেগুলি খুব স্বল্প সময়ে যুদ্ধাপরাধের মতো জঘন্য অপরাধটিকে অনেকটা চাপা দিয়ে ফেলেছিল । তাৎক্ষণিক ক্ষতের যন্ত্রণায় বিধস্ত জাতি এই জঘন্য ক্ষতটির জ্বালা অনেকটা নীরবে স’য়ে আসছিল । কার কাছে বিচার চাওয়া যায় ! জনক বলেছিলেন, কার বিচার করবো সবাইতো আমার ভাই ! তিনি ঢালাওভাবে মাফ করে দিলেন । ঘোষক এসে ঢালাওভাবে প্রতিষ্টিত করলেন এদের । মন্ত্রী মিনিষ্টার বানালেন । পরবর্তী সব সরকার/দল ক্ষমতায় যেতে বা টিকে থাকতে এদের সাথে হানিমুন করেছে । আন্দোলনের সহযোগী করেছে, গুরুত্তপূর্ণ মন্ত্রিত্ব দিয়েছে । যারা বাপ-ভাইকে খুন করেছিল, মা-বোনের ইজ্জত লুটেছিল যারা, তাদের কারো কারো গাড়িতে রক্তের দামে কেনা লাল সবুজ পতাকার পত পত করে উড়া দেখতে হয়েছে দুর্ভাগা এ জাতিকে ! এর চেয়ে বড় অপরাধ কিছু আছে ?
- আমি প্রথম লাইনে বলেছি, শুধু যুদ্ধাপরাধ নয়, মানবতা বিরোধী সব অপরাধের বিচার হওয়া অবশ্য অবশ্যই উচিৎ । রাজনৈতিক, সামাজিক সব অপরাধের । রক্তাক্ত ‘৭১ থেকে কিছুটা শান্ত এই '১১’র ডিসেম্বর পর্যন্ত মানবতা বিরোধী যত অপরাধ সংঘটিত হয়েছে সব গুলির ।
- '৭১ এর ঘাতক-দালালরা অচিহ্নিত কেউ নয়, ব্যক্তি-স্বার্থে তাদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে রক্ষা করেছিল যারা, তারা ও অপরিচিত নয় কেউ । স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে পড়শীর স্বার্থে যারা পাট শিল্পকে সম্পূর্ণ রূপে ধ্বংস করে শিশু রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড গুড়িয়ে দিয়েছিল, কৃত্রিম দূর্ভিক্ষ ঘটিয়ে হাজার হাজার মানুষ খুন করেছিল যারা, ঘৃ্ন্য রাজনৈতিক করণ আর দলীয় করণে রাষ্ট্রের সকল ইনিষ্টিটিউশন যারা ধ্বংস করেছিল, কলুষিত করেছিল শিক্ষাঙ্গন, সহমত নয় বলে হাজার হাজার রাজনৈতিক কর্মী ( জাসদ এর মতে তাদের ৩৯ হাজার কর্মী ) হত্যা করেছিল, সংখ্যা গরিষ্টতার জোরে গণতন্ত্রের সমাধি রচনা করেছিল যারা, জ্বিহুজুর গোছের চারটি রেখে বাদ বাকি সব পত্রিকার মৃত্যু দন্ড কার্যকর করেছরেছিল, কুমন্ত্রণা দিয়ে দিয়ে জনকের মতো বিশাল ব্যাক্তিত্বকে ক্রমান্বয়ে জনবিচ্ছিন্ন ও অজনপ্রিয় করে তুলে ১৫ অগাষ্টকে ত্বরান্বিত করেছিল যারা, সে কালো রাতে ক্ষমতা ও সাধ্য থাকা সত্বেও নিষ্ক্রিয় থেকে ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যা কান্ডটি ঘটতে দিয়েছিল, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করেছিল যারা, নানা ষড়যন্ত্রের ফাঁদে ফেলে অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা হত্যা করেছিল যে সব নরপশু, তাদের অপরাধ কি কম ? তাদের বিচার হবেনা কেন ?
