ইউজার লগইন

হাজি সেলিম ফঠিকছড়িতে

১।

উদ্ভিগ্ন ছিলাম খুব ! দু’মেয়েই সরকারি চাকুরে । নির্বাচনে ডিউটি পড়েছে । পুরো রাত প্রায় নির্ঘুম কেটেছে, চোখ লেগেছিল ভোরের দিকে । ঘুম ভাংতে ভাংতে তাই সকাল দশটা । দেশে বারটা । মেয়েরা আগের দিন বলে দিয়েছিল ফোন নীরব থাকবে বেলা২টা পর্যন্ত । এখনো পুরো দু’ ঘন্টা বাকি । টি ভি অন করলাম । নির্বাচন লাইভ দেখাচ্ছে । ভোটার উপস্থিতি নগণ্য । সহিংসতার কিছু কিছু ঘটনা লাইভ দেখাচ্ছে । একজনকে কয়েকজনে মিলে পেটাচ্ছে, কিছু নির্বাচনিী সামগ্রী জ্বলছে, বেশক’টা নির্বাচন কেন্দ্রও । টেলপের দিকে চোখ দিলাম । হতভাগ্য একজন নির্বাচন-কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা । একজন সহকারীর কব্জি কেটে নিয়েছে । বুক ধক্ করে উঠল । কম্পিত হাতে বড় মেয়েকে রিং দিলাম । আমার আশার বিপরীতে ফোন ধরলো মেয়ে ।
-হ্যলো ।
-হ্যালো আব্বু, সালাম আলায়কুম ।
-ওয়ালায়কুম, কেমন আছো মামণি ?
-ভালো আব্বু ! তুমি তোমরা ?
-আল্লা্ রহমতে ভাল । ফোন সাইলেন্স থাকবে বলেছিলে !
-থাকার কথা ছিল । কিন্তু ভোটার যে নাই বললেই হয়, আমার বুথে এ’পর্যন্ত ভোট পড়েছে ২৯টা । সবাই বসে বসে গালগল্প করছি । স্যার আনঅফিয়াল অনুমতি দিয়েছেন, তাই ফোন অন করে অন্যান্যদের খবরও নিতে পারছি !
-ভাল ! মৌ’র ওখানের খবর কি ?

-হাস্যকর ! জানেনতো ওর ডিউটি পড়েছে আমাদের নিজ গ্রামের সেন্টারে । দশটা পর্যন্ত নট অ্যা সিঙ্গেল ভোট ! কিছু লোক অবশ্য জটলা করছিল ভোট কেন্দ্রের সামনে । এ’সময় আসেন প্রার্থী নজিবুল বশর ভান্ডারী । উনি এসেই চিল্লাপাল্লা শুরু করেন এই বলে যে এতক্ষণ পর্যন্ত কেন ভোট দেওয়া শুরু করেনি লোকজন । ক্ষ্যাপে যান উপস্থিতরা, তার দিকে তেড়েও যান কিছু লোক । তারা জানতে চান কি অধিকারে তিনি ভোট চা’ন আজ ? বিগত পাঁচ বছরে তার পা কি একবারও পড়েছে এ’এলাকায় ? অপ্রস্তূত ভান্ডারী অবস্থা বেগতিক দেখে ক্ষমা চান গ্রামবাসীর কাছে এবং বিনয়ের সাথে অনুরোধ করেন সবাই যেন ভোট দেন ।
- এখন রাখি তাহলে মা । রাতে মৌ’কে রিং দেব । ভাল থেক । খোদা হাফেজ ।
-খোদা হাফেজ ।

২।
রাত আটটার দিকে ছোট মেয়েকে ফোন দিলাম ।
-হ্যালো মৌ !
-হ্যলো আব্বু, ভাল আছ ?
-হ্যাঁ মা ! তোমার সেন্টারে ভোট কেমন হলো বল ।
-খুব ভাল । কোন ঝুট-ঝামেলা হয়নি । তবে ভান্ডারী আসার পর হইচই একটু হয়েছিল ।
-শুনেছি । ভদ্রলোক বুদ্ধিমান । জনতার পালস্ বুঝতে দেরি হয়নি । ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে গেছেন ।
-যা শুনেননি তা হচ্ছে উনি কান ধরে মাফ চেয়েছেন ।
-ওমা ! বল কি !
-সত্যি আব্বু । মানুষতো হেসেই খুন । এই এরাই আমাদের নেতা, দেশের আইন প্রণয়ন করেন ।
-রেখে দাও মা ওসব । ভোট কেমন পড়লো বল ।
-বললামতো ভালো । মানুষ দিয়েছে শ’খানেক, হাজি সেলিমরা দিয়েছে বাক্স ভরে ।
-বোকা ছেলের সাথে হ্যাঁয়ালী করছো মা ! হাজি সেলিমরা কইত্থে এল ওখানে ?
-তুমি আসলেই বোকা আর সরল রয়ে গেছ আব্বু । হাজি সেলিমদের অভাব আছে এই দেশে ? আর তোমার থানার নাম যে ফটিকছড়ি তাও ভুলে গেছ বোধহয় !
না আর কথা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব না । পাঁজরে আঁচড় অনুভব করলাম । মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের জন্য এ থানা নিয়ে গর্ব হতো একদিন । এখন এটা সন্ত্রাসের আরেক নাম ! কিছু নাবলেই ফোন রেখে দিলাম ।

[লিখেছিলাম ৫ জানু. রাতে । টেকনিকেল কারণে পোষট করা যায়নি]

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

তানবীরা's picture


Puzzled

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

এ টি এম কাদের's picture

নিজের সম্পর্কে

আমি একজন নগণ্য মুক্তিযোদ্ধা । বিদ্যুৎ প্রকৌশলী । স্বাধীনতা পরর্বতী রাজনীতির প্রতি প্রবল বীতশ্রদ্ধ । অসামপ্রদায়িক চিন্তাধারায় বিশ্বাসী ।
'৭৮ এ নানা কারণে চাকুরি বিদেশে চলে আসি ।