ইউজার লগইন

হলুদ হিমু কালো র্য্যাব

- হুমায়ুন আহমেদ বাংলা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক । ‘হিমু’ তারই সৃষ্ট তরুণ প্রজন্মের প্রিয় নায়ক । আর র্য্যাব নন্দিত/ নিন্দিত/ আলোচিত এক বাহিনী । আমি অতি সাধারন একজন মানুষ । কিন্তু হুমায়ুন আহমেদের কোটি পাঠক-প্রিয় ‘মিশির আলী’ বা ‘হিমু’ তে আমার তেমন আগ্রহ নাই । একজন হার জিরজিরে রুগ্ন বুড়ো কি এক অলীক মন্ত্র বলে দুনিয়ার তাবৎ সমস্যার জঠ ছাড়ান, অন্য জন তরুণ ভবগুরে গোছের । পকেট বিহীন হলুদ পাঞ্জাবী পরে রাত দুপুরে ঢাকার শহর চষে বেড়ান । যত সব আজগুবি চরিত্রের সাথে তার দেখা হয়ে যায় । তার উদ্ভট আচরণ, উল্টাপাল্টা কথাবার্তা, নির্লিপ্ত ভাব র্য্যাবের মতো কিলার বাহিনীর ( অ্যামনেষ্টি, বুদ্ধিজীবি ও শেখ হাছিনা বিরোধী দলে থাকা সময়ের মতানুসারে ) হাত থেকে শুধু প্রাণে বেঁচে যায়না, নিজের জন্য ভক্তি-শ্রদ্ধা ও আদায় করে নেয় । বাস্তবতা বর্জিত কল্প-কথা, জীবন-জীবিকা-পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যহীণ এসব কাহিনী আমাকে টানেনা । তাই হুমায়ুন আহমেদ তেমন পড়া হয়না ।

- বিশেষ কাজে ঢাকা আসা । খুব ভোরে পৌঁছে যাই । এপয়েন্টমেন্ট সে বিকেল চারটায়। তো এতক্ষণ কি করি ! এক কাজ্বিন স্বপরিবারে মিরপুর থাকেন, অনেকদিন দেখা হয়নি তাদের সাথে । ভাবলাম যাইনা কেন ওখানে ! দেখাও হবে, সময়টাও ভাল কাটবে ! রওনা দেই ।

- নাসির, কাজ্বিনের ছোট ছেলে, বিদেশী একটা ফার্মে কাজ করে । তার রুমটা আমাকে ছেড়ে দে’য়া হয় । ব্যচেলারদের যেমন হয়, বিছানা, টেবিল, মেঝে সর্বত্র বই আর বই । বেশির ভাগই হুমায়ুন আহমদের । নন্দিত নরকে, বৃহ্নলা, দেবী, নিলুয়া বাতাস, জ্যোস্না ও জননীর গল্প ইত্যাদির ভিড়ে একটি নূতন মলাট উঁকি দিচ্ছে । ‘হলুদ হিমু-কালো র্য্যব । তুলে নিলাম – সময় কাটান যাবে ।

- বরাবরের মতো হিমুর কাছে পয়সা নাই, তবু ও এক টোকাই চা-ওয়ালা থেকে চা খেয়ে নেয় নির্দ্বিধায় এক কাপ । ছেলেটা পয়সা চায় । পয়সাতো নাই, দেবে কি ! দু’জনের মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয় । কোথা থেকে উদয় হয় পুলিশ । তরুণ-আদর্শ হিমু নির্জলা মিথ্যা বলে ফাঁসিয়ে দেয় ছেলেটাকে । চড়-থাপ্পড় পড়ে ওর কচি গালে । বাঁচার জন্য সব ফেলে দৌঁড়ে পালায় ছেলেটা । বিশ্রী ! যত্তোসব ! রেখে দিই বই । কিন্তু পরক্ষণে মনে আসে, আরে এতো পুলিশ ! র্য্যাব কই ! কালো র্য্যাব ! তুলে নিই আবার। পাতা উল্টে যাই ।