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক, প্রথমেই হোক । এটার Priority first . সমগ্র জাতির চাওয়াও তাই । এই জঘন্য অপরাধীদের বিচার না হওয়ায় পরবর্তীতে আরো অসংখ্য নৃশংস অপরাধীর জন্ম সহজ হয়েছে । মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে দেশ অপরাধের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত হয়েছে । দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে ।
- নিয়ম ভঙ্গের কারণে প্রকৃতি প্রতিশোধ নেয় । একই কারণে ইতিহাস ও প্রতিশোধ পরায়ণ হয় বলে গুণিরা বলে থাকেন । ১৫ অগাষ্ট, ৩ থেকে ৭ নভেম্বর, ৩১ মে, ২১ অগাষ্ট, ২৮ অক্টোবর এসবই ইতিহাসের চরম প্রতিশোধ । এবং শেষেরটা যে সর্বশেষ তাও নয় । রাষ্ট্রের চালকরা, সমাজপতিরা, রাজনৈতিক দলগুলো, সুশীল বুদ্ধিজীবিরা এখনো যদি সচেতন নাহন তাহলে জাতির কপালে আরো দুর্ভোগ আছে ।





ঠিকই বলেছেন । সামনের দিনগুলোর ভয়াবহ পরিণতির কথা চিন্তা করলে গা শিওরে ওঠে , বুক ধরফর করে , মাঝে মাঝে চোখ ও ভেজে । কিন্তু কেন জানি দেশের শাসকরা কমবেশি সবাই তাদের ঝোলা ভারি করে তা বয়ে নিয়ে যাওয়ায় একনিষ্ঠ , এদিকে দেশ যে প্যারালাইজ্ড হতে চলেছে তা তারা সজল নেত্রে উপলব্ধি করে ফেই টিসু ইউস করেন । এ জাতি কবে সুস্থ হবে ? মৃত্যুর পর ?
গড নোজ বেটার । আল্লাহ ভাল জানেন ।
আপনার বক্তব্য ক্লিয়ার হইতেছে না...
প্লিজ একটু পরিষ্কার বলুন কি ক্লিয়ার হচ্ছেনা ! আমি যা বলতে চাই, ৭১ থেকে এ পর্যন্ত মানবতা বিরোধী যত অপরাধ হয়েছে সব গুলির বিচার অবশ্য হওয়া উচিত । অবশ্যই যুদ্ধাপরাধের বিচার সর্বাগ্রে !
আমার অস্বচ্ছ অংশগুলো নিয়ে নীড় সন্ধানীই বলে ফেলেছেন।
@ শুভ ভাই ,
নীড় সন্ধানীর মন্তব্যের উত্তর আমি দিয়েছি । আশা করি পড়ে নেবেন । ধন্যবাদ !
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হোক।
অবশ্যই হোক ! ধন্যবাদ ।
হ্যা, যুদ্ধাপরাধের বিচার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পাদন করা হোক। তবে ক্ষমতাসীনদের সব রকমের অপরাধের বিচার হওয়া উচিত। তা না হলে, অপরাধের পুনরাবৃত্তি হতেই থাকবে। ক্ষমতায় যারা আছেন (সব পর্যায়ের) এবং আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবেন তারা যেন এসব বিচার থেকে শিক্ষা নিয়ে অন্যায় কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন, সেজন্যই বিচার হওয়া জরুরি।
সহমত ।
মনতব্যের জন্য ধন্যবাদ !
দুঃখিত আপনার অবস্থান এবং বক্তব্য স্পষ্ট হলো না।
আপনি একবার বললেন-
আবার বললেন-
তারপর এই প্যারায় তো পুরোপুরিই গুলিয়ে ফেলেছেন ব্যাপারটা।
সত্যি বলতে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে স্পষ্ট অবস্থানে দেখতেই ভালো লাগে।
@ নীড় সন্ধানী,
১) দেখুন আমি লেখক হিসাবে একেবারে নূতন, ব্লগার হিসাবেও । মাত্র ক’দিন আগে থেকে পোষ্ট দিচ্ছি । গুছিয়ে লেখার টেকনিক এখনো আয়ত্ত্ব করতে পারিনি । এজন্য দূঃখিত ।
২) আমার লেখা থেকে প্রথম যে দু’টি উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সে দু’টিতে কোন বৈপরিত্য আমি দেখিনা । যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রথমেই হোক । পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে তাবত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার হওয়া বাঞ্ছনীয়, সেগুলি ৭১ এ সংঘটিত হোক কিংবা ১১ তে, এটাই আমার বলার কথা । সিরাজ শিকদার, খালেদ মোশারফ, তাহের, জিয়া, মঞ্জুর হত্যার বিচার কি নির্মোহভাবে হয়েছে ? মঞ্জুর হত্যার দুই কুশিলবতো দিব্বি বহাল তবিয়তে আছে । একজন মজাসে বাণিজ্য করছে, তো অন্যজন মহাজোটের আঁচল দিয়ে নিজের সমস্ত কালিমা-দূর্গন্ধ মুছে ফুলের মত পরিষ্কার হয়ে রাজনীতির মাঠে ছড়ি ঘোরাচ্ছে । এ রকম আরো হাজারো অপরাধের উধাহরণ দেয়া যাবে রাজনৈতিক কারণে যে গুলোর নিরপেক্ষ বিচার হয়নি ।
৩) ১৫ অগাষ্ট নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে । আমি মনে করি, অনিয়ম, অবিচার, অত্যাচার, অতিলোভ অন্যায় অনাচার, অসংযম, ইত্যাদির কারণে পুরো জাতির উপর এটা ইতিহাসের প্রতিশোধ । আমার মতের সাথে সবাই একমত হবেন এ আশা অবশ্য করিনা । ৩ থেকে ৭ মে এখনো জতির জন্য ঘোর অমাবস্যা । কারো কাছে তাহের হিরু, কারো কাছে জিয়া । দু’জনই কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা, আবার দু’জনই মুক্তিযোদ্ধা হন্তারক । একজন সিপাহিদের উস্কানি দিয়ে খুন করিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা অফিসারদের, অন্যজন বিচারের নামে প্রহসন করে । পরবর্তী ঘটনা গুলোও ইতিহাসের ধারাহিকতা ।
৪) মুক্তিযোদ্ধদের স্পষ্ট অবস্থানে দেখতে ভালসেন । খুবই ভাল কথা । আপনার বিবেচনায় স্পষ্ট অবস্থান কোনটি জানিয়ে দিলে বাধিত হব । এটুক অন্ততঃ বলতে পারি, আমার অবস্থান সব সময় অন্যায়-অসত্যের বিপক্ষে । আর কিছু করতে পারি না পারি আমরণ অন্যায়-অসত্যকে ঘৃণা করে যাব ।
প্রতিমন্তব্যের জন্যঅনেক অনেক ধন্যবাদ !
আপনার লেখায় আপনি বৈপরীত্য খুঁজে পাননা কারণ আপনার কাছে "১৫ অগাষ্ট, ৩ থেকে ৭ নভেম্বর, ৩১ মে, ২১ অগাষ্ট, ২৮ অক্টোবর" এই তারিখগুলো আপনার কাছে একই মনে হয়। এই সবগুলোর মধ্যে ইতিহাসের প্রতিশোধ খুঁজে পান। আর এই তারিখের ঘটনাগুলো আপনার কাছে ১৯৭১ সালের লাখো শহীদের ভয়াবহ রক্ত বন্যার সমান্তরাল মনে হয়। আপনার হিসেবে ১৯৭১ সালের মর্মান্তিক ট্র্যাজিডিও তো ইতিহাসের প্রতিশোধ, তাই না?