- তাইতো ! হিমু ধরা খায় র্য্যাবের হাতে । তার উল্টা-সিধে কথা, অদ্ভুত-নির্লিপ্ত আচরণ এক রাগী র্য্যাবকে আরো রাগিয়ে দেয় । হিতাহিত জ্ঞান শুন্য হয়ে হিমুকে সাইজ করার জন্য হাত উঠান তিনি । মুহুর্তে ঘটে যায় মিরাকল । ধপাস্ পড়ে যান তিনি । মাইল্ড স্টোক । হিমু বনে যায় পীর-বুজুর্গ গোছের কেউ । দুত্তরি ছাই ! এ গল্প ও বাঙ্গালী গিলে ! রেখে দিই বই, শুয়ে পড়ি । কিন্তু মন আবার খুঁতখুঁত করে । দেখা যাকনা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক র্য্যাব সম্বন্ধে কি বলতে চান ! অসূর কতৃক নিগৃহীত এক দিদি র্য্যাবকে তার ধর্মীয় দেবী মা দূর্গার সাথে তূলনা করেছিলেন । সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভুমিকার জন্য প্রথম দিকে র্য্যাব ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও পেয়েছিল যদি ও অ্যামনেষ্টি, বুদ্ধিজীবিরা বরাবরই এর বিরোধিতা করে আসছে । আবার তুলে নিই বইটা । পাতা উল্টে উল্টে শেষ পৃষ্টায় চলে আসি ।

- র্য্যাবের কর্ম-কান্ড কেন হিমুর পছন্দ নয় ? এক ভক্ত র্য্যাবের এমন প্রশ্নের উত্তরে হিমু বলে, ‘ মানুষ কোন ক্যানসার নয় । মানুষ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, প্রকৃতি খুবই সুন্দর করে তৈরী করেছে মানুষ, খুবই যত্নের সাথে। বিনা বিচারে, পিশাচ হলেও তাই মানুষ মারার অধিকার কারো নাই ! ’ খুবই খাটি কথা । অদ্যাপক আবুল ফজলের পর বহুকাল এমন শুনিনি । বাংলার বিবেক তাহলে ঘুমিয়ে নেই । র্য্যাবের প্র্তি একটা সমর্থন ছিল আমার । তাদের কারণে সন্ত্রাস অনেকটা কমে গেছিল এক সময় । এখন মনে হচ্ছে ওটা ভুল ছিল । বিচার বহির্ভুত হত্যা অবশ্যই মানবাধিকারের লঙ্ঘন । এটা কখনো সমর্থন করা যায়না । অনুতাপের অনুরেণ অনুভব করি হৃদয়ে ! কিন্তু মুহুর্ত মাত্র ! ভেতর থেকে আরেক জন কেউ গর্জ উঠে ।

- নিকুচি করি তোমার মানবাধিকার । মানবের জন্য মানবাধিকার, দানবের জন্য নয় । ওরা ওই সন্ত্রাসীরা যখন মানুষ মারে দিনে দুপুরে, পথে ঘাঠে, আঙ্গিনায়, কর্মস্থলে, মা-বোন, বাপ-ভাই, স্ত্রী-সন্তানের সামনে তখন এই সব মানবাধিকারের ফেরি’য়ালারা কোথায় থাকেন ? প্র্তিদিন গড়ে যেখানে ১০ জন খুন হচ্ছে, মা-বোন প্রকাশ্যে লাঞ্ছিত হচ্ছে তখন তোমার মানবাধিকার কোথায় যায় ? আমি চুপসে যাই ।

- মিনমিনে গলায় হিমুর হয়ে বলি, মানুষ কেন মানুষ মারে, মানুষ কেন পিশাচ হয় তা জানা ও তো মানুষের কর্তব্য ।

- রেখে দাও তোমার ওসব কর্তব্য ফর্তব্য, ভেতরের আমি আরো রেগে যায় , স্বাভাবিকভাবে অসম্ভব হলে অথবা বিকল্প কিছু করা না গেলে কোন কোন হত্যাকে মানুষ নিরবে মেনে নেয়। ইতিহাসে এর অনেক নজির রয়েছে

- তবু ও --- আমি আমতা আমতা করি ।

- কেথা পুড়ি তোর তবু’র, ভেতরের সে জন ফেটে পড়ে । আমি চোখ মুদে কাঁথা মুড়ি দেই । হলুদ হিমুর ছবিটা ঝাপসা হতে হতে মিলিয়ে যায় আমার দৃষ্টির সীমানায় । ওখানে ফুঠে উঠে র্য্যাবের কালো ইমেজ ! অনুজ্জ্বল, ভীতিকর ! ব্যাক গ্রাউন্ডে অনেক মৃত মানুষের খুলি। কারো মিনমিনে কন্ঠের প্রশ্ন বাজে আমার কানে, কিভাবে পরখ করা যায় এ গুলো কার শিকার ? র্য্যাবের না, সন্ত্রাসীর ?