জাতির জনক সবাই ক্ষমা করে দিয়েছেন এই যুক্তিটা খুব খেলো ছাগু যুক্তি। আপনার হয়তো জানা নেই জাতির জনক 'সবাইকে' ক্ষমা করেননি। আমার চেয়ে বয়সে দুইদশক বড় হবার পরও এটা আপনার জানা নেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়।
দুটো প্রশ্ন করি-
২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা আপনার কাছে ইতিহাসের প্রতিশোধ মনে হলো কেন বলবেন?
২৮শে অক্টোবরে একটা জামাতীকে পিটিয়ে মেরেছিল উগ্র আওয়ামীলীগেরা, সেটাও আপনার কাছে একাত্তরের গনহত্যার সাথে তুলনীয় মনে হলো?
আপনার জবাবের অপেক্ষায় রইলাম।
লেখকের জবাবের অপেক্ষায় আছি।
তবে আমরা যারা সে সময় জন্মাইনি কিংবা খুব ছোট ছিলাম তারা বোধহয় স্বাধীন দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা, তাদের আশাহত হওয়ার বেদনা, আওয়ামী লুট পাটের কষ্ট সেভাবে অনুধাবন করতে পারবো না
এটা আমার অনুমান/মতামত মাত্র, আমার সাথে মারকুটে ঝগড়ার দরকার নেই কারো
[উত্তর দিতে দেরী হওয়ার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । ২৬ ডিসেম্বর বিকেল থেক সর্দি, কাশি, জ্বরে শয্যাশায়ী । আশা করি বিলম্বের কারণে রাগ করবেননা ।]
আপনার মতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, যে ক’টা মন্তব্য এসেছ তম্মধ্যে আপনারটা ব্যতিক্রম । এবং ব্যাতিক্রমের প্রতি আমার সহজাত আগ্রহ সব সময় ।
১) উল্লেখিত তারিখগুলোতে যা ঘটেছিল সব গুলোই অপরাজনীতির ফসল । এবং যেহেতু সবগুলোই রাজনৈতিক অপকান্ড সেহেতু এগুলোকে আমি একই সরল রেখায় রেখেছি, একই মনে করে নয় ।
২) জনক যাদের ক্ষমা করেননি ( ধর্ষক এবং হন্তারকদের ) তাদের বিষয়ে ও সম্যক অবগত আছি । খান এ সবুর, গভর্নর মালিক,তার মন্ত্রী সভার সদস্যগণ, রাজাকার শিরোমণি শাহ আজিজ, ইহাদের মাফ করেছিলেন কে ? ভার্সিটির দালাল শিক্ষকরা ও মাফ পেয়ে গেছিলেন । ( অবশ্য কিছু দালাল শিক্ষক ১৪ ডিসেম্বর স্বদলীয়দের হাতে খুন হয়ে নয় মাস পাকি দালালীর পুরস্কার হাতিয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবি বনে গিয়ে) ! এই গুলোকে আমি ঢালাও ক্ষমা বলেছি । ঠিক এর পরের লাইনে বলেছি, “ ঘোষক এসে এদের ঢালাওভাবে প্রতিষ্টিত করলেন ” ! লাইনটি কি আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে ?