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


কারো মিনমিনে কন্ঠের প্রশ্ন বাজে আমার কানে, কিভাবে পরখ করা যায় এ গুলো কার শিকার ? র্য্যাবের না, সন্ত্রাসীর ?

র‍্যাব হলো সরকারী মদদপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী

এ টি এম কাদের's picture


ধন্যবাদ !

মীর's picture


আমার মনে হয় আপনি হুমায়ুন আহমেদের একজন বিরাট পাঙ্খা।

এ টি এম কাদের's picture


মীর ভাই, ঠিক বুঝলামনা পাংখা বলতে কি বুঝিয়েছেন ! ভাই, আমিতো আগেই জানিয়ে রেখেছি , আমি বোকা টাইপের লোক । একটু খোলাসা করুন ভাই !

মীর's picture


পাংখা সম্পর্কে ভালো বলতে পারবেন মেসবাহ ভাই। উনাকে দেখলে একটু জিজ্ঞেস কৈরেন। Smile

এ টি এম কাদের's picture


@ মীর ভাই ,

আমার বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় শব্দটার মিনিং ভাল না জেনে মীর ব্যবহার করেছেন । অবশ্য এড়িয়ে যেতে চাইলে কি আর করা যাবে ! ধন্যবাদ ।

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


র্য্যাব ভালু ...এখন তো আর নবী-রাসুল আসে না তাই তাদের কামটাই করতেছে র্য্যাব (দ্যাশে থাকতে হইলে এরামটাই বলতে হপে)

~

আনন্দবাবু's picture


ফেরীওয়ালার মন্তব্যের সাথে যোগ করে পড়তে হবে *

নাইলে ক্রসফায়ার বা সেডিশানের মামলা খাবার চান্স আছে।

মানুষ কোন ক্যানসার নয় । মানুষ প্রকৃতির শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, প্রকৃতি খুবই সুন্দর করে তৈরী করেছে মানুষ, খুবই যত্নের সাথে। বিনা বিচারে, পিশাচ হলেও তাই মানুষ মারার অধিকার কারো নাই !

এরকম অশেষ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হুমায়ূন আহমেদ হিমুকে দিয়ে মাঝে মাঝে বলান। এই জন্যেই হিমু হিমু। আর হুমায়ূন আহমেদ হুমায়ূন আহমেদ।

এ টি এম কাদের's picture


বেশ লিখেছেন ভাই ! নবী-রসুলরা কি র‌্যাবের মতো কোন কিলার বাহিনীর কমনডার ছিলেন ?

১০

এ টি এম কাদের's picture


আপনার জন্য লেখা জবাবটা কি করে আননদ বাবুর মনতব্যের নীচে চলে গেছে ।

১১

হাসান রায়হান's picture


মিসির আলীর ভক্ত ছিলাম। দেবী পড়ে পুরা ফিদা হইছিলাম।

১২

এ টি এম কাদের's picture


তরুণ বয়সটাই যে ফিদা হবার !

১৩

শওকত মাসুম's picture


র্যাবরে বাংলা ফন্টও ভয় পায় দেখতাছি

১৪

এ টি এম কাদের's picture


মন্দ বলেন নি । 'র' এর পর ' য্য' দিতে গেলেই সাথে 'য' এসে যায় । কিছুতেই এড়ানো যায়না । ধন্যবাদ !

১৫

প্রিয়'s picture


মিসির আলীর ভক্ত আমিও। Smile

১৬

এ টি এম কাদের's picture


ভালু !

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

এ টি এম কাদের's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি একজন নগণ্য মুক্তিযোদ্ধা । বিদ্যুৎ প্রকৌশলী । স্বাধীনতা পরর্বতী রাজনীতির প্রতি প্রবল বীতশ্রদ্ধ । অসামপ্রদায়িক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ।
'৭৮ এ নানা কারণে চাকুরি বিদেশে চলে আসি ।