৩) ৭১ বাঙ্গালী জাতির জীবনে অবিনশ্বর । ৭১ এর সাথে কোন কিছুর তূলনা করা দৃষ্টতার নামান্তর । আমার লেখায় কোথাও আমি ৭১ কে অন্য কোন কিছুর সমান্তরাল মনে করিনি, তূলনা ও করিনি । আপনার মন্তব্যের প্রথম প্যারার শেষ দুই লাইনের অভিযোগ এবং প্রশ্নটি এই কারণে অহেতুক ।
৪) গত ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রাজনীতিবিদরা কোন অর্থেই ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করেছেন না । প্রতিটা সরকারের আমলে ইতিহাস বদলে যাচ্ছে, ইতিহাসের বিকৃতি হচ্ছে । দেশে যত অঘটন, যত নৃশংস ঘটনা এযাবত ঘটেছে সব গুলোর শানে নজুল রাজনীতি । সেই কারণে ২১শে অগাস্ট সহ সমস্ত রাজনৈতিক অপকান্ডকে আমি ইতিহাসের প্রতিশোধ মনে করি ।
৫) আপনার মন্তব্যে “ ২৮ শে অক্টোবর একটা জামাতী ছাগুকে পিটিয়ে মেরেছিল উগ্র আওয়ামীলিগাররা, সেটাও আপনার কাছে ৭১ এর গণ হত্যার সাথে তূলনীয় হল ?” এ অভিযোগটা একেবারে নাহক করা হয়েছে । ৭১ এর গণহত্যার সাথে, আমি আবারো দৃঢ়তার বলছি, কোন কিছুই তূলনীয় নয় । আমার লেখায় কোথাও আমি করিওনি । লেখাটি এখনও প্রথম পাতায় আছে । এ ব্যাপারে আপনি সহ সব বন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । রইল ২৮ শের কথা । সেদিন যা ঘটছিল যে কোন নিরিখে তা ছিল ভয়ঙ্কর আইনহীনতা, উগ্রতা, আইন হাতে নেবার প্রবণতা, সীমাহীন ভায়োলেন্স এবং সর্বোপরি অমানবিকতা । কোন সভ্য জাতি তা কখনো মেনে নিতে পারেনা । একজন গু আজমকে হত্যা করতে এক বা দু’জন মুক্তিযোদ্ধা যথেষ্ট । কিন্তু আমি তা চাইনা । আমি তাকে কাঠ গাড়ায় দেখতে চাই, আইনে যে সাজা হয় তা ইমপ্লিমেন্ট হোক চাই ।
আলোচনার জন্য আবারো ধন্যবাদ ।
@ নীড় সন্ধানী,
আপনার প্রতিমন্তব্যের উত্তর দয়া করে তাণবীরার মন্তব্যের নিচে দেখুন ।
এ টি এম কাদের | ডিসেম্বর ২৮, ২০১১ - ৩:৫২ অপরাহ্ন
[উত্তর দিতে দেরী হওয়ার জন্য প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি । ২৬ ডিসেম্বর বিকেল থেক সর্দি, কাশি, জ্বরে শয্যাশায়ী । আশা করি বিলম্বের কারণে রাগ করবেননা ।]
আপনার মতের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, যে ক’টা মন্তব্য এসেছ তম্মধ্যে আপনারটা ব্যতিক্রম । এবং ব্যাতিক্রমের প্রতি আমার সহজাত আগ্রহ সব সময় ।
১) উল্লেখিত তারিখগুলোতে যা ঘটেছিল সব গুলোই অপরাজনীতির ফসল । এবং যেহেতু সবগুলোই রাজনৈতিক অপকান্ড সেহেতু এগুলোকে আমি একই সরল রেখায় রেখেছি, একই মনে করে নয় ।
২) জনক যাদের ক্ষমা করেননি ( ধর্ষক এবং হন্তারকদের ) তাদের বিষয়ে ও সম্যক অবগত আছি । খান এ সবুর, গভর্নর মালিক,তার মন্ত্রী সভার সদস্যগণ, রাজাকার শিরোমণি শাহ আজিজ, ইহাদের মাফ করেছিলেন কে ? ভার্সিটির দালাল শিক্ষকরা ও মাফ পেয়ে গেছিলেন । ( অবশ্য কিছু দালাল শিক্ষক ১৪ ডিসেম্বর স্বদলীয়দের হাতে খুন হয়ে নয় মাস পাকি দালালীর পুরস্কার হাতিয়েছেন শহীদ বুদ্ধিজীবি বনে গিয়ে) ! এই গুলোকে আমি ঢালাও ক্ষমা বলেছি । ঠিক এর পরের লাইনে বলেছি, “ ঘোষক এসে এদের ঢালাওভাবে প্রতিষ্টিত করলেন ” ! লাইনটি কি আপনার দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে ?
৩) ৭১ বাঙ্গালী জাতির জীবনে অবিনশ্বর । ৭১ এর সাথে কোন কিছুর তূলনা করা ধৃষ্টতার নামান্তর । আমার লেখায় কোথাও আমি ৭১ কে অন্য কোন কিছুর সমান্তরাল মনে করিনি, তূলনা ও করিনি । আপনার মন্তব্যের প্রথম প্যারার শেষ দুই লাইনের অভিযোগ এবং প্রশ্নটি এই কারণে অহেতুক ।
৪) গত ৪০ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, রাজনীতিবিদরা কোন অর্থেই ইতিহাসের প্রতি সুবিচার করেছেন না । প্রতিটা সরকারের আমলে ইতিহাস বদলে যাচ্ছে, ইতিহাসের বিকৃতি হচ্ছে । দেশে যত অঘটন, যত নৃশংস ঘটনা এযাবত ঘটেছে সব গুলোর শানে নজুল রাজনীতি । সেই কারণে ২১শে অগাস্ট সহ সমস্ত রাজনৈতিক অপকান্ডকে আমি ইতিহাসের প্রতিশোধ মনে করি ।
৫) আপনার মন্তব্যে “ ২৮ শে অক্টোবর একটা জামাতী ছাগুকে পিটিয়ে মেরেছিল উগ্র আওয়ামীলিগাররা, সেটাও আপনার কাছে ৭১ এর গণ হত্যার সাথে তূলনীয় হল ?” এ অভিযোগটা একেবারে নাহক করা হয়েছে । ৭১ এর গণহত্যার সাথে, আমি আবারো দৃঢ়তার বলছি, কোন কিছুই তূলনীয় নয় । আমার লেখায় কোথাও আমি করিওনি । লেখাটি এখনও প্রথম পাতায় আছে । এ ব্যাপারে আপনি সহ সব বন্ধুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি । রইল ২৮ শের কথা । সেদিন যা ঘটছিল যে কোন নিরিখে তা ছিল ভয়ঙ্কর আইনহীনতা, উগ্রতা, আইন হাতে নেবার প্রবণতা, সীমাহীন ভায়োলেন্স এবং সর্বোপরি অমানবিকতা । কোন সভ্য জাতি তা কখনো মেনে নিতে পারেনা । একজন গু আজমকে হত্যা করতে এক বা দু’জন মুক্তিযোদ্ধা যথেষ্ট । কিন্তু আমি তা চাইনা । আমি তাকে কাঠ গাড়ায় দেখতে চাই, আইনে যে সাজা হয় তা ইমপ্লিমেন্ট হোক চাই ।
আলোচনার জন্য আবারো ধন্যবাদ ।
কেপি টেস্ট জরুরী
মুরাদ ভাই, বাদ দেন। একেকজন একেকভাবে চিন্তা-ভাবনা করেন। আমরা বরং স্টেরিওটাইপিং করা বাদ দিয়ে ওয়েট করি। টাইম উইল সে সামথিং
কারো বর্তমান দেখে তার অতীতটাও সহজে আঁচ করা যায় । আপনার অনুমান এবং মতামতের জন্য ধন্যবাদ । আমার জবাবের উপর আপনার প্রতিমন্তব্য আশা করছি ।
@ তাণবীরা
উপরের মন্তব্যটি আপনার জন্য ।
@ তাণবীরা
উপরের মন্তব্যটি আপনার জন্য ।
মন্তব্য করুন